ভবঘুরেকথা
শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী

: আমাকে দ্বিতীয় অবস্থার এবং আপনাকে তৃতীয় অবস্থার লোক বলিলেন; আপনার ও আমার কার্য্যে প্রভেদ কি?

:: এই প্রশ্ন আমাকে জিজ্ঞাসা কর কেন? আমার সহিত যদি তোমার নিজের কার্য্যের তুলনা না কর, তবে এখানে আসা নিষ্প্রয়োজন। আমার এখানেও কয়েকটি লোক আহার করে, তোমার বাসায়ও কয়েকটি লোক আহার করে; আমার এখানে যাহারা আহার করে, তাহাদের খাওয়ার জিনিষ কোথা হইতে আসিবে, তাহারা কি খাইবে, তৎসম্বন্ধে আমার কোন চেষ্টা কি ভাবনা নাই; তোমার চেষ্টা ও ভাবনা আছে। বিশেষ তুমি এই মনে কর, যে তুমিই তাহাদিগকে খাইতে দাও।

আমি জ্ঞানী, তুমি অজ্ঞান। আমি জানি আমি কাহাকেও খাইতে দেই না। যাহার এখানে আহার্য্য আছে সে আহার করে, যাহার নাই সে আহার করে না; তাহাতে আমার কোন তাপ নাই। তোমার মনে এই ভয় আছে যে, তুমি খাইতে দিতে না পারিলে সমাজের লোক তোমাকে নিন্দা করিবেক। আমার সে ভয় নাই।

: ধর্ম্ম কাহাকে বলে? শাস্ত্রের মতে কিন্তু শাস্ত্রবিহিত কার্য্যই “ধর্ম্ম” এবং শাস্ত্র নিষিদ্ধ কর্ম্মই “অধর্ম্ম” বলিয়া উক্ত হইয়াছে।

:: সত্ত্ব, রজ:, তম: এই তিনগুণের যে কাজ তাহাই ধর্ম্ম। অতএব যাহার যেগুণ তাহা অতিক্রম করিয়া ভ্রমবশত: যে যে কোন কার্য্য করে তাহাই তাহার পক্ষে অধর্ম্ম। ভগবান রজোগুণান্বিত ক্ষত্রকুলজ অর্জ্জুনকে যুদ্ধে নিযুক্ত করিলেন। “অহিংসা পরমোধর্ম্ম:”, অহিংসা শ্রেষ্ঠধর্ম্ম (ব্রাহ্মণের ধর্ম) হইলেও তাহা তাঁহাকে করিতে দিলেন না।

: আপনার মতে ও শাস্ত্রমতে কি কোন প্রভেদ আছে?

:: কিছুমাত্র প্রভেদ নাই। তবে শাস্ত্র মুক্তপুরুষের লেখা, বদ্ধজীব তাহা বুঝিতে অক্ষম, তাই তোমাকে বিশদরূপে বুঝাইয়া দেওয়ার জন্যই প্রকারান্তরে উল্লেখ করিলাম। আমি “ধর্ম্ম” শব্দের যে ব্যাখ্যা করিলাম ইহা মনে রাখিয়া শাস্ত্র পড়, দেখিবে আমার ব্যাখ্যার সহিত শাস্ত্রের কিছুমাত্র অনৈক্য নাই। যথা- বীরাচার সাধক ছাগাদি বলি দিয়া কালীপূজা করে। পক্ষান্তরে, পশ্বাচারী সাধক ছাগাদি পূজা করে। সাধকের গুণভেদে আচার ভেদ মাত্র।

: তবে কি আপনার কথাতে আমি ইহাই বুঝিব, যে আমার যে গুণ আমি সেই প্রকার সাধনাই করিব?

