ভবঘুরে কথা
রাজাবাবুর লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দির

-মূর্শেদূল কাইয়ুম মেরাজ

লক্ষ্মীবাজারে রাজাবাবুর ময়দান এলাকাতেই ছিল রাজাবাবুর বাড়ি ও মন্দির। রাজাবাবুর প্রকৃত নাম ছিল কৃষ্ণ প্রসাদ। তিনি ছিলেন ভিখন লাল পাণ্ডে নামক জনৈক ব্রাহ্মণের পৌত্র। আঠার শতকের কোন এক সময় ভিখন লাল/ভিখন ঠাকুর পাঞ্জাব রাজ্য থেকে ঢাকায় আসেন। পলাশীর যুদ্ধে তিনি ইংরেজদের নানাবিধ সাহায্য-সহযোগিতা করেন বলে জানা যায়। পরবর্তীতে ভিখন লাল কোম্পানির দেওয়ান নিযুক্ত হন। এসময় তিনি প্রচুর অর্থ-সম্পদের অধিকারীও হন। এসময় ভিখন লাল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর পক্ষে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের কার্য পরিচালনা করতেন বলে জানা যায়।

ভিখন লাল ইংরেজদের সহচার্যে এসে অর্থবৃত্তের মালিক হওয়ার সাথে সাথে জমিদারি কিনতে শুরু করেন। তার জমিদারির অন্যতম ছিল নারায়ণগঞ্জের বন্দর। পরবির্তীতে তারই উদ্দ্যোগে ইংরেজদের সহায়তায় হিন্দু দেবতা নারায়ণের নামানুসারে নারায়ণগঞ্জ আর লক্ষ্মী দেবীর নামানুসারে ১৮৯০ সালে ঢাকার মিয়া সাহেবের ময়দান এলাকাটি লক্ষ্মীবাজার নামকরণ করেন। তিনিই এখানে লক্ষ্মীনারায়ণের মূর্তিটি স্থাপন করেন। রাজাবাবুর আমলেই নির্মিত হয় এই লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দিরটি।

জনশ্রুতি আছে, জনৈক সন্ন্যাসী কর্তৃক ভিখন লাল ৫টি নারায়ণ চক্র লাভ করেন। সন্ন্যাসীর কাছ থেকে প্রাপ্ত নারায়ণ মূর্তিগুলো তিনি নারায়ণগঞ্জ বন্দর, ইদ্রকপুরের পঞ্চাসী ঘাট, ঢাকার নরসিংজির আখড়া ও ঢাকার লক্ষ্মীবাজার রাজাবাবুর বাড়িতে স্থাপন করেন।

লক্ষীবাজারের এই রাজাবাবুর লক্ষ্মীনারয়ণ মন্দিরটি ছিল একটি দোতলা ইমারত। নিচতলার পুরু দেয়ালে নির্মিত দুটি কামরা ও ওপর তলায় নাচঘর ও অন্তরতলা। এর কাঠের মেঝে ও দেয়ালগুলো ছিল নানারকম কারুকাজ মণ্ডিত। পেছনের কামরায় ছিল কাঠ ও রূপার তৈরি একটি সিংহাসন। এই সিংহাসনের ওপর লক্ষ্মীনারায়ণের মূর্তি স্থাপিত। ভিখন লালের সময় এই নাচঘরে আমোদ-প্রমোদের আয়োজন করা হত নিয়মিত। মন্দিরটি ভিখন লালের সময় নির্মিত হলেও এটি রাজাবাবুর লক্ষ্মীনারায়ণের মন্দির নামেই বেশি পরিচিতি পায়।

নির্মাতা
ভবঘুরে কথা'র নির্মাতা

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!