ফকির সামসুল সাঁইজি

-ফকির সামসুল সাঁইজি

নামাজ একটা শ্রেষ্ঠ একটা এবাদত। যে এবাদতে, যে নামাজে, মানুষদেরকে বার্জিত অন্যায় বা অশ্লীল কর্ম থেকে দূরে রাখে। তবে নামাজ জানতে হবে আগে, যে নামাজে আমি; আমাকে অন্যায় থেকে দূরত্ব রাখতে পারে, সেই নামাজটা আগে আমাদেরকে পড়তে হবে, জানতে হবে, বুঝতে হবে।

আর যদি আমি গাফেল নামাজী হয়ে থাকি, আমার মন যদি ধন-দৌলতের দিকে আকৃষ্ট হয়ে থাকে। আল্লাহ্’র ভয়ে ভীত হয়ে যদি আমার নামাজ না হয়ে থাকে। আল্লাহ্’র দিকে, মানে আল্লাহ্’র সুরাতের উপর যদি আমার নামাজ না হয়ে থাকে। তাইলে আমাকে কোয়ায়েল দোজখে যাওয়া লাগবে, আমি গাফেল নামাজী।

মনটা গাফেল হয়ে গেছে। আল্লাহ্’র প্রতি আমার মন নাই। আমার মনটা চলে গেছে দুনিয়ার দিকে। পাঁচতলা, দশতলা; আমেরিকা, লন্ডন, ঢাকা, টোকিও এ সমস্ত জায়গাতে আমার মন চলে গেছে। সেটি সেটি বাড়ি করব। আবার নামাজও পড়বো, বেহেস্তও লোবো (নিবো); নাহ্। তা এখন আমাদেরকে চিন্তা করতে হবে, যে আমরা গাফেল নামাজী যেন না হই।

কি করলে গাফেল নামাজী হওয়া থেকে রক্ষা পাবো? মুক্তি পাবো? এটা আমাদেরকে এখনই; যারা জানে তাদের কাছ থেকে জাইনে লওয়া(জেনে নেয়া) লাগবে। ফকিরেরও ভুল হইতে পারে। শরিয়তের মানুষেরও ভুল হইতে পারে। কারটা যে ঠিক সেটা এখনই বুঝতে হবে।

যেন দোযখের ঐ বিষধর সর্পের ছোবল আমাকে খাওয়া না লাগে। আগুনের চাবুক ঐ যেন আমাকে খাওয়া না লাগে। এরা সব কিন্তু রেহাই দেবে নামাজের দ্বারা। সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ এবাদত হচ্ছে নামাজ। নাকি? শ্রেষ্ঠ এবাদত আমরা কে করতে চাই না। কেন আমরা দোযখে যাওয়ার জন্য চেষ্টা করবো?

ওরা আকুলি ব্যাকুলি যে করছে দোযখে যাওয়ার জন্য। কেন আমরা দোযখে যাবো? আকুলি ব্যাকুলি করা লাগবে আমাদের বেহেস্তে যাওয়ার। আমরা সেখানে সুখে থাকি, সেই চিন্তা আমাদের করা লাগবে। এখন আমাদের সবারই উচিত, যে নামাজে গর্হিত কর্ম থাকবে না, অন্যায়/অশ্লীল কর্ম থাকবে না, সে নামাজের তালাশ যেন আমরা এখনই সবাই মিলে করি।

নামাজের কথাটা বোঝা গেল? এখন অনেকে দোষ দেয় যে, ওরা নামাজ পড়ে না; ওরা পড়ে না; তো এখন কে কাদেরকে দোষ দেয় সেটা তাদের ব্যাপার। তাই লালন বললো-

পড়রে দায়েমী নামাজ
এ দিন হল আখেরী,
মাশুকরূপ হৃদ কমলে
দেখ আশেক বাতি জ্বলে,
কিবা সকাল কিবা বৈকালে
দায়েমীর নাই আঁধারী।।

এ দায়েমী নামাজের দ্বারা অন্যায় কর্ম বন্ধ হয়, নচেৎ হবে না। আমার সামনে মাশুকরূপ নাই, মাশুকরূপ না থাকলে হৃদয়ে আমি কার রূপ, কার রূপের বাতি জ্বেলে, আমি সেই নামাজ সকাল বিকাল পড়বো? কার রূপের বাতি? ঠিক না। তাহলে এই নামাজের কথা গেল।

