ভবঘুরে কথা
ঢাকেশ্বরী মন্দির

-মূর্শেদূল কাইয়ুম মেরাজ

সলিমুল্লাহ হল থেকে প্রায় ৬০০ গজ দক্ষিণ-পশ্চিমে বর্তমান ঢাকার বকশিবাজার এলাকায় ঢাকেশ্বরী মন্দিরের অবস্থান। ধারণা করা হয়, এটিই ঢাকার আদি ও প্রথম মন্দির। সনাতন হিন্দু ধর্মালম্বীরা মনে করে, ঢাকেশ্বরী থেকেই ঢাকা নামের উৎপত্তি। ঢাকেশ্বরী দেবী ঢাকা অধিষ্ঠাত্রী বা পৃষ্ঠপোষক দেবী।

ঢাকেশ্বরী মন্দির নির্মাণ নিয়ে ছড়িয়ে আছে নানা কিংবদন্তি। কিংবদন্তি অনুযায়ী, রাজা আদিসুর তার এক রানীকে নির্বাসিত করেন বুড়িগঙ্গা নদীর উত্তরে। নির্বাসিত রানীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করে এক পুত্র ; এ পুত্রের নাম রাখা হয় বল্লাল সেন। জঙ্গলে নির্বাসিত থাকাবস্থায় শিশু বল্লাল সেনকে দেবী দুর্গা সব রকম বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করে আগলে রাখত বলে বল্লাল সেন বিশ্বাস করতে শুরু করে।

পরবর্তীতে বল্লাল সেন রাজ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে ঐ জঙ্গলের মধ্যে একটি দেবীর মূর্তি পান। সেখানেই তিনি একটি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন যা বর্তমানে ‘ঢাকেশ্বরী মন্দির’ নামে পরিচিত। মূর্তিটি জঙ্গলে ঢাকা অবস্থায় পাওয়া যায় বলে দেবীর নাম হয় ‘ঢাকা + ঈশ্বরী’ বা ‘ঢাকেশ্বরী’।

অপর কিংবদন্তি মতে, রাজা বিজয় সেনের রানী লাঙ্গলবন্দের স্নান সেরে ফেরার পথে এক পুত্র সন্তান প্রসব করে। ইতিহাসে এই পুত্রই পরিচিত বল্লাল সেন নামে। পরবর্তীতে বল্লাল সেন সিংহাসনে আরোহনের পরে নিজের জন্মস্থানকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য নির্মাণ করেন এই মন্দির।

আরেকটি কিংবদন্তি, সেন বংশের রাজা বল্লাল সেন একবার বুড়িগঙ্গা নদীর উত্তরে এক জঙ্গলে খুঁজে পান দেবী দুর্গার এক মূর্তি। মূর্তিটি কুড়িয়ে পাওয়ার পর সেখানে তিনি গড়ে তুলেন একটি মন্দির। সেই মন্দিরটি ঢাকা ছিল জঙ্গলে, ফলে ঐ মন্দিরের নাম হয়ে যায় ঢাকেশ্বরী মন্দির।

তবে এই বল্লাল সেন ইতিহাসের সেন বংশের বিখ্যাত রাজা বল্লাল সেন কিনা তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। বল্লাল সেন নামে ঢাকার ইতিহাসে পরিচিত ব্যক্তিকে কেউ কেউ নিহ্নিত করেছেন আরাকানের সর্বশ্রেষ্ঠ রাজা মলহন ওরফে হোসেন শাহ্র পুত্র ও আরাকানরাজ শ্রীসুধর্ম রাজার ভাই মঙ্গল রায় হিসেবে। আরাকান রাজ্য থেকে তাকে বিতাড়িত করা হলে তিনি ঢাকায় আশ্রয়প্রার্থী হন।

