খাদেম জাফর কাকার জবানে গণি শাহ্ বাবা

খাদেম জাফর কাকার জবানে গণি শাহ্ বাবা: কিস্তি চার

-মূর্শেদূল মেরাজ

দয়াল বাবা শুধু ভক্তের জন্যই আইছে। ভক্তের মুক্তির জন্যই আইছে। নবীজী যদি সম্পদ চাইতো, তাইলে তো পুরা সৌদিআরবই স্বর্ণ দিয়া মুইড়া দিতে মানুষে; তাই না? উনি কি চাইছে? উনার পরিবারই কিন্তু সবচেয়ে কষ্ট করে চলছে।

ইসলামের ইতিহাস যদি দেখেন। উনার পরিবারই কিন্তু সবচেয়ে কষ্ট করে চলছে। না চলছে না? যার যা দরকার। উনার দরকার উম্মতের। টাকার না তো। স্বর্ণের না তো।

তেমনি দয়াল বাবা দুনিয়ায় টেকা পয়সার লাইগ্যা আসছে না। ভক্তের মুক্তির জন্যই আইছে। দয়ালের এক ভক্ত ছিল শহিদুল্লাহ সাব। স্বাধীনতার পর দয়ালের কাছে আসছিল। খালি কান্দাকাটি করতো। দয়াল একদিন চাইরানা পয়সা দিয়া কইছিল- যা লইয়্যা যা। সে তারপর কুটি কুটি টেকার মালিক হইয়া গেছে গা।

যে বেটা ঠেলা দিলেই পররে কুটি কুটি টেকার মালিক বানাইতারে; আঙ্গুল ইশারা দিলে। সেই বেটার টেকার কি কাম? আর সম্পত্তির কি কাম? যেই যেভাবে দয়াল বাবারে চায় এইভাবেই পায়। উনি দয়াল নাম ধইরা আইছে। হেইলারে যে যেভাবে স্মরণ করে সেইভাবেই পাইতাছে।

তবে উনি জাতি ধর্ম নির্বিশেষে। উনি শুধু আমার, আপনের, অমুকের? নাহ্। উনি সবার। উনার কাছে সব জাতি একই। খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, হিন্দু, চামার সব একই। উনার কাছে হিংসা-বিদ্বেষ কিছু নাই।

উনি ওফাতের পর যতদূর প্রকাশ হইছে। উনি দেহে থাকতে যদি আরেকটু প্রকাশ পাইতো। তাইলে দেখতেন। লোকে লোকারণ্য হয়ে যাইতো। হে তো খালি চাইপ্প্যা থাকছে। এইটা সত্যই যে, ওফাতের পরই উনি বেশি প্রকাশ পাইছে।

এহন এইখানে বৎসরে তিনটা অনুষ্ঠান হয়। একটা অনুষ্ঠান হয় উনার ভক্ত সম্মেলন। এইটা আমরা মহাসম্মেলন লেহি। সব ভক্তদের মিলনমেলা। সেটা অনুষ্ঠিত হয় বাংলা মাঘ মাসের ৫ তারিখ। ইংরেজি হইলো জানুয়ারির ১৮-২০।

আর ২৬শে ফাল্গুন যে হয়, সেটা উনার ওফাত দিবস। যেদিন উনি বিদায় নিছেন। সেইটা হয় মার্চের ১০-১১। আর ৫ বৈশাখ হয়; উনার চল্লিশা উপলক্ষ্যে। মৃত্যুর তারিখের চল্লিশদিন পর যে অনুষ্ঠানটা হয়। দয়াল থাকতে খালি মাঘ মাসের ৫ তারিখের অনুষ্ঠানটা হইতো।

তখনো প্রচুর লোক হইতো। অনুষ্ঠান গান-টান হইতো। দয়াল একখানো বয়া থাকতো। প্রচুর মানুষ হইতো। সেই সময় পুষ্কুনি পাড় থেকে গেট এই পর্যন্ত মানুষ আইতে পা মাটিতে দেওন লাগছে না। খাঁড়ইলে ধাক্কায়া লয়া আইছে। প্রচুর লোক মারাও গেছে। এক দুইজন মারাও গেছে। নিচে পরছে যে আর উঠতারছে না।

