শ্রীশ্রী স্বামী স্বরূপানন্দ

মানুষ দুঃখে কাঁদে কেন? মানুষ দুঃখই বা পায় কেন? আবার একটু সুখ পেতে না পেতেই বিভোর হয়ে পড়ে কেন?

উপনিষদ বলে আনন্দই ব্রহ্ম। আনন্দই সত্য। দুঃখ বেদনা সব মিথ্যা। আনন্দ হতেই সবকিছুর উৎপত্তি। আনন্দের জন্যই সব কিছু বেঁচে থাকে আবার মৃত্যুর পর এই আনন্দতেই লীন হয়ে যায় সব কিছু।

কেই বা প্রাণ ধারণ করত যদি না আকাশ ভরে থাকত অফুরন্ত আনন্দের পশরা। আনন্দ শুধু আকাশে নেই। জলে স্থলে অন্তরীক্ষে নিরন্তর ঝরে পড়ছে সেই আনন্দের মধু। বাতাসের গতি- শীতলতা, জলের শীতলতায়, গাছপালার শ্যামলিমায়, ধূলিকণার ধূসর নীরবতায়, সব কিছুতে সব জায়গায় ছড়িয়ে রয়েছে সেই আশ্চর্য মধু।

কিন্তু তবু মানুষ তা দেখতে পায় না কেন? সে মধু আস্বাদন করতে পারে না কেন? একটু দুঃখ পেতে না পেতেই আকুল কান্নায় ভেঙে পড়ে ঠিক শিশুর মত। শিশুরা যেমন আকাঙ্খিত বস্তুর উপর ক্ষণকালের জন্য সমস্ত প্রাণমন কেন্দ্রীভূত করে এবং সে বস্তু না পেলে সারা জীবনটাকে ব্যর্থ ভেবে আকুলভাবে কাঁদতে শুরু করে, তেমনি যারা বয়সে বড় তারাও ত ঠিক তাই করে।

কারণ তারাও শিশুর মত জীবনটাকে খণ্ড করে দেখে। খণ্ড জীবন যাপন করে। জীবনের অখণ্ডতাকে তারা বুঝতে পারে না। আত্মার অনন্তত্ব সম্বন্ধে কোন ধারণা করতে পারে না। বিন্দু নিয়েই যেমন সিন্ধু, তেমনি অজস্র মুহূর্তের সমষ্টিই জীবন।

কিন্তু সাধারণতঃ মানুষ সারা জীবনটাকেই টুকরো টুকরো করে কতকগুলো মুহূর্তের মধ্যে ভাগ করে দেখে। শুধু তাই নয়। সেই মুহূর্ত সম্বলিত জীবনের সেই খণ্ড রূপটাকে সত্য বলে বড় মনে করে। আমরা যখন কোন বিশেষ মুহূর্তে সুখ বা দুঃখ পাই, তখন সেই মুহূর্তটাকে বড় বলে মনে করি, গোটা জীবনের কথা একবারও ভাবি না।

ক্ষণভঙ্গুর সুখ দুঃখের অশান্ত চঞ্চলতায় ভরা সেই ছোট্ট মুহূর্তটার বাইরে অখণ্ড জীবনের যে সুবিশাল পটভূমি অন্তহীন প্রসারতায় ছড়িয়ে পড়ে আছে তার চারিদিকে, সেদিকে একবারও তাকাই না।

আমরা ভুলে যাই, কোন বস্তু বা ব্যক্তির বর্তমান অস্তিত্বের মধ্যে তার সমস্ত সত্য কখনো আবদ্ধ থাকতে পারে না। তার বিবর্তনধর্মী সত্তা বৃহতের অভিসারে সতত আত্মহারা হয়ে ছুটে চলেছে স্বর্ণ-সম্ভাবনার অজস্র সিংহদ্বার পার হয়ে। নব নব সার্থকতার আলোকে উদ্ভাসিত হয়ে আছে তার প্রতিটি দিগন্ত। সেখানে ঘটছে তার নব নব উত্তরণ।

