ভবঘুরেকথা

শুদ্ধাসনে পূর্ব্বাভিমুখে বসিয়া শ্রীকৃষ্ণের ধ্যান করিবে। তৎপর শ্রীকৃষ্ণাদি চিন্তা করিতে করিতে মূলমন্ত্র বা হরিনাম সংখ্যা পূর্ব্বক জপ করিয়া সমর্পণ করিবে। সম্ভব হইলে দিবা ও রাত্রির মধ্যে সকল সময়েই হরিনাম জপ করা যায়। বিশেষত: প্রাতে, মধ্যাহ্নে আহারের পর ও রাত্রিতে অবশ্য হরিনাম জপ করিবে।

মালা জপ আরম্ভে গোপীমণ্ডল মধ্যে শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণের ধ্যান কেহ বা প্রণাম মন্ত্র পাঠ করিয়া থাকেন। যথা-

মালা জপ মন্ত্র:

অবিঘ্নং কুরুমালে ত্বং হরিনাম জপেষু চ।
শ্রীরাধাকৃষ্ণয়োর্দাস্য দেহি মালে তু প্রার্থয়ে।।
নাম চিন্তামণি রূপং নামৈব পরমাগতি।
নাম পরতরং নাস্তি নাম তস্মাদু উপষ্মহে।।

মালা জপ সমর্পণ মন্ত্র:

নাম যজ্ঞো মহাযজ্ঞ: কলৌ কল্মষ নাশনং।
কৃষ্ণচৈতন্য প্রীত্যর্থে নামযজ্ঞ সমর্পণ:।।

বিশেষ বিধি
প্রাত: স্নানের পর শুদ্ধ বস্ত্র পরিধান করিয়া পুষ্প চয়নের নিয়ম। মধ্যাহ্নে স্নানের পর পুষ্প চয়ন নিষিদ্ধ।

মহাবিষ্ণুকে নমস্কার এবং তাঁহার নিকট প্রার্থনা ও অনুজ্ঞা লইয়া তুলসী, পুষ্প চয়ন করিবে। সুগন্ধি মনোরম পুষ্প শ্রীকুষ্ণার্চ্চনের যোগ্য।

পুজিত বৃক্ষের পুষ্প শ্মাশানস্থ বৃক্ষের পুষ্প, ধুতুরা, অপরাজিতা কণ্ঠকারী, করবী, শিরিষ, শাল্মলী ইত্যাদি পুষ্প শ্রীকৃষ্ণপূজায় নিষিদ্ধ। কীটদষ্ট শুষ্ক জমিতে পতিত, দলিত বাসী, গন্ধরহিত, উগ্রগন্ধ জলধৌত পুষ্প হাতে রাখিয়া কাহাকেও প্রণাম করিলে বা প্রণাম গ্রহণ করিলে সেই পুষ্প ও পুষ্পের কলিকা শ্রীকৃষ্ণ অর্চ্চনায় বর্জ্জনীয়।

তুলসী প্রদক্ষিণকালে ভগবৎ বিগ্রহকে পশ্চাদভাগ দেখাইবে না।
শুক্ল ও কৃষ্ণবর্ণ উভয় প্রকারের তুলসী ঐ কৃষ্ণের অতি প্রিয়। মস্তকে ও কর্ণে তুলসী ধারণ ও ভক্ষণ করিবে। তিনবেলা ভগবৎ অর্পিত তুলসী ভক্ষণ শত চান্দ্রায়ন অপেক্ষাও অধিকতর দেহ শোধন হইয়া থাকে।

কৃষ্ণবর্ণ তুলসী সর্ব্ব বিষয়ে শ্রেষ্ঠ। প্রসাদ ভোজনের কিছু পূর্ব্বে যেমন, তুলসী ভক্ষণ করিতে হয়, তেমন প্রসাদ ভোজনান্তে আচমনের পরেও তাম্বুলের অর্পিত তুলসী প্রসাদটি ভক্ষণ বিধেয়।

সান্ধ্যোপাসানা করণান্তে শ্রীহরি অর্চ্চনার্থ উদ্যত হইয়া লৌকিক হিসাবে গুরুদেব নিকটে থাকিলে শ্রীগুরুকে কিঞ্চিত উপহার অর্পণ করত: প্রণাম ও ভক্তি পূজা করিবে।

অহোরাত্র কর্মপণ:
ভগবানের প্রীতির উদ্দেশ্যে আপনার সমস্ত কর্ম্ম ও ফল নিন্মোক্ত মন্ত্র পাঠ পূর্ব্বক কৃষ্ণকে সমর্পণ করিবার বিধি আছে। মন্ত্র যথা-

সাধু বা অসাধু বা কর্ম্মযদযদাচরিতং ময়া।
তৎসর্ব্বং ভগবন্ বিষ্ণো (কৃষ্ণা) গৃহাণারাধনং পরং।।

অথবা

অপাং সমীপে শয়নাসনে গৃহে দিবা চ রাত্রৌ যথা চ গচ্ছতা।
দন্তি কিঞ্চিত সুকৃতং ময়া জনার্দ্দনস্তেন কৃত্যেন তুষ্যতু।।

শ্রীগুরু চরণামৃত ধারণ মন্ত্র:

অজ্ঞান তিমিরহরং সর্ব্বমঙ্গলদায়ক:।
শ্রীকৃষ্ণাঙিঘ্রং পদো শ্রীগুরু শরণোদকম।।

বৈষ্ণব চরণামৃত:
অন্তদ্বন্তি বিনাশনং সর্ব্ববিঘ্নং প্রমোচনম্।
ত্রিতাপানি হরেন্নিত্য: বৈষ্ণব চরনোদকম।।

……………………………………..
তত্ত্বরসামৃত জ্ঞানমঞ্জরী
-শ্রীশ্রী চরণ দাস

Related Articles

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

error: Content is protected !!