মতুয়া সংগীত

মৃত্যুঞ্জয় দশরথ এই

চতুর্থ তরঙ্গ
বন্দনা

জয় জয় হরিচাঁদ জয় কৃষ্ণদাস।
জয় শ্রীবৈষ্ণব দাস জয় গৌরী-দাস।।
জয় শ্রীস্বরূপদাস পঞ্চ সহোদর।
পতিতপাবন হেতু হৈলা অবতার।।
জয় জয় গুরুচাঁদ জয় হীরামন।
জয় শ্রীগোলোকচন্দ্র জয় শ্রীলোচন।।
জয় জয় দশরথ জয় মৃত্যুঞ্জয়।
জয় জয় মহানন্দ প্রেমানন্দ ময়।।
জয় নাটু জয় ব্রজ জয় বিশ্বনাথ।
নিজ দাস করি মোরে কর আত্মসাৎ।।

গ্রন্থকারের প্রতি গ্রন্থ লিখিবার আদেশ
পয়ার

মৃত্যুঞ্জয় দশরথ এই দুইজনা।
বলিলেন লীলামৃত করিতে রচনা।।
প্রভূর এ শেষ লীলা প্রেমভক্তি দান।
রচনা করহ শীঘ্র লীলার প্রধান।।
চরণ ধরিয়া তবে বলিল তারক।
স্বীকার করিনু আমি তোমার সেবক।।
অতিদীন অভাজন আমি মূঢ়মতি।
এ লীলা বর্ণিতে মম না হবে শকতি।।
একে আমি দীনহীন অক্ষম জঘন্য।
আমার এ লেখা ভবে কে করিবে মান্য।।
দুই প্রভ বলে হরিচাঁদে রেখে ভক্তি।
লিখিতে আরম্ভ কর হবে তোর শক্তি।।
বিশ্বাস না করিস মোদের কথা ধর।
লিখিতে পারিবি গ্রন্থ তোরে দিনু বর।।
মৃত্যুঞ্জয় বলে তুমি শুন মোর সোনা।
উপাধি দিয়াছি তোরে তারক রসনা।।
দশরথ বলে বাক্য লঙ্ঘিও না আর।
মৃত্যুঞ্জয় দিল বর আমার সে বর।।
আমার রচিত গান আছে তোর শুনা।
তাতে পদ গাঁথা আছে তারক-রসনা।।
নিচ জন বলে ভেবে হইলি ব্যাকুল।
কাঁদা জল বিনে কোথা ফুটে পদ্ম ফুল।।
মুনি হৈল বিশ্বামিত্র গাধির নন্দন।
মেনকার সঙ্গে তার হইল মিলন।।
তাতে জন্মে কন্যা শকুন্তলা নাম ধরে।
কুরুপান্ডবের আদি ব্যক্ত এ সংসারে।।
হরিনীর গর্ভে জন্মে ঋষ্যশৃঙ্গ মুনি।
যার যজ্ঞে চরু জন্মে রামায়ণে শুনি।।
লোমপাদ রাজার রাজ্যে অনাবৃষ্টি ছিল।
মুনি আগমনে শেষে ইন্দ্র বরষিল।।
অযোধ্যায় এসে সেই মুনি যজ্ঞ করে।
চরু খেয়ে তিন রাজরাণী গর্ভ ধরে।।
সেই গর্ভে হইলেন রাম অবতার।
যথা তথা জন্ম কিন্তু কর্ম ধর সার।।
ব্রহ্মার ঔরষে তিলোত্তমার উদরে।
বেশ্যাপুত্র বশিষ্ঠ সে ব্যক্ত চরাচরে।।
যোগ-বশিষ্ঠ রামায়ণ যোগে বসি করে।
ব্যাস মুনি জন্মে মৎস্যগন্ধার উদরে।।
চারি বেদ চৌদ্দ শাস্ত্র আঠার পুরাণ।
বেদব্যাসকৃত জীব বাসনা পুরাণ।।
কৃষ্ণদাস কবিরাজ লিখেছে আপনি।
শক্ত্যাবেশ অবতার পৃথু ব্যাস মুনি।।
