মনসুর হাল্লাজ ফকির

মনসুর হাল্লাজ ফকির সে তো: তিন

পরবর্তী সুফি সাধকরা বলেন, প্রকৃতপক্ষে হাল্লাজ হজের আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে নয়; বরং হজের অন্তর্মর্ম নিয়ে কথা বলেছিলেন।

হাল্লাজের বিশ্বাস করতেন, হজের মধ্যে আরাফাতের ময়দানে দোয়া করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যা প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর সামনে হজরত ইব্রাহীমের নিজ-আমিত্বকে বিলীন করে দেয়ার স্মারক।

তাই প্রত্যেকে যদি এই অনুভূতি স্বয়ং করতে পারে তবেই তার হজ যথাযথভাবে হবে।

মাওলানা আশরাফ আলী থানভি তার ‘সিরাতে মনসুর হাল্লাজ’ নামে গ্রন্থে লিখেন, ‘মনসুর যা ভ্রমগ্রস্থ অবস্থায় বলেছিল অনেকেই তা নিয়ে ধোঁকায় নিপতিত হয়েছে। সেই কথাগুলোই এতটা আলোচিত হয় যে, তিনি সুস্থ মস্তিষ্কে তাওহিদের যেই ঘোষণা দিয়েছেন মানুষ আর সেইদিকে ভ্রূক্ষেপ করে নাই।’

মওলানা জালালুদ্দিন রুমির হাল্লাজকে নিয়ে লিখেছেন-

HALLAJ
-Jalaluddin Rumi

Hallaj said what he said and went to the origin
through the hoe in the scaffold
I cut a cap’s worth of cloth from his robe,
and it swamped over me from head to foot

Years ago, I broke a bunch of roses
from the top of his wall A torn from that
is still in my palm working deeper
From Hallaj, I learned to hunt lions,
but I became something hungrier than a lion

I was a frisky colt He broke me
with a quiet hand on the side of my head
A person comes to him naked It’s cold

There’s a fur coat floating in the river
‘Jump in and get it,’ he says
You dive in You reach for the coat
It reaches for you
It’s a live bear that has fallen in upstream,
drifting with the current

‘How long does it take!’ Hallaj yells from the bank
‘”Don’t wait,’ you answer “This coat
has decided to wear me home!”

হাল্লাজের বিচার

শাসক গোষ্ঠী হাল্লাজের মতবাদে ভীত হয়ে তার বিরুদ্ধে ধর্মদ্রোহিতা ও আব্বাসীয় শাসনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনেন।

৯০৮ খৃস্টাব্দে আব্বাসীয় খলিফার বিরুদ্ধে সুন্নি সংস্কারকদের ক্ষমতা দখলের ব্যর্থ চেষ্টার পর হাল্লাজ বাগদাদ ত্যাগ করতে বাধ্য হন। পরবর্তী ৯১৩ খৃস্টাব্দে হাল্লাজ আব্বাসীয় বাহিনীর হাতে আটক হন।

হাল্লাজকে প্রচলিত ধর্মমতে ফিরিয়ে আনতে প্রথমে কারাভোগের রায় দেয়া হয়। সেজন্য তাকে প্রথমে বাগদাদের কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়।

কথিত আছে, বন্দি অবস্থায় প্রথম দিন হাল্লাজ কারাগার থেকে অদৃশ্য হয়ে যান। দ্বিতীয় দিন পুরো কারাগারই অদৃশ্য হয়ে যায়। তৃতীয় দিন সবকিছু আবার আগের মত হয়ে যায়। এ ঘটনায় সমগ্র নগরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

জুনায়েদ বাগদাদী সহ অনেক ধর্মীয় নেতা তার কাছে এর ব্যাখ্যা জানার জন্য ছুটে আসেন। হাল্লাজ বলেন- ‘প্রথম দিন আমি গিয়েছিলাম খোদার সাক্ষাতে, তাই আমি দৃশ্যমান ছিলাম না। দ্বিতীয় দিন খোদা এসেছিলেন আমায় দেখতে। তাই তার নুরে কোনকিছুই দৃশ্যমান ছিল না।’