এই হাপে ছোঁপ দিলে জানে বাঁচতেন না। উনি মজনু। মজনু হাওলাতে উনারে ডাকতে দেন। এরপর এই এলাকার মোল্লারা চুপ হইছে। একচুয়ালি যাদের আধ্যাত্মিক জগতের জ্ঞান আছে বা কিছু না কিছু তাদের এই পথের জ্ঞান আছে, উনার এইখান দিয়া আইলে কেউ উনার দিকে ফিরা চায়।

অহনো প্রচুর লোক হয় মহাসম্মেলনে। দয়াল মনে করেন যে, আমরা যা দেখছি যতদূর, আমরা তো লেহাপড়া জানি না। অজ্ঞানী মানুষ। দয়াল যতটুক রাখছে ততটুকুই করি। আমরা তো আর সুযোগ পাই নাই লেহাপড়ার। পাইলেও কাল কাটাইছি অন্য হানো।

আগে দয়ালরে ‘গনি মিঞা’ নামে ডাকতো। বাইল্য কাল থেকে নাম আছিলোো গনি মিঞা। প্রথমের এক দুই সম্মেলন মনে হয় গনি মিঞা নামেই হইছে। এরপরে না উনার ‘দয়াল বাবা’ টাইটেল। তবে সম্মেলন অনুষ্ঠানও কিন্তু ভক্তরাই শুরু করছে। উনি এইসব ব্যাপারে কোনদিনও কিছু বলছে না।

ভক্তরা গিয়া ফরিয়াদ করছে সম্মেলনের জন্য। যায়া বলছি- আপনি যদি দয়া কইরা অনুমতি দেন। সকলতে মিল্লা এই তারিখটাই নির্ধারণ করছি। ঐ তারিখেই হয়ে আসছে। সম্মেলন হিসেবে ভক্তরা সব এক হইবো। ভক্তরা আইবো-যাইবো।

সব ভাইয়েরা একসাথে, দেখা-সাক্ষাৎ হইবো। আনন্দ করবো। এইটাই মহাসম্মেলন। আর ওফাতের দিনে তো ভক্তরা যার যার মতোন আসে। কান্নাকাটি করে। ঐখান থেইক্ক্যাই। ঐ যে চার-পাঁচ ভক্তরা যে যেয়ে দাবী করছে। সেইটা থেকেই শুরু। আর সেইটাই আস্তে আস্তে এতো বড় রূপ ধারণ করছে।

সম্মেলনে এহন তিন দিন গান হয়। একদিন, প্রথমদিন ওয়াজ নসিহত হইবো। মিলাদ হইবো। পরদিন সকাল থেকে মিলাদ হইবো। আর রাত দশটার পর থেকে গান। সারারাতই গান হইবো। আবার পরদিনও একটু মিলাদ হইবো। আর শেষ দিনে আখেরি মোনাজাত হইবো।

মাওলানা মাসুম সাব ছিলেন বড় মাওলানা। আমরা হেই বৎসর আনছিলাম মাওলানা মাসুমরে। সম্ভবত চতুর্থ সম্মেলনে। এই এলাকার মোল্লারা তো মাওলানা মাসুমের উপর যে খ্যাপা খ্যাপছে। উনি এতো বড় একজন মাওলানা। এই ল্যাংডা বেডার এইখানে আইলো কেমনে?

