ভবঘুরে কথা

আগে থেকেই একটা কানাঘুষা শোনা যাচ্ছিল, মঞ্চের কাছাকাছি যেতে উত্তেজনাটাও টের পাওয়া গেল। রাত জুড়ে লালন গান হবে পদ্মা পাড়ে। সেই উপলক্ষে পাড় ঘেঁষে বিশাল জায়গা জুড়ে টানানো হয়েছে শামিয়ানা। সারি সারি চেয়ার পাতা হয়েছে তার তলায়। ফাল্গুনী বাতাসে তড়তড় করে উড়ছে শামিয়ানার চারধারে ঝুলে থাকা রঙবেরঙের নকশাকাটা কাপড়। একপাশে বড়সড় একটা মঞ্চ। মঞ্চ-শামিয়ানা ছাড়িয়ে অনেকটা ফাঁকা জায়গা রেখে নদীর সমান্তরালে যে রাস্তাটা গিয়েছে গ্রামের ভেতর দিয়ে। সেটাকে ঘিরে বসেছে বিশাল মেলা। একপাশে নাগরদোলা অন্যপাশে খেলনাপাতি থেকে খাওয়াদাওয়া নিত্যপ্রয়োজনীয় কতোকিছুর যে দোকান বসেছে তা বলে শেষ করার উপায় নেই। খুঁটিতে খুঁটিতে ঝুলে থাকা ডেকোরেটারের বাতি আলোকিত করেছে রাতের পরিবেশ।

কাঠের দ্বিতল বাড়ি

বিক্রমপুরের শ্রীনগর ছাড়িয়েও আরো বেশকিছুটা এগিয়ে নাম ভুলে যাওয়া একটা মাজারকে ঘিরে চলছিল তিনদিনের ওরশ। তারই শেষদিন সন্ধ্যা থেকে হবে লালনের গান আর শেষরাতে কবিগান। এমনি কথা শুনে আমিও উপস্থিত। সন্ধ্যা হতে চললো এখনো কেনো গান শুরু হচ্ছে না সেটা ভাবতে ভাবতে এগুচ্ছি মাজারের দিকে। সেসময় শিল্পী মামুন নদীয়া বেশ নাম করেছিল। লালনশিল্পী বলতেই এক নামে লোকে তাকে চেনে। তার আগমনে কমিটির লোকজন বিশেষ ব্যবস্থা করেছে। তাকে বসানো হয়েছে মাজারের প্রধান খাদেমের কাঠের ঘরখানায়। রাজনৈতিক ও প্রভাবশালীরা তাকে ঘিরে রেখেছে। এরই ফাঁকে মিষ্টি কুমড়ার তরকারির সাথে গরম গরম ভাতের সেবা চলে আসলো। মামুন নদীয়া আমাকে হাত ধরে উনার পাশে বসালেন। ঘটনা অন্যকিছুই না; এই ঘরে একমাত্র আমিই উনার কথা শুনছিলাম; বাকিরা বাকিদের কথা উনাকে শুনাচ্ছিলেন। দীর্ঘসময় রাজনৈতিক কথা শুনতে শুনতে সম্ভবত উনি ক্লান্ত; তাই গলার স্বর নামিয়ে আমার সাথে কিছু তত্ত্ব আলোচনা করে ফেল্লেন। যদিও তখনো সেসব কিছুই বোঝার কোনো ক্ষমতা আমার জন্মায়নি; সেটা তিনি ভালোই বুঝতে পারছিলেন। তাও বলে চলছিলেন। আজ এতোদিন পরে ভাবলে একটা বিষয় স্পষ্ট হয়; এই যে আমরা সাধনার রহস্য জানার জন্য অল্পতেই অস্থির হয়ে উঠি। বুঝতে চাই না এই রহস্যভেদ বুঝতে হলে নিজেকে তৈরি না করলে তা বোঝা সম্ভব নয়।

বিস্তারিত…

নির্মাতা
ভবঘুরে কথা'র নির্মাতা

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!