মহাতাপস শ্রীশ্রী বালানন্দ ব্রহ্মচারী

মহাতাপস বালানন্দ ব্রহ্মচারী: এক

উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে ১৮৬০ সালে উজ্জয়িনীর এক সারস্বত ব্রাহ্মণবংশে জন্ম হয় বালানন্দ ব্রহ্মচারীর। তাঁর পূর্বাশ্রমের নাম ছিল পীতাম্বর। তাঁর পিতা একজন নিষ্ঠাবান ব্রাহ্মণ ছিলেন এবং শাস্ত্রচর্চা ও যজন যাজনকার্যে তাঁর খ্যাতি ছিল। কিন্তু শৈশবে পিতৃবিয়োগ হওয়ায় বাল্যকালে শিক্ষালাভের সুযোগ ঘটেনি পীতাম্বরের।

বাড়িতে অল্প যা কিছু জমি জায়গা ছিল তা থেকে কোনরকমে সংসার চালাতেন মাতা নর্মদাবাঈ। বাড়ির কাছে এক টোলে ছেলেকে ভর্তি করে দেন। কিন্তু পড়াশুনাতে একেবারেই মন ছিল না পীতাম্বরের। নিয়মিত টোলে না গিয়ে কখনো শিপ্রা নদীর নির্জন তীরে, কখনো ভতৃহরি ও গোরখনাথের গুহায়, কখনো মহাকালের কুণ্ডে, কখনো বা সন্দীপন মুনির জঙ্গলাকীর্ণ পরিত্যক্ত আশ্রমে ইচ্ছামত ঘুরে বেড়াত পীতাম্বর।

কখনো বা যে সব পরিত্যক্ত ভগ্ন প্রাসাদে ভূতের ভয়ে কেউ যেত না, সেখানে রাতের পর রাত কাটিয়ে দিত। এইসব কারণে পীতাম্বরকে নিয়ে মহাবিপদে পড়েন নর্মদাবাঈ।

একদিন ছেলেকে ধরে মাতা নর্মদাবাঈ ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, লেখাপড়া শাস্ত্রপাঠ কিছুই যদি না করিস। এমনি করে যদি ঘুরে বেড়াস তাহলে কি করে সংসার চলবে? সম্বল বলতে তো দু-চার বিঘে জমিজায়গা আর দুচারঘর যজমান- তাও দেখবার লোক নেই। শিশুকালে তোর বাবা মারা গেছে। একমাত্র তোরই উপর ভরসা। কিন্তু সংসারের কোন কাজে তোর মন নেই, তুই কি সাধু হবি?

সাধু হওয়ার কথাটা শোনার সঙ্গে সঙ্গে এক তুমুল আলোড়ন শুরু হলো পীতাম্বরের অন্তরজগতে। নিজের অজান্তেই পূর্বজন্মের সাত্ত্বিক সংস্কার জেগে উঠল মনের মধ্যে। এরপর হঠাৎ কি মনে হলো পীতাম্বর তার জামাকাপড় সব পুড়িয়ে গায়ে ভস্ম মেখে কৌপীন পরে মাকে বলল, মা দেখ, দেখ আমি কেমন সাধু হয়েছি।

মা তা দেখে হাসতে লাগলেন।

এর কিছুদিন পরেই শুভদিনে ছেলের উপনয়ন সংস্কার করান নর্মদাবাঈ। কিন্তু তার তিন চারদিন পরেই একদিন কাউকে কিছু না বলে ঘর ছেড়ে অজানার পথে চলে যায় পীতাম্বর। তার আর খোঁজ পাওয়া যায় না।

নয় বছরের ছেলে তাঁর জীবনের একমাত্র অবলম্বন নিরুদ্দেশ হওয়ায় চোখে অন্ধকার দেখতে লাগলেন মা। নিরুপায় হয়ে উজ্জয়িনীর মহাকালের মন্দিরে গিয়ে দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম মহাদেবের বিগ্রহের সামনে মাথা ঠুকে কাতর আকুতি জানাতে লাগলেন ছেলের মঙ্গল কামনায়।

