ভবঘুরে কথা
উত্তরবঙ্গ থেকে আমার দেখা ৭১ এর স্মৃতি : পর্ব পনের

-পারভেজ চৌধুরী

শুধু বাঙ্গালী ইঞ্জিন ড্রাইভার-ফায়ারমেন দিয়ে রেলগাড়ি চালু।
শুক্রবার, ২ এপ্রিল ১৯৭১, খুব ভোরে একবার ঘুম থেকে উঠে বাবা ও ওসি সাহেবকে বাথরুমে নিয়ে যাই। বাবার বেডটা দরজা ও পেছনের বারান্দার সাথে লাগা বাথরুম। আমার একার পক্ষে তার বিরাট ভারি শরীর ধরে রাখতে পারব না বলে হাসপাতালের লোকের সাহায্য নেই। রাতে তিনি তেমন ঘুমাতে পারেন নাই। এখন ব্যাথা বেড়েছে; গতসন্ধ্যা ও রাতের অনেক ঘটনাই তার মনে নেই। মোশাররফ সাহেবকে আমি একাই নিতে পারেছি; তার শারীরিক ক্ষত না থাকায় ও বয়সে বাবার চেয়ে অনেক ছোট হওয়ায় তার অবস্থা অনেক ভালো। তাদের ঔষধ দিয়ে আমি আবার বারান্দার ইজিচেয়ারে ঘুমিয়ে পরি। মধ্যরাতে রেলগাড়ি ও জনতা চলে যাওয়ায় ও তার সাথে শহরের মানুষজন শহর ছেড়ে চলে যাওয়ায় চারিদিক নিস্তব্দ, চৈত্র মাসের মাঝ হলেও রাতের ও এই সকালের পরিষ্কার আবহাওয়া খুবই আরাম দায়ক। কয়লা চালিত স্টিম ইঙ্গিনের ধোয়ার সাথে একটা বিশ্রী গন্ধ হায় যা থেকে এখন মুক্ত। হাসপাতালের চারিদিকের ঘাসের লন, ফুলের বাগান, গাছ গাছালি দেখলে মন ভরে যায় কিন্তু এই বারান্দায় ও ভেতরে গাদাগদি আহত ও তাঁদের সজনদের দেখলে ভাল থাকেনা।

ওসি সাহেব গতকালের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করলে আমরা বলি যা হয়েছে তার উপর কারো কোন নিয়ন্ত্রণ ছিল না। আকস্মিকভাবে আসা ঐ সব ইপিআর বা ৫/১০ হাজার উত্তেজিত জনতার স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া যার কোন পূর্বপরিকল্পনা ছিল না। তবে বাবা শুধু মাথা দোলালেন। মনে হয় তিনি অন্য কিছু চিন্তা করছেন। যা হয়েছে তারচেয়েও আরো বড় কিছু হতে পারতো, তাই আমাদের আশ্বস্থ হওয়া উচিত। আমরা বাবাকে গত রাতের ইপিআর ক্যাপ্টেন নয়াজেশ উদ্দিনের ও তাদের তিস্তায় যাবার কথা বলি। উত্তরে তিনি মাথা দুলিয়ে একটু হাসেন। জিআরপি গোয়েন্দা কর্মচারীগরা তাকে দেখতে আসার কথা জানাই। আসলে অপারেশনের পর তাকে দেয়া মরফিনের কারণেই তিনি ঘোরের ভেতর ছিলেন। কিন্তু বাবার চিন্তা গতকালের তিনটি প্রধান ঘটনা। ঘটনাগুলো-

১. পাকিস্তানি ইপিআররা তাদের বাঙ্গালী সদস্যদের আগাম নিরস্ত্র করা!
২. বিহারিদের তাদের সমর্থন করা!
৩. তাদের বিমান ঘাঁটির দিকে যাওয়া বা ঘাঁটির দখল নেয়ার চেষ্টা!

এসবে তাদের কি কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছিল? বাহির থেকে কেউ কি নির্দেশ দিয়েছিল? যা জিআরপি বা পুলিশ গোয়েন্দারা আগাম জানতে ব্যর্থ হয়েছে? পুলিশের মধ্যে অনেক বিহারি আছে তারা কি বিশ্বস্ত? যা আমরা কখনও চিন্তা করি নাই।


২৬ মার্চের আগ পর্যন্ত লালমনিরহাট জংশন স্টেশন ও রেল কন্ট্রোল অফিসের সাথে টেলিফোন ও টেলিগ্রাফে পাকশি ও পার্বতীপুর যোগাযোগ ছিল। তবে এখন তিস্তা, মহেন্দ্রনগরসহ কুড়িগ্রাম মহকুমার সকল স্টেশনের খবর পাওয়া যাবে। তাছাড়া যদি জিআরপির বা রেলের ওয়্যারলেস কাজ করে তবে সারাদেশেরও খবর পাওয়া যাবে।

