ভবঘুরেকথা
সত্যনারায়ণ

নমো গদাধর, পরম সুন্দর,
কে জানে তব মহিমা।
ব্রহ্মা পশুপতি, সদা করে স্তুতি,
আগমে নাহিক সীমা।।
আমি মূঢ়জন, না জানি স্তবন,
ক্ষম মোর অপরাধ।
জেনেছি কারণ, তুমি নারায়ণ,
তুমি সে অখিল নাথ।
শুনিয়া স্তবন, সত্যনারায়ণ,
সাধুকে করিল দয়া।
ভকত-বৎসল, ভুবন অতুল,
দিলেন শ্রপদ ছায়া।।

নারায়ণ বলে সাধু স্থির রকর রমতি।
আপনার দোষে তুমি পাইলে দূর্গতি।।
সত্যনারায়ণ সেবা বিস্মৃত হইলে।
কন্যা বিবাহ দিয়া বাণিজ্যে আসিলে।।
তাহাতে পাইলে দু:খ দক্ষিণ পাটনে।
এইক্ষণ পেলে দু:খ বাক্যের কারণে।
শুনিয়া লজ্জিত হল সাধুর নন্দন।
সহস্রেক মুদ্রা রাখে সেবার কারণ।।
দেখিয়া সাধুর ভক্তি তুষ্ট নারায়ণ।
লতা-পাতা দূরে গেল হইল রত্ন-ধন।।
বিদায় হইয়া সাধু আপন গমন।
অন্তর্ধান হল শেষে প্রভু নারায়ণ।।
দিবা-রাত্রি বাহে তরী কর্ণধারগণ।
উপনীত হল সাধু আপন ভবন।।

বিমলা সাধুর নারী আপন ভবনে।
সত্যনারায়ণে পুজা আনন্দিত মনে।।
সমাপ্ত করিয়া পূজা প্রণাম করিল।
প্রভাবতী রামা আসি প্রসাদ লইল।।
হেনকলে পায় রামা স্বামীর সংবাদ।
হরষিত হয়ে ফেলে হস্তের প্রসাদ।।
প্রসাদ ফেলিল যদি নারী প্রভাবতী।
ভরা সঙ্গে ঘঅটে তল হইল তার পতি।
জামাতা ডুবিল জলে দেখি সদাগর।
হা হা শব্দ করি পড়ে ডিঙ্গার উপর।।
শ্বশুর-শ্বাশুড়ী কাঁদে নারী প্রভাবতী ভাবিয়া বিধাতা।

কাঁদে নারী প্রভাবতী, হা হা মোর প্রাণপতি,
কোন দেশে রে, করিল গমন রে।
আমি অবাগিনীবালা, তাহে হর-রিপু জ্বালা,
তুন মোর রে, সদাই দহন রে।।
যৌবনেতে পতি মরে, কেমনে রইব ঘরে,
তাহে আমি রে, বণিক নন্দিনী রে।
সহজ চঞ্চল বালা, তাহে মদনের জ্বালা,
ভয় যদি রে হই কলঙ্কিনী রে।।
দিয়া মোরে গুণনিধি, বঞ্চনা করিল বিধি,
নারী বধ রে, দিবরে তোমারে রে।
ধিক মোর রূপ গুণে ধিক মোর যৌবন,
হেন দশা রে, যদি হইল মোর রে।।
কোথা রলে প্রাণহরি, তোমা বিনে আমি মরি,
ক্ষণেক মোরে রে, দাও দরশন রে।
না কহিল আর কথা, ঐ বড় মন ব্যথা,
তুমি হলে রে, আমার শমন রে।।
বিদেশেতে দু:খ পাইল, বাড়ি আসি মৃত্যু হইল,
হেন দু:খ রে, কহিব কাহারে রে।
মনের কথা মনে রইল, বঞ্চনা করিয়া গেল,
হেন দশা রে, কেন হল মোর রে।।

Related Articles

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

error: Content is protected !!