দেখতে দেখতে চল্লিশ বছর কেটে যায়। একদিন যথারীতি শিবপূজার পর ছেলের কথা ভাবতে ভাবতে যখন কাঁদতে থাকেন নর্মদাবাঈ তখন অকস্মাৎ মহাকালের এক দৈববাণী শুনে চমকে ওঠেন তিনি। দৈববাণী বলে, বেটি! অচিরে তোর মনস্কামনা পূর্ণ হবে। বৈদ্যনাথধামের তপোবন পাহাড়ে তোর পুত্র আছে তপস্যারত। তার এখনকার নাম বালানন্দ। সেখানে গেলে হারানো পুত্রকে তুই আবার ফিরে পাবি।

এই দৈববাণী শোনার পর যা কিছু জমি জায়গা ছিল সব বিক্রি করে সেই টাকা নিয়ে একদল তীর্থযাত্রীর সঙ্গে উজ্জয়িনী থেকে বেরিয়ে পড়েন নর্মদাবাঈ। তীর্থযাত্রীদের সঙ্গে একে একে বহু তীর্থ পর্যটনের পর অবশেষে বৈদ্যনাথধামে এসে উপস্থিত হলেন।

সেদিন তপোবন পাহাড়ে অপরাহ্ণের ছায়া পড়েছে, পশ্চিম আকাশে হেলে পড়েছে সূর্য। এমন সময় আশ্রমের সামনে এসে ‘পীতাম্বর.. পীতাম্বর’ বলে ডাকতে লাগলেন বৃদ্ধা নর্মদাবাঈ।

সহসা তাঁর পূর্বনাম শুনে চমকে উঠলেন বালানন্দ ব্রহ্মচারী। ব্যস্ত হয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এসে আশ্রমের উঠোনে দাঁড়ালেন। তখন তাঁর মাথায় জটাভার, মুখে দাঁড়ি।

দুজনের চেহারার যতই পরিবর্তন হোক মাতাপুত্র দুজনেই দুজনকে চিনতে পারলেন। ভারত বিখ্যাত মহাযোগী ও তপস্বী বালানন্দ ব্রহ্মচারী মার চরণে লুটিয়ে পড়ে তাঁকে প্রণাম করলেন ভক্তিভরে। মাতা তাঁর সন্তানকে চিবুক ধরে আশীর্বাদ করলেন প্রাণ খুলে।

তিনি স্থির দৃষ্টিতে পুত্রের মুখপানে তাকিয়ে বুঝলেন তাঁর সেদিনের পীতাম্বর আজ কত বড় সন্ন্যাসী হয়ে উঠেছে। বৃদ্ধা মাতা অশ্রুপূর্ণ চোখে আশ্রমের ভক্ত ও শিষ্যদের শোনাতে লাগলেন কিভাবে কত কষ্টে তিনি খুঁজে পেয়েছেন তাঁর হারানো পুত্রকে।

আশ্রমের মধ্যেই মায়ের থাকার ব্যবস্থা করে দিলেন বালানন্দ মহারাজ। বৃদ্ধা মাতা তাঁর অবশিষ্ট জীবনটুকু পুত্রের মুখ দেখে কাটাবেন। বৃদ্ধা নর্মদাবাঈ আগেই বুঝতে পেরেছিলেন তাঁর অন্তিমকাল ঘনিয়ে আসছে। তাই মৃত্যুর আগে শেষবারের মতো তাঁর একমাত্র পুত্রের মুখদর্শন করার কামনায় দিনের পর দিন প্রার্থনা করতে থাকেন দেবাদিদেব মহাদেবের চরণে। অবশেষে ঠাকুর তাঁর অন্তিম প্রার্থনা পূর্ণ করেন।

নর্মদাবাঈ মহাকালের মন্দিরে মানত করেছিলেন তিনি তাঁর হারানো পুত্রকে ফিরে পেলে সওয়া লক্ষ বেলপাতা দিয়ে মহাদেবের পূজা দেবেন। সে কথা পুত্রকে জানালে পূজার বন্দোবস্ত করে দিলেন বালানন্দজী।

এরপর কিছুদিন আশ্রমে থেকে পুত্রের সেবা পরিচর্যা গ্রহণ করে একদিন সজ্ঞানে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে স্বর্গধামে চলে গেলেন ভক্তিমতী সাধিকা নর্মদাবাঈ।

