বাবা জাহাঙ্গীরের বাণী: দুই

বাবা জাহাঙ্গীরের বাণী: দুই

২৬.
জানিয়া রাখো, চোর লাশের কাপড়ও চুরি করে। কিন্তু মাজারের গিলাপ কখনই চুরি করে না।

২৭.
তুমি মুর্শিদের সামনে কি বলবে, কেননা মুর্শিদ তো তোমার ভেতর বাহিরের সব খবরই রাখেন।

২৮.
কচুরিপানা নিজে চলে না, স্রোত একে চালিয়ে নেয়। এক্সিডেন্ট করা যায় না, এক্সিডেন্ট হয়ে যায়।

২৯.
রূপসী নারীকে দেখে যে বলে ভালোবাসি, জেনে রাখ সেটা কখনই ভালোবাসা না, দৈহিক চাহিদা মাত্র।

৩০.
সিংহকে খরগোশ আক্রমণ করে না, এই লিখনির উপর বিরূপ মন্তব্য করার সময় তুমিও বাঘ হয়ে যাও।

৩১.
কয়টা কথা শিখে, অন্যকে তর্কে হারিয়ে লাভ নেই বরং সাধনা করো বোবা হয়ে। অন্তরের বাণী শুনতে শেখো।

৩২.
মন অতি চঞ্চল, বিষয় থেকে বিষয়ে ছুটে বেড়ায় সে, তাকে একের ঘরে নিয়ে আসো, একের মধ্যে ডুবিয়ে দাও।

৩৩.
সত্যকে ধরতে হয় অনুমান ও সম্ভবনার উপরে দাঁড়িয়ে, যদিও অনুমান চিরদিন অনুমান এবং সত্য চিরদিন সত্য।

৩৪.
সকলেই জেনে যায়; আমি শুধু অপলক, দু-চোখে বিস্ময়: জানি-কিছুই জানি নাই, চেনাকেও গভীর অচেনা মনে হয়।

৩৫.
সংসার ত্যাগ করতে পারলেই বৈরাগ্য হয় না- স্বকীয়তার বৃত্তের পাশবিক আবর্জনা ফেলে দিলেই হয় সত্যিকার বৈরাগ্য।

৩৬.
আমরা ভালো করেই জানি যে, নবুয়ত খতম; তথা শেষ। কিন্তু বেলায়েতের দরজা তো বন্ধ হয় নি, হয় না এবং হবেও না।

৩৭.
সিংহের গায়ে কতটুকু শক্তি আছে, তা একমাত্র বাঘের পক্ষেই জানা সম্ভব, খরগোশের পক্ষে তা কখনও জানা সম্ভব নয়।

৩৮.
৫৩ বছর কোরান রিসার্চ করে আমি একটি বিরাট জ্ঞান অর্জন করেছি, আর সেই বিরাট জ্ঞানটি হলো আমি কোরান বুঝিই নি।

৩৯.
অন্যের সমালোচনা করা সহজ। নিজের সমালোচনা করা কঠিন। ধ্যান করো নিজেকে জানো, পরের সমালোচনা করা বন্ধ হয়ে যাবে।

৪০.
মুসলমানের গৃহে জন্মগ্রহণ করলেই মুসলমান হয় না, বরং আল্লাহর দীনে আত্মসমর্পণ করতে পারলেই হয় সত্যিকার মুসলমান।

৪১.
দুনিয়ার একটি স্থানে মানুষ হেরে গিয়ে সবচাইতে বেশি আনন্দ পায়, আর সেই স্থানটির নাম হলো নিজের সন্তানের কাছে হেরে যাওয়া।

৪২.
আপন নফস হতে শয়তানকে বিচ্ছিন্ন করার নামটিই হলো মরণ। কোরানের ভাষায় এ মরণ কে বলা হয়েছে ‘মৃত্যুর আগে মরিয়া যাওয়া।’

৪৩.
মানুষ হাসতে হাসতে আত্মহুতি দিতে পারে। কিন্তু ঐ লোকটিকেই যদি বলা হয় যে তুমি নির্জনে ৪টি মাস ধ্যান সাধনা কর সে তা পারে না।

৪৪.
যিনি তার নিজের সত্তাকে, তার প্রবৃত্তিকে সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর নিকট উৎসর্গ করে দিতে পেরেছেন তিনি মােহসিনিন তথা সৎকর্মশীল।

৪৫.
আল্লাহ প্রেমিকের কাছে সকল স্থানই মসজিদ, সকল দিনই শুক্রবার, সকল মাসই রমজান, তিনি যেখানেই থাকেন আল্লাহর সঙ্গে থাকেন।

৪৬.
যিনি আপন আমিত্ব ত্যাগ করে আল্লাহতে ফানা তথা বিলীন হয়েছেন, সে সাধারণের মধ্য অসাধারণ, তথা অলি, তথা মোর্শেদ তথা বান্দা নেওয়াজ।

৪৭.
সালাত শব্দের যত রকমেরই অর্থ করা হক না কেন, আসলে সালাতের অর্থ হল আল্লাহর সঙ্গে সংযোগ-প্রচেষ্টা। আল্লাহর সঙ্গে সংযোগ করতে গেলেই মানবীয় আমিত্বের বিসর্জন প্রয়োজন হয়।

৪৮.
আমার এই চঞ্চল মনটি আলোর গতির চেয়েও দ্রুতগতির মানসিকতার। উহাকে একটি কেন্দ্রে আনবার জন্য পীর বা গুরুর প্রয়োজন। এই দ্রুতগতির মনটিকে একের মধ্যে ধরে রাখা খুবই কষ্টকর।

৪৯.
প্রেম এমনই এক নাজুক বিষয় যে, যে এর মাঝে ডুব দিতে পারে, সে সব দোষ নিজের কাঁধে তুলে নেয়। মাশুককে সব দোষ-ত্রুটি হতে মুক্ত রেখে প্রেমিকরা সব দোষে দোষী হতে ভালোবাসে।

৫০.
আমি রহস্যের জ্ঞান পাবার আশায় জ্ঞানের পুকুরে বড় আশা করে জাল ফেললাম। কিন্তু সে জালে একটিও জ্ঞানের মাছ পেলাম না। পেলাম কেবলই ডক্টরেট ডিগ্রিধারী বিদ্বানদের মাথার খুলিগুলো।

……………………………
আরো পড়ুন:
বাবা জাহাঙ্গীর

বাবা জাহাঙ্গীরের বাণী: এক
বাবা জাহাঙ্গীরের বাণী: দুই
বাবা জাহাঙ্গীরের বাণী: তিন
বাবা জাহাঙ্গীরের বাণী: চার
বাবা জাহাঙ্গীরের বাণী: পাঁচ
বাবা জাহাঙ্গীরের বাণী: ছয়
বাবা জাহাঙ্গীরের বাণী: সাত

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!