খাজা নিজামউদ্দিন আউলিয়া

দিল্লীর নিজামউদ্দিন আউলিয়া: কিস্তি চার

-মূর্শেদূল মেরাজ

নিজামউদ্দিন আউলিয়ার চিশতিয়া তরিকার শুরু

  • আবু ইশক শামি।
  • আবু আহমদ আবদাল।
  • আবু মুহাম্মদ বিন আবি আহমদ।
  • আবু ইউসুফ বিন সামান।
  • মাউদুদ চিশতি।
  • শরীফ জানদানি।
  • উসমান হারুনি।
  • মঈনুদ্দিন চিশতি।
  • কুতুবউদ্দিন বখতিয়ার কাকী।
  • ফরিদউদ্দিন গঞ্জেশকার।
  • নিজামউদ্দিন আউলিয়া।

 

নিজামউদ্দিন আউলিয়ার উপাধি-

  • মেহবুব-এ-ইলাহি (ইলাহ বা আল্লাহর ভালবাসার পাত্র)।
  • সুলতান-উল-মাশায়েখ (মাশায়েখদের রাজা)।
  • ইমাম -উল-মেহবুবিন (মেহবুবিনদের নেতা)।
  • মালিক-উল-ফুকরা ওয়াল মাসাকীন।
  • তাজ-উল-মুকাররবীন।
  • মেহফিল-এ-সুখান (মেহফিলের আকর্ষণ)।
  • জারি’জার বকশ (সোনা ও রুপা বিতরণকারী)।
  • নিজামউদ্দিন বা’হাত।
  • মেহফিল-এ-শিখার।
  • তাবিব-ই-দিল।
  • গাউন-উল-আলম (পৃথিবীর গাউস)।
  • জাগ উজিয়ারে (পৃথিবীর আলো)।

নিজামউদ্দিন আউলিয়াকে ঘিরে প্রচুর কাহিনী প্রচলিত আছে। তার মধ্যে কয়েকটা সংক্ষিপ্তাকারে উল্লেখ করা হলো-

১.
কথিত আছে, চিকিৎসকরা যখন যক্ষ্মারোগে আক্রান্ত মাওলানা ওয়াজিহুদ্দিনের বেঁচে থাকার সকল আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। তখন বন্ধুদের পরামর্শে ওয়াজিহুদ্দিন একদিন ইফতারের সময় নিজামউদ্দিন আউলিয়ার দরবারে উপস্থিত হন। সেসময় এক মুরিদ নিজামউদ্দিনের জন্য মেথির লাড্ডু নিয়ে আসে।

নিজামউদ্দিন তার এক খাদেমকে ডেকে উপস্থিত সকলের হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করতে বললেন। দশজন দশজন করে খাবারের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিলেন। সাথে বলে দিলেন, ‘বিসমিল্লাহ শরীফ’ বলে প্রত্যেককে রুটির চারভাগের এক ভাগ করে দিতে।

নিজামউদ্দিনের আহ্বানে সকলের সাথে ওয়াজিহুদ্দিনও ইফতার করতে বসেন। ইফতারের এক পর্যায়ে এসে তিনি সুস্বাদু ঐ মেথির লাড্ডু মুখে দিয়ে অভিভূত হয়ে পড়েন। যক্ষ্মারোগীদের জন্য তা মেথি আত্মঘাতী হিসেবে পরিচিত থাকলেও সেই লাড্ডু খেয়েই মাওলানা সাহেব আরোগ্য লাভ করেন। এরপর মাওলানা সাহেব নিজামউদ্দিন আউলিয়ার শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন।

২.
নিজামউদ্দিন আউলিয়া একবার শিষ্যদের জন্য ‘সামা’ মাহফিল আয়োজন করেন। মাহফিলে ৫০-৬০ জনের রান্নার আয়োজন করা হলেও দেখতে দেখতে সহস্রাধিক লোক জড়ো হয়ে গেলো। এতো লোক দেখে শিষ্যরা বিচলিত হয়ে পরে।

নিজামউদ্দিন তার এক খাদেমকে ডেকে উপস্থিত সকলের হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করতে বললেন। দশজন দশজন করে খাবারের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিলেন। সাথে বলে দিলেন, ‘বিসমিল্লাহ শরীফ’ বলে প্রত্যেককে রুটির চারভাগের এক ভাগ করে দিতে।

এই নির্দেশ পালনের পর বিস্ময়ের সাথে খাদেমরা খেয়াল করল অতিথিরা খেয়ে দরগাহ থেকে চলে যাওয়ার পরও রুটি অবশিষ্ট আছে।

৩.
নিজামউদ্দিন আউলিয়ার নামের সাথে ডাকাত ও বাটপার শব্দ দুটি গিরে নানা কাহিনী প্রচলিত আছে। তাবে তার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। অনেকে বলেন সেই নিজাম ডাকাত, বাপটার নিজাম আর নিজামউদ্দিন আউলিয়া এক ব্যক্তি নন।

আবার অনেকে বলেন, প্রথম জীবনে তিনি ডাকাত ছিলেন। তাই বেশি দিন তার ডাকাতি করা হয়নি। ডাকাতি ছেড়ে আউলিয়া হয়েছিলেন নিজামউদ্দিন। যিনি নিজে ছিলেন ঘোর অন্ধকার জগতে, সেই নিজামউদ্দিনই আলো ছড়িয়ে চলেছেন কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে।

প্রচলিত আছে, নিজাম ডাকাত ৯৯ জনকে খুন করার পর আউলিয়া হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।

তবে বেশিভাগ ঐতিহাসিক মনে করেন, সেসব আদৌতে কল্পকাহিনী।

(সমাপ্ত)

……………………………
আরো পড়ুন:
দিল্লীর নিজামউদ্দিন আউলিয়া-১
দিল্লীর নিজামউদ্দিন আউলিয়া-২
দিল্লীর নিজামউদ্দিন আউলিয়া-৩
দিল্লীর নিজামউদ্দিন আউলিয়া-৪

…………
তথ্যসূত্র:
উইকিপিডিয়াসমূহ

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!