আমরা সাধারণ মানুষ এ সব বুঝি না। দেখেও দেখি না। কারণ আমরা অবিদ্যাগ্রস্ত। কারণ অবিদ্যার অন্ধকারে আমাদের দৃষ্টি আচ্ছন্ন। বোধি ও বুদ্ধি বিমূঢ়।

আমরা সাধারণ মানুষ সময়ে সময়ে স্বার্থ নিয়ে পরস্পরের মধ্যে ঝগড়া করি, মারামারি করি। এক অর্থহীন বৈষম্যে ও বিরোধিতায় অন্ধ হয়ে উঠি। কারণ আমরা জানি না, সকল মানুষের আত্মা এক এবং অখণ্ড। আমরা জানি না দেহভেদে কখনো আত্মা ভিন্ন হয় না।

এখানেও সেই মূল কারণ একই। অর্থাৎ আমরা অবিদ্যাগ্রস্ত। যখন যেদিকেই তাকাই সামনে দেখি শুধু সমগ্র চরাচরব্যাপী এক আশ্চর্য বিপুল অন্ধকারের অন্তহীন পর্দা। কিন্তু কবে কি করে কে সেই পর্দাটি সরিয়ে দেবে?

রাত্রি শেষ হয়ে গেলে আকাশের গা হতে অন্ধকারের পর্দাটি যেমন আস্তে আস্তে সরে যায়। আর সঙ্গে সঙ্গে সারা বিশ্ব জুড়ে অনন্ত আলো পাখা মেলে দেয়। তেমনি আমাদের চোখের সামনে হতে অবিদ্যার অন্ধকার সরে যাবার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের জীবনের অনন্ত রূপটি উদ্ঘাটিত হয়ে উঠবে আমাদের কাছে। মানবাত্মার অখণ্ডতার রহস্যটি সহজ ও স্বচ্ছ হয়ে ধরা দেবে আমাদের উপলব্ধিতে।

আজ এক মহান পুরুষের দুটি বিশাল হাত সেই অবিদ্যার অন্ধকারের টুঁটি চেপে ধরেছে। সম্বিত বদনে অন্ধকারের সমুদ্র পার হয়ে ধীরে ধীরে আমাদের দিকে এগিয়ে আসছেন আদিত্য বর্ণ সেই মহান পুরুষ। তিনি হচ্ছেন অখণ্ডমণ্ডলেশ্বর স্বামী স্বরূপানন্দ।

আমরা শুধু পড়েছি বা লোকমুখে শুনেছি, আমরা অমৃতের পুত্র, অজেয়। সমস্ত বিশ্ববাসীও তা শুনেছে। কিন্তু তারা তা বিশ্বাস করে না। আমরাও চিনি না জানি না, অমৃত কি বস্তু। আমাদের পিতাকে আমরা দেখিনি। জন্মের পর হতে তাঁর কথাই শুনে আসছি শুধু।

আমাদের যে পরম পিতা যে পরমব্রহ্ম অখণ্ড মণ্ডলাকাররূপে সারা বিশ্বচরাচরকে ব্যাপ্ত করে আছেন, স্বামীজি হচ্ছেন যেন সেই পিতারই এক জীবন্ত প্রতিরূপ। তিনি ভারতের অজস্র ভক্ত শিষ্যের বাবামণি।

তিনি সচ্চিদানন্দময়। তাঁর হাসিতে সব সময় ঝরে পড়ে এক দিব্য ছটা, অঙ্গে তাঁর আশ্চর্য বিভূতি, অমৃত ঝরে পড়ে তাঁর পদলাঞ্ছিত প্রতিটি রজকণায়।

তিনি একধারে কর্মযোগী সন্ন্যাসী, সিদ্ধ জ্ঞানযোগী পরমহংসদেব, আবার তিনি যেখানে ব্রহ্মের উপাসক, অমৃতমন্ত্রের সাধক সেখানে তিনি পরম ভক্ত। জ্ঞানযোগ, কর্মযোগ ও ভক্তিযোগের সমন্বয়ে গড়া তাঁর দিব্যজীবন।

