মতুয়া সংগীত

প্রনাম শ্রীযশোমন্ত

অথ যশোমন্ত চরিত্র কথা
প্রনাম শ্রীযশোমন্ত ঠাকুরের পায়।
জনমে জনমে যেন পদে মতি রয়।।
ঠাকুর বৈষ্ণব বলে উপাধি যাঁহার।
আমি মূঢ় কিবা গুণ বর্ণীব তাঁহার।।
বৈষ্ণব সঙ্গেতে সাধু কীর্তন করিত।
ভাবেতে বিভোর হ’য়ে কত ভাব হত।।
অশ্রু কম্প স্বেদ বীর বীভৎস পুলক।
লোমকূপ কন্ডুলোম ঈষৎ কন্টক।।
অষ্ট সাত্ত্বিক দশাতে বাহ্যহারা হ’য়ে।
প্রেমস্বরে কহিতেন কাঁদিয়ে কাঁদিয়ে।।
মম দেহগৃহে কৃষ্ণ এই মাত্র ছিল।
দেখিতে দেখিতে যেন কাহা লুকাইল।।
কাহারে বাপরে কৃষ্ণ কাহা বলরাম।
কাহারে আমার সেই শ্রীদাম সুদাম।।
করুণা করিত সাধু বাৎসল্য প্রকাশি।
কোন দিন কৃষ্ণ গোষ্ঠে পোহাইত নিশি।।
শুদ্ধরাগ ভক্তি শুদ্ধ কৃষ্ণ অনুরাগী।
বৈষ্ণবেরা যশোমন্তে বলিত বৈরাগী।।
বৈষ্ণব উপাধি বৈষ্ণব পদ সেবি।
অন্নপূর্ণা মাকে সবে বলিত বৈষ্ণবী।।
বৈরাগী ঠাকুর আর ঠাকুর বৈষ্ণব।
এ হেন উপাধিতে হইল জনরব।।
যতকিছু সংসারেতে করিতেন আয়।
যত্র আয় তত্র ব্যয় বৈষ্ণব সেবায়।।
গো-সেবা করিত বহু করিয়া যতন।
দুই তিন গাভী সদা থাকিত দোহন।।
ঘৃত বানাইত দধি করিয়া মন্থন।
বৈষ্ণবেরা দধি দুগ্ধ করিত ভোজন।।
মন্থন সময় হ’লে বৈষ্ণবাগমন।
বৈষ্ণবের মুখে তুলে দিতেন মাখন।।
নির্মল দয়ার্দ্র চিত্ত না মেলে এমন।
একদিন শুন এক আশ্চর্য্য ঘটন।।
ভাণ্ডপুরে ঘৃত লয়ে সাধু গেলেন হাটে।
ঘৃত বেচিলেন এক দ্বিজের নিকটে।।
ব্রাহ্মণ বলেন সাধু বৈস হেথাকারে।
মূল্যসহ ভাণ্ড দিয়া যাব কিছু পরে।।
ব্রাহ্মণ এল না ফিরে মূল্য নাহি দিল।
ঘৃতভাণ্ড ল’য়ে দ্বিজ পলাইয়া গেল।।
উত্তীর্ণ হইল সন্ধ্যা হাট ভেঙ্গে যায়।
নির্জনে বসিয়া সাধু কৃষ্ণগুণ গায়।।
গৃহেতে পশিয়া সাধু মৌন হ’য়ে রয়।
ঠাকুরানী হাট বেসাতি কোথায়।।
কোথায় ঘৃতের ভাণ্ড কিছুই না দেখি।
কি হয়েছে ওহে নাথ বসিয়া ভাব কি।।
লবণ তামাক পান কিছুই না আনিলে।
কি উপায় হ’বে সাধু বৈষ্ণব আসিলে।।
সাধু কহে কি বলিব শুন গো বৈষ্ণবী।
যে দায় ঠেকেছি আমি বসে তাই ভাবি।।
ঘৃত গেল ভাণ্ড গেল তাতে দুঃখ নাই।
না হইল হাট করা যদিও না খাই।।
যা হোক বৈষ্ণব সেবা বৈষ্ণব কৃপায়।
কর্মবসে যদি দু’দিন উপবাস হয়।।
যে দায় ঠেকেছি আমি জানা’ব কাহায়।
অপরাধে অব্যহতি পাইব কোথায়।।
ব্রাহ্মণেতে আমার যে হল অবিশ্বাস।
এ দায় কোথায় যাই হ’ল সর্বনাশ।।
আদি অন্ত সে বৃত্তান্ত দেবীকে জানা’ল।
যে ভাবে ব্রাহ্মণ ঘৃতভাণ্ড ল’য়ে গেল।।
ঠাকুরানী বলে নাথ না ভেব বিস্ময়।
যবে যে ঘটনা ঘটে ঈশ্বর ইচ্ছায়।।
ঈশ্বর তোমায় যদি বুঝিবারে মন।
ব্রাহ্মণ দ্বারায় হেন করে নারায়ণ।।
কেন তাতে দুঃখ ভাব, ভাব বিপরীত।
ঘটন কারণ ঈশ্বরের নিয়োজিত।।
এ কথা শুনিয়া সাধু শান্তি পেল মনে।
তারক স্বভাব যাচে যশোমন্ত স্থানে।।

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!