খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী পত্র:৬

খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী পত্র:৬

কুতুবউদ্দিন কাকীকে লেখা পত্র – ছয়

খোদায়ি রহস্যের ভাণ্ডার, খোদার ফয়েজের খনি, প্রিয় ভাই খাজা কুতুবুদ্দিন দেহলবি! খোদা তোমাকে সহি সালামতে রাখুন।

একদিন আমার হাদিয়ে রওশন জামির খাজা উসমান হারুনি নপি ও ইসবাত সম্বন্ধে কী সুন্দর বর্ণনা দিয়েছিলেন।

তিনি বলেছেন যে, নফি হলো নিজেকে নিজে না দেখা এবং ইসবাত হলো কেবল মাত্র খোদাকে দেখা। কারণ কোন খোদবি খোদাবি হতে পারে না। খোদবি অর্থ হলো নিজেকে নিজে দর্শনকারী, ব্যাপক অর্থে স্বীয় হাস্তীর মওজুদোতে বিশ্বাসী এবং খোদাবি অর্থ খোদাকে দর্শনকারী।

মানবের বাহ্যিক অস্তিত্ব বা হাস্তী অনিত্য ও ধ্বংসশীল। কাজেই এটা এক নফি। এ নফিরও নফিকারী হওয়া প্রয়োজন, তা না হলে নফির কোন ফয়দা নেই। যদি এটা খেয়াল করা যায় যে, যাবতীয় হাস্তী শুধুমাত্র খোদার তা হলে উদ্দেশ্য সমাধা হয়ে যায়।

মনে রেখো, কলেমা শাহাদাত, নামাজ, রোজা ইত্যাদির বাহ্যিক সুরাত আছে এবং এগুলোর বিশেষ হকিকতও আছে। এ হকিকতকে বাদ দিয়ে জাহেরি সুরত নিয়ে লাখো আমল করাও বৃথা। যে ব্যক্তি হকিকতে পৌঁছে নি সে নিতান্ত আহম্মক।

মহিমান্বিত খোদা অনাদিকাল থেকে মজুদ আছেন এবং অনন্তকাল পর্যন্ত মজুদ থাকবেন। সালেক প্রথমে চক্ষুহীন হয়। তারপর যখন সে খোদার তরফ থেকে চক্ষুপ্রাপ্ত হয় তখন সে তদ্বারা সমস্ত কিছু দর্শন করতে সমর্থ হয়।

তারপর যখন সে খোদার তরফ থেকে ক্ষমতা প্রাপ্ত হয়। তখন সালেক একেবারে নীরব ও নিশ্চুপ হয়ে যায়। যখন সালেকের এরূপ অবস্থা হয় তখন সে চিরকালের জন্য জিন্দা হয়ে যায়। অধিক আর কী লিখবো।

…………………….
আরো পড়ুন:
খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী পত্র:১
খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী পত্র:২
খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী পত্র:৩
খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী পত্র:৪
খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী পত্র:৫
খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী পত্র:৬
খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী পত্র:৭

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!