মাওলানা মাসুম সাব এইখানে ওয়াজ করোনের সম কইছিল- আপনরা তো উনারে পছন্দ করেন না। তাও একটা কতা আপনেগো জিগাই। উনি কাউরে ডাকে? মানু কয়- না। উনি কেউরে কয় আইতে? কয়- না। কেউতে কিছু চায়? বলে- না। তো হাপের লেজ দিয়া কান খাউজ্জাইয়েন না।

এই হাপে ছোঁপ দিলে জানে বাঁচতেন না। উনি মজনু। মজনু হাওলাতে উনারে ডাকতে দেন। এরপর এই এলাকার মোল্লারা চুপ হইছে। একচুয়ালি যাদের আধ্যাত্মিক জগতের জ্ঞান আছে বা কিছু না কিছু তাদের এই পথের জ্ঞান আছে, উনার এইখান দিয়া আইলে কেউ উনার দিকে ফিরা চায়।

হেই সময় দয়াল আবার পানও খাইতো। কয়- একটা পান দাও। পান দিলাম। পানটা খাইলো। আমরা কইতাছি- বাজান! যে অবস্থা আমরা কি করমু! হেইলা মুচকি মুচকি হাসে। যেই সম মাঠো মাইকে কইছে- চলো দয়ালের ঐখানে যায়া উঠায়া পিডাই। হেই তিন দিন পর পাগল হইয়া দয়ালের কাছে আয়া পরছে।

এমুন অনেক পীর সাহেব দেখছি। বারিখোলার এক পীর সাহেব আছিলো। উনি আইতো। উনারো কিছু ভক্তবৃন্দ আছিলো এই এলাকায়। উনারে একবার পালকি দিয়া আনছিল এলাকায়। আনার পরে উনারে এলাকার লোকে কইছিল, এইখানে এক পাগল থাকে।

উনি এইসব শুইনা উনার ভক্তদের কইছিল- যাওই করো। উনার সাথে বেদ্দোবি কইরো না। তাইলে জানে বাঁচতা না। আমি যে তোমরারে কিছু করমু; হেই চিন্তাও কইরো না।

যার অন্তরচক্ষু আছে বা কিছু আছে হেই উনারে অনুভব করতাছে। এখানে তার ভক্তবৃন্দুরে তিনি সেই ভাবে তালাশ দিয়া গেছে। বলছে- অনেকে গালাগালি করতাছে পাছে। এসব তোমার দেখার ব্যাপার না। সেইটা হেই বেডার দেখার ব্যাপার।

একবার আমরা তখন সড়কের এইপাড়ে থাকি। মাটি ফালাইসে তখন। রাস্তাটা হইছিল মাত্র। আমরা সাইডে থাকি। সলিমগঞ্জের বাজারের মধ্যে সব মাওলানা-মৌলভীরা এক হইছে। নবীনগর থেকে শুরু কইরা সব এলাকা থেকে যত হুজুর আসছে; সব জমছে। আমরারে এইখান থেকে বাইড়ায়ে উঠাইবো।

ল্যাংডা বেডা বেডি লইয়া পইরা থাকে। এটা সমাজের বিরুদ্ধে। নবীনগর পর্যন্ত সব মাদ্রাসার পোলাপান এইখানে আইছে। পুরা মাঠ ভরছে স্কুলোর। হাই স্কুলের মাঠটা ভরছে। এমুন সময় আমরা কয়েকজন লোক। আমরা দয়ালের লগো। আমরারে বাইড়াইবো আমরাও তো ভয়ে ভীতু।

হাজার হাজার লোকের ঠেলায় তো আমরা দুইজনে তিনজনে পারমু না। এনো কিছু আশেপাশে ভক্ত আছে তারাও আইসা হাজির হইছে। কয়- মরমু নইলে মারমু। এরমধ্যে দয়াল মুচকি মুচকি হাসে। সেই দিন আমি একটা দৃশ্য দেখছি; আমি তো ছুডু। পাঁচটার সময় মিটিং-এর ডেট দিছে। সবাই জমছে।

বক্তৃতা-টক্তিতা দিতাছে। এমুনি চাইরটা-সাড়ে চাইরট্টা বাজতাছে। এমুনি আসরের পরপর। দয়াল কয়- বাজান মাথার মধ্যে তেল দেও না। হেইলার মাথার মধ্যে তেল দিলাম। তেল দেওয়ার পর কইছে মাথাটা আঁচরাও। মাথাটা আঁচরায়া দিলাম। শরীরে তেলতুল দিয়া দিলাম।