তা আমরা আজ থেকে খুঁজি নামাজ, তো বাপ দাদা যদি না জেনে নামাজ পড়ে দোযখে যায়, তো আমি কেন দোযখে যাবো? ঠিক না? ওদের কর্ম, ওরা যায় যাবে। তো আমি সঠিক নামাজটা খুঁজে বাইর করে পড়ে বেহেস্ত খুঁজবো বেহেস্ত যাওয়ার জন্য।

ওরা খুঁজেনি কো, তার জন্য ওরাই দায়ী। বাপ-দাদা যা করে গেল আমি তাই করে যাবো, তো ওরা যদি সঠিক না করে বা ওরা সঠিক করে গেছে আমি যদি সঠিক না করি, তো আমিও দোযখে যাবো, আমরাও দোযখে যাবো। তো নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিক নামাজ’টা জানা। ঠিক আছে? এ আর কি।

তো নামাজ যদি সঠিক হয় তবে রোজাটাও সঠিক করা লাগবে। এখন রোজা বলতে গেলে। নফস্, রিপু, ইন্দ্রিয় এ সব যেন আমার বশে থাকে, সংযম হয়। সিয়াম মানে সংযম। সংযম যদি আমার ‍রিপু ইন্দ্রিয় না থাকে, আমার বশে যদি না থাকে। তাহলে পরে সে রোজা আমার হচ্ছে না, সে রোজা আমাকে খুঁজতে হবে।

যে রোজার দ্বারা আমার কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ ও মাৎসর্য; এ ছয়টা রিপু যে রোজার দ্বারা দমন হয়। যে রোজার দ্বারা আমার ১০টা ইন্দ্রিয় দমন হবে। এটা হচ্ছে অরজিনাল রোজা। শুধু শুধু আমি পেটকে ভুখা রাখি, তাহলে যে আমার রোজা পালন হলো, সে নাও হতে পারে।

আবার সঠিক হতেও পারে যদি; আমার নফস্ থেকে যদি না খেয়ে থেকে দমন হয়ে থাকে। তাহলে পরে এটাও সঠিক হতেও পারে। পেটের প্রতি অবহেলা করতে যাবো কেন? তো হচ্ছে কি না সেটা আমার বুঝতে হবে যে, আমি যে সমস্ত দিনটা না খেয়ে আছি; আসলে আমার নফস্ রিপু দমন হলো?

বিকাল বেলা যখন পিঁয়াজু ভাঁজে, বিকালবেলা যখন ঘুগনি ভাঁজে, জিলাপী ভাঁজে, মুড়ি মাখাচ্ছে; সামনে ইফতার হবে। ঠিক না। লাল লাল কলা, সামনে খুর্মা খেজুর; এই দেখে বিকালবেলা থেকে আমার খাওয়ার জন্য এমন একটা আকর্ষণ আসছে, তাহলে এটা লোভ।

রোজার দ্বারা লোভ বন্ধ করার কথা ছিল? দেখ শুধু ভালো ভালো খাইতে চাচ্ছে বিকালে। ক্ষুধা লেগেছে। রোজার দ্বারা এ লোভ রিপুকে বন্ধ করার কথা ছিল; কিন্তু বন্ধ হলো কি? এটা এখন আমাকেই বিচার করতে হবে। কেন খাইতে মন গেসে। এতো লোভ মনে হয় এখনও আমার কমেনি। পিঁয়াজু খাওয়ার জন্য কেন আমার মন কলবল করসে? তাইলে এ বিচার কেউ করে দিয়ে যাবে নে, আমাক (আমাকে) করতে হবে।

হয়তো এরটা হয়েছে আমারটা হয়তো হয়নি। ওর মন হয়তো কলবল করছে না। তবে যার বিচার তাকেই করা লাগবে; ঠিক না? তারপর যখন ইফতার করা হলো, তাহলে তোমার স্ত্রীর কাছে যাইতে ইচ্ছা করছে; তো কাম রিপু জাইগে উঠলো। এখন নিজে নিজে পরীক্ষা করতে দেখতে হবে যে, আমার কাম রিপু জাইগে উঠলো, শুধু আমারই উঠলো নাকি আর কারো উঠসে?

যদি তার না উঠে তবে তার রোজা ঠিক হয়েছে? তোমার যদি বৌমার কাছে যাবার খুব মন চায় ইফতার করে। তাইলে পরে তোমার বাবা; রোজা হলো কিনা এখন তোমাকেই বিচার করতে হবে। আবার বিকালবেলা দেখছি খুব ক্রোধ হইসে, রাগ হইসে, হেলায় রাগ হয় না?