কথিত আছে, বল্লাল সেন এই মূর্তি ও মন্দিরটির প্রতিষ্ঠাতা হলেও পরবর্তীকালে সংস্কারের অভাবে ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হলে মোগল বাংলার সুবেদার মানসিংহ মন্দিরটির আমূল সংস্কার করেন। মানসিংহ ১৫৯৪-১৬০৬ সাল পর্যন্ত মোট তিন দফায় বাংলার মোগল সুবেদার ছিলেন। সে সময় বাংলার রাজধানী ছিল রাজমহলে। ১৬০২-০৪ সাল পর্যন্ত মানসিংহ ঢাকা ও ভাওয়ালে অবস্থান করেন বাংলার বারো ভূঁইয়াদের শায়েস্তা করার জন্য। তবে মানসিংহ সে সময় ঢাকেশ্বরী মন্দিরের সংস্কার করেছেন এরূপ কোন তথ্য কোন ইতিহাস গ্রন্থে পাওয়া যায় না। কিংবদন্তি অনুযায়ী, ষোড়শ শতকে রাজা মানসিংহ এখানে ৪টি শিবলিঙ্গ স্থাপন করে পাশাপাশি নির্মাণ করেন ৪টি শিবমন্দির।

ঢাকেশ্বরী মন্দিরের মূর্তিটি নিয়েও রয়েছে নানা কিংবদন্তি। মূল মূর্তিটিকে আরেকটি প্রতিরূপ বানাতে গিয়ে একবার হয়েছিল বিপত্তি। নির্মিত মূর্তিটি এতোটাই সাদৃশ্য হয়েছিল যে পরে কারিগররাই আলাদা করতে পারেনি প্রকৃত মূর্তি আর পরে নির্মিত মূর্তিটি। ঐতিহাসিক আনন্দনাথ রায়ের বারভূঁইয়া গ্রন্থের একটি অংশ লিখেছেন- “পরে তত্রত্য কর্মকারগণকে ঠিক ঐ মূর্তির অনুরূপ হিরন্ময়মূর্তি নির্মাণের জন্য নিয়োগ করিয়া, তাহারা পাশে কোনরূপে দ্রব্যের অসদ্ব্যবহার বা অপহরণ করে এই জন্য সর্বদা রক্ষিগণকে তত্ত তালাস লইতে নিযুক্ত করা হয়। কর্মকারেরা নিয়ত শিলাময়ীর নিকট থাকিয়া অন্য প্রতিমা নির্মাণ করে। যে দিবস কাজ শেষ হয়, সে দিবস তাহারা রাজসদনে উপস্থিত হইয়া বলে, মহারাজ আমরা এইবার এই নবনির্মিত দেবিমূর্তি পুকুর থেকে স্নান করে আনতে ইচ্ছা করি। রাজা তাদের কথায় স্বীকৃত হয়, নির্মাতারা অলক্ষিতে তাদের নির্মিত মূর্তিটিকে দেবীর আসোনোপরি রেখে যথার্থ দেবিমূর্তিকে মেজে-ঘেষে স্নান করিয়ে আনে, পরে উভয় মূর্তি একই হলে দুই মূর্তির মধ্যে বিভেদ করা কঠিন হয়ে পরে। নির্মাতারা এই করা প্রকাশ করলে মানসিংহ তাদের যথাযোগ্য পুরস্কার দিয়ে চাদরায়ের দেবিকে জয়পুরে নিয়ে যান ও অপর মূর্তিটি ঢাকাতে স্থাপন করেন। এটিই ঢাকেশ্বরী নামে পরিচিত। কেউ কেউ এটিকে অষ্টধাতু নির্মিত বলে মনে করেন। প্রবন্ধকার যাকারিয়ার মতে, মন্দিরের মূর্তিটি ১৭ শতকের নির্মিত, তার আগের নয়।”

ব্রাডলি বার্টের এ শতকের গোড়ার দিকের এক বিবরণীতে পাওয়া যায়- বর্তমান মন্দিরটি ২০০ বছরের পুরনো ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির এক হিন্দু এজেন্ট নির্মাণ করেন। সম্ভবত ভদ্রলোক মন্দিরটি সংস্কার করেন।