:: তুমি জান কি না জান তোমার যে গুণ সেই প্রকার কার্য্যই তুমি করিতেছ, এবং তোমার কার্য্যই তোমার সাধন। তবে অর্জ্জুন যেমন মোহবশত: “যুদ্ধ করিব না” প্রতিজ্ঞা করা সত্ত্বেও ভগবান তাঁহাকে যুদ্ধে নিযুক্ত করিয়াছিলেন, তুমিও তদ্রূপ মোহবশত: বনে যাইয়া সন্ন্যাসী হইবে বলিয়া সংকল্প করিয়াছিলে। তোমার সেই মোহ ও অজ্ঞানতা দেখাইয়া দিয়া আমি তোমাকে সংসারে নিযুক্ত করিয়াছি। তোমাকে সংসারে থাকিয়াই সন্ন্যাসী হইতে হইবে।

: আমার কি গুণ, আমার কি কর্ম্ম, আমি তাহা কি উপায়ে নির্ধারণ করিব?

:: গভীর রাত্রিতে নির্জ্জন স্থানে পূর্ণভাবে নিশ্চিত হইতে চেষ্টা করিয়া দেখ, তোমার মন কোন দিকে যায; তোমার মন পুন: পুন: নিবারণ করা সত্ত্বেও যেদিকে যাইতেছে তাহাই তোমার কর্ম্ম; এবং সেই সময় ইহাও চিন্তা করিয়া দেখ যে, তুমি সমস্তদিন যে সকল কার্য্য করিয়াছ, তাহা সত্ত্ব প্রধান, কি রজ: প্রধান, কি তম: প্রধান। তোমার অধিকাংশ কার্য্য যে গুণের তুমি সেই গুণ বিশিষ্ট বটে।

: সত্ত্বগুণের লক্ষণ কি?

:: প্রকৃত ব্রাহ্মণের লক্ষণই সত্ত্বগুণের লক্ষণল; অর্থাৎ শম, দম, তপ:, শৌচ ইত্যাদি।

: রজোগুণের লক্ষণ কি?

:: দান, ঐশ্বর্য্য, বীরত্ব ইত্যাদি।

: তমোগুণের লক্ষণ কি?

:: হিংসা, নিদ্রা, তন্দ্রা, আলস্য, দীর্ঘসূত্রিতা ইত্যাদি।

: এই সমস্ত গুণ ও কার্য্য প্রত্যহ চিন্তা করিলে আমার কি লাভ হইবে?

:: সূর্য্যোদয়ে যেমন অন্ধকার থাকে না; গৃহস্থ জাগিলে যেমন চোর পলায়ন করে; সেই প্রকার পুন: পুন: আলোচনা করিলে তোমার নিকৃষ্ট বৃত্তির কার্য্যসমূহ দিন দিন পলায়ন করিবে, তোমার দেহ একটি দিবমন্দির হইবে, ব্রহ্মশক্তি তোমার হৃদয়কে অধিকার করিবে, এবং ক্রমে ব্রাহ্মণত্ব লাভ করিতে পারিবে।

: পূর্ণভাবে নিশ্চিত হইতে চেষ্টা করিবার উদ্দেশ্য কি?

:: যেদিন পূর্ণভাবে নিশ্চিন্ত হইতে পারিবে, সেইদিন ইহার উত্তর পাইবে; আমার বলিয়া দেওয়া নিষ্প্রয়োজন। গুরু শিষ্যকে অসার ক্ষোদিতে বলেন, সারের কথা অগ্রে বলিয়া দেন না; বলিয়া দিলে তাহা কল্পনাতে পরিণত হয়, প্রকৃতি তত্ত্ব অনুভূত হয় না।

: অসার কি? সার কি? অসার ক্ষোদিতে বলিবার কারণ কি?

