অনুকুল ঠাকুর

অনুকুল ঠাকুরের বাণী: দুই

৩১.
কীর্তন আগুনে যজ্ঞ ছেয়ে ফেল। কীর্তনময় হলেই নামময় হল। আবার শ্যামের বাঁশি বেজে উঠবে।

৩২.
ভূত মহেশ্বরের একটা দিক হলেন শ্রীকৃষ্ণ। তিনি বেত্তা পুরুষ। বিধি তার বোধিতে স্ফুরিত হয়েছে।

৩৩.
সহিতে তুমি না পারো যদি অন্যের কটু ব্যবহার, কেমন করে সইবে তারা তোমার তিক্ত অত্যাচার।

৩৪.
আঁধ কথার সময় হতেই করে করিয়ে যা শেখাবি সেটি হবে মোক্ষম ছেলের হিসাবে চল নয় পস্তাবি।

৩৫.
তোমরা দেবতা হ’য়ে ওঠ। মানুষকে দেবতা করে তোল। এই আশাই আমার তোমাদের কাছ থেকে।

৩৬.
সেই শোক ভাল যা ভগবানের দিকে টেনে নিয়ে যায়। ভগবানের থেকে বিচ্ছিন্ন করে যা, তা তো ভাল না।

৩৭.
নাম করে রোগ সারাব, কিছু পাব এ বুদ্ধি নিয়ে নাম করা ভাল না। তাকে ভালবেসে তারই জন্য নাম করা ভাল।

৩৮.
অশিক্ষিতকে শিক্ষা দেওয়া বরং অনেক সোজা হয়, কুশিক্ষিতদের শিক্ষক হওয়া সেটাই কঠিন কাজ সোজা নয়।

৩৯.
তোমার মন যত নির্মল হবে, তোমার চক্ষ তত নির্মল হবে, আর জগৎটা তোমার নিকট নির্মল হয়ে ভেসে উঠবে।

৪০.
হিন্দু ধর্ম, মুসলমান ধর্ম, খ্রিস্টান ধর্ম, বৌদ্ধ ধর্ম ইত্যাদি কথা আমার মতে ভুল, বরং ও সবগুলি এক একটি মত।

৪১.
মনের কথা প্রাণের ব্যাথা বলিস কেবল তাকে পেলে উপেক্ষা তোমায় করে না যে জন যায় না তোমায় ঠেলে ফেলে।

৪২.
দ্যাখ ভাই, আমি গুরুগিরি, অবতার টবতার বড় ঘৃণা করি। আমার দেশে দুই একবার হরি বললেই অবতার হয়ে পড়ে।

৪৩.
ভক্তের থাকে তদর্থ ক্লেশ সুখ প্রিয়তা। সে কষ্টকে কষ্ট মনে করে না। সে তার জন্য সব কষ্টকে আনন্দে বরণ করে নেয়।

৪৪.
ভক্তের কাছে কোন কষ্ট থাকে না। বাঞ্চিতের জন্য যা কথনীয় তা করতে না পারাটাই সে নিজের সর্বনাশ বলে মনে করে।

৪৫.
তুমি যাই দেখ না কেন, অন্তরের সহিত দেখার সর্ব্বাগ্রে তার ভালটুকুই দেখতে চেষ্টা কর, আর এই অভ্যাস তুমি মজ্জাগত করে ফেল।

৪৬.
দুর্ব্বলতার সময় সুন্দর ও সবলতার চিন্তা করিও- আর অহঙ্কারে প্রিয় ও দীনতার চিন্তা করিও তবে মানসিক স্বাস্থ্য অক্ষুন্ন থাকিবে।

৪৭.
যে জায়গায় নামকীর্তন হয় না, সে জায়গা শ্মশান বলে জানবি। হরেকৃষ্ণ নামে আধিব্যাধি সব দূর, ভব রোগ দূর, মুক্তি তার করতলে।

৪৮.
কপট ব্যাক্তি অন্যের নিকট সুখ্যাতির আশায় নিজেকে নিজেই প্রবঞ্চনা করে, অল্প বিশ্বাসের দরুন অন্যের প্রকৃত দান হতেও প্রবঞ্চিত হয়।

৪৯.
গীতা সম্বন্ধে শাস্ত্রে যত কথা আছে, সবই ঠিক। গীতায় আলোচনা করা আছে, মৌলিক ভাগবত সত্য নিয়ে। আর এটা সনাতন অর্থাৎ চিরন্তন।

৫০.
কোন মতের সঙ্গে কোন মতের প্রকৃত পক্ষে কোন বিরোধ নেই, ভাবের বিভিন্নতা, রকমফের একটাকেই নানপ্রকারে একরকম অনুভব!

৫১.
কোনো মতের সঙ্গে কোনো মতের প্রকৃত পক্ষে কোনো বিরোধ নেই, ভাবের বিভিন্নতা, রকমের বিভিন্নতা বলেই নানা প্রকারে একরকম অনুভব।

৫২.
আমি অবতারও নই, ভগবানও নাই। তবে তুমি ভগবানকে ভালবাস, তার পথে চল, মানুষ যাতে শ্রদ্ধা করে তেমন ভাবে চল, তবে ভাল হবে।

৫৩.
পয়সা কড়ির জন্য ভগবানকে ভালবাসতে নেই, ভগবান সবই টের পান। তাতে তিনি ভাবেন, ও তো আমাকে ভালবাসে না, ভালবাসে পয়সা।

৫৪.
সব মতই সাধনা বিস্তারের জন্য, তবে তা নান প্রকারে হতে পারে; আর যতটুকু বিস্তারে যা হয় তাই অনুভূতি, জ্ঞান। তাই ধর্ম অনুভূতির উপর।

৫৫.
যারা ভগবানের জন্য লেগে বেঁধে খাটে, মানুষের জন্য খাটে, তাদের দেখলে আমার খুব ভাল লাগে। ওতে হাড়মাংশ রক্ত পর্যন্ত শুদ্ধ হয়ে যায়।

৫৬.
সব মতই সাধনা বিস্তারের জন্য, তবে তা নানান প্রকারের হতে পারে; আর যতটুকু বিস্তারে যা হয় তাই অনুভূতি ও জ্ঞান। তাই ধর্ম অনুভূতির উপর।

৫৭.
ভগবানকে যত ভালবাসবে গভীর ভাবে, ততই সুদিন অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠবে। তাকে ভালবাসতে পারলে কুদিন ও কুদিন থাকে না, সুদিন হয়ে দাঁড়ায়।

৫৮.
গুরু ছেড়ে গোবিন্দ ভজে, সে পাপী নরকে মজে। গুরু কৃষ্ণ অভেদ হয় শাস্ত্রের প্রমাণে। এই বাণীর দোহাই নিয়ে অনেক ব্যভিচার, নিজ স্বার্থ উদ্ধার করছে।

৫৯.
বিষয়ীদের কাছে কি ভগবানের নাম ভাল লাগে? তারা টাকা টাকা করতে ভালবাসে। তাদের কাছে টাকা টাকা করতে করতে ভগবানের নাম উঠাতে হয়।

৬০.
তোমার নজর যদি অন্যের কেবল খারাপটাই দেখে, তবে তুমি কখনই কাউকে ভালোবাসতে পারবেনা। আর যে সৎ দেখতে পারে না সে কখনই সৎ হয় না।

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!