বিরক্তি ও উত্তেজনা

বিরক্তি এবং উত্তেজনা

-বার্ট্রান্ড রাসেল

বিরক্তি, মানবিক আচরণের একটি উপাদানরূপে তার প্রাপ্য মনোযোগ পায়নি। এটা আমার বিশ্বাস। আমার আরো বিশ্বাস সমস্ত ঐতিহাসিক যুগকে ধরলে এই বিরক্তি এক বিরাট সহায়ক চালিকাশক্তিরূপে দেখা দিয়েছে। আজকের দিনে একথা আরো বেশি সত্যি। বিরক্তিকে বিশেষভাবে একটি মানবিক আবেগ বলে মনে হতে পারে। বন্দী প্রাণী, এটা সত্যি, মাঝে মাঝে উদাস হয়ে পড়ে।

উদ্দেশ্যহীনভাবে পায়চারি করে, হাই তোলে, কিন্তু প্রকৃতির নিজস্ব পরিবেশে ওরা বিরক্তির সমধর্মী কিছুর অভিজ্ঞতা লাভ করে বলে আমার মনে হয় না। অধিকাংশ সময় তারা শত্রুর সন্ধানে নিয়ত থাকে অথবা খাদ্যের অথবা দুয়েরই। কখনো তারা সঙ্গমে ব্যস্ত, কখনো দেহকে উষ্ণ রাখতে ব্যস্ত। কিন্তু কখনো যদি অসুখী থাকে তখনো বিরক্তি অনুভব করে বলে আমি মনে করি না।

সম্ভবত অন্যান্য বিষয়ের মতো, এ বিষয়েও বনমানুষদের সাথে আমাদের মিল রয়েছে, কিন্তু তাদের সাথে কোনও দিন বাস করা হয়নি বলে পরীক্ষার সুযোগ পাইনি। বিরক্তির একটি প্রধান উপাদান বর্তমান অবস্থার সাথে অধিকতর আরামপ্রদ কোনও কাল্পনিক অবস্থার সাথে তুলনা। বিরক্তির আরো একটি উপাদান কারো কর্মদক্ষতাকে সম্পূর্ণ কাজে না লাগানো।

যে শত্রু কাউকে হত্যা করতে চেষ্টা করছে তার কাছ থেকে পালিয়ে যাওয়া আমার মতে অপ্রীতিকর তবে কোনভাবেই বিরক্তিকর নয়। যে মানুষকে ফাঁসি দেওয়া হচ্ছে, সে বিরক্তি অনুভব করবে না, যদি না তার অতিমানবিক সাহসিকতা থাকে। হাউস অব লর্ডস-এ প্রথম বক্তৃতা দিতে গিয়ে কেউ কখনো হাই তোলেননি। এ বিষয়ে প্রয়াত ডেভনশিয়ারের ডিউক একটি ব্যতিক্রম।

তার জন্যে তিনি লর্ডদের কাছ থেকে শ্রদ্ধা অর্জন করেছিলেন। বিরক্তি হল ব্যর্থ কামনা প্রকাশের ঘটনা, যা প্রীতিকর নয় কোনওভাবেই। কিন্তু সে ঘটনা এমন যা অবসাদ-জর্জরিত মনে একদিনকে অন্যদিনের চেয়ে আলাদা করে তুলবে। বিরক্তির বিপরীত হল, এক শব্দে বলতে গেলে, আনন্দ নয়, শুধু উত্তেজনা।

মানুষের অন্তরে, বিশেষ করে পুরুষদের উত্তেজনার স্পৃহা অত্যন্ত গভীর বাসা বেঁধেছে। আমার অনুমান, এই কামনা আগে যা ছিল তার চেয়ে সহজভাবে পূর্ণ হয়েছে শিকারের মাধ্যমে। শিকারকে অনুসরণ করার মধ্যে উত্তেজনা আছে, যুদ্ধে উত্তেজনা আছে আর প্রেম নিবেদনে। বর্বর মানুষ ঘুমন্ত স্বামীর পার্শ্ববর্তী নারীর সাথে অবৈধ প্রেমলীলায় রত হবে।

এটা জেনেও স্বামী জেগে উঠলে তার তৎক্ষণাৎ মৃত্যু এরকম এক অবস্থা, আমার মনে হয় বিরক্তিকর নয়। কিন্তু কৃষিসভ্যতা আগমনের পর জীবন বিস্বাদ হয়ে পড়েছে। হয়নি শুধু অভিজাতদের জীবন, কারণ তারা এখন পর্যন্ত শিকারের যুগে রয়ে গেছেন। যন্ত্রযুগের মানুষদের ক্লান্তির কথা অনেক শোনা যায়। কিন্তু আমার মতে প্রাচীন পদ্ধতির কৃষিকাজ একই রকম ক্লান্তিকর।