:: অসার ক্ষণকালস্থায়ী, সার চিরকালস্থায়ী। তোমার দেহ ও মন- অসার, তোমার আত্মা সার। তোমার দেহ ও মন মায়াতে গঠিত, অতএব মায়ার অধীন। তোমার আত্মা মায়ার অতীত। অসার ক্ষোদিতে বলিবার কারণ এই যে, তোমার এমন কোন সরঞ্জাম নাই, এমন কোন উপকারণ নাই, যদ্দারা হরিকে পাইতে পার, কি হরির সাধন করিতে পার।

মায়ামুগ্ধাবস্থায় মায়ামুক্ত ভগবাবের কোনও প্রকার অনুভূতি হয় না। যত প্রকার সাধন প্রণালী দেখ, সাধক জানে কি না জানে- সকলেরই লক্ষ্য- দেহ ও মনের সাধন; দেহ ও মনকে পবিত্র করা, দেহ ও মনকে শুদ্ধ করা। সকল প্রকার সাধনেরই মূলভিত্তি এক।

: দেহ ও মনকে পবিত্র করিবার কি কোন বিশেষে উপায় আছে?

:: আছে, সাত্ত্বিক আহারে দেহ পবিত্র হয়; এবং বাসনা ত্যাগেতে মন পবিত্র হয়। যখন তোমার দেহ ও মন পবিত্র হইবে, তখন বুঝিবে হরি কেমন, তখন জানিবে হরি তোমার কে।

: ব্রহ্মশক্তি আমার হৃদয়কে অধিকার করিবে ইহার অর্থ কি?
:: কেন? মহাষ্টমীর দিন যে কালীপূজা হয়, সেই কালীমূর্ত্তি কি কোনদিন দেখ নাই?

: দেখিয়াছি, তাহাতে কি বুঝিলাম?

:: সেই কালীই ব্রহ্মশক্তি তিনি শবের হৃদয় অধিকার করিয়া রহিয়াছেন।

: শব কে?

:: তুমি যাহাকে শিব বলিয়া জান।

: শবত মৃতদেহকে বলে?

:: তাই শিবকে “শব” বলে।

: শিব-মৃত্যুঞ্জয় তাঁহাকে “শব বলে কেন? বুঝিলাম না।

:: যে কারণে শিব- মৃত্যুঞ্জয়, সেই কারণেই শিব- শব।

: সেই কারণ কি?

:: বাসনা ত্যাগ। বাসনা ত্যাগ হইলেই জীব অমরত্ব প্রাপ্ত হয়, তাহার আর মৃত্যু থাকে না। ঘটের নাশই মৃত্যু; যাহার দেহে আত্মবুদ্ধি নাই, তাহার আবার মৃত্যু হইবে কি প্রকারে? অভিমান না থাকাতে কোন কার্য্যই তাঁহার নিজের কর্ত্তৃত্বে হইয়াছে বলিয়া তিনি বোধ করেন না; এই অবস্থায় তিনি সংসারের সকল কার্য্যই করিতে থাকেন, অথচ কিছুই করেন না। ভোগবাসনায় অভাবে জীব মৃতবৎ সংসারে বিচরণ করেন।

জীব যখনই বাসনাশূন্য হয়, তখনই তাহার জীবত্ব শেষ হইয়া যায়, এবং তিনি শিবত্ব লাভ করেন, অর্থাৎ তাহার জীবভাব ব্রহ্মসত্তায় বিলীন হইয়া যায়। সেই অবস্থায় ইচ্ছাময়ী ব্রহ্মশক্তি (কালী) তদীয় শবদেহ অধিকার করিয়া বসেন, এবং সেই শবশরীর আশ্রয় করিয়া সৃষ্টি, স্থিতি, লয় করিয়া থাকেন। এইরূপে ষড়ৈশ্বর্য্যশালী ভগবানের শক্তি ও গুণসম্পন্ন হইয়া শব, শিব নামে কথিত হয়েন।

: তবে কি আমার বাসনা ত্যাগ হইলে আমার হৃদয়ে কালীমূর্ত্তির ন্যায় চতুর্ভুজা লোলজিহ্বা এক মূর্ত্তি দণ্ডায়মান থাকিবে?

:: “সাধকানাং হিতার্থায় ব্রহ্মণো রূপকল্পম্” ইহা ত জান?

