ভবঘুরে কথা
উত্তরবঙ্গ থেকে আমার দেখা ৭১ এর স্মৃতি : পর্ব চৌদ্দ

-পারভেজ চৌধুরী

বাঙ্গালী ইপিআর ক্যাপ্টেন নয়াজেশ উদ্দিনের আগমন-
বৃহস্পতিবার, ১লা এপ্রিল ১৯৭১, মগরিবের আগে ডাক্তার জায়গীরদার থাকা অবস্থায় রেল হাসপাতালের প্রধান ডাক্তার রহমান এসে বাবা ও মোশাররফ সাহেবসহ সবার সাথে তাদের শারীরিক অবস্থা নিয়ে কথা বলেন। কি আশ্চর্যয় বাবার নামের সাথে সেই ডাক্তার সাহেবের নামের মিল ছিল। পরবর্তীকালে তিনিও শহীদ হন। তিনি বাবার ক্ষত ও অপারেশনের বিষয়ে মাকে বুঝিয়ে বলেন। বেয়নেটের ক্ষতের গভীরতা প্রায় ৫ইঞ্চি হলেও তা ছিল সোজাসুজি এবং কোন গুরুত্ত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয় নাই বলে তার ধারণা। বাবাকে তার কোমরে থাকা রিভলবারের চামড়ার বেল্টটি বড় ক্ষত হওয়া থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছে, বেয়নেট সোজা ঢুকে সোজাই বেরিয়ে গেছে। যেহেতু তিনি ডায়বেটিক রোগী তাই এই গভীর ক্ষত নিয়ে তার চিন্তা।

থানার ওসির সেই হিসাবে কিছুটা ভিন্ন, তার গায়ে গুলি বা অস্ত্রের আঘাত না থাকলেও ভিড়ের ভেতরে হুড়াহুড়ি-ধাক্কাধাক্কিতে ঘটনাস্থলে তিনি দীর্ঘ সময় অজ্ঞান হয়ে পরে থাকেন। যার কারণে এখন তাকে সর্বক্ষণ নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা প্রয়োজন। তিনি একজন উচ্চ রক্তচাপের রোগী, তাই যেকোন উত্তেজনা অশান্তি বা অপরিকল্পিত পরিশ্রমে তার স্ট্রোক বা ব্রেইন হেমারেজ হতে পারে। ঔষধের সাথে তার ঘুম ও পূর্ণ বিশ্রামের প্রয়োজন। সকালে বোঝা যাবে তার হাত পা নাড়ানো, কথা বলা বা অন্য কোন সমস্যা হয় কি না।


আমি দুই ইপিআর সৈন্যদেরও খাবার নিতে বলি তাদের তৃতীয়জন এখনও অচেতন; হয়তো মরফিনের কারণে। তারাও আমাদের মতো বিদেশী বা স্থানীয় নয়, এখানে আমাদের মতো তাদেরও দেখার আপন কেউ নাই।

বাবা সবার সাথেই অল্প কিছু কথা বলছেন ও চিন্তা না করতে বলছেন। আমরা সবাই তাদের তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠার জন্য দোয়া করছি। মগরিবের আজান বেশ আগেই পরে গেছে তাই কমরুদ্দিন চাচা স্টেশন মসজিদের দিকে গেলেন। মা, তোওফিক, হাসনাত ও তোফায়েলের সাথে বাসায় রওয়ানা দেন। ডাক্তারের পরামর্শ মতো বাবার জন্য বিশেষ খাবার ও অন্যান্য ঔষধপত্র পাঠাতে হবে বাড়ি থেকে। বাবা তোফায়েলকে থানার রিভলবার থানায় জমা দেবার কথা বলেন। তোফায়েল মাথা দুলিয়ে রওয়ানা দেয়। বাইরে এসে সে আমাকে চুপিসারে বলে সে এই রিভলবার তার কাছেই রাখবে থানায় জমা দেবে না।

