ভবঘুরে কথা
ফকির নহির সাঁইজি

-মূর্শেদূল কাইয়ুম মেরাজ

মাই ডিভাইন জার্নি : নয়
কী আছে এই পোড়া শহরে! কি এতো প্রেম তাহার সাথে! কিছুই বুঝি না ছাই। দিন দিন এই শহরে নি:শ্বাস নেওয়াও কষ্টকর হয়ে পড়ছে। ঘিঞ্জি বসতি, সারি সারি বাক্স বাক্স বাড়িঘর, এরই মাঝে ঠেসে ঠেসে বসবাস; দম বন্ধ করা এই জীবনযাপন। এতো গেলো ঘরের কথা। আর ঘরের বাইরের কথা কি বলি। তার অবস্থা তো আরও করুণ। অসহনীয় ট্র্যাফিক জ্যাম মূল সড়ক ছেড়ে গ্রাস করে নিচ্ছে অলিগলি-মাঠ-ঘাট, অত্যাচার-অবিচার-অবহেলায় হারিয়ে যাচ্ছে কোনোমতে টিকে থাকা অবশিষ্ট সবুজের ছায়াবিথীও, স্বচ্ছ জলাশয় তো অনুবীক্ষণ যন্ত্রে খুঁজতে হয়, বাতাসে সীসার রেকর্ড মাত্রা, শব্দদূষণে কানে তালা লাগার জোগাড়। আর মানুষ! সে তো পরশ্রীকাতরতায় মগ্ন। সততা এখানে মূল্যহীন, বিশ্বাস তো ডুবে গেছে অতল জলে। তারপরও দিনকয়েক এ শহরের বাইরে থাকলেই পেছন থেকে কে যেন টেনে ধরে। কে যেন খুব কাছ থেকে বুকের পাজরের উপর চেপে বসে ফিরে আসার আহ্বান করে। এমনই প্রেম তাহার সাথে। প্রেয়সীর মতোই। যাকে না দেখলে মাতোয়ারা হয় মন। আবার সারাক্ষণ পাশাপাশি থাকলে খুঁনসুটি হয়। দূরে থাকলে যেমন প্রেম উছলে পড়ে তেমনি পাশাপাশি থাকলে কখনোসখনো প্রেমে ঘাটতিও হয়। মনোমালিন্য হয়। দূরত্ব বাড়ে। তেমনি যখন এ শহরে বাস করতে করতে হাঁসফাঁস উঠে যায়। যান্ত্রিকতা-কংক্রিটের নগরায়ণ যখন অসহ্য ঠেকে তখন চোখ যায় ঘরের কোণে ঝুলে থাকা ধুলোজমা ব্যাগটার দিকে। হাতড়ে হাতড়ে দেখতে হয় পকেটের অবস্থা। সংক্ষিপ্ত হিসেব-নিকেষ, তারপর বেরিয়ে পড়া। তবে এ যাত্রা একমুখী নয়; মাত্র দিনকয়েকের সজীবতা নিয়ে আবার এই পোড়া শহরেই ফিরে আসা। কেউ দিব্যি দেয়নি তবুও ফিরে আসা।

কি সন্ধানে যাই সেখানে : ফকির নহির সাঁইজি

এইসব যাওয়া-আসার ফাঁকে মনের গহীনে একটা প্রশ্ন জাগে, আমি অক্সিজেন নিতে এ শহর ছেড়ে দূরে কোথাও যাই নাকি অক্সিজেন নিতে এ শহরে ফিরে আসি? বিষয়টা বেশ গোলমেলে। এর কোনো একটা সিদ্ধান্তে স্থির থাকা কঠিন। যাক সে কথা, এভাবেই চলে যায় জীবনের অলস চাকা। এভাবে চলতে চলতে যখন সমস্ত গন্তব্য ধূসর হয়ে উঠে, টানেলের শেষে যখন কোনো আলো দৃশ্যমান হয় না, তখন আমার সকল গন্তব্য এক বিন্দুতেই মিশতে চায়; তা আর অন্য কোথাও নয় সাঁইজির ধাম। সেবারও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। যেতে হবে এটুকুই জানতাম, এর বেশি কোনোরকম পরিকল্পনাও ছিল না। কেবল বেরিয়ে পরার আগে সুমন দাস বাউলকে ফোন দিলাম। কথা হলো কুষ্টিয়ায় দেখা হবে। আমি ঢাকা থেকে আর সুমন দাস খুলনা থেকে রওনা হলাম সাঁইজির ধামের উদ্দেশ্যে। চললাম সেইপথে যেখানে সাঁইর বারামখানা।

বিস্তারিত পড়ুন…

নির্মাতা
ভবঘুরে কথা'র নির্মাতা

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!