ঢাকেশ্বরীর যে সমস্ত ইতিহাস পাওয়া যায় তার প্রায় সবটাই কিংবদন্তি। এর কোনটা সঠিক আর কোনটা সঠিক নয় এ নিয়ে রয়েছে যথেষ্ট মতভেদ। ঢাকেশ্বরী মন্দির নিয়ে গবেষকরাও একমত হতে পারেনি। ভিন্ন ভিন্ন গবেষকদের গবেষণা থেকে প্রাপ্ত তথ্যগুলো এরকম-

১. ঢাকেশ্বরী মন্দিরের স্থাপত্য শৈলী মোগল স্থাপত্যরীতির সঙ্গে মিল থাকায় ধারণা করা হয়, মন্দিরটি মোগল শাসনামলে নির্মিত। কারণ হিসেবে ধারণা করা হয়, বাংলায় মোগলদের পূর্বে চূন-বালি-পানির মিশ্রণে ইমরাত নির্মাণ রীতি লক্ষ্য করা যায় না। সে সময় ইট ও কাদার গাঁথুনীতে তৈরি হত।

২. মন্দিরের পুকুর, বাগান, মঠ, মণ্ডপ, সন্ন্যাসীদের আশ্রম, পান্থশালা, অশ্বত্থবৃক্ষ, গর্ভগৃহ দেখে অনেকে এর সঙ্গে আরাকানিয় বৌদ্ধ মন্দিরের মিল খুঁজে পাওয়া যায়। যুগল মূর্তি, একটি দশভুজা দেবী ও অন্যটি চতুর্ভুজ দেবমূর্তি মগদের তান্ত্রিক বৌদ্ধ ধর্মের প্রতীক।

৩. মন্দিরের দশভুজা মূর্তিকে আবার মগদের দেবীও বলে মনে করেন কেউ কেউ। কারণ মগ নাথদের নামকরণ করা হয় প্রধানত স্থান ও জাতি ইত্যাদি নামের শুরুতে নাথ, ঈশ্বর, ঈশ্বরী প্রভৃতি শব্দ যুক্ত করে থাকে। তাই ঢাকার সঙ্গে যুক্ত ঈশ্বরী শব্দটিই এই ভাবনার কারণ হতে পারে।

ড. রতনলাল চক্রবর্তী তার এক প্রবন্ধে উল্লেখ করেন, “এর নির্মাণ-শিল্প ও গঠন-প্রণালী বৌদ্ধ মঠের মত।” তার মতে, সম্ভবত এটি পূর্বে ছিল বৌদ্ধ মন্দির, পরে যা রূপ দেয়া হয় হিন্দু মন্দিরে। এই তত্ত্বের ওপর তিনি অনুমান করেন এটি নির্মিত হয় সম্ভবত দশম শতকে। এগুলোর পশ্চিমদিকে উত্তর-দক্ষিণে লম্বালম্বি একটি প্রাচীন দীঘি রয়েছে। দীঘিটির চারদিকে ছিল পায়ে হাটা পথ। দীঘি ও বিশ্রামাগারের পূর্ব পাশে সাধুদের উদ্দেশ্যে নিবেদিত কয়েকটি অজ্ঞাত সমাধি রয়েছে। দীঘিটির দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে একটি প্রাচীন বটবৃক্ষ।

ঢাকেশ্বরী মন্দিরের বর্ণনায় হৃদয়নাথ মজুমদার- “মন্দিরটি পঞ্চরত্ন, সামনে নাটমন্দির। নাট মন্দিরকে ঘিরে আছে এক সারি কামরা। আর রয়েছে একটি বড় পুকুর, নহবতঅলা ফটক যার ভেতর দিয়ে হাতি যেত। পূর্ব দিকে রয়েছে কয়েকজন সাধুর সমাধি যারা একসময় মন্দিরে পূঁজা বা ধ্যান করতেন। মন্দিরের বাইরে আছে ৫টি (৪টি) মঠ, প্রতিটিতে একটি শিবলিঙ্গ। ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পুরোহিত প্রতিদিন এর পূজা করেন। জনশ্রুতি রয়েছে, বল্লাল সেন দেবীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য এই তোরণপথে হাতির পিঠে করে মন্দিরে প্রবেশ করেন।”