অধিকাংশ সমাজসেবক যা মনে করেন, আমি তার বিপরীত-টা মনে করি। আমার বলা উচিত যন্ত্রযুগ বিশ্বের মোট বিরক্তির অনেকটুকুই কমিয়ে দিয়েছে। চাকুরীজীবীদের কাজের সময়টার ওপর তাদের দখল নেই, কিন্তু সান্ধ্যকালীন অবসর তারা বিভিন্ন ধরনের আমোদ-প্রামাদে কাটাতে পারে। এই উপভোগ প্রাচীনপন্থী পল্লীগ্রামে অসম্ভব ছিল। নিম্ন মধ্যবিত্তদের জীবনে যে পরিবর্তন এসেছে সেটাও ভেবে দেখুন।

যাদের সামর্থ্যে কুলাচ্ছে তারা স্থান থেকে স্থানান্তরে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং সাথে নিয়ে চলেছে আমোদ, নৃত্য আর মদ্যপান। আর যে কারণেই হোক তারা নতুন স্থানে এসব উত্তেজনা বেশি করে উপভোগের আশা করছে। যাদের কষ্ট করে উপার্জন করতে হয়, কাজের সময় তাদের জন্যে কিছু বিরক্তি যেন অপেক্ষা করে থাকেই।

আগের দিনে রাতের আহারের পর স্ত্রীকন্যারা বাসনপত্র ধুয়ে ঘর পরিষ্কার করার পর সকলে মিলে পারিবারিক গল্প-গুজব করত। সেটাই ছিল তাদের জন্যে আনন্দ উপভোগ। এর অর্থ হল বাড়ির বড়কর্তা ঘুমিয়ে পড়তেন, স্ত্রী উল বুনতেন, মেয়েরা ভাবত তাদের মরণের কথা অথবা মরুভূমির টিমবকটুতে গিয়ে বাস করার কথা। তাদের পড়াশুনা করতে দেওয়া হত না, বাড়ি থেকে বাইরে যেতে দেওয়া হত না।

কারণ তত্ত্বটা ছিল এই যে সে সময় তাদের বাবা আলাপ করবেন তাদের সাথে যা সকলের জন্যেই আনন্দদায়ক হয়ে উঠবে। ভাগ্য প্রসন্ন হলে অবশেষে তারা বিয়ে করত এবং তাদের সন্তান জন্মাবার পর আবার তারা নিজেদের প্রথম জীবনের মতো নিরানন্দ চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ পেয়ে যেত। আর যদি বিয়ের সৌভাগ্য না হত তাহলে সারাজীবন কুমারী থেকে শেষে মনে হয় দেহেমনে এক ক্ষয় হয়ে যাওয়া নারীতে পরিণত হত।

এমন ভয়ংকর ভাগ্য যা বর্বররা প্রদান করত তাদের বলিপ্রদত্তাকে। শত বছর আগের পৃথিবীর বিষয় বিবেচনা করতে হলে সেসব বিরক্তির পরিমাণটা মনে রাখতে হবে। এবং আরও অতীতে ফিরে গেলে বিরক্তির অবস্থা আরো খারাপ মনে হবে। মধ্যযুগের একটি পল্লীর একঘেয়ে শীতকালের কথা ভেবে দেখুন।

লোকে লিখতে পড়তে জানত না, অন্ধকারে তাদের আলো দিতে সম্বল ছিল শুধু মোমবাতি, তাদের একটিমাত্র ঘর, অগ্নিকুণ্ডের ধোঁয়ায় ভরে যেত, আর পুরো বাড়িতে সেই একটিমাত্র ঘরই শুধু হিমঠাণ্ডা নয়। পথ চলা তখন প্রায় অসম্ভব ছিল, তাই ভিন্ন পল্লীর মানুষের দর্শন খুব কম মিলত। শীতের সন্ধ্যায় একমাত্র আনন্দজনক খেলা ছিল ডাইনিবুড়িকে খুঁজে বেড়ান এবং এই খেলার উদ্ভব হয়েছে যেসব কারণে তাদের মধ্যে বিরক্তি অন্যতম।

পূর্বপুরুষদের তুলনায় আমাদের বিরক্তি অনেক কম, কিন্তু আমরা বিরক্তিকে বেশি ভয় পাই। আমরা জানি, বা বিশ্বাস করতে শিখেছি যে বিরক্তি মানুষের জীবনের স্বাভাবিক অংশ নয়, এবং বিরক্তিকে এড়ানো যারা চরম উত্তেজনাময় কাজের সাহায্যে। আজকাল মেয়েরা নিজেরা উপার্জন করে স্বাবলম্বী হয়েছে। এই স্বনির্ভরতা তাদের সন্ধ্যাবেলা নিজেদের মতো করে আনন্দে কাটাতে সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

