ব্রহ্মা সৃষ্টি রহস্য ব্রহ্মাণ্ড মহাবিশ্ব জগৎ ভু

লেখাটিতে যা যা আছে

৭৬. ক্ষত্রিয়ের কর্ত্তব্য

প্রজানাং রক্ষণং দানমিজ্যাধ্যয়নমেব চ।
বিষয়েম্বপ্রসক্তিশ্চ ক্ষত্রিয়স্য সমাসতঃ।। (১/৮৯)

প্রজারণ, দান, যজ্ঞ, অধ্যয়ন, নৃত্যগীতবনিতাদি-বিষয়ভোগে অনাসক্তি, এই কয়েকটি কাজ ব্রহ্মা ক্ষত্রিয়গণের জন্য সংক্ষেপে নিরূপিত করলেন।

৭৭. বৈশ্যের কর্ত্তব্য

পশূনাং রক্ষণং দানমিজ্যাধ্যয়নমেব চ।
বণিক্পথং কুসীদঞ্চ বৈশ্যস্য কৃষিমেব চ।। (১/৯০)

পশুদের রক্ষা, দান, যজ্ঞ, অধ্যয়ন, বাণিজ্য (স্থলপথ ও জলপথ প্রভৃতির মাধ্যমে বস্তু আদান-প্রদান করে ধন উপার্জন), কুসীদ (বৃত্তিজীবিকা- টাকা সুদে খাটানো) এবং কৃষিকাজ- ব্রহ্মা কর্তৃক বৈশ্যদের জন্য নিরূপিত হল।

৭৮. শূদ্রের কর্ত্তব্য

এতমেব তু শূদ্রস্য প্রভুঃ কর্ম সমাদিশৎ।
এতেষামেব বর্ণানাং শুশ্রূষামনসূয়য়া।। (১/৯১)

প্রভু ব্রহ্মা শূদ্রের জন্য একটি কাজই নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন, -তা হলো কোনও অসূয়া অর্থাৎ নিন্দা না করে (অর্থাৎ অকপটভাবে) এই তিন বর্ণের অর্থাৎ ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় ও বৈশ্যের শুশ্রূষা করা।

৭৯. মনুষ্যদেহের পবিত্রতা

ঊর্ধ্বং নাভের্মেধ্যতরঃ পুরুষঃ পরিকীর্তিতঃ।
তস্মান্ মেধ্যতমং ত্বস্য মুখমুক্তং স্বযংভুবা।।৯২

পুরুষমাত্রেই সর্ব্বতোভাবে পরিত্র, উহার নাভির উর্দ্ধভাগ পবিত্রতর, তাহা অপেক্ষা মুখ পবিত্রতম হয়। ব্রহ্মা স্বয়ং ইহা কহিয়াছেন। ৯২

৮০. ব্রাহ্মণের প্রভুতার কারণ

উত্তমাঙ্গোদ্ভবাজ্ জ্যেষ্ঠ্যাদ্ ব্রহ্মণশ্চৈব ধারণাত্।
সর্বস্যৈবাস্য সর্গস্য ধর্মতো ব্রাহ্মণঃ প্রভুঃ।। (১/৯৩)

ব্রহ্মার পবিত্রতম মুখ থেকে উৎপন্ন বলে, সকল বর্ণের আগে ব্রাহ্মণের উৎপত্তি হওয়ায়, এবং বেদসমূহ ব্রাহ্মণকর্তৃক রক্ষিত হওয়ার জন্য (বা বেদসমূহ ব্রাহ্মণেরাই পঠন-পাঠন করেন বলে)- ব্রাহ্মণই ধর্মের অনুশাসন অনুসারে এই সৃষ্ট জগতের একমাত্র প্রভু।

৮১. ব্রাহ্মণের উৎপত্তি

তং হি স্বযংভূঃ স্বাদাস্যাত্ তপস্তপ্ত্বাঽদিতোঽসৃজত্।
হব্যকব্যাভিবাহ্যায সর্বস্যাস্য চ গুপ্তযে।।৯৪

