শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী

৬১.
বারদীতে অবস্থানকালে যখন যেমন আমার কাছ থেকে শূন্য হতে কেউ ফেরে নি, আজও শরণাগত অভীষ্ট ফল লাভে বিফল হবে না।

৬২.
যে কর্ম মনে তাপ সৃষ্টি করে তাই পাপ। যে কর্মে মধ্য দিয়ে আত্মসচেতনতা বা শক্তির ভাব মনকে ভরিয়ে তোলে.তাই পুণ্য এবং স্বর্গ তুল্য।

৬৩.
তবে তোরা জাগতিক চাওয়া নিয়েই ভুলে থাকিস না, সত্য লাভ করার জন্য চেষ্টা কর, আমার কৃপা তোদের সাধন পথকে সুগম করে তুলবে।

৬৪.
যে যোগী আত্মাজ্ঞান লাভ করার পর করুণায় বিগলিত হয়ে সর্বজীবের সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল কামনা করেন। সেই-ই পরম যোগী আমার সব থেকে প্রিয়।

৬৫.
জগতে যখন মানুষের শরীর নিয়ে এসেছিস, তখন দশের সেবা করে, তাদের প্রসন্ন করে জীবন সার্থক করে নে। এতে তোরও মঙ্গল জগতেরও মঙ্গল।

৬৬.
সমাধির উচ্চতম শিখরে গিয়ে যখন পরমতত্ত্বে পৌঁছালাম, তখন দেখি আমাতে আর অখিল ব্রহ্মাণ্ডের অস্তিত্বে কোনো ভেদ নেই, সব মিলেমিশে একাকার।

৬৭.
ভক্তের বোঝা আমি নিজের কাঁধে বয়ে বেড়াই। তোদের সব দায়িত্বই আমার। কেবল তোদের সহজ সরল মনটুকু আমায় দে আমি যে তোদের প্রেমের কাঙ্গাল।

৬৮.
আমি শরীর ছেড়ে দিয়েছি, কিন্তু ভক্তকে রক্ষা করার জন্য আমি সর্বদাই ভক্তের সঙ্গে সঙ্গে রয়েছি, তোদের চোখ নেই, তাই তো তোরা আমায় দেখেও দেখিস না।

৬৯.
আত্মনিষ্ঠ যোগই তোদের মুক্তির পথ। ভক্তিই সারবস্তু। মন্ত্রাদি হয় সহায় মাত্র। ভক্তিকে সম্বল করে এগিয়ে চল, তোদেরকে রুখবে কে-রে, তোরা যে আমারই সন্তান।

৭০.
মন যা বলে শোন, কিন্তু আত্মবিচার ছেড়ো না। কারণ মনের মত প্রতারক আর কেউ নেই, মহাপুরুষরে বাক্য, শাস্ত্র বাক্যে শ্রদ্ধাবান না হলে প্রকৃত আত্মবিচার সম্ভব নয়।

৭১.
সূর্য উঠলে যেমন আধার পালিয়ে যায়, গৃহস্থের ঘুম ভেঙ্গে গেলে যেমন চোর পালিয়ে যায়, ঠিক তেমনি বার বার বিচার করলে খারাপ কাজ করবার প্রবৃত্তি পালিয়ে যাইবে।

৭২.
একশত বছরেরও বেশি সময় ধরে আমি পাহাড়-পর্বত ও বনভূমি দিয়ে দূরত্বে ভ্রমণ করেছি এবং প্রচুর পরিমাণে সংগ্রহ করেছি; এই বাড়িতে আপনি যখন বসার সুবিধা পাবেন।

৭৩.
যাকে পাবার জন্য এতো যোগসাধনা, এতো ভক্তি, তিনি শুধু মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত বিগ্রহের মধ্যে না সাধু মহাপুরুষদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ? তিনি যে সবের মধ্যেই আছেন।