তারা এখন তাদের ঠাকুমাদের সময়ের দুর্ভোগ এবং ‘সুখী পারিবারিক সময়’ কাটাবার অত্যাচার থেকে রেহাই পেয়েছে। আমেরিকায়, যারা শহরে বাস করছে, কিংবা করতে পারছে না, প্রত্যেকের একটি মোটরগাড়ি আছে, অন্ততপক্ষে একটি মোটর সাইকেল। এই যন্ত্রযানের সাহায্যে তারা সিনেমায় যেতে পারে।

প্রত্যেক বাড়িতে অবশ্য একটি রেডিও আছে। আগের চেয়ে অনেক সহজে এখন তরুণ-তরুণীরা মিলতে পারে। প্রত্যেক পরিচারিকা অন্তত সপ্তাহে একদিন এমন প্রমোদ আশা করে যা স্থায়ী হয়েছিল জেন অস্টেনের(১) নায়িকার ক্ষেত্রে সারা উপন্যাস জুড়ে। সামাজিক স্তরে যতই আমরা ওপরের দিকে উঠেছি ততই আমাদের উত্তেজনা উপভোগের মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে।

যাদের সামর্থ্যে কুলাচ্ছে তারা স্থান থেকে স্থানান্তরে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং সাথে নিয়ে চলেছে আমোদ, নৃত্য আর মদ্যপান। আর যে কারণেই হোক তারা নতুন স্থানে এসব উত্তেজনা বেশি করে উপভোগের আশা করছে। যাদের কষ্ট করে উপার্জন করতে হয়, কাজের সময় তাদের জন্যে কিছু বিরক্তি যেন অপেক্ষা করে থাকেই।

কিছু পরিমাণে উত্তেজনা স্বাস্থ্যপ্রদ কিন্তু অন্য সব জিনিসের মতো এর মাত্রাও পরিমাণের বাইরে যাওয়া ঠিক নয়। উত্তেজনা খুব কম হলে রুগ্ন আসক্তি জাগিয়ে তুলবে আর খুব বেশি হয়ে গেলে তা ক্লান্তিকর হয়ে উঠবে। সুতরাং সুখী জীবনে কিছু পরিমাণে বিরক্তি সহ্য করার মতো ক্ষমতা থাকা জরুরী এবং এটা খুব প্রয়োজনীয় বিষয় যা তরুণদের অবশ্যই শেখানো উচিত।

কিন্তু যাদের প্রচুর অর্থ থাকার ফলে কাজ করে জীবন চালাতে হয় না তাদের চোখের সামনে যে আদর্শ, তা হচ্ছে বিরক্তি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত জীবন। এই আদর্শ মহৎ, আমি তার অমর্যাদা করা থেকে দূরে থাকতে চাই। কিন্তু আমার সন্দেহ হয়, আদর্শবাদীরা এটা লাভ করা যত সহজ বলে ভাবেন তা তত সহজ নয়, বেশ কঠিন-ই বলা যায়। যাই হোক সকালগুলি বিরক্তিকর, গতদিনের সন্ধ্যাগুলির আনন্দময়তার অনুপাতে।

মধ্য বয়স আসবে, সম্ভবত বার্ধক্যও আসবে। বিশ বছর বয়সে লোকে ভাবে ত্রিশ বছরেই জীবন শেষ হয়ে যাবে। আমি, আটান্ন বছর বয়সেও এই মত পোষণ করি না। আমার বিশ্বাস আর্থিক মূলধন ব্যয় করা যতটা অবিজ্ঞজনিত কাজ, জীবনের মূলধন নষ্ট করাও তাই। সম্ভবত কিছু বিরক্তি জীবনের একটি প্রয়োজনীয় উপাদান। বিরক্তি থেকে পলায়নের ইচ্ছা খুব স্বাভাবিক।

সুযোগ পেলে মানুষের সকল জাতি তা প্রকাশ করেছে। শ্বেতাঙ্গদের কাছ থেকে যখন অসভ্যেরা প্রথম সুরার স্বাদ পেল, তারা এর সাহায্যে এতদিনের বার্ধক্যজনিত অবসাদ থেকে পালাবার একটা পথ পেয়ে গেল, এবং যে যে সময়ে সরকার হস্তক্ষেপ করেছে সেই সেই সময় ছাড়া তারা অবিরাম মদ্যপান এবং হুল্লোড় করতে করতে মৃত্যুকে বরণ করেছে।

যুদ্ধ, গণহত্যা এবং উৎপীড়ন– এসবই বিরক্তি থেকে পালাবার এক একটি পথ। এমন কী চুপচাপ থাকার চেয়ে প্রতিবেশিদের সাথে কলহ-বিবাদ করাও অনেক ভাল বলে মনে হয়। নীতিবাগীশদের কাছে বিরক্তি তাই একটি প্রধান সমস্যা এবং মানবসমাজে অন্তত অর্ধেক পাপ বিরক্তির ভয়েই ঘটে থাকে।

