শুভ মহালয়া

শুভ মহালয়া

-নূর মোহাম্মদ মিলু

মহালয়া = মহা+আলয়া, মহা অর্থাৎ প্রকাণ্ড বা বৃহৎ; আলয়া বা আলোয়। অর্থাৎ এই মহাবিশ্ব বা আমাদের দেহ (এই বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডটাই আমাদের দেহরূপ)। তৈলক্য যানি ভুতানি তানি সর্বানি দেহত অর্থাৎ এই মানব দেহটা অষ্টপ্রকৃতি নির্ভর। আর এই অষ্টপ্রকৃতি হলো-

১. ক্ষিতি
২. অপ
৩. তেজ
৪. মরুৎ
৫. ব্যোম
৬. মন
৭. বুদ্ধি ও
৮. অহংকার

এই অষ্টপ্রকৃতি হচ্ছে স্রষ্টার অপরা বা নিষ্কৃষ্ট প্রকৃতি। এই অষ্টপ্রকৃতির মাঝে মহাপ্রাকৃতি আদ্যাশক্তি বা মহাশক্তি শায়িত বা আছেন বা থাকেন, এই দেহরুপ মহালয়ার আদ্যাশক্তি মহামায়া কে সাধন দ্বারা জাগ্রত করে অষ্টপ্রকৃতির মাঝে আলয়ের বা আলোর সৃষ্টি করাই হচ্ছে মহালয়া।

এই অষ্টপ্রকৃতির জাগতিক বোধে অপরাপ্রকৃতিও নিকৃষ্ট হয়ে যায়, ফলে সে বুদ্ধিহীন হয়ে বিচারহীন হয়ে পড়ে আর এই দেহ রাজ্য হয়ে পরে অসুর রূপ প্রবৃত্তিময় ও অন্ধকারাচ্ছন্ন।

মনের কোথাও কোনো আলোর ছিটেফোটাও থাকে না। সমগ্র দেহ রাজ্য বা দেহীরূপ মহালায়টি আঁধার ও অজ্ঞান রূপে চলে যায় অসুরদের দখলে।

এই রূপ একবস্থায় দেহের মহাশক্তিকে জাগ্রত করার জন্য আহ্বান জানানো হয়। তাই জাগতিকভাবে অমাবস্যা তিথিতে মহালয়া নামক শক্তির আহ্বান এ দেহস্থ মহাশক্তি কুলকুণ্ডলিনীকে জাগ্রত করা বা করতে হয়।

মহালয়ার দিন থেকে পঞ্চমীর দিন পর্যন্ত, পঞ্চগুণ ইন্দ্রিয়ের গুণ অর্থাৎ শব্দ, স্পর্শ, রূপ, রস ও গন্ধের উপর মনের নিয়ন্ত্রণ করা বা সংযুক্ত হওয়া।

ষষ্ঠীতে ষড়রিপুর উপর নিয়ন্ত্রণ করে।

সপ্তমীতে সপ্ত বায়ুর উপর নিয়ন্ত্রণ হয়ে তা চক্রে চক্রে সমাহীন হয়।

অষ্টমীতে অষ্টপ্রকৃতির মাঝে মহাশক্তি কে জাগ্রত করাটাই মহালয়ার উদেশ্য।

নবমীতে নবদ্বার বন্ধ করে ভিতরের সকল অশুভ শক্তি কে বিনাশ করা টাই টাই নবমী।

দশমীতে দশ ইন্দ্রিয়ের মহামায়ার আশীর্বাদে পুষ্ট হয়ে সংযত হয়ে জিতেন্দ্রিয় হয় বা হওয়া টাই বিজয়া দশমী।

………………..
আরো পড়ুন:

অসুরবধ
দুর্গা পূজার দশ দিক
দুর্গা দুর্গতিনাশিনী
শুভ মহালয়া
বাঙালির প্রাণনাথ বেতারে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র
মা দুর্গার ১০৮ নাম

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!