হেই সময় দয়াল আবার পানও খাইতো। কয়- একটা পান দাও। পান দিলাম। পানটা খাইলো। আমরা কইতাছি- বাজান! যে অবস্থা আমরা কি করমু! হেইলা মুচকি মুচকি হাসে। যেই সম মাঠো মাইকে কইছে- চলো দয়ালের ঐখানে যায়া উঠায়া পিডাই। হেই তিন দিন পর পাগল হইয়া দয়ালের কাছে আয়া পরছে।

কিন্তু আমরা কি কাজ করলাম? আমার ঈমান এবং আকিদা কি? ইসলামের পাঁচটা তম্মুর ভেতরে আমরা কোনটা করতেছি? নিজকে দিয়ে কি তা বিবেচনা কইরা দেখছি? নিজের বিবেকরে একবার সাড়া দিয়া দেখছি? ইসলামের পাঁচটা তম্মুর ভেতরে আমরা কোনটা করতেছি?

এক ঘণ্টার মধ্যে সেই মোল্লার দল যে কই গেছে। কারো কোনো অস্তিত্ব বিছরায়া পাওয়া গেছে না। এক ঘূর্ণিঝড়ের ঠেলায় যে কই গেছে। হেরা আর দয়ালরে উঠাইবো কুন সময়? হেরাই রাস্তা পাইছেনা বিছরাইয়া কই যাইবো। আধঘণ্টা ধইরা যে তুফান চালাইছে হেইলা। কই গেছে মানুষ। কই গেছে কি।

বিছরাইয়া কোনো মানুষরে পাওয়া গেছে না। আর আমগো উডার কেডা। এইটা তো বাস্তব। পুরা এলাকা। পুরা নবীনগর এলাকার লোক জমছিল। দয়ালরে উঠাইতো। হেই নবীনগর মাদ্রাসার পোলা আছিলো আবুল কালাম বইলা। হেরে দিছিলো বক্তৃতা দিতো। হেই তিন দিন পর হের বাপেরে লগে লইয়া আইছে।

পাগল হইয়া গেছে গা। হের বাপে বহুদিন বইয়া দয়ালের সামনে কান্নাকাটি করছে। শেষে বালা হইছে। এহনো সাপ্তায় সাপ্তায় আহে। উনি ইচ্ছা করলে যে কোনো… উনার লাঠি ভাঙ্গন লাগতো না। আমগো সেটা ভয়ে লাঠি লইয়া খাঁড়ন লাগে। এইটা তো বাস্তব। এলাকায় জিগায়েন। তয় জানতে পারবেন।

অহন একটাই কথা, আমরা জানি বাকি জীবন হেইলার উপর বিশ্বাস রাইখা মরতাম পারি। দোয়া-কালাম জানি না। আমরা তো আর কিতাব পরতাম পারি না। আমরা খালি জানি দয়াল বাবা। উনার ভক্তরা উনারে চিনলেই হয়। আর বেশি চিনার দরকার নাই।

এইটাই সহজ রাস্তা। দয়াল দয়া হইলে কাছে নিও। নাইলে রাস্তায় ফালায়া রাইখো। সবই তোমার উপরে। আমরা মুসলমান মুসলমান কই। কিন্তু মুসলমান কি জিনিস তা কিন্তু চিনি না। আমরা ধর্ম ধর্ম করতেছি। ধর্ম কি চিনি? রাসুলুল্লাহ বইলা গেছে, মানবজাতির কল্যাণের জন্যই সবকিছু।

আমরা তো মানবজাতির কল্যাণে নাই। মানুষরে মারার তালে আছি। টেকা চুরির করার তালে আছি। সিন্দুক ভরার তালে আছি। এর নাম ধর্ম!!!

