এই ক্রান্তিকালে নিজেকে জানি: দুই

এই ক্রান্তিকালে নিজেকে জানি: দুই

-মূর্শেদূল মেরাজ

‘আপনি কি মরার আগেই মরে যাচ্ছেন?’ ‘সারাক্ষণ ‘মরে যাচ্ছি’-’মরে যাচ্ছি’ ভেবে ভেবে আতঙ্কে সময় কাটাচ্ছেন?’ তাহলে একটু অপেক্ষা করুন। এ লেখা লিখছি আপনার জন্যই। জ্বি আপনার জন্যই। তবে বেশি না, একটু সময় নেবো। কয়েকটা কথা বলবার ছিল। এই মরার আগে মরে যাওয়া কি আদৌ কোনো যৌক্তিকতা আছে? কি মনে হয় আপনার?? মরতে তো হবেই, সেটা তো স্বাভাবিক ব্যাপার, তাই না? তাই বলে সর্বক্ষণ মরতে হবে কেনো? আসুন না বেঁচে থাকা সময়টা পূর্ণ আনন্দে বাঁচি-জীবনটাকে পূর্ণরূপে অনুভব করি।

একটা মজার বিষয় কি জানেন? মরার আগে মরবার একটা বিষয় আছে সাধন-ভজনে। ফকির লালন সাঁইজির ভাষায় যেটাকে বলে ‘জিন্দা মরা’। এ জিন্দা মরা কিন্তু সারাক্ষণ মরে যাচ্ছি-মরে যাচ্ছি এমন ভাবনা নয়। এটা বড়ই সাধনা-তপস্যার ফসল। সকলে ইচ্ছা করলেই কিন্তু সে পর্যন্ত যেতে পারে না। গুরু যখন উপযুক্ত শিষ্যের মাঝে গুরু হয়ে উঠার লক্ষণ-প্রবণতা লক্ষ্য করে তখন সে শিষ্যকে সময় নিয়ে প্রস্তুত করেন।

আর উপযুক্ত সময়ে গুরু সেই শিষ্যকে ফকিরির ‘বেশ’ দান করেন। তখন শিষ্যকে নিজের সমস্ত কিছু ছেড়ে দিয়ে গুরুর নির্দেশে ফকির হতে হয়। হতে হয় ‘জিন্দা মরা’। এরপর থেকে সেই শিষ্যের গুরুরূপে যাত্রা শুরু হয় জিন্দা মরার দিকে।

তবে মরা মানুষের মতো করে বেঁচে থাকার এই প্রকৃয়া কিন্তু মোটেও নিরস নয়। ফকির বেশে-ফকির হয়ে সাধক নিরানন্দে সারাক্ষণ কান্নাকাটিতে রত থাকে না। থাকে না গোপন অন্ধকার কুঠরীতেও আবদ্ধ। বরঞ্চ তিনি থাকেন সদা আনন্দে।

আমরা যে পরমের অংশ হিসেবে নিজেকে দাবী করি বা আমাদের মাঝে যে পরমের বাস; সেই পরমের প্রকৃত স্বরূপ কিন্তু ‘সৎচিত্তানন্দ’। যার খুব সাধারণ অর্থ হলো ‘নিত্য চিত্ত আনন্দ’ ভাব। আর ফকিরিতে সাধক সেই চির আনন্দেই থাকে। অর্থাৎ সে পরমের রূপ ধারণের দিকে গুটি গুটি পায়ে এগুতে থাকে।

আর যারা পরমে বিশ্বাস করে না তারা পরমকে বলে প্রকৃতি। বিশ্বাস হোক বা না হোক প্রকৃতির মূল রূপও কিন্তু সেই ‘সৎচিত্তানন্দ’ই। সে যে হালেই থাক; সদাই আনন্দে থাকে। তাবে মনে রাখতে হবে, সেই পরম বা প্রকৃতির বা বলা যায় পরমপ্রকৃতির সন্তান হয়ে আমাদের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য বা উদ্দেশ্যে কিন্তু আনন্দে থাকা নয়।