বিরক্তি সম্পূর্ণ অশুভ, এটা মনে করা অনুচিত। বিরক্তি দু’রকমের হতে পারে। এক ধরনের বিরক্তি ফলপ্রসু, অন্যটা একেবারে ফলহীন। প্রথমটা জন্মে মাদক আর নেশার অভাবে, দ্বিতীয়টার উদ্ভব হয় প্রয়োজনীয় কাজের অভাবে। সব ধরনের উত্তেজনা সীমিতভাবে হলেও মাদকবস্তুর একটা ভূমিকা থাকে।

যে জীবন অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ তা পরিশ্রান্ত এক জীবন যেখানে শিহরণ পাওয়ার জন্যে, যা আনন্দের একটা প্রয়োজনীয় অংশ বলে মনে করা হয়, দরকার হয় অবিরাম অতি উদ্দীপক কিছুর যোগান। যে ব্যক্তি অতিরিক্ত উত্তেজনায় অভ্যস্ত সে একজন অসুস্থ ব্যক্তি যার লোভ রয়েছে গোলমরিচের প্রতি, সে পরে মরিচের পরিমাণমাত্রা ছাড়িয়ে গেলেও আর স্বাদ পাবে না, অথচ সেই পরিমাণ গোলমরিচে অন্য যে কেউ দম আটকে মারা যাবে।

অতিরিক্ত উত্তেজনা এড়ানোর মধ্যে কিছু বিরক্তি থাকেই, আর অতিরিক্ত উত্তেজনা শুধু যে স্বাস্থ্যের জন্যে ক্ষতিকর তা নয়, তা সবরকম উপভোগের স্বাদ নষ্ট করে দেয় আর গভীর ইন্দ্রিয়তৃপ্তির পরিবর্তে বিকৃতিতে আসক্তি জন্মায়। জ্ঞানের বদলে চাতুর্য্য এবং রূপের বদলে অমসৃণতা জাগিয়ে তোলে। উত্তেজনার বিরুদ্ধে আমি চরম কিছু বলছি না।

কিছু পরিমাণে উত্তেজনা স্বাস্থ্যপ্রদ কিন্তু অন্য সব জিনিসের মতো এর মাত্রাও পরিমাণের বাইরে যাওয়া ঠিক নয়। উত্তেজনা খুব কম হলে রুগ্ন আসক্তি জাগিয়ে তুলবে আর খুব বেশি হয়ে গেলে তা ক্লান্তিকর হয়ে উঠবে। সুতরাং সুখী জীবনে কিছু পরিমাণে বিরক্তি সহ্য করার মতো ক্ষমতা থাকা জরুরী এবং এটা খুব প্রয়োজনীয় বিষয় যা তরুণদের অবশ্যই শেখানো উচিত।

বিশেষ কোনও উপলক্ষ্য ছাড়া সন্তানদের কাছে তাদের একটা দিন যে অন্য দিনের চেয়ে আলাদা হওয়া কতটা প্রয়োজনীয় তা তারা বুঝতে পারেন না। শৈশবের সব আনন্দ এমন হওয়া উচিত যা শিশুরা চেষ্টা করে মাথা খাঁটিয়ে নিজেদের পরিবেশ থেকে নিজেরাই উদ্ভাবন করে নিতে পারে।

সমস্ত শ্রেষ্ঠ গ্রন্থের কিছু বিরক্তিকর অংশ থাকে এবং সমস্ত মহৎ জীবনেই কিছু কিছু অনাকর্ষণীয় বিস্তার থাকে। ধরা যাক কোনও আমেরিকান প্রকাশকের বিবেচনার জন্যে সেই প্রথম ওল্ড টেস্টামেন্টের পাণ্ডুলিপি দেওয়া হয়েছে। তার মন্তব্য কী হতে পারে তা অনুমান করা কঠিন নয়।

বিশেষ করে এই গ্রন্থের বংশলতিকা অধ্যায় নিয়ে তিনি বলতে পারেন না যে আপনার পাঠকরা কতগুলি মানুষের নাম জানতে আগ্রহী হবে, যাদের সম্বন্ধে আপনি তেমন কিছুই বলেননি। আমি স্বীকার করছি, আপনি শুরুটা খুব সুন্দরভাবে করেছেন। আমি প্রথমে খুব অনুপ্রাণিত হয়েছিলাম, কিন্তু সবকিছু এত বিস্তারিতভাবে বলা অতিশয়োক্তি হয়ে গেছে।

