স্বামী পরমানন্দ

৯১.

সঠিক পথে চলবে, হয়তো কষ্ট স্বীকার করতে হয় সঠিকপথে চললে, কিন্তু ভবিষ্যতে ভালো হয়- দুর্গতি হয় না।

৯২.

একমাত্র সত্যদ্রষ্টা ঋষিরা যথার্থ কালদ্রষ্টা। তাঁরা অতীতের গহ্বর থেকে সঠিক সত্যকে বের করে আনতে পারেন।

৯৩.

একমাত্র গভীর প্রেমই মানবকে পরস্পর সংযত রাখে -সভ্রতার এইটাই লক্ষণ। কারণ সভ্যতার পরিভাষা সংযম।

৯৪.

শান্তি প্রাপ্ত হতে গেলে স্বভাবেব অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে হবে। আর আনন্দ প্রাপ্তির মূলে নিজ স্বরূপকে জানতে হবে।

৯৫.

নিবিড় ধ্যানের অন্তর্লীন গভীরতায় মনকে নিমগ্ন করে আত্মস্থ হবে। তাহলেই অন্তরে শান্তি এবং আনন্দের উপলব্ধি হবে।

৯৬.

অখণ্ডেরও কেন্দ্র রয়েছে। বুদ্ধি দিয়ে বিচার করে তা বোঝা যায় না। ভক্তের আন্তরিক প্রার্থনা ঐ কেন্দ্রে গিয়ে ধাক্কা মারে।

৯৭.

পরিবর্তনের জন্য বেশি লোকের প্রয়োজন নেই। কিছু চরিত্রবান তেজস্বী যুবক পেলেই পুরো সমাজ-ব্যবস্থা বদলে যাবে।

৯৮.

অতীত নিয়ে না ভাবাই উচিত। যে জল গড়িয়ে সমুদ্রে চলে যায়, তা আর ফিরে আসে না। বর্তমানকে ব্যবহার করো।

৯৯.

ভাবালুতার মধ্যে নিজেকে একদম ভাসিয়ে দিবে না। ভাব সম্বরণ করবে এবং ভাবের বেগকে ঊর্ধ্বদিকে উত্তরণ করবে।

১০০.

কৃত্রিমতা পরিহার পূর্বক অকৃত্রিমতার দিকে অগ্রসর হও। অকৃত্রিম প্রেমকই একমাত্র পরমেশ্বরকে উপলদ্ধি করেন।

১০১.

বৈচিত্রই প্রকৃতির সহজতা। কিন্তু বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যকে খুঁজে বের করা বা তার সঙ্গে লগ্ন লাগিয়ে রাখাটাই তো সাধনা।

১০২.

ভক্ত এবং ভগবান যখন এক রসে তখনই সংঘটিত হয় রাস। যখন দুয়ের আনন্দ এক মাত্রায় তখন দেখা দেয় উল্লাস।

১০৩.

ইন্দ্রিয় সুখ মানুষকে কখনো তৃপ্ত করতে পারে না। বরং নিত্য-নতুন ভোগের পিপাসা তাকে আরও চঞ্চল করে তোলে।

১০৪.

হীনবুদ্ধি-দুর্বল মস্তিষ্কসম্পন্ন ব্যক্তিরা কোন বিষয়ের সঠিক ধারণা করতে পারে না। সমস্ত বিষয়কে জট পাকিয়ে ফেলে।

১০৫.

ধর্মকে বাদ দিয়ে মানবজাতির কল্যাণ করতে যাওয়া যেন একটা মেরুদণ্ডহীন সরীসৃপকে দাঁড় করানোর অপচেষ্টা।

১০৬.

তোমার অন্তরে ভগবত আকাঙ্ক্ষা জাগলেই তোমার সাথে শ্রীগুরুর সাক্ষৎ হবে। সুতরাং খোঁজ দরকার ঈশ্বরের, গুরুর নয়।

১০৭.

ভালোবাসা যদি হয় প্রত্যাশামুক্ত এবং তাতে স্বাধীনতা থাকলেই তা হয় প্রকৃত ভালবাসা বা প্রেম, নচেৎ তা হয় কামুকতা।

১০৮.

আধ্যাত্মের জন্য বিশেষ প্রয়োজন শ্রদ্ধার। কারুর যদি অন্যকিছু নাও থাকে, শুধু শ্রদ্ধা থাকে, ঐ এক শ্রদ্ধায় সব হয়ে যায়।

১০৯.

দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ কেন হয় জানতে চাইছো? -রাগ, দ্বেষ হেতু চিত্তের বিক্ষেপ থেকেই উদ্বেগ। ভগবৎমুখি হলে উদ্বেগ চলে যায়।

১১০.

একটা মানুষ যখন আর একটা মানুষকে অবজ্ঞা করে বা উপহাস করে তখন জানতে হবে যে, সেটা তার নিজেরই অপূর্ণতা।

১১১.

যখন তুমি আসক্তিশূন্য হবে, নিজ স্বার্থ বিসর্জন দিতে পারবে, তখন আর কোন দু:খ তোমাকে স্পর্শ করতে পারবে না।

১১২.

অপরের দোষের কথা ভাবতে নিজের মনটাই দোষী হয়ে যায়। আবার ভালো দেখতে দেখতে মানুষ কখন ভালো হয়ে ওঠে।

১১৩.

প্রত্যেক মানবের ভিতরেই সমুন্নত হওয়ার তথা ঋষিত্ব প্রাপ্ত করার সম্ভাবনা বিদ্যমান। অতএব কোন মানবই হীন বা তুচ্ছ নয়।

১১৪.