৭৪.
আমি পাহাড়-পর্বত পরিভ্রমণ করে বড় একটা ধন কামাই করেছি। কত বরফ ও শরীরের ওপর দিয়ে জল হয়ে গিয়েছে। তোরা বসে খাবি আর আমার নাম জপ করে পরিত্রাণ পাবি।

৭৫.
কিন্তু যখন দেখি রোগ যন্ত্রণায় খুব কষ্ট পাচ্ছিস, আর সহ্য করতে পারছিস না, তোদের যন্ত্রণা কাতর, ‘বাবা’ ডাকে আমার অন্তর বিগতি হয়। তখন তোদের ঐ কষ্ট দূর না করে থাকতে পরি না।

৭৬.
আমাকে তোরা শরীর ভেবে, মানুষ ভেবেই গেলি, আমি যে কে, তা জানার চেষ্টা কেউ করলি না। তোদের যে বোঝাবো তাও তো পারি না। নিজেই সে সত্ত্বার কথা যে বলা কওয়া যায় না।

৭৭.
গীতা কি আর নিত্য পাঠের জিনিস, গীতা যে গীতা। গীতা পাঠ করলে কি হবে, শোনার চেষ্টা করতে হবে। প্রতিটি জীব হৃদয়ে বসে যে ভগবান নিত্য গীতা শোনাচ্ছেন, যেদিন শুনবি সেদিন গীতা হয়ে যাবি।

৭৮.
ক্ষুধা নিবারণের জন্য মোহের যেমন প্রয়োজন বোধ, বিষ্ঠা-মূত্র ত্যাগের জন্য যেমন দেহের প্রয়োজন বোধ। সেই রকম আমার জন্য যার প্রয়োজন বোধ, সে আমার অনিচ্ছা থাকলেও ইচ্ছা করিয়ে নিতে পারে।

৭৯.
পিতা-মাতা তারা যত বৃদ্ধই হোক না কেন পিতামাতাই। তাঁদের খুশী করবার জন্য বিরক্ত না হয়ে, বারবার তাঁদের প্রশ্নের উত্তর দিবি। আর কোন কারণ জিজ্ঞাসা না করে তাঁদের ইচ্ছা পূরণ করার চেষ্টা করবি।

৮০.
ওরে তোরা কবে ঠিক ঠিক বিশ্বাস করবি যে, এক আমিই সর্বময় কর্তা। আমার ওপর নির্ভর কর, সব কর্তৃত্ব আমার উপর ছেড়ে দিয়ে কেবল নিজের কর্তব্যটুকু নিষ্ঠাভাব পালন কর, তাহলেই জীবনে শান্তি পাবি।

৮১.
তুই যতই ক্ষমতা সম্পন্ন হসনা কেন, সর্বদা আইনের মর্যাদা রক্ষা করবি। আইনের সম্মান রক্ষা করলে মর্যাদাহানি হয়না। তাইতো আমি সরকারি বিধিব্যবস্থার উপযুক্ত সম্মান রক্ষার জন্যই নারায়ণগঞ্জ কোর্টে গিয়েছিলাম।

৮২.
বাক্যবান, বিত্ত-বিচ্ছেদবান ও বন্ধু বিচ্ছেদবান এই তিন বান সহ্য করতে পারলে, মৃত্যুকেও হটিয়ে দেওয়া যায়।
তিনি যে অবস্থায় রাখেন সন্তুষ্ট থাকতে হয়। কারণ তিনি মঙ্গলময়। তার ইচ্ছায় বা কার্যে আমাদের অমঙ্গল হয় না।

৮৩.
হিমালয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশে চরম সত্যে পৌঁছে দেখলাম আমি ছাড়া আর কোথাও কেউ নেই, তখন সবার দু:খ নিজের মতন করেই হৃদয়ে অনুভব করলাম। তাই তো ছুটে এলাম তোদের মধ্যে, তোদের সুখ-দু:খের সঙ্গী হবার জন্য।

