সত্যনারায়ণ

সত্যনারায়ণের পাঁচালী : পর্ব-এক

ওঁ নমো নারায়ণায়।।
প্রণমহ নারায়ণ সত্য অবতার
আগমে বেদে মহিমা অপার।।
প্রথমে বন্দিনু প্রভু দেব পণপতি।
তাঁহার জননী বন্দন পর্বত-সন্ততি।
সদয় হইয়া দয়া কর আকিঞ্চনে।
নিজ পদতলে রাখ গঙ্গানারায়ণে।
প্রণমহ ত্রিপুরারি বৃষভ বাহন।
ঐরাবত আবাহন সহস্র লোচন।
ভক্তিভাবে প্রণমহ পিতা আর মাতা।
হংসরথে প্রণমহ জগৎ-বিধাতা।
করোজোড়ে প্রণমহ দেবী সরস্বতী।
যাঁহার প্রসাদে হয় কবিত্ব শকতি।
বৃন্দাবনে প্রণমহ মুকুন্দ মুরারি।
প্রেম-ডোরে বদ্ধ যাঁকে কল্পে গোপনারী।।

দেব ঋষি আদি আর যত গুরুজন।
সংক্ষেপে সবার পদে করিনু বন্দন।
সত্যনারায়ণ প্রভু মহিমা অপার।
তাহার চরিত্র কিছু করিব প্রচার।
শুন হে পণ্ডিতজন কর অবধান।
কলিতে প্রচার যথা সত্যনারায়ণ।
গোকুলে নগরে এক দ্বিজ কাশীপতি।
ভাগ্যহীন সেই দ্বিজ পরম দুর্গতি।
সদর হইল তারে সত্য ভগবান।
শির:স্থানে বসি প্রভু কহিল স্বপন।।

শুন শুন দ্বিজবর বচন আমার।
কলি যুগে সত্য সেবা করহ প্রচার।।
সত্যনারায়ণ সেবা কর সাবধানে।
না পাইবে আর দু:খ বলে নারায়ণ।
ব্রাহ্মণ বলেন মোর অন্ন নাই ঘরে।
কিরূপে করিব পূজা কোন্ উপচারে।।
নারায়ণ বলে দ্বিজ স্থির কর মতি।
অবশ্য হইবে দূর তোমার দুর্গতি।
এতেক শুনিয়া দ্বিজ মেলিল নয়ন।
সম্মুখে দেখিল প্রভু সত্যনারায়ণ।।
প্রণাম করিয়া যত স্তবন করিল।
তোটক (দ্বাদশাক্ষর ছন্দ) প্রবন্ধে কবি সংক্ষেপে রচিল।।

নমো নারায়ণ দীন গতি হীন,
অধম, জনের বন্ধু।
তুমি যতি জীব, ব্রহ্মা, বিষ্ণু,
শিব, পার কর ভব সিন্ধু-
তুমি ঋষিগণ, বরুণ, পবন,
তুমি হুতাশন আমার।
তুমি দেববর, পুরুষ সুন্দর,
কর মোরে ভবপার।।
দ্বিজের-স্তবন, সত্যনারায়ণ,
শুনিয়া হইল দয়া।
বিধির লিখন, না যায় খণ্ডন,
দিলেন শ্রীপদ-ছায়া।।

পয়ার-বিবিধপ্রকারে দ্বিজ স্তবন করিল।
স্তবে তুষ্ট সত্যদেব প্রসন্ন হইল।।
নারায়ণ বলে দ্বিজ শুনহ সত্বর।
আটাবিচি-দুগ্ধ-কলা আনিবে বিস্তর।।
ইষ্ট-মিত্র বন্ধুজন নিমন্ত্রণ করি।।
গাহিবে মঙ্গল-গীতি যতেক সুন্দরী।
স্থাপন করিবে ঘট বারি পূর্ণ করি।
পরম আনন্দে সবে বলিবে হরি হরি।।

স্নান করিয়া দ্বিজ বসিবে আসনে।
দিব্যবস্ত্র পরিধান করি সাবধানে।।
অপূর্ব আসন আনি করিবে স্থাপন।
চতুর্দিকে উপস্থিত করিবে রচনা।।
বিচিত্র চাঁদোয়া আনি ধরিবে উপরে।
শোভিত করিবে নানা উপহারে।।
সোয়াসের সোয়ামণ যেবা পরিমিত।
করিবে সত্যের সেবা শাস্ত্রের বিহিত।।
সভামধ্যে উপস্থিত হয়ে দ্বিজগণ।
আনন্দে করিবে সবে শ্রীস্বতিবাচন।
শঙ্খঘণ্ট জয়-ধ্বনি মহা সুললিত।
সঙ্কল্প করিয়া সুখে বসি পুরোহিত।।
বেদোক্ত, মন্ত্রেতে কুম্ভ করিবে স্থাপন।
প্রথমে করিবে পূজা গৌরীর নন্দন।
শিব আদি পঞ্চজন করিবে পূজন।
পশ্চাৎ পূজিবে দ্বিজ নবগ্রগণ।
ইন্দ্রাদি দশদিকপাল অর্চ্চনা করিয়া।
করিবে সামান্য অর্ঘ্য শ্রীবিষ্ণু ভাবিয়া।।

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!