মাতার সুপ্রভাবে পুত্র-কন্যা হয় চরিত্রবান, পিতার সুপ্রভাবে তারা হয় সামাজিক, আর গুরুর সহচর্যে সন্তানরা হয় আধ্যাত্মিক।

১১৫.

যে অমূল্য আধ্যাত্মিক সম্পদ আমাদের অন্তরে লুকিয়ে আছে সুপ্ত আছে আত্মাবিস্মৃতির অন্তরালে, তাকেই আগ্রত করতে হবে।

১১৬.

হীন মনোভাব ত্যাগ করো। ভয় ও ভালবাসা একসাথে হয় না। ঈশ্বরকে ভয় করলে কি তাঁকে ভালবাসা যায় কোনদিন।

১১৭.

জীবনবিরোধী ভাবগুলির সঙ্গে অবিরাম সংগ্রাম কর। তীব্র অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে নিয়োগ কর ঐ কর্মে-ভয়ের কোন কারণ নেই।

১১৮.

যাঁরা আলো অনুসরণ করেন তাঁরাই আর্য নামে অভিহিত হন। আলো অর্থাৎ জ্ঞান। জ্ঞানের জন্য সব ত্যাগ করা যেতে পারে।

১১৯.

যিনি সৎ বা সদাচারী নন, তাঁর জীবনে সত্য মূর্ত হয় না। তাই সত্যকে অনুসরণ করতে হলে সদাচার অনুশীলন করতে হবে।

১২০.

অপরকে ক্লেশ দিয়ে, পীড়ন করে নিজেকে সুখী করার চেষ্টাই পাপ। আর নিজে কষ্টে থেকে অপরকে সুখী করাটাই পূণ্য। 

১২১.

বই পড়ে শিক্ষা গ্রহণ না করে যাঁরা সরাসরি নেচার থেকে শিক্ষাগ্রহণ করে থাকেন তাঁরা বই পড়া বিদ্বানদের চেয়েও বেটার।

১২২.

যে কোনো বিদ্যা অর্জন কর তাতে সিদ্ধ হতে গেলে গুরুর কাছে একনিষ্ঠভাবে শিক্ষাগ্রহণ বা সাধন-ভজন করতে হয় তবে তো হয়।

১২৩.

প্রিয় আত্মন! সাধনা হচ্ছে সত্যের অনুসন্ধান এবং সিদ্ধি হল জীবনের গভীরে পরম সত্যকে বোধে বোধ করা। এটাই জীবন বোধ।

১২৪.

যে ব্যক্তি ভাবপ্রধান তার জন্য ভক্তিযোগ, যে মনপ্রধান তার জন্য রাজযোগ বা ধ্যানযোগ এবং যে বিচারপ্রধান তার জন্য জ্ঞানযোগ।

১২৫.

জীবনের সবচেয়ে বড় শত্রু আলস্য, অপরটি অসহিষ্ণুতা। এই দুটিকে জয়লাভ করতে হবে প্রবল ইচ্ছাশক্তি এবং দৃঢ় আত্মপ্রত্যয় দ্বারা।

১২৬.

সাধারণত হঠযোগের দ্বারা যে কোন ইন্দ্রিয়ের শক্তি বাড়ানো যায় এবং যে কোন তন্মাত্রাার অনুভূতি গ্রহণের শক্তিও বাড়ানো যায়।

১২৭.

সমস্ত প্রকার সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত মানবপ্রেমের শাশ্বত কথা বা বাণী ও সর্বধর্ম মতগুলির সারবত্তা ফুটে ওঠে বাউল গানগুলির মধ্যে।

১২৮.

দেবতা বা অসুর কোন বিশেষ স্থানে নেই। মানুষের মধ্যেই তারা। দৈবী স্বভাবের মানুষই দেবতা আর আসুরিক স্বভাবের মানুষই অসুর।

১২৯.

প্রেম জীবনের মহিমা। ধূপের কাঠি যেমন সুবাস ছড়িয়ে দিতে দিতে শেষ হয়ে যায়, জীবনও যেন তেমনটি হয়। প্রেমই জীবনের সুবাস।

১৩০.

খোঁজ খুঁজতে খুঁজতে গভীরে ডুব দাও, দেখো ঠিখ মানিকরতন উঠে আসবে। যদি ডুবতে না জানো, কোন ডুবুরির কাছে ডুবতে শিক্ষা কর।

১৩১.

দেবতা বা অসুর কোন বিশেষ স্থানে নেই। মানুষের মধ্যেই তারা। দৈবী স্বভাবের মানুষই দেবতা আর আসুরিক স্বভাবের মানুষই অসুর।

১৩২.

প্রত্যাশা-প্রতিদানের আশা না করে ভালবাসতে থাকো। ভালবেসে নিজেকে নি:শেষ করে দাও। তাতেই আসবে জীবনের সম্পূর্ণ সার্থকতা।

১৩৩.

সাধনা দ্বারা চিত্তশুদ্ধি হলে অর্থাৎ স্বার্থ, অভিমান এবং অজ্ঞান দূরীভূত হলে অন্ত:করণ শুদ্ধ হয় আর ঐ নির্মল অন্তরেই তাঁর অনুভব হয়।

১৩৪.

যেখানে ভোগাসক্তি, অহংকার আর স্বার্থ আছে, সেখানেই নরক আর যেখানে অহংকার, স্বার্থ নেই, আছে ত্যাগ আর প্রেম- ওখানেই স্বর্গ।

১৩৫.

কেউ যদি কোথাও কখনো মানুষের মঙ্গলের জন্য কোনো কাজ করে থাকে, তাহলে সে ঈশ্বরের কাছ থেকে নিরাপত্তা এবং সাহায্য পায়।

নির্মাতা
ভবঘুরে কথা'র নির্মাতা

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!