এশার নামাজের পর হাসনাত ও হাফিজ কমরুদ্দিন চাচা (বাবার ব্যক্তিগত বিহারি দেহরক্ষী কনস্টেবল যিনি পবিত্র কোরানে হাফেজ) আমাদের জন্য খাবার ও বাবার বিশেষ খাবার ও ঔষধ নিয়ে আসে। অন্যদিকে থানার কনস্টেবল ওসির বাসা থেকে খাবার নিয়ে আসে। সেসময়ে বাবার অন্যান্য কয়েকজন গোয়েন্দা কর্মচারী বাবার কাছে আসেন। দুই বাসা থেকে প্রচুর খাবার এসেছে যাতে অনেকের খাওয়া হয়ে যাবে। হাসনাত জানায় রেল স্টেশনে আরো নতুন কিছু ইপিআর জড় হয়েছে। আমি বাবাকে খাবার ও ঔষধ খেতে সাহায্য করি। আমি দুই ইপিআর সৈন্যদেরও খাবার নিতে বলি তাদের তৃতীয়জন এখনও অচেতন; হয়তো মরফিনের কারণে। তারাও আমাদের মতো বিদেশী বা স্থানীয় নয়, এখানে আমাদের মতো তাদেরও দেখার আপন কেউ নাই।

স্টেশনের হইহল্লা আবার বেড়েছে, হাসনাতের কথা অনুযায়ী মনে হয় জনতা নতুন আগত ইপিআরদের নিয়ে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে উল্লাস করছে। গোয়েন্দা কর্মচারীররা যারা আগেও আমাদের বাসায় মাঝেমধ্যে এসেছেন কিন্তু তাদের নাম এখনো আমার জানা হয় নাই। আসলে এই ৯০দিনে কি সবাইকে জানা বা চেনা যায়? আমাকে যে মানুষটি সাইকেলে নামিয়ে দিয়ে গেল তাকেও চিনি না (তাকে আর কোনো দিন দ্বিতীয়বার দেখি নাই) তারা বাবার সাথে অল্প কথা বলেন।

এক সময় মনে হলো অনেক মানুষজন হাসপাতালের দিকেই আসছে। কিছুক্ষণ পরে জনগণের সাথে বেশ কয়েকজন বাঙ্গালী ইপিআর ও বেসামরিক পোশাকে একজন তরুণ বাঙ্গালী অফিসার হাসপাতালে এলেন। আমরা আহত রোগীদের স্বার্থে লোকজনকে পরিবেশ শান্ত রাখতে অনুরোধ করি, বাঙ্গালী ইপিআররা তাদেরকে হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ না করতে অনুরোধ করেন। বাঙ্গালী ইপিআর অফিসারের বয়স আমাদের বড় ভাই পাকিস্তান বিমান বাহিনীর ফ্লাইং অফিসার ইসফাক ইলাহীর চেয়ে বছর দুই বা তিন বেশি হতে পারে। কিন্তু সাদা পোশাকে থাকায় আমি জানিনা তিনি কে বা তার র‌্যাংক কি। পরে সৈন্যদের কথাবার্তায় জানলাম তিনি তাদের একজন ক্যাপ্টেন, নাম নওয়াজেশ উদ্দিন। এই নাম আর চেহারা আমার বাকি জীবন মনে থাকবে। তিনি আহত দুই ইপিআর সদস্যদের সাথে কথা বলেন; কিন্তু গুরুতর আহত ও মরফিন দেয়ায় তৃতীয়জন প্রায় অচেতন।


কারণ তা টক-টকা-টক-টক-টক সাংকেতিক(Morse Code) শব্দের মাধ্যমে জরুরী সংবাদ আদান-প্রদান করত। জংশন স্টেশন ছাড়াও লালমনিরহাট কেন্দ্রিয় রেল কন্ট্রোল অফিসেও অনেক টেলিগ্রাফ মেশিন ছিল। কিন্তু সমস্যা সেগুলোর জন্য খুব অল্প সংখ্যক বাঙ্গালী অপারেটর আছেন।