এর ভিতরকার উজ্জ্বল অংশগুলি রেখে অবান্তর অংশ সব বাদ দিয়ে যুক্তিসঙ্গত আকারে কলেবর কমিয়ে পাণ্ডুলিপিটি আবার আমার কাছে নিয়ে আসুন। আধুনিক প্রকাশকের বক্তব্য অনেকটা এই ধরনের। কারণ তিনি আধুনিক পাঠকের বিরক্তির ভয় সম্পর্কে জানেন। তিনি কনফুসিয়াসের(২) শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ, কোরান, মার্ক্সের ক্যাপিটাল এবং অন্যান্য সব পবিত্র গ্রন্থ যেগুলি ‘বেস্ট সেলার’ রূপে প্রমাণিত হয়েছে, সম্পর্কেও একই কথা বলবেন।

শুধু পবিত্র গ্রন্থ সম্বন্ধে নয়, বিরক্তিকর অংশ সম্বলিত সব শ্রেষ্ঠ উপন্যাস নিয়ে তাঁর এই মত। যে উপন্যাসের প্রথম পাতা থেকে শেষ অবধি নানা চিত্তহারী বিষয়ে ঝলমল করে তা অবশ্যই মহৎ কোনও গ্রন্থ নয়। মহৎ লোকের জীবনও, কয়েকটি মহৎ মুহূর্ত ছাড়া সবসময়। চিত্তহরণকারী হয় না।

সক্রেটিস(৩) নিশ্চয় মাঝে মাঝে ভোজসভায় যোগ দিয়েছেন এবং নিশ্চয় হেমলক পানের পর যখন বিষক্রিয়া শুরু হয়েছে তখনও তিনি আলাপচারিতায় প্রচুর তৃপ্তি পেয়েছেন। কিন্তু জীবনের অধিকাংশ কাল তিনি পত্নী জানৰ্থিপের সাথে শান্তিতে কাটিয়েছেন। বিকেলে ভ্রমণের সাহায্যে স্বাস্থ্যচর্চা করেছেন এবং কয়েকজন বন্ধুর সাথে মিলিতও হয়েছেন।

শোনা যায় কান্ট(৪) সারা জীবনে কোয়েনিসবার্গ থেকে দশ মাইলের বেশি দূরত্বে যাননি। ডারউইন(৫) বিশ্ব পরিভ্রমণ শেষ করে অবশিষ্ট জীবন নিজের ঘরেই কাটিয়েছেন। মার্ক্স(৬) কয়েকটি বিদ্রোহের সৃষ্টি করে অবশিষ্ট জীবন ব্রিটিশ মিউজিয়ামে কাটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

মোট কথা, দেখা যাচ্ছে শান্তিপুর্ণভাবে জীবন কাটানোই মহৎ ব্যক্তিদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এবং তাদের আনন্দ উপভোগ এমন নয়; যা বাইরের দৃষ্টিতে উত্তেজনাপূর্ণ মনে হতে পারে। বিরামহীন কাজ ছাড়া কোনও বড় সাফল্য সম্ভব নয়। সুতরাং এই কাজে এমনভাবে আবিষ্ট হতে হবে যে এবং তা এত কঠিন যে, তা শেষ হলে তীব্র কোনও আমোদ উপভোগ করার শক্তি থাকে না।

অবশ্য ছুটির দিনে শারীরিক শক্তি বাড়ানোর জন্যে কঠিন কিছু করা চলে, যার মধ্যে আল্পস পর্বতে আরোহণ করা শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হতে পারে।

কম-বেশি একঘেয়ে জীবনযাপনের ক্ষমতা শৈশবকাল থেকেই অর্জন করা উচিত। এ বিষয়ে আধুনিক পিতা-মাতাদের দোষ দেওয়া যেতে পারে। তারা সন্তানদের উপভোগের জন্যে অতিরিক্ত আমোদ-প্রমোদের ব্যবস্থা করেন, যেমন চলচ্চিত্র প্রদর্শন এবং ভাল ভাল খাদ্যের আয়োজন।

বিশেষ কোনও উপলক্ষ্য ছাড়া সন্তানদের কাছে তাদের একটা দিন যে অন্য দিনের চেয়ে আলাদা হওয়া কতটা প্রয়োজনীয় তা তারা বুঝতে পারেন না। শৈশবের সব আনন্দ এমন হওয়া উচিত যা শিশুরা চেষ্টা করে মাথা খাঁটিয়ে নিজেদের পরিবেশ থেকে নিজেরাই উদ্ভাবন করে নিতে পারে। উত্তেজক আনন্দ, যাতে কোনও দৈহিক পরিশ্রম নেই, যেমন নাটক উপভোগ করা, এমন প্রমোদের ব্যবস্থা তাদের জন্যে খুব কম করা উচিত।