স্বয়ম্ভু ব্রহ্মা তপস্যা করিয়া দেবলোক ও পিতৃপোলের হব্যকব্য বহনের জন্য ও জগৎসংসারের রক্ষার নিমিত্ত স্বকীয় বদন হইতে প্রথমতঃ ব্রাহ্মণের উৎপাদন করিলেন। ৯৪

যস্যাস্যেন সদাঽশ্নন্তি হব্যানি ত্রিদিবৌকসঃ।
কব্যানি চৈব পিতরঃ কিং ভূতমধিকং ততঃ।।৯৫

দেবতারা যে ব্রাহ্মণের মুখে হবনীয় দ্রব্যাদি ভোজন করেন, পিতৃলোকেরা যাঁহাদিগের মুখে শ্রাদ্ধাদিতে প্রদত্ত ভোজন করেন, ঈদৃশ ব্রাহ্মণ হইতে আর কে শ্রেষ্ঠ হইতে পারে? ৯৫

৮২. কীটাদি প্রাণীর উত্তরোত্তর শ্রেষ্ঠতা প্রাপ্তি

ভূতানাং প্রাণিনঃ শ্রেষ্ঠাঃ প্রাণিনাং বুদ্ধিজীবিনঃ।
বুদ্ধিমত্সু নরাঃ শ্রেষ্ঠা নরেষু ব্রাহ্মণাঃ স্মৃতাঃ।।৯৬

স্থাবর-জঙ্গমাদির মধ্যে সামান্য কীটাদি প্রাণী শ্রেষ্ঠ, যেহেতু, তাহাদিগের সুখ-দুঃখ-বোধ আছে। তাদৃশ প্রাণীদিগের মধ্যে বুদ্ধিজীবী পশ্বাদি শ্রেষ্ঠ, কেননা, তাহারা প্রয়োজনীয় স্থানে যায়, অপ্রয়োজনীয় স্থানে যায় না। বুদ্ধিজীবী জীবের মধ্যে প্রকৃষ্ট জ্ঞানসম্পন্ন মনুষ্যই শ্রেষ্ঠ হয় ও মনুষ্যদিগের মধ্যে মোক্ষে অধিকারী ব্রাহ্মণেরাই শ্রেষ্ঠ হয়েন। ৯৬

৮৩. ব্রাহ্মণের মধ্যে কর্ম্মভেদে শ্রেষ্ঠতা

ব্রাহ্মণেষু চ বিদ্বাংসো বিদ্বত্সু কৃতবুদ্ধযঃ।
কৃতবুদ্ধিষু কর্তারঃ কর্তৃষু ব্রহ্মবেদিনঃ।।৯৭

ব্রাহ্মণের মধ্যে জ্যোতিষ্টোমাদি যাগাধিকারী বিদ্বানেরা শ্রেষ্ঠ; বিদ্বানের মধ্যে শাস্ত্রীয় কর্ম্মানুষ্ঠান যাঁহাদিগের কর্ত্তব্যতা-বুদ্ধি আছে, তাঁহারাই শ্রেষ্ঠ; তাঁহাদিগের মধ্যে যাঁহারা কর্ত্তব্য কর্ম্ম করিতেছেন, তাঁহারাই শ্রেষ্ঠ; আবার শাস্ত্রোক্তকর্ম্মকারীদিগের মধ্যে জীবম্মুক্ত ব্রহ্মজ্ঞানী লোকেরাই শ্রেষ্ঠ হয়েন। ৯৭

উত্পত্তিরেব বিপ্রস্য মূর্তির্ধর্মস্য শাশ্বতী।
স হি ধর্মার্থমুত্পন্নো ব্রহ্মভূযায কল্পতে।।৯৮