সকালে তোফায়েল, হাসনাত ও কমরুদ্দিন চাচা নাস্তা নিয়ে আসেন এর কিছু পরেই থানার কনস্টেবল ওসি সাহেবের পরিবার ও খাবার নিয়ে আসেন। ছোট বাচ্চারা আসায় পরিবেশ অনেকটা পরিবর্তন হয়েছে। আবারো দুই বাসা থেকেই অনেক খাবার এসে। তাই ইপিআর সদস্যরাসহ আরো অনেকে আমাদের সাথে যোগ দিয়। হাসপাতালের নার্সদের তৃতীয় ইপিআরকে খাওয়ানো ছাড়াও সকল বিষয়ে সাহায্য করতে হয়। খাওয়া শেষ করে বাবা তোফায়েলকে স্টেশনে যেয়ে পরিস্থিতির সর্বশেষ খবর নিয়ে আসতে বলেন। তোফায়েলের সঙ্গে কমরুদ্দিন চাচাও যেতে চাইল। বাবা ইশারায় তাকে যেতে মানা করলেন। ২৬ মার্চের আগ পর্যন্ত লালমনিরহাট জংশন স্টেশন ও রেল কন্ট্রোল অফিসের সাথে টেলিফোন ও টেলিগ্রাফে পাকশি ও পার্বতীপুর যোগাযোগ ছিল। তবে এখন তিস্তা, মহেন্দ্রনগরসহ কুড়িগ্রাম মহকুমার সকল স্টেশনের খবর পাওয়া যাবে। তাছাড়া যদি জিআরপির বা রেলের ওয়্যারলেস কাজ করে তবে সারাদেশেরও খবর পাওয়া যাবে।

আমি বুঝলাম কেনো বাবা কমরুদ্দিন চাচাকে স্টেশনে যেতে মানা করলেন। অন্য সময় হলে এসব কাজতো গোয়েন্দা কমরুদ্দিন চাচাই করতে পারতেন। কিন্তু তিনি যে বিহারি! এখন কোনো বিহারি স্টেশনে নাই। এমন কি দাঙ্গার পর থেকে জিআরপি ব্যারাকেও কোনো বিহারি কেউ থাকছে না। তাই কমরুদ্দিন চাচার জন্য চলাফেরা বিপদজনক হোক তা বাবা কিছুতেই চান না বা তাকে আস্থায় রাখছেন না। এসব ব্যাপারে তোফায়েলকে বাবা অনেক আগে থেকেই যোগ্য ও বিশ্বস্ত মনে করেন।

ঠিক হলো, বাবার নাস্তা-ঔষধ খাওয়া হয়ে গেলে তোফায়েলের সাথে আমি বাসায় যাব, বাবা আবার তোফায়েলকে রিভলবার থানায় জমা দিতে বললেন, উত্তরে তোফায়েল সম্মতি দিলেও আমি জানি সে তা করবে না। আমরা একসাথে বের হয়ে স্টেশন পর্যন্ত আসি। প্লাটফরমে কিছু কলেজ ছাত্রসহ মানুষজন জমা হয়ছে যাদের কয়েকজনকে তোফায়েল চেনে। রেলগাড়ি চালু করতে মূলত রেল কন্ট্রোল অফিস কাজ করে। স্টেশন মাষ্টার না হলেও জনগণ সবাই মিলে রেলগাড়ি চালাবার চেষ্টা করছে। সহকারি স্টেশন মাস্টার জানালেন গতকাল ক্যাপ্টেন সাহেবের কথা অনুযায়ী সকল স্টেশনে খবর পাঠানো হয়েছে। তবে দ্বিতীয় ইঞ্জিন চালু করা যায় নি। তাই যে ইঞ্জিন তিস্তা থেকে ফিরে গতরাতে পাটগ্রাম গিয়েছিল তা এখনো ফিরে নাই।