কিন্তু সেদিনের পীতাম্বরের আজকের সিদ্ধ সাধক বালানন্দ ব্রহ্মচারীতে পরিণত হতে বহু কষ্ট ও কৃচ্ছ্রসাধন করতে হয় তাঁকে।

মাত্র নয় বছর বয়সে উপনয়ন সংস্কারের পর গৃহত্যাগ করে পথ চলতে থাকেন পীতাম্বর। উপনয়ন উপলক্ষে তাঁকে সোনার হার, বালা ও কানে মাকড়ি দেওয়া হয়েছিল তা তাঁর গায়েই ছিল। এই সোনার গয়নাগুলি একজন বিবাগী নিরাশ্রয় ও নিঃসঙ্গ বালকের গায়ে দেখে একজন পথিকের লোভ হয়।

পথিক পীতাম্বরকে বলে, বাছা! তুমি দেশান্তরী। তোমার গায়ের এই সব গয়নাগুলি দেখতে পেলে চোর ডাকাতরা কেড়ে নেবে। এতে তোমার প্রাণহানির ভয় আছে। তার থেকে তুমি গয়নাগুলি খুলে আমার কাছে গচ্ছিত রাখ। ফেরার সময় এগুলো নিয়ে যেও।

গয়নার প্রতি কোনদিন কোন লোভই ছিল না বালক পীতাম্বরের। তিনি তৎক্ষণাৎ গয়নাগুলি পথিকটির হাতে খুলে দিলেন। আবার পথ চলতে লাগলেন।

কিছু দিনের মধ্যেই এক সাধুর সঙ্গে দেখা হয়ে গেল পথে। সাধু যাচ্ছিলেন নর্মদা নদীর তীরবর্তী এক আশ্রমে। পীতাম্বর তাঁর সঙ্গী হলেন। তাঁরা দুজনে পথ চলতে চলতে নর্মদার তীরে গঙ্গোনাথে ব্রহ্মানন্দ মহারাজের আশ্রমে গিয়ে উপস্থিত হলেন।

বরোদা শহর থেকে চল্লিশ মাইল দূরে নর্মদার তীরে গঙ্গোনাথের সেই আশ্রমে স্বয়ম্ভূলিঙ্গ গঙ্গোনাথের বিগ্রহ প্রতিষ্ঠিত ছিল। সেই বিগ্রহকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে ব্রহ্মানন্দ মহারাজের আশ্রম।

সে আশ্রমে প্রবেশ করেই পূর্বজন্মের সংস্কার জেগে উঠল পীতাম্বরের মনে। তিনি তখন ব্যাকুলভাবে প্রার্থনা জানালেন ব্রহ্মানন্দের কাছে। বললেন, মহারাজ, কৃপা করে আমাকে আশ্রয় দিন।

পীতাম্বর আশ্চর্য হয়ে দেখলেন, ব্রহ্মানন্দ মহারাজ তাঁর নামধাম ও আসার কারণ সবই জানেন। তিনি তাঁর প্রার্থনা শুনে প্রসন্নতার হাসি হেসে বললেন, বেটা! এ তো ভাল কথা। আগামী শ্রাবণী পূর্ণিমার দিন আমি তোকে দীক্ষা দেব। কিন্তু তার আগে গাঁয়ে গিয়ে ভিক্ষা করে আন।

দীক্ষার দিন গাঁয়ের লোক ও নর্মদার সাধুদের খাওয়াতে হবে।

পীতাম্বর আগেই শুনেছিলাম সিদ্ধযোগী ব্রহ্মানন্দ কাউকে দীক্ষা দেন না। তাই তিনি যখন তাঁকে একবার আবেদন জানাতেই তাঁকে দীক্ষা দিতে রাজী হয়েছেন তখন তিনি আনন্দিত না হয়ে পারলেন না। এ এক পরম সৌভাগ্যের কথা। কিন্তু সেইসঙ্গে মনে এক দুশ্চিন্তা দেখা দিল, তাঁর দীক্ষা উপলক্ষে এত লোক খাওয়াবার ত সামর্থ্য নেই তাঁর।

অন্তর্যামীর মত পীতাম্বরের মনের কথা বুঝতে পেরে ব্রহ্মানন্দ মহারাজ বললেন, তোর কোন চিন্তা নেই বেটা। আমার ঐ ঝুলিতে ঋদ্ধি সিদ্ধি দুই-ই আছে। তুই ও ঝুলি নিয়ে ভিক্ষায় যা।