: হ্যাঁ জানি, তাহাতে কি হইল?

:: তোমার হিতের জন্য, তোমাকে বুঝাইয়া দিবার জন্য ঐ মূর্ত্তি। তোমার বাসনা ত্যাগ হইলে যে ব্রহ্মশক্তি তোমার হৃদয়কে যুগে যুগে অধিকার করিবেন তিনিই কালী এবং তিনিই জ্ঞানস্বরূপা। “আত্মরামের আত্মাই কালী”। তাই রামপ্রসাদ গাহিয়াছেন:

কে জানে গো কালী কেমন?
ষাড় দর্শনে না পায় দরশন।

কালী পদ্মবনে, হংস সনে, হংসীরূপে করে রমণ,
তাঁরে মূলাধঅরে সহস্রারে সদা যোগী করে মনন।

আত্মারামের আত্মা কালী, প্রমাণ প্রণবেরই মতন,
তিনি ঘটে ঘটে বিরাজ করেন, ইচ্ছাময়ীর ইচ্ছা যেমন।

মায়ের উদয় ব্রহ্মাণ্ড ভাণ্ড, প্রকাণ্ড তা জান কেমন,
মহাকাল জেনেছেন কালীর মর্ম্ম, অন্যে কি আর জানে তেমন?

প্রসাদ ভাষে, লোকে হাসে, সন্তরণে সিন্ধুগমণ,
আমার প্রাণ বুঝেছে, মন বুঝেনা, ধরবে শশী হয়ে বামন।।

আবার রাম দুলাল মুন্সী গাহিয়াছেন-

জানি গো জানি গো তারা, তুমি যেন ভোজের বাজি,
যে তোমায় যে ভাবে ডাকে, তাতেই তুমি হও মা রাজি।

মগে বলে ফরাতারা, গড্ বলে ফিরিঙ্গি যারা;
আল্লা বলে ডাকে তোমায়, মোঘল পাঠান সৈয়দ কাজি।

গাণপত্য বলে গণেশ, যক্ষ বলে তুমি ধনেশ,
শিল্পী বলে বিশ্বকর্ম্মা, বদর বলে নায়ের মাঝি।

শাক্ত বলে তুমি শক্তি, শিব তুমি শৈবের উক্তি;
সৌরী বলে সূর্য্য তুমি, বৈরাগী কয় রাধিকা’জী।।

শ্রীরামদুলালে বলে, বাজি নয় এ যেন ফলে,
একব্রহ্ম দ্বিধা ভেবে মন আমার হয়েছে পাজি।।

: সাধক কোন্ কোন্ শ্রেণীতে বিভক্ত?

:: সকল প্রকার সাধকই কর্মী, তবে শাস্ত্রকারেরা সাধকদিগতে প্রধানত: চারি শ্রেণীতে বিভক্ত করেন- ১. জ্ঞানী, ২. যোগী, ৩. ভক্ত ও ৪. কর্মী। যাঁহারা জ্ঞানী তাঁহারা বলেন- ব্রহ্ম অর্থাৎ জ্ঞান স্বরূপ। যাঁহারা ভক্ত তাঁহারা বলেন- ভগবান অর্থাৎ ষড়ৈশ্বর্য্যশালী চতুর্ভুজ, দ্বিভুজ ইত্যাদি মূর্ত্তি। যাঁহারা কর্মী তাঁহারা বলেন- কর্মই ব্রহ্ম। যোগীরা বলেন- আত্মাই ব্রহ্ম।

: এই চারি শ্রেণীর সাধন প্রণালীর কি কোনও প্রভেদ আছে?