তোফায়েল এই খবরটা বাবাকে জানাতে বলায় আমি হাসপাতালের দিকে রওয়ানা দিলাম। প্লাটফরমের শেষে ওভারব্রিজের পশ্চিম সিঁড়ির কাছে প্রতিবেশি অবসরপ্রাপ্ত ট্রেন গার্ড খন্দকার বেলায়েত হোসেন ও তার ছেলে কামরুল হোসেন বকুলে সাথে দেখা হয়ে গেলো। কামরুল হোসেন বকুল তাদের পারিবারিক একনলা বন্দুক নিয়ে এসেছে, জানালো উনি তিস্তায় যাবেন। গতরাতে ছাত্র ও নেতারা গার্ডপাড়া, ড্রাইভারপাড়া ও নানা জায়গায় দরজায় দরজায় গিয়ে বাঙ্গালী ড্রাইভার ফায়ারমেন ও অন্যান্য কর্মচারীদের আনার চেষ্টায় আছে। তিনি এখন বাবাকে দেখতে চান তাই আমি ওদের সাথে আবার হাসপাতালে ফিরে যাই। কমরুদ্দিন চাচা তখনো বাবা ও ওসির কাছে ছিলেন। ওসি সাহেব তার বেডে উঠে বসেছেন তার খাকি পোশাক হ্যাংগারে ঝোলান ও বাবার সাথে কথা বলছেন। আমি যা শুনেছি তাই বাবাকে জানাই। গার্ড সাহেবও জানালেন মানুষজন হয়তো দ্বিতীয় ইঞ্জিন চালু করতে পারবে। বাবা আমাকে বাসার ট্রঞ্চের উপরে ঢেউটিন (C.I. Sheet) দিয়ে থাকতে উপদেশ দেন। আমি হাসনাতকে রেখে ১০:৩০মিনিটে বের হই, ওভারব্রিজ থেকে প্লাটফরমে অনেক মানুষের সাথে কিছু আনসার বা পুলিশ পোশাক পরে আছেন; সকলে তিস্তায় যাবেন।

বাড়িতে এসে ১১ বছরের তৌফীককে নিয়ে লাউয়ের মাঁচার নিচে খোঁড়া ট্রঞ্চের উপর রান্নাঘরের বেঁড়ার টিন দিয়ে মাটি চাপা দিলাম। গোসলের পর খেতে বসে স্টেশন থেকে ইঞ্জিনের হুইসেল শুনে মনে হলো পাটগ্রাম-বুড়িমারি থেকে গাড়ি ফিরে এসেছে বা জনতা দ্বিতীয় ইঞ্জিন চালু করতে পেরেছেন।


যদিও আমাদের ভাইদের ভাষা রংপুরের মিশ্র ভাষা তার সাথে আছে কিছু উর্দু। মগরিবের আগেই হাসনাত, মা ও তওফীককে সাথে নিয়ে বাসায় চলে যায়।

মা হাসপাতালে যেতে চান কিন্তু গত দুইদিনের পরিশ্রমে ক্লান্ত। তাই কিছুটা সময় ঘুমিয়ে মা আর তৌফীককে নিয়ে ৪টার দিকে হাসপাতালের দিকে রওনা হলাম। ওভারব্রিজে এসে দেখি প্লাটফরম ফাঁকা, নেমে জানতে পারলাম পাটগ্রাম থেকে গাড়ি আরো ইপিআর আনসারদের নিয়ে এসেছে ও সবাই তিস্তা চলে গেছে কিন্তু দ্বিতীয় ইঞ্জিন চালু হয় নাই; সেটা লোকো শেডেই আছে। হাসপাতালে এসে আমরা থানা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সিলেটি ডাক্তার আব্দুর রকিব জায়গীরদারকে বাবার পাশে দেখতে পেলাম। কিন্তু তোফায়েল কোথাও  নেই। হাসনাতের কাছে জানতে পারলাম, তোফায়েল দুপুরের দিকে এসে খাবার খেয়ে আবার চলে গেছে। আমার মনটা খারাপ হলো; সাথে রাগও হলো, মনে হয় সে ঐ রেলগাড়িতে নিশ্চয়ই তিস্তা চলে গেছে। সে আমাকে একা রেখে চলে গেলো! বরাবরই সে আমদেরকে পাশ কাটিয়ে সবকিছু করে। ছোট ছেলেমেয়ে নিয়ে ওসি সাহেবের পরিবারও আছেন। একমাত্র গুরুতর আহত ইপিআর ছাড়া বাকি সবাইকে বেশ সতেজ মনে হলো। থানা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অতিব্যস্ততার মাঝেও জায়গীরদার সাহেবের আসায় মা-বাবা দুইজনই তাদের সিলেটি ভাষায় স্বাচ্ছন্দে সাথে কথা বলে চলছেন। যদিও আমাদের ভাইদের ভাষা রংপুরের মিশ্র ভাষা তার সাথে আছে কিছু উর্দু। মগরিবের আগেই হাসনাত, মা ও তওফীককে সাথে নিয়ে বাসায় চলে যায়।