বলেই ফেলা হয় যে, রোজা আছি মাইরে দেবো কিন্তু যদি আমাকে বেশি ক্ষ্যাপাস। তাহলে ক্রোধ রিপু আমার দমন হলো কিনা এটা এখন আমাকেই বিচার করতে হবে। হয়তো সবারই হয়েছে আমারটা হয়নি। আমারটা কেন হলো না এ বিচার আমাকে করতে হবে। এভাবে সব রিপুগুলোর বিচার করে যদি দেখি যে হ্যাঁ আমার গোটাদিন উপবাস থেকে আমার রোজা সঠিক পালন হলো।

তবে আমি কেন জান্নাতে যাবো না? মানুষে যাই বলুক না কেন, কেন আমি জান্নাতে যাবো না? আর যদি এগুলো আমার সবই থাকে, তাহলে কেন আমি জান্নাতে যাবো? কেন আল্লাহ্ আমাকে জান্নাতে দিবেন? কি দায় পড়েছে? যে অপরাধগুলো আমার থাকবে না বলে আমি উপবাস আছি, এ অন্যায় অপরাধগুলো এ সবই আমার ভেতরে আছে; তবুও আমাকে বেহেস্তে দেয় যদি আল্লাহ্, সেটা কেন দেবে? আল্লাহ্’কে তো দায়ী করা যাবে না।

তো, যে আগে যে নামাজের কথা বল্লাম, যে অশ্লীল, অবৈধ অন্যায় এ সমস্ত কর্ম যদি আমার বঞ্চিত না হয়, তবে তো আমি বেহেস্তে যাচ্ছি না। যার দ্বারা যদি আমার রিপু ইন্দ্রিয় দমন না হয়, তা বেহেস্তে যাচ্ছি না। মাইনষে বললেই যে আমি বেহেস্তে যাবো তা তো না। এ পরীক্ষার দায়িত্ব সবার নিজ নিজ।

নামজের দ্বারা গর্হিত কর্ম আমার বঞ্চিত হলো কিনা? রোজা উপবাসের মাধ্যমে করে আমার নফস্ রিপু দমন হলো কি না? যদি হয়ে থাকে পরীক্ষাটা আমাকে আমার জন্য করতে হবে। তাহলে আমি বেহেস্তে সঠিকভাবে যেতে পারবো। তাহলে যদি সবই থাকে, অথচ করছি; তাহলে আল্লাহ্’কে দায়ী করে লাভ নাই।

আল্লাহ্ আমাকে বেহেস্ত দিবে না। ঠিক আছে। আবার হজ- তোমার প্রচুর পরিমাণে ধন সম্পদ আছে। সাহাবীর পর্যায়ের একজন। তাহলে তোমার জন্য হজ জায়েজ। একদিন যার জিয়ারত হয় হাজার হাজীর তূল্য নয়। তাহলে সে হজ সম্বন্ধে তোমাকে এখনই বুঝতে হবে। কোন ধনসম্পদ থাকলে তার দ্বারা হজ হয়?

আল্লাহ্ প্রদত্ত ধন ম্পদ, নাকি আল্লাহ্ প্রদত্ত বার্হিক ধন সম্পদ? একটা ভেতরের সম্পদ একটা বাইরের সম্পদ। প্রচুর টাকা পয়সা, ধনদৌলত, জমিজমা, বড় বড় বাড়ি ঘর এগুলো এক ধরনের সম্পদ, স্বর্ণালঙ্কার; আর এক ধরনের সম্পদ হচ্ছে আল্লাহ্ প্রদত্ত তোমার দেহের সম্পদ।

দেহের সম্পদ প্রচুর পরিমাণে যার আছে তার জন্য হজ, নাকি যাদের বার্হিকভাবে টাকাপয়সা স্বর্ণালঙ্কার আছে তাদের জন্য হজ, এটা এখন আবার বিচার করতে হবে। কোন হজের দ্বারা আল্লাহ রাজী হইতেছেন। আল্লাহ্’র দেওয়া সম্পদের উপরে হিসাবনিকাশ চলবে। যেটা দেহের মধ্যে আছে সেটার, নাকি বার্হিকভাবে আল্লাহ্ দিয়েছে, ওটা আল্লাহ্’রই দেওয়া।

আমার দশতলা বিল্ডিং আছে, সেটা আল্লাহ্ না দিলে তো আর আমি করতে পারি না। নাকি ওটার হিসাবে হজ করতে হবে। এটা নিজে থেকে জাইনে লিতে হবে; কোন হজে আল্লাহ্ তুষ্ট। আবার যাকাতও; যাদের প্রচুর পরিমাণে ধন আছে, সাহেব ইনসাফ যারা। এ হিসাব নিকাশের পর্যায়ে যাদের ধন আছে ভেতরের এবং বাইরের।

ভেতরের ধনেরও আসলে যাকাত লাগবে, না শুধু বার্হিক ধনের যাকাত লাগবে। এ যাকাতটা কোন ধরনের? এটা তাহলে; এটাও বিচার করতে হবে। আমার দেহের কোন যাকাত লাগবে নাকি আমার দেহ রক্ষা করার জন্য যে সব ধন-দৌলত সেখানে শুধু যাকাত লাগবে?

