ভবঘুরে কথা
ভবঘুরে বাদ্য
হযরত বাবা হাজী আলী
ভবঘুরে বাদ্য

-নূর মোহাম্মদ মিলু

ভারতের মুব্বাইয়ে মহান আউলিয়া হযরত হাজী আলী শাহ আল বুখারির পবিত্র মাজার শরীফ। বাবা হাজী আলী ভারতের একজন বিখ্যাত আউলিয়া। ভারতের মুম্বাই শহরের সকল হিন্দু, মুসলিম বাবার আশেক ও ভক্ত। প্রতি বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার এই দরগায় হাজার হাজার ভক্তের সমগম ঘটে। বাবা হাজী আলী মোগল আমলের বিখ্যাত আউলিয়া।

১৪৩১ সালে বাবার দরগাহ মুম্বাই শহরে প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি উজবেকিস্থানের বুখারা নামক অঞ্চল থেকে ভারতের মুব্বাইয়ে ইসলামের মহান বাণী ঘরে ঘরে ছড়িয়ে দেন। বলা হয়ে থাকে, বাবা হাজী আলীর মাজার আল্লাহ্‌র কুদরতে উত্তাল সমুদ্রের মাঝখানে গায়েবি থেকে প্রস্তুত হয়েছে।

কথিত আছে, বাবা হাজী যখন মুম্বাই শহরে আসেন তখন তিনি দেখেন যে এক মহিলা রাস্তায় বসে কাঁদছে। বাবা জিজ্ঞাস করেলন, “মা! তুমি এভাবে কাঁদছ কেন?” উত্তরে মহিলা বলল, আমি বাজার থেকে একপোয়া তেল কিনে আনছিলাম রান্না করার জন্য। কিন্তু হঠাৎ পরে গেলে আমার সবটুকু তেল মাটি শুষে নেয়।

এখন তেলের জন্য আমি যদি রান্না করতে না পারি তাহলে আমার বদমেজাজি স্বামী আমাকে মেরে ফেলবে। আমার কাছে অতিরিক্ত এক পয়সাও নাই যে তেল কিনব। তখন বাবা হাজী আলী সাথে সাথে সেই জায়গায় যেয়ে মাটিকে হাতে নিয়ে আল্লাহর নাম নিয়ে এমন চাপ দিলেন যে মাটি থাকে সেদিন ১ চাপে ৭ কেজি তেল বেরিয়ে এলো।

এই ঘটনার পর মাটি বাবা হাজী আলীকে বলল, “হে হাজী! আলী তুমি আমাকে এত জোরে চাপ দিয়ে আমাকে ব্যাথা দিলা, এ জন্য তুমি যখন মৃত্যুবরণ করে আমার পেটের ভিতর কবরে আসবা আমি তোকে এরচেয়ে অধিক চাপ দিয়ে ব্যথা দিব।”

তখন বাবা হাজী আলী তার ভক্তদের বলল, “আমার লাশ সমুদ্রের মাঝে ফেলে দিও, সমুদ্রের মাঝখানেই আমি থাকবো, মাটির ভিতর যাবো না। যখন বাবার মৃত্যুর পর তাহার লাশ সমুদ্রে ফেলা হলে সাথে সাথেই সেখানে গায়েবি মাজার শরীফ প্রতিষ্ঠিত হয়।

সারাদিন সমুদ্র উত্তাল থাকার কারণে বাবার দরগাহতে যাওয়ার পথ সাগরে ডুবে থাকে। আবার যখন আসরের আযান হয় তখন বাবা হাজী আলীর কৃপায় সমগ্র সমুদ্র শান্ত হয়ে যায়, তখন ভক্তবৃন্দ বাবার দরগাহ যিয়ারতে দলে দলে সমবেত হন।

ভারতের মুম্বাই শহরের ৭ম আশ্চর্যের মধ্যে বাবা হাজী আলীর এই দরগাহ অন্যতম। মুব্বাইয়ে বিপদে পরে যদি কেউ ভক্তিভরে দোঁহাই হাজী আলী বলে, তাহলে সাথে সাথে তার বিপদ কেটে যায় এবং আল্লাহর রহমত তার উপর বর্ষিত হয়।

ভবঘুরে বাদ্য
নির্মাতা
ভবঘুরে কথা'র নির্মাতা

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!