এরপর তিনি বাবা ও ওসি সাহেবের সাথে দুই বেডের মাঝে একটি টুলে বসে কিছু সময় কথা বলেন। তার কথায় তিনি লালমনিরহাট-কুড়িগ্রামের সকল ইপিআর পুলিশ ও আনসারদের একত্র করে তিস্তায় আরো জোরদার প্রতিরোধ তৈরি কর‍তে চান। কাউনিয়া ও তিস্তার উভয়দিকে ও তিস্তা রেলওয়ে ব্রিজের উপর স্থানীয় জনগণ ভালো ব্যারিকেড দিলেও তিনি সশস্ত্র প্রতিরোধ তৈরি করতে চান। যার কারণে অবিলম্বে সারা কুড়িগ্রমের দূরদূরান্তের বিওপিতে ছড়িয়ে থাকা সৈন্যদের আনতে রেলগাড়ি চালু করা প্রয়োজন ও তাদের সাথে যোগাযোগের জন্য সকল রেল স্টেশনে টেলিফোন, টেলিগ্রাফ পাঠাবার ব্যবস্থা করতে হবে যাতে সবাই নিকটস্থ স্টেশনে জড় হয়।

আজকের ডিজিটাল যুগে এই টেলিগ্রাফ যন্ত্রটি জাদুঘরে দেখা যাবে। কিন্তু সেকালে দ্রুত যোগাযোগের জন্য এটা ছিল অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। টেলিগ্রাফ যন্ত্রটিকে আমরা বলতাম ‘টরে-টক্কা’ মেশিন। কারণ তা টক-টকা-টক-টক-টক সাংকেতিক(Morse Code) শব্দের মাধ্যমে জরুরী সংবাদ আদান-প্রদান করত। জংশন স্টেশন ছাড়াও লালমনিরহাট কেন্দ্রিয় রেল কন্ট্রোল অফিসেও অনেক টেলিগ্রাফ মেশিন ছিল। কিন্তু সমস্যা সেগুলোর জন্য খুব অল্প সংখ্যক বাঙ্গালী অপারেটর আছেন।

এই ব্যাপারে স্থানীয় নেতা পুলিশ ও আনসারসহ সকলের সহযোগিতা চান। তিনি চিলমারি ও বুড়িমারী উভয়দিকে রেলগাড়ি পাঠাতে চান। আপাতত তার সাথে তিস্তা-মহেন্দ্রনগর এলাকায় প্রায় ৫০জন ও লালমনিরহাট-আদিতমারি এলাকায় প্রায় ৪০/৫০জন ইপিআর আছেন (এর মাঝে ১২জনকে আজ আমরা পেলেও ৩জন এখন এই হাসপাতালে; তাদের সাথে দুইটি এলএমজিসহ ৩১টি রাইফেল ও সামান্য গোলাবারুদ অবশিষ্ট ছিল)। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সকল ইপিআর পুলিশ ও আনসার অস্ত্র গোলাবারুদ ইত্যাদি নিয়ে তিস্তা রওনা দেবেন। আদিতমারি আনসার ক্যাম্প কমান্ডার ও স্থানীয় নেতারা স্টেশনে রেলগাড়ির ব্যবস্থা করছেন।

কিন্তু গত ২৯ মার্চ দাঙ্গার ২টি লাশ পৌঁছে ফিরে আসার পর কোনো বিহারি রেল কর্মচারী কাজ করছে না তাই অবসরপ্রাপ্ত রেল কর্মচারী বেলায়েত হোসেনের মতে শহরের ড্রাইভার পাড়া ও গার্ডপাড়ায় কিছু বাঙ্গালী মানুষ পাওয়া যাবে যাদের অনেকেই অবসরপ্রাপ্ত হলেও রেলগাড়ি ও টেলিগ্রাফ চালু করতে পারবে। কারণ লোকো শেডে ২/৩টি ইঞ্জিন আছে। ক্যাপ্টেন নওয়াজেশ উদ্দিন আর দেরি না করে বেলায়েত হোসেন সাহেবকে নিয়ে বেরিয়ে যান। সেই সাথে হাসপাতালের পরিবেশ আবার কিছুটা শান্ত হয়।