ব্রাহ্মণের দেহ ধর্ম্মের সাক্ষাৎ সনাতন মূর্ত্তি, ধর্ম্মের জন্য উৎপন্ন ব্রাহ্মণ মোক্ষলাভের উপযুক্ত পাত্র হয়েন। ৯৮

৮৪. ব্রাহ্মণ সকলের শ্রেষ্ঠ কেন

ব্রাহ্মণো জাযমানো হি পৃথিব্যামধিজাযতে।
ঈশ্বরঃ সর্বভূতানাং ধর্মকোশস্য গুপ্তযে।। (১/৯৯)

ব্রাহ্মণ জন্মগ্রহণ করা মাত্রই পৃথিবীর সকল লোকের উপরিবর্তী হন অর্থাৎ সমস্ত লোকের অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ হন। কারণ, ব্রাহ্মণই সকলের ধর্মকোষ অর্থাৎ ধর্মসমূহ রক্ষার জন্য প্রভুসম্পন্ন হয়ে থাকেন।

৮৫. ব্রাহ্মণ সমুদয় সম্পত্তির যোগ্য কেন

সর্বং স্বং ব্রাহ্মণস্যেদং যত্ কিং চিত্জগতীগতম্।
শ্রৈষ্ঠ্যেনাভিজনেনেদং সর্বং বৈ ব্রাহ্মণোঽর্হতি।। (১/১০০)

জগতে যা কিছু ধনসম্পত্তি সে সমস্তই ব্রাহ্মণের নিজ ধনের তুল্য; অতএব সকল বর্ণের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলে ব্রাহ্মণই সমুদয় সম্পত্তিরই প্রাপ্তির যোগ্য হয়েছেন।

স্বমেব ব্রাহ্মণো ভুঙ্ক্তে স্বং বস্তে স্বং দদাতি চ।
আনৃশংস্যাদ্ ব্রাহ্মণস্য ভুঞ্জতে হীতরে জনাঃ।। (১/১০১)

ব্রাহ্মণ যে পরের অন্ন ভোজন করেন, পরকীয় বসন পরিধান করেন, পরের ধন গ্রহণ করে অন্যকে প্রদান করেন, সে সবকিছু ব্রাহ্মণের নিজেরই। কারণ, ব্রাহ্মণেরই আনৃশংস্য অর্থাৎ দয়া বা করুণাতেই অন্যান্য যাবতীয় লোক ভোজন-পরিধানাদি করতে পারছে।

৮৬. মনুসংহিতা রচনার প্রয়োজন

তস্য কর্মবিবেকার্থং শেষাণামনুপূর্বশঃ।
স্বাযংভুবো মনুর্ধীমানিদং শাস্ত্রমকল্পযত্।।১০২

ব্রাহ্মণদিগের কর্ম্মবিবেচনর জন্য ও আনুষঙ্গিক ক্ষত্রিয়াদিরও কর্ম্মবিবেচনার জন্য ব্রহ্মার পৌত্র শ্রীমান ভগবান স্বায়ম্ভুব মনু এই শাস্ত্র রচনা করিয়াছেন। ১০২

৮৭. ব্রাহ্মণই অধ্যাপনার অধিকারী

বিদুষা ব্রাহ্মণেনৈদমধ্যেতব্যং প্রযত্নতঃ।
শিশ্যেভ্যশ্চ প্রবক্তব্যং সম্যগ্ নান্যেন কেন চিত্।।১০৩

এই শাস্ত্র অধ্যয়নের ফলজ্ঞ ব্রাহ্মণগণ প্রযত্নসহকারে এই মানবশাস্ত্র অধ্যয়ন করিবেন এবং শিষ্যগণকে সম্যকরূপে অধ্যয়ন করাইবেন। ক্ষত্রিয়-বৈশ্যাদি অন্য কেহ ইহা অধ্যয়ন করাইতে পারিবেন না। ১০৩