তোর কেন ভয় হ’ল করিতে রচনা।
তোর জন্য তপস্যা করিব দুই জনা।।
যার কর্ম সেই করাইবে তোরে দিয়া।
রচনা করহ গ্রন্থ তাহারে ভাবিয়া।।
এই ভাবে কত দিন গত হ’য়ে গেল।
পারিব না ভেবে গ্রন্থ লেখা নাহি হ’ল।।
একদিন দৈব যোগে নিশি অবসানে।
গোঁসাই গোলক এসে দেখায় স্বপনে।।
নর হরি রূপ ধরি বুকে হাটু দিয়া।
বক্ষঃস্থলে দিল হস্ত নখ বাঁধাইয়া।।
বলে তোরে নখে চিরি করিব খানখান।
নৈলে “শ্রীশ্রীহরিলীলামৃত” পুঁথি আন।।
মৃত্যুঞ্জয় দশরথ বর দিয়াছিল।
চতুর্ব্বিংশ বর্ষ এই গত হয়ে গেল।।
পুঁথি যদি না লিখিবি তোর রক্ষা নাই।
পুস্তক লিখিস যদি ছেড়ে দিয়ে যাই।।
স্বীকার করিনু আমি লিখিব পুস্তক।
কেমনে লিখিব আমি মূর্খ অপারক।।
শুনিয়া গোস্বামী অতি ক্রোধভরে কয়।
তুই মূর্খ প্রভুর লীলা ত মূর্খ নয়।।
গোস্বামী বলেন বেটা বুঝে দেখ সুক্ষ্ম।
তুই মূর্খ মহতের বর নহে মূর্খ।।
উপাধি দিয়াছে তোরে রসনা বলিয়া।
এত দিন পরে তাহা গিয়াছে ফলিয়া।।
কবি গাও কালিয়ার পন্ডিত সমাজ।
উপাধি দিয়াছে তোরে কবি রসরাজ।।
হরিবংশে হরিপুত্র গুরুচাঁদ যিনি।
তিনি দেন উপাধি প্রেমিক শিরোমণি।।
ডাক্তার উপেন্দ্রনাথ বহুগুনে গুণী।
তিনি দেন উপাধি সরকার চূড়ামণি।।
ইতিনার ভট্টাচার্য্য পাড়া হয় গান।
সুকবি বলিয়া তোরে দিয়াছে আখ্যান।।
রজত ম্যাডেলে সেই উপাধি লিখিয়া।
তোমার গলায় সবে দিল ঝুলাইয়া।।
কেন বল আমি নাহি জানি ব্যাকরণ।
এখন সাহস ভরে লিখিতে দে মন।।
যে লেখা যে পড়া জান তাহা উঘাড়িয়া।
দেশ ভাষা মতে দাও পুস্তক রচিয়া।।
যুবা বুড়া সবে যাতে বুঝিবারে পারে।
সেই মত লিখে দাও আমাদের বরে।।
স্বপনেতে কেহ যদি পুথি করে দান।
সে জন পন্ডিত হয় পুরাণে প্রমাণ।।
বিরাজা নামেতে মধু কাণের ভগিনী।
স্বপনেতে পুথি তোরে দিল আমি জানি।।
এক দিন স্বপনে সাপের পা দেখিলি।
সে সব বৃত্তান্ত বাছা কেন ভুলে গেলি।।
স্বপনেতে এক নারী ঢাকার সহরে।
হরিচাঁদ স্তবাষ্টক দিয়াছিল তোরে।।
তোর লেখা স্তব তোরে সেই নারী দিল।
সেই স্বপ্ন কেন বাছা তোর ভুল হ’ল।।
আনুকূল্যে গোলোক পাগল চূড়ামণি।
রচিল তারক সরকার চূড়ামণি।।

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!