আমাদের বৈশিষ্ট্যই হলো আনন্দে থাকা। এটা লক্ষ্য বা উদ্দেশ্যের বিষয় নয়। আনন্দে থাকাই আমাদের স্বরূপ বৈশিষ্ট। আর সাধককুল জিন্দামরার মধ্যে দিয়ে সেই আনন্দে থাকবার পথেই রওনা দেয়। কিন্তু আমরা সাধারণরা নিজেদের মূল বৈশিষ্ট্য না বুঝে অস্থিরতা-চিন্তা-ভয়-সংশয়-অনিশ্চয়তা ইত্যাদি ইত্যাদি নিয়ে জীবন কাটিয়ে দেই।

তবে সাধক সেসব ধার ধারেন না। তাই এমন ভাবার কারণ নেই জিন্দা মরা মানেই কফিনে করে কবরে শুয়ে থাকা। মরার মতো বাঁচলেও মরার চিন্তায় ঊর্দ্ধে থাকে সাধক। এ বড় সাধনার ফসল। অবশ্য সকলে ফকিরি গ্রহণ করেও কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা বজায় রাখতে পারে না। সেখানেও পাড়ি করতে হয় অনেক চড়াই উৎড়াই।

কেবল ফকিরিতে নয় অনেক সাধনাতেই এই জিন্দা মরার বিধান আছে; ভিন্ন ভিন্ন নামে। যাক সে কথা। মূল কথায় ফিরে আসার চেষ্টা করি। যে কথা বলার চেষ্টা করছিলাম। সেই যে বলছিলাম, আমাদের এই মরার আগে মরে যাবার ভাবনা নিয়ে।

প্রশ্ন হচ্ছে এই ‘মৃত্যু ভয়’ কি হঠাৎ করেই আমাদের পেয়ে বসলো? নাকি ধারিত্রীতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আমরা এমন মৃত্যু ভয়ে আক্রান্ত হয়ে গেলাম? এমন নয় যে আমরা জানতামই না আমাদের মরতে হবে। সকলেই জানতাম। কিন্তু হঠাৎ করে আমরা আড়ষ্ট হয়ে উঠলাম কেনো? কারণ মৃত্যু দরজায় কড়া নাড়ছে তাই? প্রত্যেকের শিয়রে এসে বলছে, “স্যার, একটু বাইরে আসেন। আপনার সাথে একটু কথা আছে।”

ঠিক এই কথাটা একাত্তুরে যখন মুক্তিযুদ্ধ চলছিল তখন পাকিস্তানি সেনারা বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের তালিকা করে ঘরে ঘরে গিয়ে কড়া নেড়ে বলেছিল। এ কথা বলেই ঘর থেকে বের করে নিয়ে গিয়েছিল জাতির বীর সন্তানদের। যাদের কেউ আর কোনোদিনই ঘরে ফেরেনি।

হয়তো বর্তমান পরিস্থিতিতেও আমাদের মাঝে অনেকেই সেই ডাকে সাড়া দিয়ে আর কখনোই ঘরে ফিরবে না। তাই বলে সকলে গলাগলি করে-গড়াগড়ি করে কান্নাকাটি করলে কি এর কোনো সমাধান পাওয়া যাবে? অতীতে গেছে বা ভবিষ্যতে যাবে?

কেবল আমি কেনো আমরা সকলেই জানি, যে সময়টা আমরা পার করছি তা সত্য সত্যই বেশ কঠিন ও জটিল। তাই বলে ভেঙে পরলে চলবে কেনো? আশপাশের মানুষের মনোবল ভেঙে ফেলাও এর থেকে উত্তরর্ণের কোনো উপায় হতে পারে না। তাই না?

শেষ পর্যন্ত চেষ্টা তো চালাতেই হবে, নিজে সুস্থ থেকে অন্যকে সুস্থ রাখার। নিজে বাঁচার যেমন অধিকার আমাদের আছে। তেমনি অন্যকে বাঁচানোর দায়িত্বও তো আমাদের আছে, তাই না? আমি যখন বাংলাদেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসে এ কথা লিখছি তখন হয়তো পৃথিবীর অনেকের পেটে খাবার নেই। আবার অনেকে হয়তো জীবন চরম ঝুঁকির মধ্যে রেখেও স্ব স্ব দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