বাবার কথায় আমি দুইজন আহত ইপিআর সদস্যকে আমাদের সাথে খাবার নিতে অনুরোধ করি। সেদিনের খাবার ছিল বর্ষাকালের পুঁইশাক দেয়া আতপ চালের নরম খিচুড়ি আর সামান্য ডিমভাজা। মা বাজারঘাটের অসুবিধার কারণে এটা রান্না করেন। পুঁইশাক হয় সবজি বাগানে আর ডিম, সেও বাসায় পালা বিদেশী লাল মুরগির, সাথে কিছু ঘি। মার জন্য হয়তো সেই বিপদের দিনে সেটাই সহজ ছিল। কিন্তু আমাদের জন্য যথেষ্ট মজাদার। বাবার জন্য অবশ্য বরাবরের আটার রুটি-ভাজি। আহত ইপিআর সদস্যরা সানন্দে আমাদের সাথে যোগ দিলো। তৃতীয়জনের জন্য কিছুটা খাবার রেখে অন্যদেরকেও নিতে বলি। আজ আমরা সবাই একই পথের পথিক।

খাবার সময় স্টিম ইঙ্গিনের হুইসেল শুনে বুঝলাম ক্যাপ্টেন নওয়াজেশ উদ্দিন তার লোকজন নিয়ে খুব দ্রুতই রেলগাড়ি চালু করতে পেরেছেন ও তিস্তায় রওয়ানা হয়েছেন। ৮/৯ কিমি দূরত্বের তিস্তায় তারা আল্পসময়েই পৌঁছে যাবেন। আজ তিনি প্রমাণ করলেন ইচ্ছা, একতা ও নেতৃত্ব সঠিক হলে যেকোন বাঁধা অতিক্রম করা যায়।


গত কিছু দিন কলকাতা ও বিদেশী রেডিওতে আমরা শুধু শুনে এসেছি দেশের নানাস্থানে বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈন্য ও বাঙ্গালী অফিসাররা জনগণের সাথে মিলে প্রতিরোধ যুধ করে চলেছেন। এবার দেশের এক প্রত্যন্ত অঞ্চলের আমরাও একজন সামরিক অফিসারের নেতৃত্বে দেশের মুক্তিযুধ করতে পারব।

ক্যাপ্টেন নওয়াজেশ উদ্দিনের লালমনিরহাটে আসায় জনগণ যেন একটা নতুন আসার আলো পেলো। সেই সাথে আমরা যারা আহত আপনজনদের নিয়ে মনোবল হারিয়ে দুঃখে ভরাক্রান্ত। তারাও আবার মনোবল ফিরে পেলাম। গত কিছু দিন কলকাতা ও বিদেশী রেডিওতে আমরা শুধু শুনে এসেছি দেশের নানাস্থানে বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈন্য ও বাঙ্গালী অফিসাররা জনগণের সাথে মিলে প্রতিরোধ যুধ করে চলেছেন। এবার দেশের এক প্রত্যন্ত অঞ্চলের আমরাও একজন সামরিক অফিসারের নেতৃত্বে দেশের মুক্তিযুধ করতে পারব।