সন্ধ্যায় তিস্তা থেকে ট্রেনটা ফিরে আসে। রাত ৮টার দিকে হাসনাত রাতের খাবার নিয়ে আসলো। হাসপাতালে অনেক মানুষ থাকায় মা আজো বাড়তি খাবার পাঠিয়েছে। এই সময় তোফায়েল এসে বাবার আর ওসি সাহেবের দুই বেডের মাঝে বসে তিস্তার বিশদ বিবরণ দিতে শুরু করলেন। এর আগে আমরা তিস্তায় যেতে চেয়েছিলাম কিন্তু পরে ঘাঁটির রানওয়ে ব্যারিকেড তৈরিতে চলে যাই। তিস্তার মানুষরা আগেই খালি মালগাড়ি দিয়ে ব্রিজের মুখ বন্ধ করা ছাড়াও ফিসপ্লেট-স্লিপার সরিয়ে দিয়েছে। তাছাড়া ইপিআরদের জন্য ট্রেঞ্চ/বাঙ্কার তৈরি ছাড়াও তাদের খাবারব্যবস্থা করছে। ইপিআরদের কথায় জানা গেলো তারা আরো লোকজন আসার অপেক্ষায় আছেন। তাই তাদের ক্যাপ্টেন চিলমারি ও পাটগ্রামে রেলগাড়ি পথে বলেন। যদিও পাকিস্তানি মিলিটারি সে দেখে নাই কিন্তু ইপিআরদের খবর আছে পাকিস্তানিরা কাউনিয়া পর্যন্ত এসে গেছে। কাউনিয়া জংশন তিস্তার পশ্চিম তীর থেকে মাত্র দেড় কিমি। কিন্তু বাঙ্গালী ঐসব ইঞ্জিন ড্রাইভার ফায়ারমেনেরা একনাগারে প্রায় ২৪ঘণ্টার উপর কাজ করছে। বলে তাদের বদলীর প্রয়োজন। তাই সেও নেতাদের সাথে বদলী আরো বাঙালী খুঁজতে দেরি হয়। খাবার পর তোফায়েল ও হাসনাত বাসায় যায়। ওদের কাপড়চোপড় ময়লা; মানে হয় ট্রেঞ্চ খোঁড়ার কাজে ছিল। জিআরপির দুইজন গোয়েন্দা কর্মচারী ও রাতে বাবার সাথে কথা বলেন।


আর সেই সীমানা বরাবর আছে বহু বিওপি যেগুলো প্রতিটিতে ২৫/৩৫জন ইপিআর মোতায়েন থাকে। যদি সবাইকে একসাথে জড় করা যায়; তবে একটি বিশাল শক্তিশালী বাহিনী গড়ে উঠবে।

দীর্ঘদেহী বয়স্ক ইপিআর সদস্যকে আমিও চাচা বলে সম্মোধন করি কারণ তিনিও আমাকে আগেই ভাতিজা বলতেন। তার পায়ের যখম ও গায়ে লাঠির বাড়ির আঘাত তেমন গুরুতর নয়। তিনি কুড়িগ্রাম এলাকার বিওপি(বর্ডার আউট পোস্ট)তে ছিলেন; ঐ এলাকা ভাল করে চিনেন ও  জানেন মনে হলো। তাদের রংপুর উইং (নং ১১ উইং) এ একজন পাকিস্তানি মেজর আছেন এবং ক্যাপ্টেন নওয়াজেশ উদ্দিন সেখান থেকে পালিয়ে এসেছেন তাও তার জানা ছিল না। তারা ঢাকার খবর কিছুটা জানলেও প্রথমে বিশ্বাস করেন নাই; কারণ তাদের সাথে আনেকদিন থেকেই ঐ পাকিস্তানি দলের সাথে একই প্লাটুনে ডিউটি করেন। তাদের দলের প্রথম ৬জন বাঙ্গালী যে মানুষের ভিড়ে যোগ দিয়েছে তা তারা বুঝতে পারে নাই। যার করণে দল থেকে আলাদা হতে দেরি হয় ও জনতার লাঠিপেটার মুখে পরে। তার ধারণা ক্যাপ্টেন সাহেব যদি সব বিওপিতে ঠিক মত খবর দিতে পারে তবে কুড়িগ্রামের মোট ৮টি থানার কেবলমাত্র কুড়িগ্রাম সদর উলিপুর ও চিলমারী ছাড়া বাকি ৫টি থানার সাথেই ভারতের সীমানা। আর সেই সীমানা বরাবর আছে বহু বিওপি যেগুলো প্রতিটিতে ২৫/৩৫জন ইপিআর মোতায়েন থাকে। যদি সবাইকে একসাথে জড় করা যায়; তবে একটি বিশাল শক্তিশালী বাহিনী গড়ে উঠবে।

এখন বাবাকে একাই ধরে বাথরুমে নিতে পারি; যদিও তারা ব্যাথা প্রচুর। তবে ওসি সাহেব একাই যাওয়া-আসা করতে পারছেন। সবকিছুই শুভলক্ষণ; কেবলমাত্র ঐ একজন ছাড়া। গতকালের মত আজ রাতেও হইচই করে মধ্যরাতের আগেই রেলগাড়ি পাটগ্রাম চলে যায়। সব শান্ত হলে একসময় আমিও ঘুমিয়ে পরি।

চলবে…

নির্মাতা
ভবঘুরে কথা'র নির্মাতা

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!