গাঁয়ের সবাই সেই ঝুলির মাহাত্ম্যের কথা জানত। তারা জানত ঐ ঝুলির কল্যাণেই গঙ্গোনাথ আশ্রমের অধিবাসী ও অতিথি অভ্যাগত সাধুদের ভোজনের ব্যাপারে কোনদিন কোন অভাব দেখা দেয় না।

পীতাম্বর সেই ঝুলি কাঁধে করে গ্রামে গ্রামে ভিক্ষা করে বেড়াতে লাগলেন। সুদর্শন বালক সন্ন্যাসীকে দেখার সঙ্গে সঙ্গে মুগ্ধ হয়ে গেল গ্রামবাসীরা। ধনী গরীব সবাই সন্ন্যাসীকে ভিক্ষা দিতে লাগল। ঝুলি ভরে গেল। এবার ঝুলির মাহাত্ম্য বুঝতে পারলেন পীতাম্বর।

দীক্ষার দিনেও গ্রামবাসীরা ভারে ভারে আটা, ময়দা, ঘি, চিনি প্রভৃতি পাঠিয়ে দিল আশ্রমে।

নির্ধারিত শুভ দিনে শুভ মুহূর্তে পীতাম্বরকে ব্রহ্মচর্য ব্রত দীক্ষা দিলেন ব্রহ্মানন্দ। তাঁর নতুন নামকরণ হলো বালানন্দ। জ্যোতিঃমঠের আনন্দ উপাধিধারী সাধুকুলের অন্তর্গত হলেন পীতাম্বর। দীক্ষা শেষে বালানন্দ বললেন, প্রভু! আমি কি গুরুদক্ষিণা দেব তা আমায় বলে দিন।

ব্রহ্মানন্দ মহারাজ উত্তর করলেন, বেটা! সদ্‌গুরু সব চাওয়া পাওয়ার ঊর্ধ্বে। তাঁকে কোন পার্থিব বস্তু দিয়ে খুশি করা যায় না। মনে রেখো, প্রকৃত গুরুদক্ষিণা ঋদ্ধিতে নেই, আছে সিদ্ধিতে। আমি যে বীজমন্ত্র তোমায় দান করেছি, সেই বীজমন্ত্র সাধন করে যে সিদ্ধি অর্জন করবে তা আমার উদ্দেশ্যে দান করবে। তাই হবে আমার গুরুদক্ষিণা। তাতেই আমি প্রসন্ন হব। তুমি শুধু আমাকে একটি হরিতকী দেবে।

দীক্ষার পর মনে প্রাণে সাধন ভজন ও জপ তপ করে যেতে লাগলেন বালানন্দ। গঙ্গোনাথ আশ্রমে তখন সাধুসন্তদের ভিড় লেগেই থাকত। অতিথিসেবা ও অন্ন বিতরণ করা হত অকাতরে। তাছাড়া অন্নকূট ও দুর্ভিক্ষের সময় আশ্রমের দ্বার সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকত।

সকলকেই ভোজন করানো হত। যোগসিদ্ধ মহাপুরুষ ব্রহ্মানন্দ মহারাজের ঋদ্ধি সিদ্ধির খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে সারা অঞ্চলে। একবার এক ভাণ্ডারা চলাকালে শেষের দিকে হঠাৎ কয়েক শত লোক এসে উপস্থিত হয়। অথচ মজুত খাদ্য তখন খুবই কম। ভাণ্ডারার কর্মকর্তারা তখন ছোট ছোট খিচুড়ির গোলা তৈির করে সকলকে দেওয়ার ব্যবস্থা করে।

কিন্তু ব্রহ্মানন্দ মহারাজ তা দেখে রেগে গিয়ে বললেন, এত কম দেওয়া চলবে না।

তিনি তখন নিজে খাবারের ভাণ্ডারে গিয়ে পরিবেশনের ভার নেন। কর্মকর্তারা তখন আশ্চর্য হয়ে দেখল মহারাজের হাতের স্পর্শে খাবার এত বেড়ে গেছে যে সকলকে পেট ভরে খাইয়েও প্রচুর খাবার বেড়ে গেল।

