শ্রীশ্রী বরফানী দাদাজি

-ড সৌরভ মণ্ডল

বর্তমানে ভারতবর্ষের আধ‍্যাত্ম জগতের নেতৃত্ব দানকারী সকলস্তরের জীবিত মহাত্মাগণের মধ‍্যে এক অন‍্যতম মহাত্মা হলেন মহাযোগী বহুবর্ষজীবি শ্রীশ্রী বরফানী দাদাজি মহারাজ। তার জন্ম সাল ১৭৯২ খ্রীষ্টাব্দ। সেই হিসাবে আজকের দিনে দাদাজির বয়স হওয়ার কথা ২২৭ বৎসর।

আবার তাঁর আশ্রমের আনাচে কানাচে অনেককেই বলতে শোনা যায় দাদাজীর বয়স ২৮০ বৎসর হয়ে গিয়েছে। কেউ কেউ বলেন ৩০০ বৎসরেরও বেশি। সে যাই হোক কিন্তু শ্রদ্ধেয় দাদাজি মহারাজ যে একজন বহু অলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্ন উচ্চকোটির মহাযোগী সে বিষয়ে কারও কোনো সন্দেহ নেই।

তাঁকে দেখে অবশ্য অনুমান করাই দুরূহ তিনি কত বৎসর বয়সী। কারণ দেখা মাত্রই মনে হবে ৭০ থেকে ৭৫ বৎসর বয়সী।

বাল‍্যকালেই তাঁর পিতা তাঁকে যোগী গৌরীশঙ্করের আশ্রমে রেখে আসেন। যোগীবর গৌরীশঙ্করজী পরবর্তীকালে তাঁকে তপস্বী অর্জুনদাস মহারাজের হাতে সমর্পণ করেন। তারপর তিনি বহু বৎসর হিমালয়ে যোগ সাধনা করেন ও বহু মহাত্মার আশীর্বাদ লাভ করেন।

যোগীরাজ শ‍্যামাচরণ লাহিড়ী মহাশয়ের গুরুদেব শ্রীশ্রী মহাবতার বাবাজী মহারাজের সাক্ষাত ও আশীর্বাদ ঐ সময় তিনি প্রাপ্ত হয়েছিলেন। ১৯২৮ সালে ১৩৬ বৎসর বয়সে তিনি একটি বরফাবৃত গুহায় বহুদিন সাধন করেছিলেন।

তখন থেকেই বরফে আবৃত থাকার কারণে তাঁর নাম হয় ‘বরফানী’। আর বহুবৎসর জীবিত থাকার ফলে সাধারণ ভাবেই তিনি ‘দাদাজি’ বলেই সম্বোধিত হন।

যাঁরা তাঁর সান্নিধ্যে এসেছেন তাঁরা প্রত‍্যেকেই জানেন তিনি অতি মৃদুভাষি ও অল্পাহারী ব‍্যক্তি। ভাষাগতভাবে যাহারা অন‍্যভাষী তাঁরাও প্রত‍্যেকেই জানেন তাঁর কাছে ভাষাগত কোনো সমস্যা কখনই স্থান পায়নি।

ভক্তদের মনের ইচ্ছা মুখে বলার প্রয়োজনই হয় না। তাঁর সম্মুখে উপস্থিত হওয়া মাত্রই তিনি নিজেই ভক্তের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করছেন বা উত্তর দিচ্ছেন।

কিছুদিন পূর্বে আমার সাথে সাক্ষাত হয়েছিল শ্রীযুক্ত শ্রী সত‍্যেশ্বর মান্না মহাশয়ের। তিনি ভারত বিখ্যাত মহাযোগী শ্রীশ্রী বরফানী দাদাজি মহারাজের শিষ‍্য এবং শ্রীশ্রী সীতারামদাস ওঙ্কারনাথ ঠাকুরের আশীর্বাদ ধন‍্য। তিনি এসেছিলেন তার আপন প্রয়োজনে কিন্তু তার আগমনে মিটল আমার প্রয়োজন।

বহু বৎসর পূর্বে মহাযোগী শ্রীশ্রী বরফানী দাদাজি মহারাজের দর্শনের উদ্দেশ্যে ছুটে গিয়েছিলাম অমরকন্টকে। সেটি ছিল আমার জীবনের এক অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা। তারপর বহুদিন অতিক্রান্ত হয়েছে বরফানী দাদাজি মহারাজের কোনো খবর ছিল না আমার কাছে।

সেদিন অনেকদিন পর অনেক কথাই জানতে পারলাম সত‍্যেশ্বর বাবুর কাছে। বহুদিন পূর্বেই শ্রদ্ধেয় বরফানী দাদাজি মহারাজ পরিত‍্যাগ করেছিলেন তাঁর অমরকন্টকের আশ্রম। বর্তমানে তিনি রাজস্থান ও ইন্দোরের আশ্রমে অদলবদল করে থাকেন।

প্রতি অর্ধ কুম্ভ ও পূর্ণ কুম্ভে বরফানী দাদাজি মহারাজ স্বয়ং উপস্থিত থেকে নেতৃত্ব দেন এবং প্রতিবারই সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন শ্রীযুক্ত সত‍্যেশ্বর বাবু।

তার মুখে শুনলাম দাদাজীর অনেক অপ্রকাশিত ঘটনার কথা, যা শুনে অভিভূত হলাম। শুনলাম তার দীক্ষিত হওয়ার ঘটনা। জানলাম তার জীবনে দাদাজী কর্তৃক প্রদত্ত বানলিঙ্গ ও জপের মালার অলৌকিক ক্ষমতার কথা।

হে ভারত মাতা তোমার চরণে জানাই শতশত নমন। যুগ যুগ ধরে তুমি প্রসব করেছ বহু রত্ন। সেই সকল রত্নসমূহ লাভ করে আজও আমার গর্বিত।

……………………………..
আরো পড়ুন:
সব তীর্থ বার বার গঙ্গা সাগর একবার
দোল উৎসব

আম্মার সঙ্গলাভ
ক্রিয়াযোগ ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
শ্রীশ্রী সাধিকা মাতা
বহুবর্ষজীবি শ্রীশ্রী বরফানী দাদাজি

জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা ও নবকলেবর রহস্য

নির্মাতা
ভবঘুরে কথা'র নির্মাতা

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!