প্রভু জগদ্বন্ধু সুন্দর

২৩.
তুই দিন রাত হরিনাম করিস। সামনে যাকে পাবি তাকেই নাম শোনাবি। উচ্চৈঃস্বরে উদ্দণ্ড নৃত্যসহ হরে কৃষ্ণ নাম প্রাণ ভরে গাবি। হরিনাম ভুলিস না।

২৪.
হারে হরিদাস! কাল রাত্রে এত বেদনা দিলি কেন রে? কীর্তন আমার জীবন। আমার জীবনের উপর আঘাত করলি! সারা রাত ছটফট করছিরে! ওঃ কি কষ্ট!

২৫.
সত্য যুগে ছিলেন হরি ত্রেতায় ধনুকধারী। দ্বাপরেতে প্রেমলীলা ল’য়ে রাধাপ্যারী। কলিতে গৌরাঙ্গ লীলা পাষণ্ড উদ্ধারী। এবার জগদ্বন্ধু লীলা মহাউদ্ধারণকারী।

২৬.
আল্লাহ্ বল আর ভগবান বল সে সৃষ্টি করেছে মানুষ, আর মানুষ সৃষ্টি করেছে জাত, পৃথিবীতে একটি মাত্র জাতি/ধর্ম আছে, সেটি হল মানব জাতি/মানবধর্ম।

২৭.
সর্বতোভাবে বপু রক্ষা করিও, শরীর মন প্রাণ দ্বারা ধর্ম রক্ষা কর। ধর্ম রক্ষা করিতে যাইয়া যদি কোন বিপদ, এমনকি মৃত্যু হয় সে ভালো। কারণ ধর্মই শ্রীকৃষ্ণ।

২৮.
আমি একমাত্র পুরুষ হরি মহাবতারণ। আর সবাই প্রকৃতি, ইহা সর্বদা সর্বাবস্থাই ম্নে করে রেখো। আমি স্ক্লের, স্কে আমার, তোমরা পৃথিবীর সকলকে আপন ক্রিও।

২৯.
ভোগবস্তু ত্যাগ অপেক্ষা তৎপ্রতি লালসা পরিবর্জন করাই শ্রেষ্ঠ সাধনা। ভোগ্যবস্তু বর্জনই বৈরাগ্য নহে। বস্তুর প্রতি স্পৃহা-হীনতাই বৈরাগ্য। অকৈতবে বিষয় বৃত্তি করিও।

৩০.
আমি অনন্ত ব্রহ্মাণ্ডের অমৃত সুতরাং সর্বময় আমি ঝাড়ুদার। ঝাড়ু দিয়া পবিত্র করতে এসেছি। আমার মহাপ্রকাশে সত্য প্রতিষ্ঠিত হবে। এটি প্রলয় কাল। রক্ষা হরিনাম।

৩১.
মানুষ তোমাকে জটিল পথে লইতে চাইবে সাবধান। চিরদিন এই ফকিরের কাছে পরে থাকবি, পরিণাম রবে। আমি পৃথিবীর কেন্দ্র, আমার দ্বারাই সত্য প্রতিষ্ঠিত হবে।

৩২.
হরিদাস! যে খেলা খেলাইতে তুমি সংসারে আসিয়াছ তাহা যদি অনুধাবন করিয়া সেই গোবিন্দের প্রিয় খেলা খেলিতে পার, তবে অবশ্যই কঠোর যন্ত্রণা হইতে মুক্ত হইবে।

৩৩.
হে আমার প্রাণ প্রিয় প্রভু, তোমার সৃষ্টির সকল জীবকে-শান্তির পথ দেখাও সবাইকে ভালো রেখো প্রভু সবাইকে সত্যের পথ দেখাও এবং তোমার নাম গুণ গান করার শক্তি দাও।

৩৪.
প্রকৃতির অনুকূলে আমার কাজ হ’য়ে যাবে। আমি এক এক গায়ে এক একটি মহাদেশ ঠিক করে দেব। চারটি মহাদেশে সমানভাবে ধর্ম সংস্থাপন করবো। আমার লীলা সহস্র বৎসর চলবে।

৩৫.
মহানামের প্রথম নাম জগদ্বন্ধু নাম, মহানামের শেষ নাম হরিনাম, মহানামের মধ্য নাম পুরুষ। ‘হরি হরি হরি কও, মহানাম মহানাম।’ হরি শব্দ উচ্চারণ, হরিপুরুশ উদয়। হরিপুরুষের প্রকাশ নাম প্রভু জগদ্বন্ধু।

৩৬.
শ্রীধাম শ্রীঅঙ্গনের প্রভু জগদ্বন্ধু সুন্দরের অঙ্গরাজের কাজ শেষ করলেন- শ্রী জগন্নাথ দে, বরিশাল। বলা হয় ইনার জন্মই নাকি হয়েছে প্রভুর জন্য। সত্যই তার হাতে একমাত্র প্রভুর এই সুন্দর শ্রীমর্তি গড়ে ওঠে।

৩৭.
তোরা আমায় স্মরণ করিস আর না-ই করিস, আমি তোমাদিগকে নিত্য চিরকাল স্মরণ করবো। স্মরণ করে রক্ষা করবো। মনে রাখিস আমি তোদের- হস্ত, পদ, মন, প্রাণ সব। তোমরা আমার, আমি তোমাদের সকলের।