কিন্তু যে দিব্যজীবন তিনি নিজে যাপন করছেন সেই দিব্যজীবনের আস্বাদ সকলের মধ্যে বিলিয়ে দিতে চান। অজস্র দিনের সাধনার দ্বারা যে সিদ্ধি বা আত্মিক পরিপূর্ণতা তিনি লাভ করেছেন, তার অমৃতসুধা তিনি উজাড় করে ঢেলে দিতে চান জনকল্যাণের জন্য।

পূর্ব বাংলার কুমিল্লা জেলার অন্তর্গত কোন একটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন স্বরূপানন্দ স্বামী। তাঁর আবির্ভাব সম্পর্কে কোন বিবরণ পাওয়া যায়নি। তাঁর বাল্যজীবন বা পূর্বাশ্রমের কোন কথা তিনি বলতে চান না। শুধু জানা গেছে তাঁর জন্মকাল পৌষ এবং তারিখটি হচ্ছে ১লা।

পূর্বাশ্রমের সমস্ত কথা মন থেকে মুছে ফেলে গত ১৩৩৪ সাল হতে অক্লান্ত ও অনলসভাবে যে কর্মযোগের সাধনা করে আসছেন স্বরূপানন্দ তা ভারতীয় ধর্মসাধনার ইতিহাসে নিঃসন্দেহে সৃষ্টি করেছে এক যুগান্তকারী বিপ্লব। তাঁর এই দুস্তর সাধনার তিনটি প্রধান সম্বল হচ্ছে অভিক্ষা, পূর্ণ স্বাবলম্বন এবং অযাচকবৃত্তি।

এই সাধনার একমাত্র লক্ষ্য হচ্ছে শুধু ভারত নয়, বিশ্বনিখিলের সব মানুষকে আর্য কৃষ্টির সার্থক উত্তরাধিকারী করে তোলা। আর্য সভ্যতার এক জ্বলন্ত বর্তিকা হাতে ভারতের এক প্রান্ত হতে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত অবিশ্রান্তভাবে উদাত্ত কণ্ঠে সনাতন আর্য ধর্মের বাণী প্রচার করে চলেছেন স্বরূপানন্দ।

শুধু গ্রামে বা শহরে নয়, দুর্লঙ্ঘ্য পাহাড় পার হয়ে দুর্গম অরণ্যের কুটিল অন্ধকারেও নিয়ে চলেছেন সেই সভ্যতার আলো। বিলিয়ে চলেছেন অখণ্ড অমৃত জীবনের অফুরন্ত সুধা। দেরাদুন হতে সদিয়া, বারাণসী হতে ধানবাদ, আবার ধানবাদের পুপুনকি হতে বাংলাদেশে, একই সঙ্গে সর্বত্র অনুষ্ঠিত হয়ে চলেছে এক বিরাট কর্মযজ্ঞের অনুষ্ঠান।

কত ধর্মভ্রষ্টকে ধর্ম দান করেছেন স্বামীজী, কত পথহারাকে দিয়েছেন পথের নির্দেশ, কত পাপীকে আত্মিক মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়েছেন, কত মুমুক্ষুকে দান করেছেন মোক্ষের সন্ধান তার আর ইয়ত্তা নেই।

অথচ তিনি নূতন কিছু বলছেন না। নূতন বা অসঙ্গত কিছু করছেন না। তাঁর কথা সেই প্রাচীন আর্যঋষিদের সনাতন বাণী- ওঠ, জাগো, জানো, এগিয়ে চল।

স্বামীজীর মতে, যা কিছু খণ্ড তাই অসত্য, তাই মৃত্যু, তাই অন্ধকার। খণ্ডের মিলনই জীবন ও প্রেম, বিচ্ছিন্নতাই মৃত্যু। যে অণু-পরমাণুগুলি পরস্পরে মিলিত হয়ে যে কোন বস্তুর অবয়বকে গড়ে তোলে, সেগুলি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেই বস্তুটি ভেঙে পড়ে। যে সব অণুপ্রমাণ অজস্র জীবকোষের সুষম সমন্বয়ে মানবদেহ গঠিত, তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেই মৃত্যু ঘটে মানবদেহের।