৮৪.
আমার কাছে তোদের কোনো স্বার্থ নেই, সব স্বার্থই তো আমার। আমি যে তোদের না দেখে তোদের মুখে বাবা ডাক না শুনে থাকতে পারি না। তাই তো তোদের কাছে এসে একটু ভালোবাসা পাবার জন্য কত সাধ্য-সাধনাই করে চলেছি।

৮৫.
যদি আমার প্রতি কোনো কৃতজ্ঞতার ভাব অন্তরে অনুভব করিস তো আমাকে ভিক্ষা দিস। দীন দরিদ্র আর সম্বলহীন অনাথের জন্য দয়া করে যা হাতে তুলে দিবি জানবি বতা একমাত্র আমিই পাব। আমি ছাড়া যে আর কেউ নেই রে।

৮৬.
অহং চলে গেলে মনই নিজের গুরু হয়, বুদ্ধি জাগ্রত হয়, সৎ ও অসৎ এর বিচার আসে। জ্ঞানের সাথে ভক্তির যোগ করে দিয়ে তোরা মণিকাঞ্চন হলে শ্রদ্ধা হবে তোদের আশ্রয়, শ্রদ্ধাই হবে তোদের বান্ধব, শ্রদ্ধাই হবে তোদের পাথেয়।

৮৭.
বহু বছর পাহাড়-পর্বত ঘুরেছি; কিন্তু ঈশ্বরের সঙ্গে আমার দেখা হয় নি। আমি দেখেছি আমাকে, আমি বন্ধ আছি কর্মে অর্থাৎ সংসারে। সংসার বদ্ধ আছে জিহ্বা আর উপস্থে। যে এ দুটিকে সংযম করতে পারে, সেই কেবল সিদ্ধিলাভ করতে পারে।

৮৮.
প্রতিদিন রাতে শোবার সময়, সারাদিনের কাজের হিসাব-নিকাশ করবি অর্থাৎ ভাল কাজ কী কী করেছিস আর খারাপ কাজ কী কাজ করেছিস? যে সকল খারাপ বলে বিবেচনা করলি, সে সকল কাজ আর যাতে না করতে হয় সেদিকে খেয়াল রাখবি।

৮৯.
সংসারে থেকে সাধন-ভজন করা কঠিন বলে অনেকের ধারণা। সংসার বাইরে নয়। সংসার মানুষের মনে; কিন্তু সংসারে থেকেও যদি কারো মনে সংসার না থাকে, তবে তার আবার ব্যাঘাত কিসের? অহংকার যে পথেই আসুক, সাধন পথের বিঘ্ন।

৯০.
শত বছরেরও অধিক পাহাড় পর্বত বন জঙ্গলে ঘুরে তোদের ঈশ্বরের সঙ্গে আমার দেখা হলো না। আমি দেখলাম শুধু আমাকে, আমি বন্ধ আছি সংসারে, সংসার বদ্ধ আছে জিহ্বা এবং উপস্থে। যে এই দুটোর সংযম করতে পেরেছে একমাত্র সেই সিদ্ধি লাভের অধিকারী।

৯১.
আমিও তোদের মত খাই-দাই, মল-মূত্র ত্যাগ করি। আমাকেও তোদের মতই একজন ভেবে নিস। আমাকে তোরা শরীর ভেবে ভেবেই সব মাটি করলি। আমি যে কে, তা আর কাকে বোঝাবো। সবাই তো ছোট ছোট চাওয়া নিয়েই ভুলে রয়েছে জানল না প্রকৃত আমি কে?

৯২.
ধার্মিক হতে চাইলে প্রতিদিন রাতে শোবার সময় প্রতিদিনের কর্মের হিসেব নিকেশ করবি, অর্থাৎ ভালো কর্ম কি কি করেছিস এবং মন্দ কর্ম কি কি করেছিস। ভালো কার্য হলো জমা আর খারাপ কাজ হলো খরচ। সুতরাং তা চিন্তা করে মন্দ কর্ম আর যাতে করতে না হয় সেজন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হবি।

নির্মাতা
ভবঘুরে কথা'র নির্মাতা

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!