তবে দেহ রক্ষার জন্য এ খাবো, সেই খাবো, ঐ চিকিৎসা করবো, এই হাবিজাবি। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান চিকিৎসা। এগুলোর জন্য যে ধন-সম্পদ, সেটার যাকাত। নাকি ঐ ধনসম্পদগুলো আমার দেহের যে উপকারের জন্য ব্যবহার করা; এই দেহের যাকাত। এটা ভাল-মন্দ লোকের কাছ থেকে জাইনে লওয়া লাগবে, যে আমার যাকাতও আমার হচ্ছে কিনা?

হজ জানতে বললাম, হজও আবার কোন ধরনের হজ? সেটা আমার আবার হচ্ছে কিনা? রোজা কোন ধরনের? কোনটা আবার আল্লাহ্ সঠিকভাবে মাইনে লিবে(নিবে) খুশি হবে। দুই ধরনের রোজার আবার ধরণ ঐটা জাইনে লিতে হবে, জাইনে লিতে হবে জ্ঞানীদের কাছ থেকে।

যাদের রোজা সম্বন্ধে জ্ঞান আছে। নামাজও দুই রকমের; বললে কথার মতো শোনায়। কোন ধরনের নামাজ পড়লে বেহেস্ত পাওয়া যাবে? সেটাও জ্ঞানীগুণীদের কাছ থেকে জাইনে লওয়া লাগবে। তার আগে আবার কালেমা সম্বন্ধে জানতে হবে। কালেমার আকার প্রকার আছে, কালেমার রূপ আছে।

এ রূপ যেনে কালেমা পড়লে আমি বেহেস্তে যাবো? আর বিনা রূপে কালেমা পড়লে আমি বেহেস্তে যাবো? এটাও একটু জ্ঞানীদের কাছে জাইনে লিতে হবে; জানতে হবে না!! কেউ বলে যে, কালেমার আকার প্রকার আছে, তার নাম আছে তার রূপ আছে? কেউ বলে যে, কালেমার আকার প্রকার নাই বাবা মুখে পাঠ করলে কালেমা হয়।

তো কয়টা বললাম? কালেমাটাতো শেষে বললাম এটা আগেও বলতে হয়। তো কালেমাও দুই রকমের আমি শুনছি এযাবৎ যে, একটা কালেমার আকার-প্রকার আছে দেখে জাইনে বুঝে পাঠ করতে হয়। আরেক কালেমার আকার-প্রকার নাই; শুইনে পাঠ করতে হবে।

একটা নামাজের আকার-প্রকার আছে, দায়েমী সালাতের। আরেক নামাজের কোন আকার-প্রকার নাই, না দেখে না রূপে বিনা রূপে। তা এখানেও প্যাঁচ পড়ে গেলো দুই রকমের নামাজের কথা শুনে; ঠিক আছে। রোজার লিয়েও একটা প্যাঁচ পড়ে গেল; নফসের উপর দমনের একটা রোজা, আর না খেয়ে থেকে আর একটা রোজা।

তো কোন রোজাতে আল্লাহ্ সন্তুষ্ট হবে? এটাও এখন আবার জ্ঞানীদের কাছ থেকে জাইনে লিতে হবে। এটাও একটা প্যাঁচ পড়ার মতো লাগছে। তো কয়টা হলো? কালেমা হলো, নামাজ হলো, রোজা হলো। তো হজেরও আবার ধনসম্পদ যাদের প্রচুর তাদের হজ করা লাগবে?

তো আমার দেহের ভেতরের ধন-সম্পদের ক্ষেত্রে হজ না আমার বার্হিকভাবে ধন-দৌলত, টাকা পয়সা হেন-তেন প্রচুর আছে, সেটার ক্ষেত্রে হজ? তো এখানেও একটা প্যাঁচ থাইকে গেল। তো এটাও জ্ঞানীগুণীদের কাছ থেকে হজ জাইনে নিতে হবে। চারটে গেল।

