মতুয়া মতাদর্শে শিক্ষা বিস্তার

মতুয়া মতাদর্শে শিক্ষা বিস্তার

-জগদীশচন্দ্র রায়

গুরুচাঁদ ঠাকুর শিক্ষায় পিছিয়ে পড়াদের মধ্যে শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে ও স্বচ্ছতার অভিযান স্বরূপ ১৯২৭ সালে ৮১ বছর বয়সেও বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে আঞ্চলিক বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন। তাদের গ্রামে গ্রামে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসম্মত শৌচালয় নির্মাণের পরামর্শ দিতেন।

প্রয়োজনে সাহায্যের হাতও বাড়িয়ে দিতেন। এরকমই-

কালীচরণের বাড়ি কাগদিয়া গ্রাম।
তার বাড়ি চলিলেন প্রভু গুণধাস।।
ভুজুনীয়া বাস করে নামেতে প্রসন্ন।
প্রভুকে গৃহে নিয়ে হ’ল বটে ধন্য।।
শ্রীপুর গ্রামেতে প্রভু বহু বাড়ি গেল।
অত:পর নদীপথে তরণী ছাড়িল।।
(গুরুচাঁদ চরিত, পৃ-৫৩৬)

খুলনা জেলার তেরখাদা উপজেলার অধীন (বর্তমান বাংলাদেশ) কাগদি, শ্রীপুর, কালিনগর ও ভুজুনীয়া গ্রামে যান। সঙ্গে ছিলেন, গোপালগঞ্জ জেলার পাঁচুড়িয়ার শ্রীরাই রসরাজ ঠাকুর। শ্রীপুর গ্রামের পণ্ডিত রতিকান্ত বিশ্বাসের অনুরোধে তাঁর বাড়িতে এবং কালিনগর গ্রামের ‘বালা বাড়িতে ঠাকুর অবস্থান করেন।

তবে এই ভ্রমণে কারো বাড়িতে যাওয়ার পূর্ব শর্ত ছিল- ‘তিনি যে যে বাড়িতে যাবেন সেই বাড়িতে যেন স্বাস্থ্যসম্মত শৌচালয় তৈরি করা হয়, সেটা তিনি স্বচক্ষে পরিদর্শন করবেন।’

তারপর তিনি ঐসব গ্রামে যেতেন। সেখানে তিনি সভা করে গ্রামে গ্রামে বিদ্যালয় স্থাপন ও ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য শৌচালয় নির্মাণের জন্য সহজ ভক্তদের নির্দেশ দিতেন। (এই তথ্যটি শ্রদ্ধেয় রঞ্জিত কুমার বিশ্বাস মহাশয় জানিয়েছেন।)

……………………………
গুরুচাদ ঠাকুরের সমাজসংস্কার ও মুক্তির দিশা

……………………………
আরো পড়ুন:

মতুয়া ধর্ম দর্শনের সারমর্ম
মতুয়া মতাদর্শে বিবাহ ও শ্রদ্ধানুষ্ঠান
মতুয়াদের ভগবান কে?

মতুয়াধর্মে জাতিভেদ নেই
মতুয়া মতাদর্শে দেহতত্ত্ব

মতুয়া মতাদর্শে শিক্ষা বিস্তার
গুরুচাঁদ ঠাকুরের রাজনীতি ভাবনা: এক
গুরুচাঁদ ঠাকুরের রাজনীতি ভাবনা: দুই

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!