স্বামী স্বরূপানন্দের একমাত্র বাসনা, যে মহাজীবন অজস্র অণু-পরমাণুর মধ্যে বিভাজিত হয়ে আছে, সুপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে সেই মহাজীবনের আদর্শকে। যে এক অভিন্ন পরম আত্মা খণ্ড ক্ষুদ্র হয়ে বিরাজ করছে অজস্র জীবদেহের খণ্ড খণ্ড জীবনচেতনার মধ্যে, সেই আত্মার স্বরূপকে উপলব্ধি করতে হবে।

জীবন মাত্রই সার্থক নয়। যে জীবন আমরা জন্মসূত্রে পেয়েছি সে জীবনকে সার্থক করে তুলতে হলে সাধনার দরকার। সাধনার দ্বারাই আমাদের এই ক্ষুদ্র খণ্ড ব্যক্তি জীবনের মুক্তি ঘটতে পারে অখণ্ড মহাজীবনের এক উদার বিশ্বাত্মবোধের মধ্যে। একটি গীতি-কবিতার মধ্যে তাঁর মূল আদর্শটিকে স্বচ্ছ ও সুন্দরভাবে প্রকাশ করেছেন স্বরূপানন্দ।

খণ্ড আজিকে হোক অখণ্ড অণু পরমাণু মিলিত হোক
ব্যাথিত পতিত দুঃখ দীনেরা ভুলুক বেদনা ভুলুক শোক,,
ছোট বড় সব এক হয়ে যাক প্রাণে প্রাণে হোক নব অনুরাগ
জীবে জীবে হোক প্রেমবন্ধন সৃষ্ট হোক আনন্দলোক।।

আমরা দুঃখ শোকে অভিভূত হই। মৃত্যুভয়ে ভীত হই, স্বার্থসিদ্ধির জন্য অসত্যাচরণ করি, তার মূল কারণ ওই খণ্ড চেতনা। আমরা কোন আকাঙ্খিত বস্তু না পেলে অথবা হারালে দুঃখ পাই, আবার একটু সুখ পেলেই আত্মহারা হয়ে পড়ি।

কারণ আমরা আবিদ্যবশতঃ আমাদের খণ্ড জীবনচেতনাকে তখনকার মত ওই বস্তুর উপর আরোপ করি। শুধু আরোপ করি না, ওতপ্রোতভাবে নিজেকে জড়িত করে দেখি তার সঙ্গে। ভেদবুদ্ধির বশে বস্তুজগতের মধ্যে ভেদের সীমারেখা টেনে দিই।

কিন্তু আমরা যদি আমাদের সেই খণ্ড জীবনচেতনাকে অনন্তত্বের পরিপ্রেক্ষিতে প্রসারিত করে দিই, তাহলে দেখব, আমি একই সময়ে একই সঙ্গে জাগতিক সব বস্তুর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছি এক অখণ্ড আত্মিক বন্ধনে। কোন কিছু থেকে আমি বিচ্ছিন্ন নই। চেতন অচেতন সব কিছুর মধ্যেই ছড়িয়ে আছি, সকলে মিলে আমরা অখণ্ড বিশ্বজীবন রচনা করে আছি।

মৃত্যুকে আমরা ভয় করি। কারণ আমরা ভাবি মৃত্যু আমাদের আত্মাকে একেবারে বিনষ্ট করে ফেলে। কারণ আমরা ভাবি আমাদের এই ক্ষুদ্র দেহের কাঠামোর মধ্যে যে জীবাত্মা আবদ্ধ হয়ে রয়েছে সে আত্মা একাত্মভাবে খণ্ড এবং নশ্বর।

কিন্তু যখন জানব, আত্মা এক এবং অবিনশ্বর। যখন বুঝব এক আত্মা বিরাজিত হয়ে বিরাজ করছে সমস্ত জীবদেহের মধ্যে তখন মৃত্যুকে আর কোন ভয় লাগবে না। যখন আরও বুঝতে পারব মৃত্যুতে মানুষের প্রাণবায়ু মহাবায়ুতে লীন হয়ে যায়।