যাকাতও, আমার দেহের ভেতরের যাকাত, যেটা আল্লাহ্ স্বয়ং আমাকে দেহের মধ্যে যে সম্পদগুলো দিয়েছেন সেই সম্পদের যাকাত? না দুনিয়ার যে ধন-দৌলতের; কারো ধন-দৌলত বেশি আছে কারো কম সেটার যাকাত। কোন যাকাতে আল্লাহ্ সন্তুষ্ট হবে? তাহলে এখানেও প্যাঁচ পড়ে গেল। এ প্যাঁচটা উৎড়ানের জন্য আমাদের সবাকে দৌঁড়ান লাগবে।

আমি কিন্তু বাস্তব কথাই বললাম। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটা মানুষকে শুধু জ্ঞান অন্বেষনের জন্য ব্যস্ত থাকা লাগবে। শুধু জমি কেনার জন্য ব্যস্ত থাকা না। শুধু ভালো মন্দ খাওয়ার জন্য ব্যস্ত থাকা না। বড় বড় বিল্ডিং করার জন্য ব্যস্ত থাকা না। ঠিক না!!।

ব্যস্ত থাকতে হবে, কোন সময় মইরে যাবোরে বাবা আর সামনে সামান্য সময় আমার আছে। এক্ষুনি আমি, এই পাঁচটা ইবাদত সম্বন্ধে ভালো করে জাইনে নিতে হবে। পাঁচটা স্তম্ভ ধর্মের, পাঁচটা স্তম্ভ সম্বন্ধে আমাকে এক্ষুনি জানতে হবে। খুঁটি; এ পাঁচটার উপরে ধর্মটা ভর করে থাকে এ পাঁচটা খুঁটির উপরে।

একটা খুঁটি যদি লড়বড়ে হয় ও ঘর থেকে, একদিকে কাইত হয়ে যায়, গোটা ঘরটার ওজন একটা খুঁটিতে আর লিয়ে(নিয়ে) থাকতে পারবে না। তবে খুঁটি কয়টা লাগবে? পাঁচটা লাগবে; চারকোণায় চারটে দিলেও হবে না মধ্যে আর একটা খুঁটি লাগবে। পাঁচটই লাগবে।

আমরা যেন ল্যাংড়া-লুলা ঘর যেন না বানাই; ও ঘরের তলে কেউ থাকতে পারবে না। ও র আবার গায়ের উপর পড়বে। তো পাঁচটা বিষয় আমাকে আজই জানতে হবে। বাপ-দাদা করে গেল বলেই যে আমাকে করে যেতে হবে তা না। আমাকে বুঝে সুজে করতে হবে।

বাপ-দাদা বুঝে করলো কি করলো না সেটা বাপ-দাদার ব্যাপার। আমারতো বুঝে সুজে করতে হবে, না কি বাবা জি। আমার যদি বুঝা সুজার মধ্যে ভুল হয়ে যায়; তবে এ সর্বনাশ আমার হবে, আমার বাপ-দাদার হবে না। কয়টা সম্বন্ধে জানতে বললাম, পাঁচটা করাই লাগবে। ধন্যবাদ, তো এ পাঁচটাই আগে জানা হোক।

……………………….
ভিডিও লিংক: না বুঝে মজো না পিরিতে

……………………….
ফকির সামসুল সাঁইজি
বাগলপাড়া, সাঁইনগর, রাজশাহী।
শ্রুতি লেখক : মাশফিক মাহমুদ

………………………..
আরো পড়ুন:
মহাত্মা ফকির লালন সাঁইজি: এক
মহাত্মা ফকির লালন সাঁইজি: দুই
মহাত্মা ফকির লালন সাঁইজি: তিন


লালন ফকিরের নববিধান: এক
লালন ফকিরের নববিধান: দুই

লালন ফকিরের নববিধান: তিন

লালন সাঁইজির খোঁজে: এক
লালন সাঁইজির খোঁজে: দুই


মহাত্মা লালন সাঁইজির দোলপূর্ণিমা
মহাত্মা ফকির লালন সাঁইজির স্মরণে বিশ্ব লালন দিবস
লালন গানের বাজার বেড়েছে গুরুবাদ গুরুত্ব পায়নি
লালন আখড়ায় মেলা নয় হোক সাধুসঙ্গ
কে বলে রে আমি আমি
ফকির লালন সাঁই
ফকির লালনের ফকিরি
ফকির লালন সাঁই


বিশ্ববাঙালি লালন শাহ্
ফকির লালন সাঁইজির শ্রীরূপ
গুরুপূর্ণিমা ও ফকির লালন
বিকৃত হচ্ছে লালনের বাণী?

লালন অক্ষ কিংবা দ্রাঘিমা বিচ্ছিন্ন এক নক্ষত্র

নির্মাতা
ভবঘুরে কথা'র নির্মাতা

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!