মতুয়া সংগীত

উত্তরাভিমুখ চলে

পাগলের প্রত্যাবর্তন
পয়ার

উত্তরাভিমুখ চলে পাগল গোঁসাই।
চলিলেন গঙ্গাচর্ণা সঙ্গে চলে রাই।।
পার হ’তে মধুমতী নৌকা নাহি পায়।
হাটুরিয়া এক নৌকা দেখিবারে পায়।।
পাঁচ জন এক নায়ে হাটে যাইবারে।
দোকান পসার তুলে নৌকার উপরে।।
নৌকার নিকটে গিয়া বলিল গোঁসাই।
এই নৌকা পরে তুমি উঠ গিয়া রাই।।
রাই গিয়া উঠিল সে নৌকার উপরে।
হাটুরিয়া একজনে বলে ক্রোধভরে।।
আমরা চলেছি হাটে হারে বেটা বোকা।
নৌকার উপরে কেন উঠিলি খামকা।।
আর একজন এক বোঝা ল’য়ে এল।
একাকী সে বোঝা সে নামা’তে নারিল।।
পাগল বলেছে রাই তুই ত’ বর্বর।
দাদার মাথার বোঝা শীঘ্র করি ধর।।
রাই এসে সেই বোঝা শীঘ্র নামাইল।
সাহা বলে তোমরা কোথায় যাবে বল।।
রাই বলে যা’ব মোরা মধুমতী পারে।
সাহা বলে উঠ দোঁহে দিব পার করে।।
সেই নৌকা পরে গিয়া উঠিল পাগল।
মুখে বলে জয় হরি গৌর হরি বল।।
পাগল বলেছে রাই হওগে কান্ডারী।
তুমি গিয়া হাল ধর আমি দাঁড় ধরি।।
সাহাজীরা বলে কেন তোমরা বাহিবে।
আমরা করিব পার বসে থাক এবে।।
পাগল তাহা না শুনি হাল গিয়া ধরে।
রাই গিয়া দাঁড় ধরে আগা নৌকা পরে।।
পাগল ধরিয়া হাল ঘুরাইছে নাও।
বলে রাই হরি বলে জোর দিয়া বাও।।
সাহাজীরা কয়জন জোরে টানে বৈঠে।
পাগল বলেছে রাই দাঁড় ধর এটে।।
অতি বেগে নৌকা চলে কান্ডারী পাগল।
কিনারের লোক দেখে বলে হরিবোল।।
জয় হরি বল মন গৌর হরি বোল।
রাম রাম মহাধ্বনি করিছে পাগল।।
এইমত পার হয় দশ বারো বার।
নদী মধ্যে নৌকা ঘুরাইছে চক্রাকার।।
সাহাজীরা বাক্য হত হ’য়েছে বিহ্বলা।
পাগল বলেছে হাটে যেতে নাই বেলা।।
এত বলি নৌকা নিল পশ্চিম কিনারে।
লম্ফ দিয়া পাগল পড়িল গিয়া তীরে।।
নৌকা বাহে সাহাজীরা হ’য়ে জ্ঞানহারা।
পাগল বলেন কোথা বেয়ে যাস তোরা।।
চৈতন্য পাইয়া সাহাজীরা করে মানা।
আমাদের ছেড়ে প্রভু যেওনা যেওনা।।
কূলে উঠে সাহাজীরা শ্রীচরণে পড়ে।
বলে প্রভু আর বার উঠ নৌকা পরে।।
হাটে না যাইব মোরা নৌকায় এসহ।
আজ নিশি আমাদের বাসায় বঞ্চহ।।
প্রভু কহে হাট কর পুনঃ যদি আসি।
তোমাদের বাসায় বঞ্চিব এক নিশি।।
সাহারা অনেক কষ্টে বাক্যে দিল সায়।
বলে প্রভু দয়া করে রেখ অই পায়।।
হাট শেষ বেলা শেষ এমন সময়।
দোকান পাতিল হাটে করিতে বিক্রয়।।
বহুতর খরিদ্দার জুটিল দোকানে।
কোন মাল কোন মূল্য কিছু নাহি শুনে।।
ওজন করিতে বসে ওজন করয়।
ক্রেতাগণ মনমত মূল্য দিয়া যায়।।
বিক্রয় করিতে মাল যত এনেছিল।
সকল বিক্রয় হ’ল কিছু না রহিল।।
অসম্ভব একই কাজ বিক্রি সব দ্রব্য।
অদ্যকার হাটে হৈল চতুর্গুণ লভ্য।।
তারা হ’ল হরি ভক্ত সাধুর সমাজ।
রচিল তারকচন্দ্র কবি রসরাজ।।

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!