আত্মা দেহ ছেড়ে মিলিত হয় পরমাত্মার সঙ্গে- যে পরমাত্মার সঙ্গে আমরাও জড়িয়ে আছি। তখন কোন মৃত্যুশোক অভিভূত করতে পারবে না আমাদের। আত্মার এই অখণ্ডতা ও অমৃতত্ববোধ আমাদের বুঝিয়ে দেবে, আত্মার সঙ্গে আত্মার সম্পর্কের কখনো ছেদ হয় না মৃত্যুতে।

আত্মার এই অখণ্ডতাবোধই আমাদের সত্যিকারের নিঃস্বার্থ করে তুলবে। আমরা তখন স্বার্থসিদ্ধির জন্য হানাহানি করব না পরস্পরের মধ্যে। কোনো মিথ্যা বা অসত্যাচরণ করব না, কারণ আমরা তখন বুঝব, আমরা বাহ্যতঃ আলাদা হলেও মূলতঃ ও স্বরূপতঃ সকলেই এক এবং অভিন্ন, আত্মার আত্মীয়।

আমাদের বৈদিক আর্য ঋষিগণ প্রার্থনায় বলেছিলেন-

তমসো মা জ্যোতির্গময়।
মৃত্যোর্মামৃতম্ গময়।
অসতো মা সদগময়।
ওঁ শান্তিঃ।। ওঁ শান্তিঃ।। ওঁ শান্তিঃ।।

আজ স্বরূপানন্দ স্বামী অজস্র মানুষকে সমস্ত রকমের তমসা, মৃত্যু আর অসত্য হতে সত্য, অমৃত আর আলোর রাজ্যে নিয়ে যাবার এক সুকঠিন ব্রত যাপন করছেন। পিতার মত পরম বন্ধুর মত তিনি তাদের হাত ধরে এক নির্দিষ্ট কর্মপন্থার মধ্য দিয়ে লক্ষ্যের পথে নিয়ে চলেছেন।

নিজের জীবনের মধ্যে দিয়ে তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন, মানুষ সাধনার দ্বারা এই জীবনকেই এক দিব্য মহাজীবনে পরিণত করে তুলতে পারে।

মানুষ হলেই মানুষের মত বাঁচা যায় না। মানুষের মত বাঁচতে জানা চাই। তার জন্য সংযম ও সাধনার প্রয়োজন‌। তা না হলে মানুষ পশুতে পরিণত হবে।

এজন্য মহাপুরুষদের নির্ধারিত কর্মপন্থা অনুসরণ করা উচিত। এই পন্থা অনুসরণ করে ইচ্ছা করলেই আমরা আমাদের জীবনকে নির্মল ও সুন্দর করে তুলতে পারি। এজন্য সকাল হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত সারাদিন ধরে আমাদের প্রতিটি কর্ম ও চিন্তাকে নিয়ন্ত্রিত করে চলতে হবে।

প্রাচীন বৈদিক সভ্যতার চতুরাশ্রমের মধ্যে প্রথম দুটি আশ্রম অর্থাৎ ব্রহ্মচর্য ও গার্হস্থ্যের উপর বিশেষভাবে গুরুত্ব আরোপ করেছেন স্বামীজী। কিন্তু ব্রহ্মচর্য শুধু ছাত্র ও সাধু-সন্ন্যাসীদের ক্ষেত্রেই পালনীয় নয়, আত্মগঠনের জন্য, আত্মসংযমের মধ্য দিয়ে জীবনকে উন্নত করে তোলার জন্য প্রতিটি গৃহীরও তা অবশ্য পালনীয়।

প্রাচীন বৈদিক সভ্যতার মূল কথাই এই ছিল যে, আত্মসংযম ও ব্রহ্মচর্যাভ্যাসের দ্বারা অনার্যও আর্য হয়ে উঠতে পারে‌। সাধনার দ্বারা শূদ্র বা অব্রাহ্মণও ব্রাহ্মণত্ব লাভ করতে পারে।

(চলবে…)

…………………………………
আরও আধ্যাত্মিক তথ্য পেতে ও জানতে: ভারতের সকল সাধক ও সাধিকা
পুণঃপ্রচারে বিনীত- প্রণয় সেন

নির্মাতা
ভবঘুরে কথা'র নির্মাতা

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!