ঢাকেশ্বরী মন্দিরে কয়েকটি মন্দির ও এর সংলগ্ন সৌধ নিয়ে অবস্থান করছে। দু অংশে বিভক্ত এ মন্দিরের পূর্বদিকে প্রধান মন্দির, মন্দির সম্মুখস্থ নাট মন্দির ও কয়েকটি ইমারত। আর পশ্চিমদিকের অংশে রয়েছে কয়েকটি মন্দির, পান্থশালা ও কয়েকটি কামরা। পশ্চিমদিকে উত্তর-দক্ষিণে আয়তকার একটি দিঘি ; এর চারদিকে পায়ে চলা পথ। দীঘি সংলগ্ন সন্ন্যাসীদের সমাধি ইত্যাদি।


ওপরের দিকে ধীরে ধীরে সরু হয়ে পিরামিডাকৃতিতে ৬টি স্তরে ওঠে গেছে। প্রতিটির শীর্ষচূড়া পদ্মপাপড়ির উপর কলসে শেষ হয়েছে। ভেতরের ছোট কামরাগুলোর প্রতিটিতে রয়েছে একটি করে শিবলিঙ্গ। প্রতিটি মন্দিরের উত্তর দিক ব্যতীত অপর তিনদিকে সরু প্রবেশপথ।

ঢাকেশ্বরী মন্দির অঙ্গনের প্রবেশের সিংহদ্বারটি নহবতখানা তোরণ নামে পরিচিত। পশ্চিমদিকে দীঘির উত্তর-পূর্ব কোণে পূর্ব-পশ্চিমে এক সারিতে সম-আয়তনের এবং একই রকম দেখতে পরপর ৪টি মন্দির। মন্দির চারটি একটি উঁচু ভিত্তি বেদীর ওপর নির্মিত হলেও প্রতিটি মন্দিরই স্বাধীন সত্তাবিশিষ্ট। এ মন্দিরগুলো প্রবেশের জন্য আলাদা আলাদা সিঁড়ি রয়েছে। প্রতিটি মন্দিরই বর্গাকারে নির্মিত একটি অতি ছোট কামরার ওপরে কোণওয়ালা মঠের আকারে নির্মিত মন্দির ৪টির সূক্ষ্মাগ্র ছাদ বা চূঁড়া। ওপরের দিকে ধীরে ধীরে সরু হয়ে পিরামিডাকৃতিতে ৬টি স্তরে ওঠে গেছে। প্রতিটির শীর্ষচূড়া পদ্মপাপড়ির উপর কলসে শেষ হয়েছে। ভেতরের ছোট কামরাগুলোর প্রতিটিতে রয়েছে একটি করে শিবলিঙ্গ। প্রতিটি মন্দিরের উত্তর দিক ব্যতীত অপর তিনদিকে সরু প্রবেশপথ।

ঢাকেশ্বরীর উত্তরদিকের কেন্দ্রীয় মন্দিরটি দক্ষিণমুখী। এ কেন্দ্রীয় মন্দিরটি তিনকক্ষ বিশিষ্ট ও সামনের দিকে বারান্দা বিশিষ্ট। মন্দিরের এই বারান্দাটি ৩টি অংশে বিভক্ত, কেন্দ্রীয় অংশটি আয়তকার ও পার্শ্ববর্তী দুটি বর্গাকার। মাঝের বড় আকৃতির কক্ষের দু’পাশে রয়েছে অপর ২টি কক্ষ এবং প্রত্যেক কক্ষের সামনের দিকে খিলানের সাহায্যে একটি করে প্রবেশপথ। কক্ষগুলোর ওপরে চার ধাপ বিশিষ্ট ছাদ। ছাদের সর্বনিম্নাংশে অনেকটা চৌচালা ঘরের চালের আকারে নির্মিত। বাকি তিনটি ধাপ ভারতের উত্তরাঞ্চলের মন্দিরগুলোর আচ্ছাদনের আকৃতির। ছাদের উপর প্রতিটি কক্ষের উপরে একটি করে পরপর ৩টি পিরামিডের আকারের শিখর চূড়া। মাঝের কক্ষের শিখরটি তুলনামূলক উঁচু ও বড়।

