বাউল গান সাধু ফকির বয়াতী

খেলছে মানুষ বাঁকানলে

খেলছে মানুষ বাঁকানলে।
পঞ্চভূত বড়ই মজবুত, ঘিরে আছে দশম দলে।।

সে দেশের উল্টো কথা, ফুলে খায় ফলের মাথা,
হুঙ্কারে ঝুলছে লতা আজব তরু-কলে।
উঠছে তায় কিরণের ছবি, সেথা দিনে চন্দ্র, রাত্রে রবি,
দেখলে তুই খাবি খাবি, জলের ভিতর মণি জ্বলে।।

যোগশক্তি তাহার ভূষণ, মূলাধারেতে আসন,
যখন করে আকর্ষণ ঊর্ধ্বে সদা চলে।
আলো ক’রে সপ্ততালা, প্রভু গুপ্ত ঘরে হন উজলা,
সে কমল বোঁটা-খোলা,
রসভরে আপনি দোলে।।

শোণিত-শ্বেত সরোবরে হংস আর হংসী চরে,
নিরন্তর যুগল ক’রে,
প্রমোদ-জঙ্গলে।
উপরেতে অগ্নিপুরী, বিষম আতস ভারী,
খাটবে না ছল-চাতুরী,
কথাতে কি ধন মেলে।।

মহাতল তলাতলে তার ভিতর তলিয়ে গেলে,
ডুব দিয়ে রত্ন তোলে, শুদ্ধ রাগের বলে।
গোবিনচাঁদের মধুর বাক্য,
গোপাল মনে প্রাণে করগে ঐক্য,
ঘুচবে সব বৈদিক তর্ক,
দেখতে পাবি জ্যান্তে ম’লে।।

……………………
অধ্যাপক উপেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের ‘বাংলার বাউল ও বাউল গান’ গ্রন্থ থেকে এই পদটি সংগৃহিত। ১৩৬৪ বঙ্গাব্দে প্রথম প্রকাশিত এই গ্রন্থের বানান অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। লেখকের এই অস্বাধারণ সংগ্রহের জন্য তার প্রতি ভবঘুরেকথা.কম-এর অশেষ কৃতজ্ঞতা।

এই পদটি সংগ্রহ সম্পর্কে অধ্যাপক উপেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য মহাশয় লিখেছেন- এই পর্যায়ের গানগুলি বীরভূম, বাঁকুড়া, মোদিনীপুর, বর্ধমান, নদীয়া, চব্বিশ পরগণা যশোহর, ফরিদপুর, মুর্শিদাবাদ প্রভৃতি জেলার নানা স্থান হইতে বিভিন্ন সময়ে সংগৃহীত এবং এই মতবাদের সাধিকা নবদ্বীপের শ্রীমতী অমিয়বালা দাসীর গানের সংগ্রহ খাতা ও ঘোষপাড়ার নিকটবর্তী মদনপুরের ফকির আকবর শাহের সংগীত সংগ্রহ খাতা হইতে গৃহীত।

…………………….
আপনার গুরুবাড়ির সাধুসঙ্গ, আখড়া, আশ্রম, দরবার শরীফ, অসাম্প্রদায়িক ওরশের তথ্য প্রদান করে এই দিনপঞ্জিকে আরো সমৃদ্ধ করুন-
voboghurekotha@gmail.com

……………………………….
ভাববাদ-আধ্যাত্মবাদ-সাধুগুরু নিয়ে লিখুন ভবঘুরেকথা.কম-এ
লেখা পাঠিয়ে দিন- voboghurekotha@gmail.com
……………………………….

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

error: Content is protected !!