ভবঘুরে কথা
শ্রীশ্রী রবিশঙ্কর

-সায়মা সাফীজ সুমী
তোমাদের মনে রাখতে হবে এই পৃথিবী রূপান্তরের গুরু দায়িত্বের তুমিও একজন। আমরা এই সৌরজগতে এসেছি কিছু ভালো কাজ করতে এবং মানুষকে ভালো রাখতে। আমরা এখানে এসেছি মানুষের কষ্ট, দুঃখের বোঝা ও শোনার মাধ্যমে কমাতে। যদি তুমি এই বিষয়টি নিজের মধ্যে ধারণ করতে পারো তাহলে তোমার মধ্যে এমন শক্তি, সৌন্ধর্যবোধ বিরাজ করবে যে, কোনোকিছুই তোমাকে আর বিরক্ত করবে না। তুমি সেই শক্তি অর্জন করবে যা দিয়ে মানুষকে পরিবর্তন ও সুখী করতে পারবে। আমাদের লক্ষ্য হউক আমাদের আশেপাশের মানুষকে আলোতে আনা, হাসিতে রাখা, আনন্দে ভরিয়ে তোলা। আমাদের দরকার সকলকে একসাথে নিয়ে এগিয়ে চলা। দুটো জিনিস তোমার মধ্যে দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ, উত্তেজনা, ভয় এর মধ্যে রাখে যা তোমাকে পরিপূর্ণ হওয়া থেকে দূরে রাখে। প্রথমত তোমার যা নেই পেতে চাইছো আর দ্বিতীয়ত যা আছে তা ধরে রাখার প্রচেষ্টা। কথাগুলো শ্রীশ্রী রবিশঙ্গর জী’র। ১৩ মে ১৯৫৬ সালে দক্ষিণ ভারতে জন্মগ্রহণ করা এই আধ্যাত্মিক গুরু মানুষকে সুখি করে তোলার যে স্বপ্ন দেখেছেন তাতে আজ সামিল হয়েছে সারা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ।

শ্রীশ্রী রবিশঙ্গর বেশ ছোটবেলা থেকেই ধ্যান করতেন; ভালোবাসতেন মানুষকে সেবা করতে। বেদের গূঢ়তত্ত্ব নিয়ে তার আগ্রহ ছিল অপরিসীম। জানা যায়, মহাত্মা গান্ধীর দীর্ঘদিনের সহকর্মী শ্রী সুধাকর চতুর্বেদী ছিলেন তাঁর প্রথম শিক্ষক। ১৯৭৩ সালে বেঙ্গালোরের সেন্ট জোসেফ কলেজ থেকে পদার্থবিদ্যায় গ্রাজুয়েশন করার পর তিনি পৃথিবীকে ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখতে শুরু করেন। শুরু করেন ভ্রমণ, দেখতে মানুষ ও বৈদিক জ্ঞানকে বুঝতে। এই সময় তিনি গুরু মহাঋষি মহেশ যোগীর সাক্ষাৎ প্রাপ্ত হন। 


যা শরীর, মন ও আবেগকে সমন্বয় করে এবং মানুষিক চাপ থেকে ত্রাণ পেতে সহায়তা করে। এমন শ্বাস ও আবেগগুলির মধ্যে সম্পর্কের ব্যবহারকে শ্বাস ও আবেগের মধ্যে সম্পর্কের ব্যবহার করে।

মাত্র ২৫ বছর বয়সে ১৯৮১ সালে পৃথিবীর শান্তির জন্য অলাভজনক প্রতিষ্ঠান আর্ট অফ লিভিং প্রতিষ্ঠা করেন। এরই অংশ হিসেবে চাপমুক্ত এবং সহিংসতামুক্ত মানুষ গড়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ শিবির চালু করলেন। এই প্রশিক্ষণ শিবিরগুলো মানুষকে শান্ত থাকতে নিজের সৃষ্টির কারণ অবলোকনে সহায়তা করতে সাহায্য করে। যার ফলে মানুষ অনেক ইতিবাচক কর্মকাণ্ড করতে সক্ষম হন। এক ফলে সম্ভব হয়েছে নদী দূষণ মুক্তকরণ, আদর্শ গ্রাম প্রতিষ্ঠা করার মতো বিভিন্ন সমাজ ও জীবন মান উন্নয়নমূলক সামাজিক কর্মকাণ্ড। তাছাড়াও তিনি যেখানেই বড় ধরনের বিবাদ, প্রাকৃতিক দূর্যোগ সেখানেই ছুটে চলেছেন তা সমাধানের জন্য। এখন পৃথিবীতে ১৫৫টি দেশে আর্ট অফ লিভিং-এর কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে।

১৯৮২ সালে ১০দিন ব্যাপী ধ্যান করার মধ্য দিয়ে তিনি ‘সুদর্শন ক্রিয়া’ (Sudharshan Kriya) নামে একটি শক্তিশালী শ্বাসপ্রশ্বাসের কৌশল প্রাপ্ত হন। যা শরীর, মন ও আবেগকে সমন্বয় করে এবং মানুষিক চাপ থেকে ত্রাণ পেতে সহায়তা করে। এমন শ্বাস ও আবেগগুলির মধ্যে সম্পর্কের ব্যবহারকে শ্বাস ও আবেগের মধ্যে সম্পর্কের ব্যবহার করে। তিনি এই সুদর্শন ক্রিয়াকে ছড়িয়ে দিতে সারা ভারতবর্ষ ছাড়াও পৃথিবীর বহুদেশ ভ্রমণ করেন।

১৯৯৭ সালে তিনি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল এসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠা করেন, এটি একটি মানবিক সংগঠন যা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিকক্ষেত্রে মানুষের মান উন্নীত করে। তিনি সুখ ও পরিতৃপ্তি নিয়ে জীবনযাপন করার বিভিন্ন বইয়ের লেখক।

নির্মাতা
ভবঘুরে কথা'র নির্মাতা

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!