৮৮. মনুপাঠের ফলশ্রুতি

ইদং শাস্ত্রমধীযানো ব্রাহ্মণঃ শংসিতব্রতঃ।
মনোবাক্দেহজৈর্নিত্যং কর্মদোষৈর্ন লিপ্যতে।।১০৪

যে ব্রাহ্মণ নিয়মপূর্ব্বক এই মনুসংহিতা অধ্যয়ন করেন, তিনি প্রতিদিন মানসিক, বাচনিক বা কায়িক কোন পাপে লিপ্ত হয়েন না। ১০৪

পুনাতি পঙ্ক্তিং বংশ্যাংশ্চ ? ? সপ্তসপ্ত পরাবরান্।
পৃথিবীমপি চৈবেমাং কৃত্স্নামেকোঽপি সোঽর্হতি।।১০৫

যিনি এই মনুসংহিতা অধ্যয়ন করেন, তিনি পঙ্‌ক্তি পবিত্র করেন, এবং পিত্রাদি সপ্ত পূর্ব্বপুরুষ ও পুত্রাদি অধস্তন সপ্ত পুরুষ পবিত্র করেন; তিনি এরূপ পবিত্র হয়েন যে, একাকীই এই সমস্ত পৃথিবীর দানের পাত্র হয়েন। ১০৫

ইদং স্বস্ত্যযনং শ্রেষ্ঠমিদং বুদ্ধিবিবর্ধনম্।
ইদং যশস্যমাযুষ্যং ইদং নিঃশ্রেযসং পরম্।।১০৬

এই মনুশাস্ত্রের অধ্যয়ন মহাস্বস্ত্যয়নস্বরূপ, ইহার অভ্যাসে বুদ্ধির বৃদ্ধি হয় এবং উত্তম খ্যাতি লাভ হয় ও পরমায়ু বৃদ্ধি হয় এবং মোক্ষলাভ হয়। ১০৬

৮৯. মনুসংহিতোক্ত বিষয়

অস্মিন্ ধর্মেঽখিলেনোক্তৌ গুণদোষৌ চ কর্মণাম্।
চতুর্ণামপি বর্ণানামাচারশ্চৈব শাশ্বতঃ।।১০৭

এই গ্রন্থে সমুদয় ধর্ম অবিহিত হইয়াছে, বিহিত ও নিষিদ্ধ কর্ম্মের গুণ ও দোষ বর্ণিত হইয়াছে, এবং চাতুর্ব্বর্ণ্যের পরস্পরাগত আচার-ব্যবহারও কথিত হইয়াছে। ১০৬

৯০. পরস্পরগত আচারই ধর্ম্ম

আচারঃ পরমো ধর্মঃ শ্রুত্যোক্তঃ স্মার্ত এব চ।
তস্মাদস্মিন্ সদা যুক্তো নিত্যং স্যাদাত্মবান্ দ্বিজঃ।।১০৮

পরস্পরাগত আচার যে উৎকৃষ্ট ধর্ম্ম, ইহা শ্রুতি, স্মৃতি উভয়েই প্রতিপন্ন আছে, অতএব আত্মহিতাভিলাষী ব্রাহ্মণ শ্রুতিস্মৃতিবিহিত আচারের অনুষ্ঠানে সতত যত্নবান থাকিবেন। ১০৮

৯১. আচারহীন ব্রাহ্মণের ফলহীনতা

আচারাদ্ বিচ্যুতো বিপ্রো ন বেদফলমশ্নুতে।
আচারেণ তু সংযুক্তঃ সম্পূর্ণফলভাগ্ ভবেত্।।১০৯

আচারহীন ব্রাহ্মণ বেদের সম্পূর্ণ ফলভাগী হয়েন না, কিন্তু যদি ইনি সদাচারসম্পন্ন হয়েন, তাহা হইলে বেদের সম্পূর্ণ ফলভাগী হয়েন। ১০৯