যেমন ইস্টার উৎসবে আমি দু’বছর বয়সের একটি বালককে দেখেছি, যে সবসময় লন্ডনে বাস করেছে সে প্রথম সবুজ গ্রামাঞ্চলে এসে হেঁটে বেড়াবার সুযোগ পেয়েছে। তখন ছিল শীতকাল। প্রত্যেকটি জিনিস ভিজে এবং কর্দমাক্ত, প্রাপ্তবয়সী লোকের চোখে আনন্দজাগানিয়া কিছুই ছিল না। কিন্তু সেই বালকের মধ্যে বিচিত্র এক উল্লাস জেগে উঠল।

এই ধরনের উত্তেজনা নেশার মতো, ধীরে ধীরে তার মাত্রা বাড়ানোর প্রয়োজন দেখা দেয়। উত্তেজনাময় উপভোগের সময় শারীরিক যে নিষ্ক্রিয়তা দেখা যায়, তা স্বাভাবিক প্রবৃত্তির বিপরীত। জমিতে একটি চারাগাছ বাধা না পেলে স্বাভাবিকভাবে সবচেয়ে বেশি বাড়ে। শিশুর ক্ষেত্রে ঠিক তেমনই হয়।

ছোটদের পক্ষে অতিরিক্ত দেশভ্রমণ, বিচিত্র বিষয়ের ওপর তাদের মনে ছাপ ফেলা ভাল নয়। কারণ তা হলে তারা বেড়ে ওঠার সাথে সাথে প্রয়োজনীয় একঘেয়েমিও আর সহ্য করতে পারবে না। আমি বলি না যে একঘেয়েমির নিজস্ব একটা মূল্য আছে। আমি বলি যে কিছু মাত্রায় একঘেয়েমি না থাকলে কোনও কোনও ভাল কাজ সম্ভব হয় না।

ওয়ার্ডওয়ার্থের(৭) ‘প্রেলিউড’-এর কথাই ধরা যাক, প্রত্যেক পাঠকই জানেন তার ভাবনা বা অনুভূতির মূল্য যাই হোক, তার পক্ষেই তা সম্ভব হয়েছে, কোনও কৃত্রিম শহরবাসী যুবকের পক্ষে তা সম্ভব হত না। কোনও বালক বা যুবকের যদি গঠনমূলক কিছু করার ইচ্ছা থাকে তবে তাদের কাজের জন্যে প্রয়োজন হলে তারা স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়েই অনেক বিরক্তি সহ্য করবে।

কিন্তু যে বালক বিক্ষেপ এবং অপচয়ের মধ্যে জীবন কাটিয়েছে তার মনে গঠনমূলক কিছু করবার কামনা জাগ্রত হবে না। এই কারণেই তার মন সব সময় ছুটতে পারে একের পর অন্য আনন্দের দিকে, কিছু সৃষ্টি করার দিকে নয়।

এই অবস্থায় কোনও একটা যুগ যদি বিরক্তিকে সহ্য করতে না পারে, তা হলে সেই যুগ হবে ক্ষুদ্র মানুষের যুগ, যে মানুষ অন্যায়ভাবে প্রকৃতির শান্ত পথ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, যে মানুষের ভিতরকার সব জীবনধর্ম ধীরে ধীরে শুষ্ক হয়ে যায়, সেই মানুষ যেন ফুলদানিতে সাজানো কর্তিত কুসুম।

আমি রহস্যমূলক ভাষা পছন্দ করি না। তবু আমি জানি না, যা বলতে চাই তা কবিতার বিশেষ কাব্যময় ভাষা ব্যবহার না করে বিজ্ঞানের ভাষায় কী করে বলব। আমরা যা কিছু নিয়ে ভাবতে চাই, আমরা যে এই বসুন্ধরার সন্তান সে কথা ভুললে চলবে না। আমাদের জীবন পৃথিবীর জীবনেরই অংশ এবং আমরা সব উদ্ভিদ ও প্রাণীর মতো পৃথিবী থেকেই জীবনের পুষ্টি সংগ্রহ করে থাকি।

বসুন্ধরার জীবনছন্দ ধীরগামী, হেমন্ত এবং শীত বসুন্ধরার পক্ষে ততটুকু প্রয়োজন ঠিক যতটুকু প্রয়োজন বসন্ত ও গ্রীষ্ম। স্থিতি তেমনি অপরিহার্য যেমনি গতি। প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের চেয়েও শিশুর পক্ষে পার্থিব জীবনের জোয়ার-ভাটার প্রবাহের সাথে সংযোগ রাখা বেশি প্রয়োজন। মানুষের দেহ যুগ যুগ ধরে এই ছন্দের সাথে নিজেদের মানিয়ে নিয়েছে এবং ধর্ম তার থেকে কিছু অংশ নিয়ে ইস্টার উৎসবের সাথে মিলিয়ে দিয়েছে।

