মানুষের আসল অভাব কালী ইন্দ্র সাধনা দেব বেদ

নিগম প্রসাদ

মানুষের সূক্ষ্মদেহের হৃদয়ে সার্চ লাইটের মত আলো আছে। ওই আলোতে সাধারণতঃ নীচের তিনটি পদ্ম আলোকিত থাকে। মূলাধার হতে যখন ওই আলো সংহরণ করা যায়, তখন তন্দ্রাবস্থা আসে; যখন স্বাধিষ্ঠানে আনা যায়, তখন স্বপ্নাবস্থা হয়; যখন মণিপুরে আসে সুষুপ্তি অবস্থা।

এখানে এলেই আলোটা ঘুরে পড়ে এবং ক্রমে বিশুদ্ধ, আজ্ঞা এবং সহস্রারপদ্ম আলোকিত করে। তবে সাধনায় উন্নত না হলে, জ্ঞান না হলে ওখানকার আনন্দ জীব স্মরণে রাখতে পারে না। সাধক যখন দ্বিদলে ওই আলো ধারণা করতে পারে, তখন আলোটা দুই দিকে বিকশিত হয়; একদিকে দিয়ে সহস্রদলপদ্ম স্বাভাবিক আলোকিত হয়, আর একদিক দিয়ে সেই আলোতে সমস্তটা জগৎ দেখা যায়।

তখন সাধকের যা কিছু দেখবার ইচ্ছা হয়, তা ওই আলোতে ফুটে ওঠে। অমুক কি করছে- এই জানবার ইচ্ছা হওয়া মাত্র তার কার্যকলাপ ওই আলোতে ফুটে উঠবে। অবশ্য এ অবস্থা সাধনাপেক্ষ।

সূক্ষ্ম জগতে উন্নীত হয়ে স্থূলের দিকে দৃষ্টি ফিরালে আমার দেহের কথা আদৌ মনে পড়বে না, কারণ বিশ্বাস স্থূল জগতের তুলনায় আমার দেহটা এতই ক্ষুদ্র, এত অল্প অংশই সে অধিকার করে রয়েছে যে সেদিকে দৃষ্টিই যায় না। বিশেষতঃ যুগপৎ অসংখ্য দৃশ্য যেখানে দৃষ্টির সামনে ফুটে উঠছে, সেখানে এমন সঙ্কীর্ণ দৃষ্টি হওয়াটাই অস্বাভাবিক।

যেমন স্থূল দ্বারা স্থূলকে জানতে হয় তেমনি সূক্ষ্ম এবং কারণ দ্বারা কারণকে জানতে হয়। তবে সমষ্টি স্থূল জানতে হলে সূক্ষ্মে না গেলে সম্যক জ্ঞান হবে না। তেমনি সমষ্টিকারণে গেলে সমষ্টি সূক্ষ্মের জ্ঞান হবে এবং মহাকরণে লীন হলে সমষ্টি কারণ জগতের জ্ঞান হবে।

দেহতত্ত্ব জানা থাকলে আধ্যাত্মিক তত্ত্ব অর্থাৎ সূক্ষ্ম ও কারণ-জগতের তত্ত্ব সহজে বোধগম্য হয়। কেন না স্থূলেই তো সূক্ষ্ম ও কারণের চরম বিকাশ হয়েছে। তাই স্থূল বিকাশ ধ’রে সূক্ষ্মে ও কারণে গিয়ে আবার সেই কারণ ও সূক্ষ্ম কি ক’রে স্থূলে প্রকাশ হয়েছে, তা দর্শন করলে তবে জ্ঞানের পূর্ণত্ব হয়।

বালকের স্বভাব, যুবকের কর্ম্মশক্তি, আর বৃদ্ধের জ্ঞান- এই তিনটি এক ঠাঁই হলে জীবন পূর্ণ।

পূর্ণব্রহ্ম পরাবর। পর নির্গুণ ব্রহ্ম, অবর সগুণ ব্রহ্ম। শুধু নির্গুণ ব্রহ্ম বা সগুণ ব্রহ্ম বুঝলে হবে না। দুটি ভাব বুঝলে তবে পূর্ণত্ব। তাকেই ঠিক ব্রহ্মদর্শন বলা যেতে পারে।

মা আছেন, আর তাঁকে ডাকলে পাওয়া যায়, এই দুটি কথা বিশ্বাস কর্‌তে পারলেই হয়। তিনি অনন্তশক্তিস্বরূপিণী- নিরাকার হলেও ভক্তের মনোময়ী মূর্ত্তিতে আসেন। সবাইকে তিনি সমান কৃপা করেন, তবে আধারভেদে সেই কৃপা বিভিন্ন পরিলক্ষিত হয়।

যেমন শুকনো কাঠে আগুন দিবা মাত্র জ্বলে ওঠে, তেমনি সত্ত্বশুদ্ধ ভক্তের ভিতরে মা সহজেই জাগ্রৎ হন। ভিজা কাঠে আগুন দিলে ক্রমে তার রস মরে গেলে তবে আগুন ধরে। বিশ্বাস করতে পারলে একদিন অবশ্য মায়ের কৃপা উপলব্ধ হবে। মায়ের কৃপা হলেই মাকে পাওয়া যায়। নইলে সাধন-ভজনরূপ ক্ষুদ্র শক্তি দ্বারা কি অনন্ত শক্তিকে বশ করা যায়? জোনাকি কখনও সূর্য্যকে প্রকাশ করতে পারে?

……………………………….
‘নিগম প্রসাদ’ – স্বামী সিদ্ধানন্দ
আরও আধ্যাত্মিক তথ্য পেতে ও জানতে: ভারতের সাধক-সাধিকা
পুণঃপ্রচারে বিনীত-প্রণয় সেন

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!