খাবার সময় ঐ দুইজন ইপিআর সদস্যের সাথে বেশ কথাবার্তা হয়। তাদের একজন একটু বয়স্ক ও সাধারণ বাঙ্গালীর চেয়ে লম্বা সুঠাম গঠনের দেখতে বাঙ্গালী মনে হয় না। অবশ্য তা বাবা বা আমাদের ভাইদের বেলায় সমান প্রযোজ্য। তিনি আমাকে ভাতিজা বলেই সম্বোধন করেন ও আমি খুশি মনেই গ্রহণ করি। তিনি ঐ ৬ জনের দলে ছিলেন যারা মোগোলহাট রেললাইনের দিকে দৌঁড়াতে যেয়ে পিছিয়ে পরেন ও জনতা না বুঝে তাদের কিছু লাঠি পেটা করে। মাথায় হেলমেট থাকায় তার মাথা বেঁচে গেলেও গায়ে লাঠির বাড়ির দাগ স্পষ্ট। পায়ের আঘাতের কারণে লাঠি বা ক্রাচে ভর করতে হবে। দ্বিতীয়জনের পায়ে গুলি লাগে তাই তার হাঁটাচলা সম্ভব নয়। তৃতীয়জনের উরুতে গুলি যা অত্যন্ত গুরুতর অবস্থা।

স্টেশন ও আশপাশের এলাকা শান্ত হয়ে গেলো সেই সাথে বাবাসহ অনেকেই ঘুমিয়ে গেছেন। খাবার পর হাসনাত ও কমরুদ্দিন চাচা চলে গেলেন। আমাকে সারাদিনের ক্লান্তিতে ভেঙ্গে পরছে। হাসপাতালের ভেতরে যেসব আহত আছেন তাদের সবার দুই-একজন আপনজন সঙ্গে আছেন শুধুমাত্র ঐ তিনজন ইপিআর ছাড়া। তাই এখনো কিছু আওয়াজ আছে।

হাসনাতের আনা চাদর নিয়ে আমিও হাসপাতালের সামনের লম্বা টানা বারান্দায় রাখা বিরাট কাঠের ইজিচেয়ারে ঘুমানোর চেষ্টা করলাম। কিন্তু রাত বোধহয় ১১-৩০মি. এ তিস্তা থেকে ফিরে আসা স্টিম ইঞ্জিনের হুইসেলের সাথে মানুষ জনের হইহল্লা শোনা যেতে লাগলো। রেলগাড়ি চালাতে বাঙ্গালী ড্রাইভার ফায়ারমেনের সাথে আছেন অনেক বাঙ্গালী সেচ্ছাসেবক যাদের রেলগাড়ি চালানোর কোন কারিগরি জ্ঞান নাই কিন্তু উৎসাহ প্রচুর, তাই এই স্লোগান ও হইহল্লা। লালমনিরহাট থেকেই ইঞ্জিনের কয়লা/পানি ভরে নিতে হবে, নইলে বুড়িমারি যাওয়া-আসায় প্রায় ২০০কি. এর মাঝে তা আর পাওয়া যাবেনা।

হাসপাতালটি জংশন স্টেশনের খুবই কাছে, বলা যায় একেবারে লাগোয়া। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এতো সুন্দর বড় হাসপাতালটি কি কারণে একটা ব্যস্ত রেল জংশন স্টেশনের সাথে বানানো হয়েছিল তাই আমার কাছে আশ্চর্য মনে হয়। বিরাট লাল ইটের কয়েকটি একতলা দালান নিয়ে সামনে পেছনে সবুজ ঘসের সুন্দর লন, ফুলের বাগান, নানাদিকে বড় বড় কড়ই গাছ দিয়ে সুন্দর হাসপাতাল। শুধুমাত্র ব্যস্ত রেল জংশনের অনবরত শব্দই শান্ত সুন্দর পরিবেশরকে নস্ট করেছে। পাটগ্রাম-বুড়িমারিগামী ঐ গাড়িটি চলে না যাওয়া পর্যন্ত ঘুম আসবে না মনে হয়। যদিও মরফিনের কারণে সকল আহতরাই এখন ঘুমিয়ে। মধ্যরাতের পরেই সেই গাড়ি পাটগ্রাম রওয়ানা হলেই শেষ হলো হৈচৈ আর সেই সাথে শেষ হলো আমাদের লালমনিরহাটের ৯০তম দিন ও ৫২ বছরের বাবার রক্তে ভিজে গেল তার মাটি।

চলবে…

নির্মাতা
ভবঘুরে কথা'র নির্মাতা

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!