মতুয়া সংগীত

উর্ধ্বে শ্বেত চন্দ্রা তপ

সভা দৃশ্য বর্ণনা
অপূর্ব্ব সভা – মণ্ডপ, উর্ধ্বে শ্বেত চন্দ্রা তপ
মধ্যে তার রক্ত – পদ্ম আঁকা।
চারিদিকে চারি দ্বার, দেখি অতি মনোহর
মঙ্গল কলসী পদে রাখা।।
পুতিয়া কদলী বৃক্ষ, পুস্প তাহে লক্ষ লক্ষ
মধ্যে তার দেবদারু পত্র।
বৃত্তাকারে দ্বার – শির, দাঁড়াইয়া রহে স্থির
শিরে যেন ধরিয়াছে ছত্র।।
সভার উত্তর দিকে, চারিটি পালঙ্ক রেখে
ঢাকে তাহা সত রঞ্চি দিয়া।
তার’ পরে কাষ্ঠাসন, ঠিক যেন সিংহাসন
শ্বেত – বস্ত্রে রেখেছে মুড়িয়া।।
সম্মুখ ভাগেতে তার, কিবা শোভা মনোহর
টেবিল রাখিল সাজাইয়া।
ফুলদানী দুই ধারে, রাখিয়াছে ফুল ভরে
গন্ধ ছুটে বাতাস ভরিয়া।।
সম্মুখ ভাগেতে তার, শয্যা অতি পরিস্কার
বিস্তৃত প্রাঙ্গণ জুড়ি রহে।
ইন্দ্র – সভা তুল্য শোভা, পত্র পুস্পে মনোলোভা
‘ধন্য সভা ‘সবে ডাকি কহে।।
কাষ্ঠাসন বহুতর, রেখেছে মঞ্চের পর
আরো বহু সভা বেড়ি রহে।
জ্ঞানী গুণী নেতা যারা, মঞ্চের উপরে তারা
স্তব্ধ থাকি কথা নাহি কহে।।
যথা – যোগ্য স্থান লয়ে, বসে সবে ঠিক হয়ে
হেনকালে উঠে জয় ধ্বনি।
পঞ্চ – সহস্র প্রমাণ, লোক হবে অনুমান
দেব – সভা তুল্য সভা গণি।।
আসিলেন গুরুচাঁদ, সঙ্গে যত পারিষদ
হুলুধ্বনি জয় ধ্বনি উঠে।
যবে আগুয়ান হন, সভাশুদ্ধ লোকজন
দাঁড়াইল সবে কর পুটে।।
ছিল কত তর্ক বাদী, মনে মনে ছিল বাদী
দেখি গুণনিধি রহে চুপ।
উজ্জ্বল বরাঙ্গ কায়, তরুণ – তপন – প্রায়
মুগ্ধ সবে দেখি সেই রূপ।।
যবে সভা প্রবেশিল, এই মত ভাব হল
দাঁড়াইয়া সবে রহে স্থির।
হস্ত উত্তোলন করি, হৃদয়ে শ্রী হরি স্মরি
ক্ষণেক নমিয়া নিজ শির।।
গুরুচাঁদ বলে কথা, ‘ শুনহে স্বজাতি ভ্রাতা
আজি দেখ বড় শুভ দিন।
আরম্ভ হইবে সভা, সভা হবে মনোলভা
কেহ আজি হ’য়োনা মলিন।।
মনোগত যত কথা, সবে আজি কহ হেথা
মনোব্যথা কর অবসান।
এতকাল মহাদুঃখে, কথা নাহি ছিল মুখে
বলে কথা জুড়াও পরাণ।।”
এই বাণী শেষ করি, বসিলা আসন পরি
গুরুচাঁদ প্রভু দয়াময়।
দ্বারিক মোক্তার যিনি, সভাতে দাঁড়ায়ে তিনি
ধীরে ধীরে এই কথা কয়।।
“কহ সব সভাজনে, সভাপতি কোনজনে
অদ্য হেথা করিবে বরণ ?”
পণ্ডিত শ্রী রঘুনাথ, করি সবে দণ্ডবৎ
কহিলেন মধুর বচন।।
“স্ব-জাতির এ-সভায়, মোর নিবেদন রয়
সভাপতি করি নির্ব্বাচন।
যদি অনুমতি হয়,আমি বলি এ সভায়
উপযুক্ত আছে একজন।।

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!