ভবঘুরে কথা
ভবঘুরে বাদ্য
সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী
ভবঘুরে বাদ্য

-নূর মোহাম্মদ মিলু

বিশ্ব মানবতায় বেলায়তের স্বরূপঃ হযরত আকদাছের বেলায়তের পরশ পেয়ে ধন্য হয়েছেন মাটিস্থ বুজুর্গানে দ্বীনন এবং তারা জামালী হতে জালালীর মধ্যে রূপ ধারণ করেছেন। কামালিয়তের বা বুজুর্গীর কোন প্রশংসা তাঁর বুজুর্গীতে বাদ পরেনা।

তিনি এমন এক খোদা-প্রদত্ত শ্রেষ্ঠত্ব সম্পন্ন অলি, যিনি খোদার ইচ্ছা শক্তিতে তাঁর গাউছে আজমিয়তের প্রভাবে জনগণের না হওয়ার মত কাম্য বস্তুকে হওয়ার রূপ দিয়েছেন এবং দিচ্ছেন। তাঁর সাথে হযরত খাজা খিজির (আ) এঁর খুবই ঘনিষ্ট আধ্যাত্মিক সম্পর্ক ছিল।

সমসাময়িক ওলামায়ে কেরাম ও বুজুর্গগণ তাঁর প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাপূর্ণ উচ্চ ধারণা পোষন করতেন যা তাদের লিখিত কসিদা, শের, কবিতা, মন্তব্য ইত্যাদি থেকে উপলদ্ধি করা যায়। তাঁর আধ্যাত্মিক পরশপ্রাপ্ত অসংখ্য অলী-দরবেশ বিভিন্নস্থানে আধ্যাত্মিকতার দাওয়াত পৌঁছে দিয়ে বিশ্ব মানবতার কল্যাণের অপূর্ব দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন।

উত্তরাধিকারী খলিফা নির্ধারণ ও গদী অর্পণ
গাউছুল আজম হযরত মওলানা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ তাঁর নশ্বর জীবনের শেষ দিকে এক জুমাবারে এলাকার সমাজপতি ও জনগণের উপস্থিতিতে তাঁর পবিত্র হুজুরা শরীফ দোয়ার মেহরাবে নিজ পুত্র বংশীয় আদরের নাতি সাজ্জাদানশীনে গাউছুল আজম হযরত মাওলানা শাহ্‌ ছুফী সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভান্ডারীকে নিজ গদী শরীফ অর্পণে স্থলাভিষিক্ত আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকারী মনোনীত করেন।

ওফাত ও ওরশ
গাউছুল আজম হযরত মওলানা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ ৭৯ বছর বয়সে ২৩ জানুয়ারি ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ, ১০ মাঘ ১৩১৩ বঙ্গাব্দ, সোমবার দিবাগত রাতে ইহধাম ত্যাগ করেন। তাঁর ওফাত দিবস উপলক্ষে প্রতি বছর ৮, ৯ ও ১০ মাঘ ৩ দিন ব্যাপী ওরশ শরীফ অনুষ্ঠিত হয়।

অছীয়ে গাউছুল আজম হযরত মওলানা সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভান্ডারী
হযরত মওলানা সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভান্ডারী ২৭ ফেব্রুয়ারি ১৮৯৩, ১৩ ফাল্গুন, ১২৯৯ জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা হযরত শাহ্‌ সুফি মওলানা সৈয়দ ফয়জুল হক (১৮৬৫-১৯০২)। তাঁর দাদা গাউছুল আজম হযরত মওলানা শাহ্‌ ছুফী সৈয়দ আহমদ উল্লাহ। হযরত মওলানা সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভান্ডারী ১৯৮২ সালের ১৬ জানুয়ারি, ২মাঘ ১৩৮৮, শনিবার মৃত্যুবরণ করেন।