:: আছে। জ্ঞানীর সাধন- সৎসঙ্গ, দান বিচার (নিত্যানিত্য বিবেক ও সন্তোষ)। যোগীর সাধন- জীবাত্মাকে পরমাত্মার সহিত যোগকরা, অথবা কুণ্ডলিনী শক্তিকে পরম শিবেতে লীন করা, অথবা রাধা-কৃষ্ণের মিলন করা। ভক্তের সাধন- ভগবানের আত্মবৎ সেবা এবং পূজা করা। কর্মীর সাধন- দান, যজ্ঞ ও সাংসারিক কাজকর্ম্ম। তোমাকে এই চতুর্ব্বিধ সাধন প্রণালী বলিলাম বটে, কিন্তু সকল প্রকার সাধকই বিচারপূর্ব্বক কর্ম্ম করিতে করিতে বাসনাশূন্য হইয়া “মুক্ত” হয়।

: সৎসঙ্গের ফল কি?

::

“গঙ্গা পাপং শশী তাপং দৈন্যং কল্পদ্রুমো হরেৎ।
পাপং তাপং তথা দৈন্যং সদ্য: সাধুসমাগম:।।”
“তীর্থীকুর্ব্বন্তি তীর্থানি দর্শনাদেব সাধ্ব্:।”

সাধুসঙ্গের অনন্ত মহিমা এবং অনন্তগুণ।

: দানের উপকারিতা কি?

:: দানে উদারতা ও বৈরাগ্য আনিয়া দেয়।

: বিচারে লাভ কি?

:: আত্মানাত্মবোধ হয়। নিত্যানিত্য জন্মিলে বিশুদ্ধ বৈরাগ্যের উৎপত্তি হয় এবং জীব শিব হইয়া যায়।

: সন্তোষ কি প্রকারে সাধন করিতে হয়?

:: সাংসারিক বিভিন্ন অবস্থার মধ্যেও সর্ব্বদা মনের, সন্তোষরক্ষা করার চেষ্টা করা।

(চলবে…)

<<লোকনাথ ব্রহ্মচারীর উপদেশ : তিন ।। লোকনাথ ব্রহ্মচারীর উপদেশ : পাঁচ>>

………………………
সূত্র:
শ্রীযামিনী কুমার দেবশর্ম্মা মুখোপাধ্যায়ের ধর্ম্মসার সংগ্রহ গ্রন্থ থেকে।

……………………………….
ভাববাদ-আধ্যাত্মবাদ-সাধুগুরু নিয়ে লিখুন ভবঘুরেকথা.কম-এ
লেখা পাঠিয়ে দিন- voboghurekotha@gmail.com
……………………………….

……………..
আরও পড়ুন-
লোকনাথ ব্রহ্মচারীর উপদেশ : এক
লোকনাথ ব্রহ্মচারীর উপদেশ : দুই
লোকনাথ ব্রহ্মচারীর উপদেশ : তিন
লোকনাথ ব্রহ্মচারীর উপদেশ : চার
লোকনাথ ব্রহ্মচারীর উপদেশ : পাঁচ
লোকনাথ ব্রহ্মচারীর উপদেশ : উপসংহার

…………………
আরও পড়ুন-
লোকনাথ বাবার লীলা : এক
লোকনাথ বাবার লীলা : দুই
লোকনাথ বাবার লীলা : তিন
লোকনাথ বাবার লীলা : চার
লোকনাথ বাবার লীলা : পাঁচ
লোকনাথ বাবার লীলা : ছয়
লোকনাথ বাবার লীলা : সাত
লোকনাথ বাবার লীলা : আট
লোকনাথ বাবার লীলা : নয়
লোকনাথ বাবার লীলা : দশ
লোকনাথ বাবার লীলা : এগারো
লোকনাথ বাবার লীলা : বারো
লোকনাথ বাবার লীলা : তের
লোকনাথ বাবার লীলা : চৌদ্দ
লোকনাথ বাবার লীলা : পনের
লোকনাথ বাবার লীলা : ষোল
লোকনাথ বাবার লীলা : সতের
লোকনাথ বাবার লীলা : আঠার
লোকনাথ বাবার লীলা : উনিশ
লোকনাথ বাবার লীলা

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!