৩৮.
ইহলোক বা পরলোকে একমাত্র শ্রীকৃষ্ণ বই অন্য কেহই পুরুষ নাই। ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব ও সর্ব্ব মুনিঋষিগণ যাঁহাদিগকে পুরুষের আকারে দেখা যায় তাঁহারা সকলেই প্রকৃতি। ইহা দিব্যজ্ঞান হইলে জানিতে পারা যায়।

৩৯.
সকলকে সম্মান ও ভক্তি করিবে। কদাচ কাহাকেও ঘৃণা করিবে না। গোপীকৃষ্ণ নাম সত্য। নামের কাছে ভক্তিপথবিরোধি অষ্ট সিদ্ধি তুচ্ছ্। নাম হইতে সর্ব্বানর্থনাশ ও নববিধা ভক্তি প্রাপ্ত হবে। তাপ জ্বালা দূরে যাবে।

৪০.
শরীর মন ও প্রাণ দ্বারা যথাসাধ্য ধর্ম্ম রক্ষা করা উচিত। ধর্ম্ম রক্ষা করিতে যাইয়া যদি কোন প্রকার বিপদ, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হয় সেও ভাল। কারণ ধর্ম্মই শ্রীকৃষ্ণ। ধর্মকে রক্ষা করিলেই শ্রীকৃষ্ণে পাওয়া পাওয়া যায়।

৪১.
শ্রীর মন ও প্রাণ দ্বারা ধর্মকে রক্ষা করা উচিত। ধর্মকে রক্ষা করিতে যাইয়া যদি মৃত্যু বা যে কোন প্রকারের বিপদ হয় সেও ভাল। কারণ ধর্মই শ্রীকৃষ্ণ। শ্রীকৃষ্ণই পরম দেবতা ও প্রমথন সুতরাং আপনার বলিতে কে-ই বা আছে।

৪২.
আত্ম হইতে অধিক ভোজন, ভোজন হইতে অধিক বসন, বসন হইতে অধিক ধন, ধন হইতে অধিক জন, জন হইতে অধিক ধর্মন, ধর্মন হইতে অধিক সংকীর্তন, সংকীর্তন হইতে অধিক কীর্তন, কীর্তন হইতে অধিক আর কিছু নাই।

৪৩.
আছ প্রভু অন্তরে চিরদিন, তবু কেন কাঁদি। তবু কেন হেরি না প্রভু তোমার জ্যোতি, কেন দিশাহারা আমি অন্ধকারে? অকূলের কূল প্রভু তুমি আমার, তবু কেন ভেসে যাই মরণের পারাবারে? আনন্দঘন প্রভু তুমি যার স্বামী, সে কেন ফিরে পথে দ্বারে দ্বারে।

৪৪.
আমি পৃথিবীর কেন্দ্র। আমি সেই পদ্মপলাশলোচন হরি। আমিই একমাত্র পুরুষ আর সবই প্রকৃতি।এইবার সবকেই হরিনাম আস্বাদন করাইব, তবে আমার নাম জগদ্বন্ধু। এবার মানুষতো মানুষ, পশু, পক্ষী, কীট-পতঙ্গ, বৃক্ষলতা এমনকি অণুপরমাণু দিগকে এপর্যন্ত স্বরূপ আস্বাদন করাইব, তবে আমার নাম জগদ্বন্ধু।

৪৫.
হরিনাম শব্দ, হরি ঠাকুরের নাম নহে। যেমন পুষ্পবৎ বা পুষ্পবন্ত শব্দে চন্দ্র সূর্য্য বুঝায়, সেই রকম নিতাই-গৌর, গোপী, রাধাশ্যাম সব মিলিয়া এক হরিনাম। হরিবোল বললে সবই বলা হয়। হরিনাম এত উচ্চ কণ্ঠে উচ্চারণ ক’রবে, যেন সহস্র হস্ত দূর হইতেও শ্রবণ করা যায়। হরিনাম উদ্ধারণ মন্ত্র যাহাতে সমস্ত জীবজন্তু স্থাবর জঙ্গম শুনতে তা ক’রো।

৪৬.
হা কৃষ্ণ চৈতন্য প্রভু, পতিত পাবন।
দাস বলে দয়া কর, মুই অভাজন।
দাসে দয়া কর হে
প্রাণ গৌরাঙ্গ মোর।
দয়া কর, অবধূত- জাহ্নাবা-জীবন।
পদ্মাবতী প্রাণধন, বসুধা বীরণ।
তুমি দীনের গতি হে
প্রাণ নিত্যানন্দ চন্দ্র।
কোথা শান্তিপুরেশ্বর, কিঙ্করে করুণা কর,
কোথা মোর প্রাণ গদাধর।
দাসে কৃপা রাখ গো
প্রাণাদ্বৈত গদাধর।
কোথা প্রভু শ্রীবাস, মুকুন্দ হরিদাস,
হেরূপ স্বরূপ দামোদর।
কৈ কৈ কৈ মোর
প্রাণ স্বরূপ প্রাণ।
কারুণ্যে ক্ষণে, হের, কীট ইন্দ্রজাল
বন্ধু-বাঞ্ছা, শুভ দৃষ্টি, প্রভু দয়াল।
জীবে, দয়া কর
কেবল, ও কীট কুহক ও।

……………………………….
আরো পড়ুন:
জগদ্বন্ধু সুন্দরের বাণী: এক

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!