আধ্যাত্মিক জীবনের দীক্ষা ও আধ্যাত্মিক উচ্চাসন
গাউছুল আজম হযরত মওলানা শাহ্‌ ছুফী সৈয়দ আহমদ উল্লাহ ছিলেন তাঁর পীরে তরিকত। অন্যদিকে হযরত মওলানা সৈয়দ আমিনুল হক মাইজভান্ডারী ছিলেন তাঁর পীরে বায়াত, হযরত মওলানা সৈয়দ গোলাম রহমান মাইজভান্ডারী ছিলেন তাঁর পীরে তাফাইয়োজ।

তাঁর আধ্যাত্মিক উচ্চাসনের কথা হযরতের রহস্যপূর্ণ বাক্যের মাধ্যমে প্রকাশ পেতো। যেমন-

“নবাব হামারা দেলা ময়না হ্যায়,
ফের আওর কোন নবাব হ্যায়?”

“তোম কোন সুলতান হ্যায়?
সুলতান হামারা দেলা ময়না হ্যায়।”

মাইজভান্ডারী ত্বরিকার তাত্ত্বিক বিশ্লেষক
হযরত মওলানা সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভান্ডারী পরিকল্পিতভাবে মাইজভান্ডারী তরিকার মৌলিক ভাবাদর্শ ও বৈশিষ্ট্যাবলি বিশ্লেষণ ও উপস্থাপনের প্রয়াস নেন। তাঁর প্রকাশিত ও সম্পাদিত রচনাবলির সংখ্যা ১০। যথা-

১. গাউছুল আজম মাইজভান্ডারীর জীবনী ও কেরামত।
২. বেলায়তে মোত্‌লাকা।
৩। গঠনতন্ত্র।
৪। প্রতিবাদ লিপি।
৫। এলাকার রেনাসাঁ যুগের একটি দিক।
৬। বিশ্ব মানবতায় বেলায়তের স্বরূপ।
৭। মানব সভ্যতা।
৮। মিলাদে নববী ও তাওয়াল্লোদে গাউছিয়া।
৯। মুসলিম আচার ধর্ম।
১০। মূলতত্ত্ব বা তাজকীয়ায়ে মোখতাছার (১ম খন্ড)।

এই সব গ্রন্থাবলি মাইজভান্ডারী ত্বরিকা সম্পর্কে জানার ও গবেষণার Primary source হিসেবে বিবেচিত।

ঐতিহাসিক বিশেষত্ব ও ‘অছীয়ে গাউছুল আজম’
‘তাঁর সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক বিশেষত্ব এই যে, তিনি গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী এঁর জাগতিক বংশধারা ও আধ্যাত্মিক ‘গাউছিয়ত’ -এর একক উত্তরাধিকারী ছিলেন। এই অনন্য জাগতিক ও আধ্যাত্মিক বিশেষত্বের ফলশ্রুতিতে তিনি মাইজভান্ডারী পরিমন্ডলে ‘অছীয়ে গাউছুল আজম’ হিসেবে পরিচিত।

মাইজভান্ডারী তরিকার আদর্শ প্রচারে সাংগঠনিক ভিত্তি
হযরত মওলানা সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভান্ডারী পীরি ছায়র বা মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে মুরিদ করানো ও হাদিয়া গ্রহণ করার প্রথা বিরুদ্ধ ছিলেন। সর্বস্তরের মানুষের কাছে মাইজভান্ডারী তরিকার দাওয়াত পৌঁছে দেয়ার জন্য “আঞ্জুমানে মোত্তাবেয়ীনে গাউছে মাইজভান্ডারী ” নামক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।

নির্বিলাস জীবনাচার ও খাদেমুল ফোকরা
হযরত মওলানা সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভান্ডারী ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী ও নির্বিলাস জীবন-যাপনে অভ্যস্ত। অতি বিনয়ে নিজ পরিচয় দিতেন খাদেমুল ফোকরা বা আল্লাহর ফকিরদের সেবক। তিনি তাঁর জন্য মাজার না করার এবং আলাদাভাবে কোন ওরশ না করার জন্য অছিয়ত করে যান।

(চলবে…)

ভবঘুরে বাদ্য
নির্মাতা
ভবঘুরে কথা'র নির্মাতা

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!