এ ঘটনার পর কারারক্ষী ও কয়েদী সকলেই তার শিষ্য হয়ে যায়। এই কারাগারে হাল্লাজকে এক বছরের মত রাখা হয়। সে সময় প্রচুর দর্শনার্থী নিয়মিত তার সাক্ষাতে আসত। বিষয়টি জানতে পেরে খলিফা আদেশজারী করেন এরপর কেউই হাল্লাজের সাক্ষাৎপ্রার্থী হতে পারবে না।

শেষে মুক্তাদির বিল্লাহর শাসনামলে (২৯৫-৩২০হি./৯০৭-৩২খৃ.) প্রধান বিচারপতি কাজি আবু উমর মুহাম্মাদ ইবন ইউসুফ আল-মালেকি সহ প্রসিদ্ধ আলেমদের মতামত ও বিচারকদের রায়ে তাঁকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়।

কিন্তু হাল্লাজের শিষ্য সংখ্যা এবং কারা-কর্মকর্তাদের ব্যর্থতার দরুণ তার দর্শনার্থীদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় খলিফার নির্দেশে হাল্লাজকে অন্য কারাগারে স্থানান্তর করা হল। সেই কারাগারে বন্দি সংখ্যা ছিল তিনশ জন।

এক রাতে মনসুর বন্দিদের বলেন, ‘তোমরা কি মুক্তি চাও?’

তারা বলে, ‘আমাদের মুক্ত করার ক্ষমতা যদি তোমার থাকে, তবে তুমি নিজেই মুক্ত হও না কেন?’

মনসুর তাদের এ কথার জবাব না দিয়ে তাদের কারাগারের শিকের দিকে তাকাতেই এক এক করে সবগুলো দ্বার খুলে যায়। বন্দিরা সব পালিয়ে যায়।

মনসুরকে তার কারাকক্ষে বসে থাকতে দেখে পলায়নরত এক বন্দি বলে, ‘তুমি পালাচ্ছ না কেন?’

তিনি বললেন, ‘আমি খোদার প্রেমে পাগল, মুক্তির পাগল না।’

বন্দি বিস্মিত হয়ে তার দিকে তাকিয়ে থাকলে হাল্লাজ বলেন, ‘খোদার সাথে আমার একটি গোপন বিষয় আছে, যা কেবল ঊর্ধ্বে গমনের মধ্য দিয়েই প্রকাশিত হতে পারে। আমি কেবল আমার খোদার বন্দি।’

হাল্লাজের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে সুফি ইবনে আতা একটি বার্তা পাঠান, যাতে খলিফার কাছ থেকে ক্ষমা লাভ করতে হাল্লাজকে তার বক্তব্যের জন্যে অনুশোচনা করতে বলা হয়।

হাল্লাজ প্রতিউত্তরে বার্তাবাহকের বলেন, ‘যিনি এ বার্তা পাঠিয়েছেন বরং তাকে গিয়ে ক্ষমা চাইতে বল।’

ইবনে আতা একথা জানতে পেরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বলেন, ‘আমরা, যারা নিজেদের খোদার সত্যিকারের গোলাম মনে করি, তিনি হাল্লাজের উপর যে আলোর ছটা ছিটিয়েছেন, তার একটি ছটারও সে উপযুক্ত নয়।’

কিন্তু ক্রমেই হাল্লাজের লোকপ্রিয়তা বাড়তে থাকায় তাকে এক কারাগার থেকে অন্য কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। এভাবে ১১ বছর বিভিন্ন কারাগারে বন্দি অবস্থায় সাজা ভোগ করেন হাল্লাজ।

শেষে মুক্তাদির বিল্লাহর শাসনামলে (২৯৫-৩২০হি./৯০৭-৩২খৃ.) প্রধান বিচারপতি কাজি আবু উমর মুহাম্মাদ ইবন ইউসুফ আল-মালেকি সহ প্রসিদ্ধ আলেমদের মতামত ও বিচারকদের রায়ে তাঁকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়।

(চলবে…)

<<মনসুর হাল্লাজ ফকির সে তো: দুই ।। মনসুর হাল্লাজ ফকির সে তো: চার>>

…………………
আরো পড়ুন:

মনসুর হাল্লাজ ফকির সে তো: এক
মনসুর হাল্লাজ ফকির সে তো: দুই
মনসুর হাল্লাজ ফকির সে তো: তিন
মনসুর হাল্লাজ ফকির সে তো: চার
মনসুর হাল্লাজ ফকির সে তো: পাঁচ

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!