ইসলাম ধর্ম সবচাইতে বড় ধর্ম। ইসলাম মানবজাতির কল্যাণের জন্য আসছে। হোক সে হিন্দু, হোক সে মুসলমান, হোক সে খ্রিস্টান, হোক সে বৌদ্ধ। এটা কোনো প্রশ্ন না। প্রশ্ন হইলো- ইসলাম কোনোদিন কোনো ধর্মরে আঘাত করতে পারবে না।

আমরা এইসব কি করতেছি? হিংসা দিয়া আমরা সব গড়াগড়ি করতাছি। ধর্ম আমরা বুঝিই না; এই হইলো কথা। আমরা বুঝি আমার বাপে মুসলমান আছিলো। মা মুসলমান আছিলো। আমরা মুসলমান। আমরা মুসলমানের ঘরে পয়দা হইছি। আমরাও মুসলমান।

কিন্তু আমরা কি কাজ করলাম? আমার ঈমান এবং আকিদা কি? ইসলামের পাঁচটা তম্মুর ভেতরে আমরা কোনটা করতেছি? নিজকে দিয়ে কি তা বিবেচনা কইরা দেখছি? নিজের বিবেকরে একবার সাড়া দিয়া দেখছি? ইসলামের পাঁচটা তম্মুর ভেতরে আমরা কোনটা করতেছি?

হেন দিয়া গেলেও দেহে। আমার জীবনে একদিন বাস্তব। একদিন খুব ক্ষুধার্ত। স্বাধীনের পর কিন্তু দেশে অভাব ছিল। প্রচুর অভাব ছিল। সেই দিন দয়ালও সারাদিন কিছু খায় নাই। আমরাও কিছু খাইছি না। খানাটানা আছে। কিন্তু দয়াল না খাইলে তো আমরাও খাই না। কিন্তু খুব ক্ষুধার্ত।

মিছা কতা কইও না। হক-হালাল খাইও। হারাম খাইও না। নিজের হালাল কামাই খাও। কোনডায় আছি আমরা? এই জন্যই তো কইলাম। ইসলাম ইসলাম বলে যে বস্তুটা আছে, তার কোনোডাই তো আমরা করি না। আমরা তো কোনো কিছু আমল করি না।

না আমরা রাসুলের ইবাদত ঠিকমতো করি। না পীরের ইবাদত ঠিক মতো করি। না করি আমরা মুর্শিদের ইবাদত। এমুন একটা জায়গার মধ্যে আমরা থাকি। কোনো কিছুই করতারিনা। কিছু সংসারি, কিছু লোভ, কিছু মায়া, কিছু মোহ। আমরারে পুরাই গ্রাস কইরা রাখছে। এরই থেইক্ক্যা আমরা বইর হইয়া আইতে পারি না।

এর লেইগ্গ্যাই মানুষে মানুষের ভেতরে কিন্তু মায়া দয়া নাই। এই আল্লাহর অলিরা আছে। এই কারণে আমরা আছি। তাদের ছত্রছায়া বা তাদের দয়ার উপর আমরা থাকি। তাদের উছিলাই তো আল্লাহ রহমত করে। এই রহমতের উছিলায় আমরা বাস করি।

দয়ালরা চাইর ভাই। পাঁচ বইন। দয়াল ভাইয়ের মধ্যে দুই নাম্বার। বড়জনের নাম ছিল সুলতান মিঞা, দয়াল বাবা গণি শাহ্, এরপর আব্দুল করিম, এরপর মোবারক হোসেন। এই চাইর ভাই। উনারা চাইরো ভাই বিদায় নিছে। বোনরাও বিদায় নিছে।

নৌকার মধ্যে আমরা দয়ালসহ চার-পাঁচজন থাকতাম। বাকিরা কেউ হেনো থাকছে। কেউ অনো থাকছে। এরমধ্যে দয়াল যারে রাখছে সেই নৌকায় থাকতাম পারছে। সবাই শুইতাম পারে নাই নৌকায়। কইছে- এই নাম। যারে কইছে- উডো। হেই উঠতারছে।

