ভবঘুরে কথা
শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর

…ঐ আশ্রমে আমার প্রাণ, প্রাণেরই ঈশ্বর শ্রীসম্পদ ভগবানের স্বরুপ শক্তি শ্রীগুরুদেবের পরমানন্দ সাধ্য, আত্মশক্তি, তাহার স্বজন, স্বগণ সহকারে সমস্ত ত্রিলোকাদি, বৈকুন্ঠ কৈলাসের আদর্শ শক্তি নিয়া, গয়া প্রভৃতি পুরোষোত্তমীয় শ্রীবৃন্দাবন প্রভৃতি যাবতীয় অধিষ্ঠানীয় সময় বিশুদ্ধ শক্তিনিয়া নিত্য বিরাজ করিতেছেন। কৈবল্যশক্তিতে সিংহবাহিনী প্রভৃতি মহাদেবীর যত রকম বিভূতি আছে, সাবিত্রী প্রভৃতি সমস্ত শক্তি বিস্তার রুপে বিরাজমান রহিয়াছে। ঐ স্থানচ্যুত হইয়া একপদও কোথায় যায় না। গয়া প্রভৃতি বিষ্ণু পদাদিতে পিন্ডদানে, গঙ্গা প্রভৃতি সমস্ত তীর্থে স্নানোৎসবাদিতে যে সকল ফলশ্রুতি আছে, তাহার সমস্ত ফল ওখানে বাস, অবগাহন, পিন্ডাদি দানে কি শুশ্রুষা পূর্ণরুপে ফলবতী হইবে। -শ্রী শ্রী কৈবল্যধাম সম্পর্কে করুনানিধি ঠাকুর

…আপনারা এই বাক্য বিশ্বাস করিয়া অনন্যমনে ভ্রমশূণ্য হইয়া ঐ কৈবল্য সম্ভারের অধিকারের নিত্য শুশ্রুষা করিয়া ধন্য হউক। ঐ আশ্রমে আমার প্রাণ রহিয়াছে জানিবেন। যাহাতে ঐ আশ্রমের নিয়মিত সেবা ও যাহানরা ওখানে উপস্থিত থাকিবেন তাহানদের যেন কোনরুপ অভাব না হয় ইহাই আপনাদের উপর ভার দিয়া, আপনাদের এই কৃপাপ্রার্থী হইয়াছি। কালে কোন এক মহাজন দ্বারা ঐ আশ্রম মাহাত্ম্য প্রকাশ হইয়া এই ত্রিলোক ধ্বনিত হইয়া যাইবে।  -শ্রী শ্রী কৈবল্যধাম সম্পর্কে করুনানিধি ঠাকুর

…নিগমচিত্তের প্রকাশক বলিয়া অনঙ্গমঞ্জুরী স্বরুপা শ্রীগুরুদেব উদয় অনুদয় (অর্থাৎ মনেতে কখন থাকেন কখন থাকেন না) কিন্তু আশ্রমে সর্ব্বদাই থাকেন এবং আসন ছেড়ে একটুও থাকেন না। ইহা তিনি স্বয়ং শ্রীমুখ নি:সৃত বাক্য স্বয়ং বলিয়াছেন। ঐ কৈবল্যধাম কৈবল্যনাথ নামে অধিষ্ঠান হইয়া সাঙ্গ পাঙ্গ সহ নিত্য প্রতিষ্ঠান আছেন। পৃথিবীর যাবতীয় তীর্থের সারভূত ওখানে অধিষ্ঠান সর্ব্বদা থাকেন। এই জন্যই ঐ কৈবল্যধামকে পূর্ণস্বরুপ বলিয়া খ্যাত হইয়াছে। ওখানে যে কোন অবস্থায় যে কোন প্রাণী দেহত্যাগ করেন, কি বাস করেন, কি কোন উৎসব করেন, কি ভোগাদি মহোৎসব কীর্ত্তণাদি সম্বন্ধ করেন, তাহাই অক্ষয়রুপে পূর্ণ হইয়া কৈবল্য প্রাপ্ত হইবে ইহা তিনি স্বজনের নিকট নিজেই ব্যক্ত করিয়াছেন। অতএব যাহাতে আপনাদের ঐ কৈবল্যধামের প্রতি আশ্রয়স্বরুপ হইয়া আশ্রম রাখিয়াছেন, সকল অভাব মোচন করিতে পারেন তাহা করিবেন। সর্ব্বদা ঐ আশ্রমের প্রতি লক্ষ্য রাখিবেন। আমার এই প্রার্থনা। -শ্রী শ্রী কৈবল্যধাম সম্পর্কে করুনানিধি ঠাকুর

…তিনি শ্রীধাম বৃন্দাবনে গিয়াছেন। ইতিপূর্বে আপনাদের প্রতিষ্ঠা কৈবল্যধামে গিয়া বড়ই আনন্দ পাইয়া আসিয়াছিলেন। এমন কি ইহা ও বলিলেন তিনি যত ভ্রমণ করিয়াছেন অমন স্থান কোথাও দেখেন নাই। এমম পবিত্র বোধ আর করেন নাই। ভগবানের কৃপায় আপনাদের তত্ত্বাবধানে ঐ কৈবল্যনাথ কৈবল্যই বিস্তার করিবেন সন্দেহ নাই। শ্রীগুরুদেব আপনা হইতেই কৈবল্যধামের প্রশংসা করিয়া বহুরকম স্তুতি কলাপছলে কথগীত সাঙ্গপাঙ্গ সম্বলিতে কাশীতে করিয়াছেন। ইতিপূর্বে আমার হৃদয় হইতে যাহা যাহা কীর্ত্তন স্ফুরণ হইয়াছিল সেই সকলি প্রকাশ হইয়াছে। সকলে ভক্তমন্ডলে আশীর্ব্বাদ দিবেন। -শ্রী শ্রী কৈবল্যধাম সম্পর্কে করুনানিধি ঠাকুর…কৈবল্যনাথ বলিতে গেলে কৈবল্য শক্তিও বলিতে হইবে। ইহাতে যে কোন দেবতারই অর্চ্চনা হউক না। সেই সেই দেবতার ঐ কৈবল্যনাথেরই হইবে। যে চিত্রপট আছে সেখানে মঙ্গলঘট বসাইয়া তাহারই নিকট যাহার যে বিধান বিধি আছে সেই বিধি দৃষ্টেই পূজা হইবে। ইহার মধ্যে শংশয় কি হইতে পারে। ঐ চিত্রপটেও দেবদেবীর অর্চ্চনা বিধিপূর্ব্বক করিলে হইতে পারে। বিধি বিধানে আছে ঘট পট হইতে পারে। মহাদেবীর ধ্যানাদি সাঙ্গোপাঙ্গ সহিত যে পূজা বিধান আছে তাহা ঐ পটেও হয়। ঐ পটে যদি জীবের প্রাণিসত্ত্বার রুপ বলিয়া সংস্কার থাকে তাহা হইলে কৈবল্য অর্চ্চনা হইবে না। ঐ পটকেও কৈবল্যই প্রকাশ জানিয়া উহার সমস্ত বিভূতি আর জগতে ত্রিধা বিকাশের দেবদেবী জানিবেন…। -শ্রী শ্রী কৈবল্যধাম সম্পর্কে করুনানিধি ঠাকুর

নির্মাতা
ভবঘুরে কথা'র নির্মাতা

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!