৯২. আচারই তপস্যার প্রধান কারণ

এবমাচারতো দৃষ্ট্বা ধর্মস্য মুনযো গতিম্।
সর্বস্য তপসো মূলমাচারং জগৃহুঃ পরম্।।১১০

মুনিগণ আচার দ্বারা ধর্ম্মের গতি অবগত হইয়া আচারকেই সকল তপস্যার প্রধান কারণ বলিয়া গ্রহণ করিয়াছেন। ১১০

৯৩. গ্রন্থের অনুক্রমণিকা

জগতশ্চ সমুত্পত্তিং সংস্কারবিধিমেব চ।
ব্রতচর্যৌপচারং চ স্নানস্য চ পরং বিধিম্।।১১১

এক্ষণে গ্রন্থের অনুক্রমণিকা কহিতেছেন। প্রথমাধ্যায়ে জগতের উৎপত্তিক্রম, দ্বিতীয়াধ্যায়ে জাতকর্ম্মাদি সংস্কারের অনুষ্ঠান, ব্রহ্মচারীর ব্রতাচরণ, গুরু প্রভৃতির অভিবাদনাদি, তৃতীয়াধায়ে গুরুকুল হইতে প্রতিনিবৃত্ত ব্রাহ্মণের উৎকৃষ্ট স্নানবিধি মনু কর্ত্তৃক বর্ণিত হইয়াছে। ১১১

দারাধিগমনং চৈব বিবাহানাং চ লক্ষণম্।
মহাযজ্ঞবিধানং চ শ্রাদ্ধকল্পং চ শাশ্বতম্।।১১২

ঐ তৃতীয়াধ্যায়ে চাতুর্ব্বর্ণ্যের বিবাহ ও ব্রাহ্মাদি বিবাহের লক্ষণ, বৈশ্বদেবাদি পঞ্চ মহাযজ্ঞ ও নিত্যকর্ত্তব্য শ্রাদ্ধাদি বর্ণিত হইয়াছে। ১১২

বৃত্তীনাং লক্ষণং চৈব স্নাতকস্য ব্রতানি চ।
ভক্ষ্যাভক্ষ্যং চ শৌচং চ দ্রব্যাণাং শুদ্ধিমেব চ।।১১৩

চতুর্থাধ্যায়ে শিলোঞ্ছাদিজীবনোপায়ের লক্ষণ, গৃহস্থের নিয়ম। পঞ্চমাধ্যায়ে ভক্ষ্যাভক্ষ্যবিবেচনা, জন্মমরণাদিতে শৌচ এবং জলাদি দ্বারা দ্রব্যাদির শুদ্ধি ইহাতে উক্ত হইয়াছে। ১১৩

স্ত্রীধর্মযোগং তাপস্যং মোক্ষং সংন্যাসমেব চ।
রাজ্ঞশ্চ ধর্মমখিলং কার্যাণাং চ বিনির্ণযম্।।১১৪

ঐ পঞ্চমাধ্যায়ে স্ত্রীলোকদিগের ধর্ম্মোপায়, ষষ্ঠাধ্যায়ে বানপ্রস্থ ধর্ম্ম, যতিধর্ম্ম, সন্ন্যাসধর্ম্ম, সপ্তমাধ্যায়ে নৃপতিদিগের ধর্ম্ম, অষ্টমাধ্যায়ে ঋণদানাদির তত্ত্বনির্ণয় কথিত হইয়াছে। ১১৪

সাক্ষিপ্রশ্নবিধানং চ ধর্মং স্ত্রীপুংসযোরপি।
বিভাগধর্মং দ্যূতং চ কণ্টকানাং চ শোধনম্।।১১৫

ঐ অষ্টমাধ্যায়ে সাক্ষীদিগকে প্রশ্নজিজ্ঞাসা করিবার নিয়ম, নবমাধ্যায়ে স্ত্রীপুরুষের ধর্ম্ম, দায়বিভাগ, দ্যুতবিধান, তস্করাদি নিবারণ করিবার প্রথা লিখিত হইয়াছে। ১১৫

