মতুয়া সংগীত

পাতলা নিবাসী নাম

অন্তখণ্ড : দ্বিতীয় তরঙ্গ
বন্দনা

জয় জয় হরিচাঁদ জয় কৃষ্ণদাস।
জয় শ্রী বৈষ্ণব দাস জয় গৌরী দাস।।
জয় শ্রী স্বরূপ দাস পঞ্চ সহোদর।
পতিত পাবন হেতু হৈলা অবতার।।
জয় জয় গুরুচাঁদ জয় হীরামন।
জয় শ্রী গোলোকচন্দ্র জয় শ্রী লোচন।।
জয় জয় দশরথ জয় মৃত্যুঞ্জয়।
জয় জয় মহানন্দ প্রেমানন্দময়।।
(জয় শ্রীসুধন্যচাঁদ সভ্যভামাত্মজ।
প্রেমানন্দে হরিগুরু শ্রীপতিচাঁদ ভজ।।)
জয় নাটু জয় ব্রজ জয় বিশ্বনাথ।
নিজ দাস করি মোরে কর আত্মসাৎ।।

শ্রীমদ্ধীরামন গোস্বামীর মৃত গরু ও মনুষ্য বাঁচাইবার কথা
পয়ার

পাতলা নিবাসী নাম বাল্যক বিশ্বাস।
সদা হরি পদে মতি সুদৃঢ় বিশ্বাস।।
বাহিরে ঐশ্বর্য ভাব অন্তরে বৈরাগ্য।
ওঢ়াকাঁদি আসে যায় ভজনে সুবিজ্ঞ।।
প্রভু হরিচাঁদের ভকত মহাজন।
হরিচাঁদ বলে ডাক ছাড়ে সর্বক্ষণ।।
শ্রীধাম ওঢ়াকাঁদির দায় তারা করে।
মতুয়ার সম্প্রদায় খ্যাত চরাচরে।।
মহাপ্রভু হরিচাঁদ ধাম ওঢ়াকাঁদি।
তাঁহার ভকত যত মতুয়া উপাধি।।
প্রভু শ্রীহরিচাঁদের মতুয়া বাল্যক।
মতুয়া বলিয়া তারে ঘোষে সর্বলোক।।
হরি বোলা ভকত কাহারে যদি পায়।
ভক্তি সহকারে পূজে আনন্দ হৃদয়।।
মতুয়া বাল্যক যিনি তাহার নিবাসে।
গোস্বামী শ্রীহীরামন মাঝে মাঝে আসে।।
একদিন হীরামন আসিল তথায়।
বাল্যক ছিল না বাড়ী কার্যান্তরে যায়।।
বাল্যকের মাতা হন কৌশল্যা নামিনী।
মতুয়া পাইলে ভক্তি করিতেন তিনি।।
কৌশল্যার পেটে ছিল বেদনা অঙ্কুর।
আর দিন এল শ্রীহীরামন ঠাকুর।।
গোস্বামীকে দিয়াছেন তামাক সাজিয়ে।
কৌশল্যা পড়িল পদে দণ্ডবৎ হ’য়ে।।
পদরজ নিতে দিল শ্রীচরণে হাত।
গোস্বামী তখন করে হুঁকার আঘাত।।
সে আঘাতে মূর্ছান্বিতা হয়ে প’ল বুড়ি।
পুনরায় মারিলেন দোহাতিয়া বাড়ি।।
অমনি কৌশল্যা ধনী জীবন ত্যজিল।
গোঁসাই গৃহেতে গিয়া বসিয়া রহিল।।
প্রাঙ্গণেতে কৌশল্যার মৃত শব ল’য়ে।
হুড়াহুড়ি লাগাইল গ্রামীরা আসিয়ে।।
সবে বলে এ পাগল মানুষ মারিল।
কোথা হ’তে এ পাগল পাতলায় এল।।
উলঙ্গ ভৈরব প্রায় না পরে বসন।
এরা এর ভক্তি করে কিসের কারণ।।
কেহ কেহ বলে ভাই ভালই করেছে।
যেমন মানুষ ওরা তেমন হ’য়েছে।।
কেহ বলে ও কথায় নাহি কোন ফল।
বাঁধিয়া থানায় ল’য়ে চল এ পাগল।।
কেহ বলে এ পাগল বাঁধা বড় দায়।
কবে কারে খুন করে কহা নাহি যায়।।
কেহ বলে এ পাগল থাকিতে হেথায়।
এজাহার কর গিয়া যাইয়া থানায়।।
বাল্যক আসুক বাড়ী নাহিক বাড়ীতে।
তার দ্বারা এজাহার করিব থানাতে।।
বলিতে বলিতে তথা বাল্যক আসিল।
সকল বৃত্তান্ত সবে বাল্যকে কহিল।।
বাল্যক শুনিয়া বলে গোঁসাই মারিল।
মা যদি মরিল তবে ভালই হইল।।
বড়ই প্রসন্ন মোর মায়ের কপাল।
গোস্বামী সাক্ষাতে মৃত্যু পাবে পরকাল।।
এজাহার দিতে যাব কিসের কারণ।
মাতা মোর গিয়াছেন বৈকুণ্ঠ ভবন।।
গ্রামীরা অবাক হ’ল সে কথা শুনিয়া।
যার যার নিজ কর্মে গেলেন চলিয়া।।
বাল্যকের গৃহমধ্যে গোঁসাই বসেছে।
বেলা অপরাহ্ণ মুহূর্তেক মাত্র আছে।।
রায়চাঁদ নামে কবিরাজ একজন।
গোস্বামী নিকটে গিয়া কহে সেই জন।।
