মতুয়া সংগীত

তেরশত ছয় সন

শ্রীশ্রী শ্রীপতিচাঁদে শ্রীশ্রীগুরুচাঁদের আবির্ভাব
দীর্ঘ ত্রিপদী

তেরশত ছয় সন ধরা শান্তি নিমগণ
ধন ধান্যে পরিপূর্ণ দেশ।
এল শুভ মাঘ মাস কৃষকের পূর্ণ আশ
রবিশস্য ফলিয়াছে বেশ।।
গৃহে শান্তি বিরাজিত সহকার মঞ্জুরিত
হাস্যময় ওঢ়াকাঁদি ধাম।
শ্রীশ্রীঠাকুরের ঘরে সদাই আনন্দ করে
অবতীর্ণ নবঘন শ্যাম।।
শ্রীসুধন্যচাঁদ সুত দেব শিশু সমপুত
সতীশ চাঁদের বিয়োগেতে।
মনোদুঃখে পিতা মাতা অশ্রুময় শোকগাঁথা
সদাই গাহিত অন্তরেতে।।
গুরুচাঁদ কৃপা করি স্বপ্নে কহিলেন হরি
ফিরাইয়া দিয়াছে তনয়।
সরলা সরল মনে পেয়ে তার হারাধনে
কোলে নিয়া জুড়াল হৃদয়।।
অপার আনন্দ খনি গুরুচাঁদ নয়ন মণি
শ্রীপতিচাঁদের অভ্যুদয়।
ফিরে এল গৃহে শান্তি নব জলধরকান্তি
ত্রেতার শ্রীরাম মনে হয়।।
শৈশবে স্বাধীনচেতা শিশুমধ্যে যেন নেতা
সিংহ শিশু খেলিত কৌতুকে।
পিতামহ চক্ষুমণি বীরেন্দ্র কিশোরী গণি
দিনে দিনে বাড়ে চাঁদ সুখে।।
প্রবেশিকা পাশ করি চিকিৎসক ব্রত ধরি
অধ্যায়ন করে কিছু কাল।
গুরুচাঁদ কাছে ল’য়ে কহিলেন বিদ্যালয়ে
এতকাল রহিলে বহাল।।
আমার কলেজে এবে কিছু বিদ্যা শিক্ষা লবে
এতবলি রাখে তার কাছে।
অপর ভ্রাতারা সবে বিভিন্ন স্থানেতে রবে
তুমি থাক মোর পাছে পাছে।।
কল্পবৃক্ষ গুরুচাঁদ শিরে দেয় আশীর্বাদ
গোপন নিগুঢ় বিদ্যা যত।
উপযুক্ত শিষ্য কাছে যা তার ভাণ্ডারে আছে
সকলি শিখাল মন মত।।
তেরশ তেতাল্লিশ সনে গুরুচাঁদ ভক্তগণে
ডাকিলেন সবে নিজ স্থানে।
রাসযাত্রা সংঘটন প্রেমোন্মত্ত ভক্তগণ
মাতোয়ারা হরিগুণ গানে।।
আমি লীলা সম্বরিব মোর কার্যভার দিব
মোর প্রিয় শ্রীপতিচাঁদেরে।
ও মোর অন্ধের ষষ্ঠী হরিচাঁদ কৃপাদৃষ্টি
ওরে ঘিরি সর্বদাই ফিরে।।
দরবারে ওর ঠাই ওর তুল্য কেহ নাই
ওর মোর আনন্দময় হরি।
আমি শ্রীপতির সাথে ফিরিব দিবস রাতে
আমি র’ব ওর অঙ্গ ধরি।।
ছিল সাধু রাধাক্ষ্যাপা কহে দূরে থাকি বাপা
সর্বদেশে হরিগুণ গাই।
কভু মৈমনসিংহে হরিনাম ধ্বনি শিঙ্গে
ত্রিপুরা আসামে কভু যাই।।
লীলা সম্বরিলে প্রভু বঞ্চিত না হই কভু
আমারে কহিয়া যেও কথা।
যেথা থাকি জঙ্গলেতে দিবাভাগে কিংবা রাতে
এ কথার কর না অন্যথা।।
তথাস্ত ঠাকুর রহে ক্ষ্যাপা এই বাক্য বহে
ফিরে যায় আশ্রম ত্রিপুরা।
তেরই ফাল্গুন মাসে কহিতে না ভাষা আসে
খসি পড়ে পর্বতের চূড়া।।
সাঙ্গ করি লীলা খেলা সাজাইয়া মহামেলা
কাঁদাইয়া মতুয়া মণ্ডলে।
দেবলোক দিব্যধামে স্বর্গ হ’তে রথ নামে
গোলোকে ঠাকুর যান চলে।।
অসমাপ্ত কর্মভার কঠোর দায়িত্ব তার
হাসিমুখে বহে শ্রীশ্রীপতি।
ধীরোদাত্ত স্বল্পভাষী মুখে অপার্থিব হাসি
হরিচাঁদ গুরুচাঁদে মতি।।
হোথা আশ্রমের কোণে রাধাক্ষ্যাপা একমনে
গুণ গান গাহে হরিনাম।
শতকোটি চন্দ্রসম জ্যোতির্ময় অনুপম
উদিত হইল প্রাণারাম।।
যেরূপ ওঢ়াকাঁদিতে শ্রীগুরুচাঁদ সঙ্গেতে
থাকিত শ্রীনেপাল গোঁসাই।
রাখিতে এলেন কথা এ দেহের শেষ কথা
কহ প্রভু গুরুচাঁদ সাই।।
অশ্রুজলে বক্ষ ভাসে “মোরা রব কার পাশে
কে শুধাবে প্রাণের বারতা।”
এত কহি’ ত্রিপুরায় ক্ষ্যাপা গড়াগড়ি যায়
পুণ্যবান শোনে সেই কথা।।
প্রভু কহিলেন হেসে লীলা শেষে অবশেষে
সাধনার অন্তে ধামে যাই।
তোমারে ত কহিয়াছি আমি শ্রীপতিতে আছি
তার সঙ্গে রব সর্বদাই।।
জয় জয় হরিচাঁদ ত্রিভুবনে যার ফাঁদ
গুরুচাঁদ যাঁহার বিভূতি।
জয় শ্রীসুধন্যচাঁদ জয় শ্রীশ্রীপতিচাঁদ
সর্বলোকে গাহে যাঁর স্তুতি।।

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!