যেমন ইস্টার উৎসবে আমি দু’বছর বয়সের একটি বালককে দেখেছি, যে সবসময় লন্ডনে বাস করেছে সে প্রথম সবুজ গ্রামাঞ্চলে এসে হেঁটে বেড়াবার সুযোগ পেয়েছে। তখন ছিল শীতকাল। প্রত্যেকটি জিনিস ভিজে এবং কর্দমাক্ত, প্রাপ্তবয়সী লোকের চোখে আনন্দজাগানিয়া কিছুই ছিল না। কিন্তু সেই বালকের মধ্যে বিচিত্র এক উল্লাস জেগে উঠল।

অথবা প্রেম এবং শুধু যৌন আকর্ষণের তফাতের কথা ভাবুন, প্রেম এমন এক উপলব্ধি যার মধ্যে দীর্ঘ খরার পর সৃষ্টি স্পর্শ পেলে উদ্ভিদের যেমন হয়, তেমনি আমাদের সকল সত্তা নতুন জীবন পায় এবং সতেজ হয়। প্রেম-বিহীন যৌনমিলনে এই উপলব্ধির কোনও সন্ধান পাওয়া যাবে না, যখন ক্ষণিকের আনন্দ শেষ হয়ে যাবে, পড়ে থাকবে শুধু ক্লান্তি, ঘৃণা এবং জীবনের শূন্যতাবোধ। প্রেম পার্থিব জীবনের অঙ্গ, প্রেমবিহীন যৌনমিলন তা নয়।

সে ভিজে মাটির ওপর নতজানু হয়ে বসল আর মুখখানা ডুবিয়ে দিল সবুজ ঘাসের মধ্যে এবং অর্ধস্ফুট উল্লাসধ্বনি করতে লাগল। যে আনন্দ সেই বালক উপভোগ করছিল তা আদিম, সরল এবং অনন্য। এতে তার যে দৈহিক ও মানসিক চাহিদার তৃপ্তিসাধন হচ্ছিল, তা এমন গভীর যে, যাদের এই প্রয়োজন থেকে দূরে রাখা হয়, তারা কমই মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে পারে।

অনেক আনন্দের মধ্যে, যেমন জুয়াখেলা তার একটি ভাল উদাহরণ হতে পারে, মাটির সাথে তাদের কোনও সংযোগ নেই। এরকম আনন্দ যখন শেষ হয়, তা মানুষের মনে ঘৃণার বোধ জাগিয়ে তোলে, তাকে অতৃপ্ত রেখে যায়। কিন্তু তার কারণ কী, তা সে বুঝতে পারে না। এই আনন্দ এমন কিছুই দেয় না।

যাকে আমোদ বলা যেতে পারে, বরং যেসব আমোদ-প্রমোদ আমাদের বসুন্ধরার প্রাণের সাথে সংযোগ ঘটায় তার মধ্যে এমন কিছু থাকে যা আমাদের গভীরভাবে তৃপ্তি দেয়। যখন তার অবসান হয়; তখন যে আনন্দ সে বহন করে আনে তার রেশ থেকে যায়, যদিও যখন তারা থাকে তাদের তীব্রতা অন্যান্য উদ্দীপক এবং চিত্তচাঞ্চল্যকর আমোদের চেয়ে কম হতে পারে।

এই দুইয়ের পার্থক্য সম্পর্কে আমার মনে যা আছে, তা স্বরলহরীর সব স্তরের কাজের মধ্যেই আছে, সরলতম কাজ থেকে সূক্ষ্মতম সব কাজের মধ্যে। যে দু বছরের বালকটির কথা কিছুক্ষণ আগে বলেছি, সে পৃথিবীর জীবনের সাথে মিলনের যতদূর সম্ভব আদিমতম রূপটি তুলে ধরেছে। কিন্তু উচ্চতর স্তরে এই জিনিসটি পাওয়া যাবে কবিতার মধ্যে।

শেক্সপীয়ারের গীতিকবিতা এত সুন্দর হতে পেরেছে এই জন্যে যে, তা এই একই আনন্দে পূর্ণ, যে আনন্দ দুই বছরের বালককে ঘাসকে আলিঙ্গন করার প্রেরণা দিয়েছিল, ‘ঐ শোনো লার্ক পাখির গান এবং ঐ হলুদ বালু কণিকারা কাছে এসো’– এই দুটি কবিতার কথা মনে করুন, দেখবেন এই কবিতা দুটির মধ্যে সেই দুই বছরের বালকের আধো আধো উচ্চারণে প্রকাশিত সেই একই আবেগ যে সুসংস্কৃত ভাষায় ফুটে উঠেছে।