এ মন্দিরটির কেন্দ্রীয় কক্ষের উভয় পার্শ্বের দুটি কক্ষেই একটি করে কষ্টি পাথরের শিবলিঙ্গ আর কেন্দ্রীয় কক্ষে একটি চতুর্ভুজ দেবমূর্তি (বাসুদেব নামে পরিচিত) ও একটি দশভুজা দেবী মূর্তি (ঢাকেশ্বরী দেবী বা দুর্গা দেবী নামে পরিচিত)। ঢাকেশ্বরী মন্দিরের মূল দেবী ‘দশভূজা’। কথিত আছে, দশভুজা মূর্তিটি সোনার তৈরি। দেবীর ডান ও বাম দিকে আরো বেশ কয়েকটি দেব-দেবীর মূর্তি। পূর্ব ভাগে প্রধান মন্দিরের সামনে অর্থাৎ দক্ষিণ দিকে একসময় মণ্ডপ বা নাট মন্দির রয়েছে। নাট মন্দিরের দক্ষিণে যজ্ঞ মন্দির। একসময় পাঠাবলি দেয়ার জন্য মণ্ডপের একটি র্নিদিষ্ট স্থান ছিল। মণ্ডপটি এখন প্রায় ধ্বংসের পথে।

জানা যায়, একসময় গ্রামাঞ্চলের উৎপাদকরা তাদের পণ্য নিয়ে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে উপস্থিত হত ; বিনিময়ের মাধ্যমে একে অন্যের কাছে তা আদান-প্রদান করত। তারা তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবন নিয়ে আলোচনা করত এই মন্দিরে। এসবকিছু নিয়েই ধীরে ধীরে এই মন্দিরকে ঘিড়ে একটি বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও ব্যাণিজ্যিক কেন্দ্র গড়ে ওঠে। সেন রাজারা ছিল এসকল কিছুর পৃষ্ঠপোষকতা।

ঢাকেশ্বরী মন্দির ‘২০১৮

[বল্লাল সেন : বাংলার সেন বংসের দ্বিতীয় রাজা বল্লাল সেনের রাজত্বকাল আনুমানিক ১১৬০-১১৭৮ সাল পর্যন্ত। তার সময়কার অদ্ভুতসাগর ; আনন্দভট্টের বল্লালচরিত (১৫১০ সালে রচিত) গ্রন্থ দুটি এ যাবত আবিষ্কৃত হয়েছে। উপরোক্ত দুটি গ্রন্থেই গৌড়ের রাজার সঙ্গে বল্লালসেন যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত থাকার কথা বর্ণিত রয়েছে। অধ্যাপক হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে, রাজত্বের প্রথম সময় বল্লাল সেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ছিলেন।

অদ্ভুতসাগর গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে, পিতা বিজয়সেনের শাসনামলে বল্লালসেন মিথিলা জয় করেন। তিনি প্রায় ১৮ বছর সাফল্যের সঙ্গে রাজত্ব করেন। বৃদ্ধ বয়সে তিনি পুত্র লক্ষণসেনকে রাজ্যভার অর্পণ করে সস্ত্রীক (তার স্ত্রী চালুক্য রাজকন্যা রামদেবী) ত্রিবেণীর নিকটে গঙ্গাতীরবর্তী স্থানে বসবাস শুরু করেন।

জানা যায়, তিনি কৌলীন্যপ্রথা প্রবর্তনের মাধ্যমে সামাজিক ব্যবস্থা পুর্নগঠন করেন। তিনি ছিলেন একজন পণ্ডিত ও প্রসিদ্ধ লেখক। তার রচিত গ্রন্থ দানসাগর (১১৬৮ সাল), উদ্ভুতসাগর (১১৬৯, অসমাপ্ত) প্রভৃতি। শিবের উপাসক বল্লাল সেন অন্যান্য রাজকীয় উপাধির সঙ্গে অরিরাজ নিঃশঙ্ক শঙ্কর উপাধি গ্রহণ করেন। তিনি ১১৭৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।]

নির্মাতা
ভবঘুরে কথা'র নির্মাতা

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!