দুর্ভিক্ষের সময় ব্রহ্মানন্দ মহারাজ তাঁর ঝুলিখানি নিয়ে বাজারে যেতেন। সকলে বলত, অন্নপূর্ণা মাইজির সিদ্ধ ঝোলা। সে ঝোলা দেখলেই সকলে সাধ্যমত টাকাকড়ি ও খাদ্যদ্রব্য তাতে ঢেলে দিতে। সেই সব ভিক্ষার দান নিয়ে মহারাজ দুর্ভিক্ষপীড়িত আট দশখানি গ্রামের বুভুক্ষু মানুষদের খিঁচুড়ি খাওয়াবার ব্যবস্থা করতেন।

বরোদার গাইকোয়াড় দেশীয় রাজ্যের মহারাজ ও মহারাণী ব্রহ্মানন্দ মহারাজের ভক্ত ছিলেন।

মাঝে মাঝে মহারাজের প্রাসাদে আমন্ত্রিত হয়ে সেখানে যেতেন মহারাজ। অসামান্য যোগবিভূতির অধিকারী হয়েও মহারাজ ছিলেন পরিহাসরসিক এবং সদানন্দময়। এই পরিহাসরসিকতার দ্বারা সকলকে নির্মল আনন্দ দান করতেন তিনি।

একদিন গাইকোয়াড়ের প্রাসাদে গিয়ে ব্রহ্মানন্দ মহারাজা রাজা শিউজী রাওকে বললেন, মহারাজ! আপনার নাকি একটি চাঁদির তোপ আছে যার গোলা এক মাইল পর্যন্ত যায়?

শিউজী রাও বললেন, হ্যাঁ বাবা! যা শুনেছেন তা সত্য, আমার ঐ তোপের গোলা সত্যিই এক মাইল যায়। ব্রহ্মানন্দ মহারাজ বললেন, আপনার গোলার দৌড় মাত্র এক মাইল আর আমার খিঁচুড়ির গোলা যায় দশ ক্রোশ‌।
সকলেই একথা শুনে জোরে হেসে উঠল।

আর একবার বরোদার মহারাণী যমুনাবাঈ ব্রহ্মানন্দ মহারাজকে রাজপ্রাসাদে আমন্ত্রণ জানান। বালানন্দ তখন সবেমাত্র দীক্ষা গ্রহণ করেছেন। সেদিন নবদীক্ষিত বালানন্দকেও সঙ্গে নিয়ে গেলেন মহারাজ। পথে এক গ্রাম্য ভক্তের সঙ্গে দেখা হয় তাঁদের। ভক্ত অনেক দিন পর মহারাজের দেখা পেয়ে জোর করে অনেক শাকসবজি ঢেলে দিল তাঁর ঝুলিতে।

শাকসবজি ভর্তি সেই ঝোলা নিয়েই বরোদার রাজপ্রাসাদে গিয়ে উপস্থিত হলেন ব্রহ্মানন্দ মহারাজ। তাঁকে দেখেই মহারাণী বলে উঠলেন, আজ দেখছি আমাদের ভাগ্য ভাল। আজ বাবা মহারাজের ঝোলা একেবারে ভর্তি। আজ আমরা অনেক উপাদেয় বস্তু খেতে পাব।

বাবা মহারাজ বললেন, ঠিকই বলেছ মাঈ। অনেক প্রসাদ পাবে এ ঝুলিতে। বল… কি চাও? মহারাণী তখন আঙ্গুর খেতে চাইলেন। তিনি বললেন, মহারাজ! এখন ত আঙ্গুরের সময় নয় অথচ আমার বড় আঙ্গুর খেতে ইচ্ছা হচ্ছে। দেখি আপনার ঝুলিতে আঙ্গুর আছে কিনা।

(চলবে…)

…………………….
আরো পড়ুন:
মহাতাপস বালানন্দ ব্রহ্মচারী: এক
মহাতাপস বালানন্দ ব্রহ্মচারী: দুই
মহাতাপস বালানন্দ ব্রহ্মচারী: তিন

…………………….
ভারতের সাধক ও সাধিকা:সুধাংশুরঞ্জন ঘোষ
আরও আধ্যাত্মিক তথ্য পেতে ও জানতে : ভারতের সাধক-সাধিকা
পুণঃপ্রচারে বিনীত- প্রণয় সেন

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!