গলায় বসন দিয়া বিনয় ভক্তিতে।
গোস্বামী চরণ ধরি লাগিল কাঁদিতে।।
কহ প্রভু তব পদে করি নিবেদন।
মৃত দেহ ল’য়ে মোরা করি কি এখন।।
আপনি করুণ আজ্ঞা সেই আজ্ঞামতে।
ল’য়ে শব যাই সব দাহন করিতে।।
বিষম বিপদ তাতে মনে ভয় গণি।
এতে কি বিপদ যার সহায় আপনি।।
প্রাতেঃ মরিয়াছে গাভী সেই এক দায়।
ডাকিতে ডাকিতে তার বৎস্য মৃতপ্রায়।।
গাভী মরা ফেলিয়াছি মা মরা পোড়া’ব।
দুধ বিনা কাঁদে বৎস্য কি দিয়া বাঁচাব।।
হীরামন বলে ডেকে শুন ওরে রাই।
অদ্য মাকে পোড়াইয়া কার্য কিছু নাই।।
শঙ্খধ্বনি কর গিয়া মাতৃ কর্ণমূলে।
রামাগণে হুলুধ্বনি করুক সকলে।।
আমি আছি প্রভু হরিচাঁদেরে ভাবিয়া।
গাভীটা কোথায় আছে দেখে আসি গিয়া।।
মরা গাভী ফেলাইয়া এসেছে গো-চরে।
গিয়ে গাভীটার মাথা উঁচু করে ধরে।।
মা কেন রহিলি শুয়ে আসিয়া ডাঙ্গায়।
দুধ না পাইয়া বুন কাঁদিয়া বেড়ায়।।
দুগ্ধপোষ্য ছোট ভগ্নী ঘাস নাহি ধরে।
তুই দুধ না দিলে মা বাঁচে কি প্রকারে।।
দিন ভরি ভগ্নী মোর করিছে রোদন।
তুই দুধ না দিলে মা হইবে মরণ।।
অবলা ভগিনী সদা হাম্বা হাম্বা করে।
চেয়ে দেখ দুধ বিনে গোঙ্গাইয়া মরে।।
গৃহস্থ মরিল তোর আমার প্রহারে।
তবু তার পুত্র মোরে দৃঢ় ভক্তি করে।।
কর্ম কর্তা হরিচাঁদ তার নামে ভ্রমি।
যাহা করে তাহা করি কর্মী নহে আমি।।
এমন গৃহস্থ ছেড়ে যাইবা কোথায়।
মা হয়ে মা কেন হেন কঠিন হৃদয়।।
আমারে করহ দয়া রক্ষ এ বিপদে।
প্রভু হরিচাঁদ সেবা দিব তোর দুধে।।
এতবলি পৃষ্ঠদেশে মারিল চাপড়।
হাম্বারব করি গাভী উঠে দিল দৌড়।।
যেখানেতে ছিল বৎস্য সেই খানে গিয়া।
বাছুরে পিয়ায় দুগ্ধ অঙ্গ ঝাড়া দিয়া।।
উহুড়িয়া উহুড়িয়া বৎস্য অঙ্গ চাটে।
হেনকালে হীরামন আইল নিকটে।।
বৎস্যকে ছাড়িয়া গাভী হীরামনে চাটে।
বৎস্য গিয়া হীরামন পদে মাথা কোটে।।
এ দিকেতে কৌশল্যার দুই কর্ণমূলে।
দুই শঙ্খধ্বনি করে দুইজন মিলে।।
নারীগণে হুলুধ্বনি দিতেছে আসিয়ে।
শত্রুলোকে কহে বাল্যকের মার বিয়ে।।
মুহুর্মুহু হরিধ্বনি করিছে সকলে।
বাল্যকের মা উঠিল হরি হরি বলে।।
বাল্যক বলিছে হরি দিয়া হুহুঙ্কার।
তাহা দেখি পাষণ্ডীর লাগে চমৎকার।।
পাষণ্ডীরা বলে ধর কোথায় গোঁসাই।
জনমের মত তার চরণে বিকাই।।
ধন্য ওঢ়াকাঁদি বাবা হরিচাঁদ।
না জানিয়া নিন্দি মোরা করি অপরাধ।।
ধন্য ধন্য হরিচাঁদ ভক্ত মতুয়ারগণ।
ধন্য ধন্য বাল্যক ভকত একজন।।
ধন্য ধন্য বাল্যকের মাতা সাধ্বী নারী।
জনম বৃথায় যায় বল হরি হরি।।
ধন্য ওঢ়াকাঁদি ধন্য অবতীর্ণ হরি।
না চিনিয়া মোরা কেন পাপে ডুবে মরি।।
হীরামনে দেখিতে লোকের ভিড় হ’ল।
অন্তর্যামী হীরামন অদৃশ্য হইল।।
কাঁদিয়া পাষণ্ডী সব ভূমে গড়াগড়ি।
হীরামনে অন্বেষণে করি দৌড়াদৌড়ি।।
সে হ’তে পাতলা গ্রাম নামে মেতে গেল।
দশরথ গোস্বামী করেন যাতায়াত।
ইষ্টসম ভক্তি সবে করে অবিরত।।
হরি হরি বলি সব মতুয়া হইল।
হীরামন প্রীতে সবে হরি হরি বল।।
প্রভু হীরামন কীর্তি অলৌকিক কাজ।
রচিল তারকচন্দ্র কবি রসরাজ।।

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!