আমি যে এতো কাছে থাকছি। আমারেও নামায়া দিছে। আমার আর উডার ক্ষমতা হইছে না। আবার ডাইক্ক্যা উডাইছে। কইছে- আইয়ো। তখন ইলা যখন যারে যেডা কইছে হেইটাই। উনার বাইরে কেউ কিছু করার মতোন নাই। আপনি পাছে দিয়া চুরি কইরা যাইবেন হেইলা টের পাইয়া গেছে।

হেন দিয়া গেলেও দেহে। আমার জীবনে একদিন বাস্তব। একদিন খুব ক্ষুধার্ত। স্বাধীনের পর কিন্তু দেশে অভাব ছিল। প্রচুর অভাব ছিল। সেই দিন দয়ালও সারাদিন কিছু খায় নাই। আমরাও কিছু খাইছি না। খানাটানা আছে। কিন্তু দয়াল না খাইলে তো আমরাও খাই না। কিন্তু খুব ক্ষুধার্ত।

এমুনি রাত্রে শুয়া রইছে। আমি নৌকার শুয়া রইছি। দয়ালও শুয়া রইছে। আমিও শুয়া রইছি। আমরা হগলতোই মনে করেন শুয়া রইছি। এহন এতো খিদা লাগছে। আমি কই গিয়া দুইটা ভাত খায়া আহি। নৌকার পাছার মাঝে খানাটানা আছে। হেইফিল।

আমি খালি হেইলার এইদিক দিয়া পা একটা বাড়াইছি। আমারে কয় কি- হেফিল যায় না। চোরাহাঁটি যাইয়ো না। তুমি ঘুমায়া থাকো।

আমি হেইফিল দিয়া যাইতাছি। কয়- চোরাহাঁটি যাইয়ো না। আমার খিদায় জ্বলে পেট। কয় হেইফিল যাইয়ো না। হেইলা ঘুমাইলেও চোখে দেখে। পরায় সময়ই দেখা গেছে। যাক! মালিকের উছিলা।

(সমাপ্ত)

<<খাদেম জাফর কাকার জবানে গণি শাহ্ বাবা: কিস্তি এক

……………………….
আঞ্চলিক ভাষার কিছু শব্দার্থ-

আওয়ার= আসার।
আন্তারে= আনতে পারে।
আমরাও= আমাদেরও।
আমরার= আমাদের।
ইলা= উনি।
উনায়ই = উনিই।
এখন= এখন।
এলান= এইটা।
কিয়ের= কিসের।
খাঁড়া= দাঁড়ানো।
গাং= নদী।
চাইর= চার।
চুইক্ক্যা= চুক্তি করে।
ছুডু= ছোট।
জওব= জবাব।
থায়ে = থাকে।
থাইকা=থেকে।
পাছে = পেছনে।
বইন= বোন।
বয়া= বসে।
বাইল্য= বাল্যকাল।
বোগলে= কাছে।
বিছরাইয়া= খোঁজ করে।
লাইগ্গ্যা= জন্য।
মুহে= মুখে।
মুর= পাশ।
তহনো= তখনো।
সমকা= সময়ে।
সম= সময়।
হাপের লেজ= সাপের লেজ।
হেইলা = উনি।
হেইলারে = তাকে।
হেই = সেই।
হেই সমকা= সেই সময়।

……………………………….
ভাববাদ-আধ্যাত্মবাদ-সাধুগুরু নিয়ে লিখুন ভবঘুরেকথা.কম-এ
লেখা পাঠিয়ে দিন- [email protected]
……………………………….

………………………..
আরো পড়ুন-
খাদেম জাফর কাকার জবানে গণি শাহ্ বাবা: কিস্তি এক
খাদেম জাফর কাকার জবানে গণি শাহ্ বাবা: কিস্তি দুই
খাদেম জাফর কাকার জবানে গণি শাহ্ বাবা: কিস্তি তিন
খাদেম জাফর কাকার জবানে গণি শাহ্ বাবা: কিস্তি চার

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!