অথবা প্রেম এবং শুধু যৌন আকর্ষণের তফাতের কথা ভাবুন, প্রেম এমন এক উপলব্ধি যার মধ্যে দীর্ঘ খরার পর সৃষ্টি স্পর্শ পেলে উদ্ভিদের যেমন হয়, তেমনি আমাদের সকল সত্তা নতুন জীবন পায় এবং সতেজ হয়। প্রেম-বিহীন যৌনমিলনে এই উপলব্ধির কোনও সন্ধান পাওয়া যাবে না, যখন ক্ষণিকের আনন্দ শেষ হয়ে যাবে, পড়ে থাকবে শুধু ক্লান্তি, ঘৃণা এবং জীবনের শূন্যতাবোধ। প্রেম পার্থিব জীবনের অঙ্গ, প্রেমবিহীন যৌনমিলন তা নয়।

যে বিশেষ ধরনের বিরক্তিতে আধুনিক নাগরিকরা ভুগছে তা পার্থিব জীবনের সাথে তাদের যে বিচ্ছেদ ঘটেছে তার সাথেই ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। মরুভূমিতে তীর্থযাত্রার মতোই এ জিনিস জীবনকে তাপিত, ধূলিময় এবং তৃষিত করে তোলে। যাদের নিজেদের পছন্দানুযায়ী জীবনধারা বেছে নেওয়ার মতো সঙ্গতি রয়েছে, তাদের মধ্যে যারা বিশেষ ধরনের অসহনীয় বিরক্তিতে ভোগে, তাদের সেই বিরক্তির কারণ শুনতে আত্মবিরোধী মনে হলেও তা হচ্ছে বিরক্তির ভীতি।

কল্যাণকর বিরক্তি থেকে পালিয়ে গিয়ে তারা দ্বিতীয় শ্রেণীর কবলে গিয়ে পড়েন এবং তা অনেক বেশি খারাপ। সুখী জীবন অনেক পরিমাণে শান্ত জীবন হওয়া উচিত। কেননা এইটাই একমাত্র পথ। শান্তিময় পরিবেশেই আনন্দ বেঁচে থাকে।

অবসাদ>>

……………………………….
ভাববাদ-আধ্যাত্মবাদ-সাধুগুরু নিয়ে লিখুন ভবঘুরেকথা.কম-এ
লেখা পাঠিয়ে দিন- voboghurekotha@gmail.com
……………………………….

……………..
১. জেন অস্টেন, Jane Austen (১৭৭৫-১৮১৭)। ব্রিটিশ মহিলা ঔপন্যাসিক। সৌজন্য, শিষ্টাচার, সামাজিক নীতিবোধের আদর্শে বিশ্বাসী। তাঁর রচনা নিখুঁত শিল্পলাবণ্যে উজ্জ্বল।

২. কনফিউসিয়াস, Confucius (খ্রীঃ পূঃ ৫৫০-৪৭৯)। চৈনিক দার্শনিক। একজন প্রজ্ঞাবান দার্শনিক রূপে পৃথিবীতে আজও স্বীকৃত এবং সম্পূজিত।

৩. সক্রেটিস, Socrates (খ্রীঃ পূঃ ৪৬৯-৩৯৯)। প্রাচীন গ্রীসের বিশ্বনন্দিত দার্শনিক। তিনি ছিলেন পৃথিবীতে নীতি-নৈতিকতার প্রবর্তক। প্লেটো (Plato) তাঁর প্রখ্যাত শিষ্য।

৪. কান্ট, Immanuel Kant (১৮০৯-১৮৮২)। জার্মান দার্শনিক ও বিজ্ঞানী।

৫. ডারউইন, Charles Robert Darwin (১৮০৯-১৮৮২)। অবিস্মরণীয় জীব-বিজ্ঞানী, ‘Origin of Species’ তার প্রাণীজগতের ধর্মীয় সৃষ্টিতত্ত্বেও বিরোধী বিপ্লবাত্মক গ্রন্থ।

৬. মার্কস, Karl Marx (১৮১৮-১৮৮৩)। রাইনল্যান্ডে জন্ম, ইহুদি সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। সাম্যবাদী মতবাদের প্রবক্তা। ‘Das Capital’ তাঁর কালজয়ী গ্রন্থ। যাকে বলা হয় ‘Bible of the Proletariat’। ৭. ওয়ার্ডওয়ার্থ, William Wordsworth (১৭৭০-১৮৫০) ইংরেজি সাহিত্যের রোমান্টিক কবি।

……………………
সুখের সন্ধানে- বার্ট্রান্ড রাসেল।
অনুবাদক- আতা-ই-রাব্বি।

……………….
আরও পড়ুন-
মানুষ কী কারণে অসুখী হয়?
বায়রনীয় অ-সুখ
বিরক্তি এবং উত্তেজনা
অবসাদ
ঈর্ষা
পাপের চেতনা
সুখলাভ কি তবু সম্ভব?
উদ্দীপনা
স্নেহ-ভালবাসা
সুখী মানুষ

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

error: Content is protected !!