বৈশ্যশূদ্রোপচারং চ সঙ্কীর্ণানাং চ সংভবম্।
আপদ্ধর্মং চ বর্ণানাং প্রাযশ্চিত্তবিধিং তথা।।১১৬

ঐ নবমাধ্যায়ে বৈশ্যশূত্রের কর্ত্তব্যকর্ম্মের অনুষ্ঠান, দশমাধ্যায় অনুলোম-প্রতিলোমজাত সঙ্কীর্ণ জাতির উৎপত্তির বিবরণ, চারি বর্ণের আপৎকালে জীবিকার উপদেশ, একাদশাধ্যায়ে প্রায়শ্চিত্তিবিধি বর্ণিত হইয়াছে। ১১৬

সংসারগমনং চৈব ত্রিবিধং কর্মসংভবম্।
নিঃশ্রেযসং কর্মণাং চ গুণদোষপরীক্ষণম্।।১১৭

দ্বাদশাধ্যায়ে শুভাশুভ কর্ম্মজন্য উত্তম, মধ্যম, অধম এই ত্রিবিধ শরীরধারণ, আত্মজ্ঞান, বিহিত ও নিষিদ্ধ কর্ম্মের গুণ ও দোষ নির্ণীত হইয়াছে। ১১৭

দেশধর্মান্জাতিধর্মান্ কুলধর্মাংশ্চ শাশ্বতান্।
পাষণ্ডগণধর্মাংশ্চ শাস্ত্রেঽস্মিন্নুক্তবান্ মনুঃ।।১১৮

ভগবান মনু চিরপ্রচলিত স্বস্বদেশে অনুষ্ঠিত ধর্ম্ম, ব্রাহ্মণাদিজাতির ধর্ম্ম, বংশপরস্পরাগত কুলধর্ম্ম এবং বেদোক্ত শুভানুষ্ঠানহীন পাষণ্ডগণের ধর্ম্ম এই সংহিতায় বর্ণন করিয়াছেন। ১১৮

৯৪. প্রতি অধ্যায়ের বক্তব্য বিষয়, ভৃগুকর্ত্তৃক মনুসংহিতা পুনরারম্ভ

যথৈদমুক্তবাংশাস্ত্রং পুরা পৃষ্টো মনুর্মযা।
তথৈদং যূযমপ্যদ্য মত্সকাশান্নিবোধত।।১১৯

হে মহির্ষিগণ! পূর্ব্বকালে আমি মহাত্মা মনুকে জিজ্ঞাসা করিলে পর তিনি এই শাস্ত্র আমায় যেরূপ বলিয়াছিলেন, আপনারা আমার মুখে অবিকল সেইরূপ শ্রবণ করুন।

<<মনুসংহিতায় সৃষ্টিরহস্য-বিজ্ঞানপ্রকরণ : পর্ব পাঁচ

……………………………….
ভাববাদ-আধ্যাত্মবাদ-সাধুগুরু নিয়ে লিখুন ভবঘুরেকথা.কম-এ
লেখা পাঠিয়ে দিন- [email protected]
……………………………….

…………….
আরও পড়ুন-
মনুসংহিতায় সৃষ্টিরহস্য-বিজ্ঞানপ্রকরণ : পর্ব এক
মনুসংহিতায় সৃষ্টিরহস্য-বিজ্ঞানপ্রকরণ : পর্ব দুই
মনুসংহিতায় সৃষ্টিরহস্য-বিজ্ঞানপ্রকরণ : পর্ব তিন
মনুসংহিতায় সৃষ্টিরহস্য-বিজ্ঞানপ্রকরণ : পর্ব চার
মনুসংহিতায় সৃষ্টিরহস্য-বিজ্ঞানপ্রকরণ : পর্ব পাঁচ
মনুসংহিতায় সৃষ্টিরহস্য-বিজ্ঞানপ্রকরণ : পর্ব ছয়

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!