তাহলে আমরাই বা আমাদের দায়িত্বটা পালন করবো না কেনো বলতে পারেন? হ্যাঁ! এখানে প্রশ্ন আসে আমাদের দায়িত্ব কি? আসলেই তো দায়িত্ব কি?? কে এই দায়িত্ব নির্ধারণ করবে? আর কে এই দায়িত্ব পালন করবে??? এই মুহূর্তে উত্তর বিহীন প্রশ্ন হয়তো অনেক। থাক না সে সব; আসুন একটু সাধারণ করে ভাবি।

কেমন সাধারণ! এই ধরুন পৃথিবী তার এই দু:স্বপ্ন কাটিয়ে একদিন ঠিক ঠিক চেহারায় ফিরে আসবেই। তখন আমাদের মাঝে যারা বিজয়ী হবে তাদের কিন্তু অনেক অনেক কাজ করতে হবে। আজ এই যে ধারিত্রী আমাদেরকে অবসর দিয়েছে।

ঘরে বসিয়ে রেখেছে তারও হয়তো একটা পরিকল্পনা আছে। আমাদের মধ্যে যারা টিকে যাবে তাদেরকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে পূর্বের যে কোনো সময় থেকে অনেক বেশি। তাই শরীরিকভাবে আমাদের যেমন সুস্থ থাকতে হবে তেমনি মানুষিকভাবেও থাকতে হবে সুস্থ ও স্বাভাবিক।

পরিস্থিতি পাল্টালে হয়তো এই ঘটনা আমাদের অনেককিছু নতুন করে ভাবতে শেখাবে। আমাদের মধ্যে অনেকে হয়তো নতুন মানুষ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। কিন্তু অনেকেই হয়তো আবারো মেতে উঠবে সেই সব বিলাশী-বিনাশী জীবনযাপনে। যে যাই করুক না কেনো, যাদের মধ্যে বিন্দুমাত্র মানবতা বোধ আছে তারা হয়তো একটু ভিন্ন ভাবে ভাববে।

আপনি ভেবেছেন কি এই ক্রান্তিকাল কেটে গেলে আপনি কি করবেন? শুধু আপনার জন্য নয় সকল মানুষের জন্য?? সকল জীবের জন্য??? সমগ্র বিশ্বের জন্য… সমগ্র মানবজাতির জন্য… সমগ্র প্রাণীকুলের জন্য… সমগ্র ব্রহ্মাণ্ডের জন্য??

নাকি আপনি আপনার নিজের চিন্তা থেকে বের হতেই পারছেন না? কেবল ভাবছেন আপনি আর আপনার পরিবারই আপনার পৃথিবী? যদি তাই ভাবেন তবে এ লেখা আপনার জন্য নয়। আপনি এখানেই পড়া বন্ধ করে দিতে পারেন। বাকিটা পড়ে বিরক্তই হবেন। তবে যদি নিজ নয় সমগ্র নিয়ে ভাবতে শিখে থাকেন তবে আসুন বাকিটা পড়ে ফেলি।

আর যদি ভাবেন, না শুধু নিজের পরিবার-পরিজন নয়; চেনা-জানার বাইরে যারা আছে সকলে মিলেই আমরা এক বৃহৎ পরিবার বাস করছি ধারিত্রী জুড়ে; তবেই আপনি নিজেকে মানুষ হিসেবে দাবী করতে পারেন। কারণ একটু ভেবে দেখুন বর্তমানের এই অদেখা শত্রু থেকে মুক্ত থাকতে হলে শুধু আপনার পরিবার পরিজন নয় আশপাশের সকলকে সুস্থ থাকতে হবে; তবেই আপনি ও আপনার পরিবার সুস্থ থাকতে পারবে। আসলে আমরা সকলেই সকলের সঙ্গে যুক্ত। পৃথক নই। তাই পৃথক ভাবনাটাই একটা হীনমন্যতা।

তারপরও চিত্ত চঞ্চল-অস্থির হয়। খুব কাছে যখন বিপদ চলে আসে তখন সব উলোটপালোট হয়ে যায়। তখন সবার আগে নিজের সাথে নিজের বোঝাপড়াটা জরুরী হয়ে ওঠে। সবার আগে নিজে শান্ত হতে হয়। স্থির হতে হয়। তবেই আশপাশের অন্যদেরও শান্ত-স্থির করা সম্ভব।

আসুন জেনে নেয়ার চেষ্টা করি এমনি অস্থির মুর্হূতে-এই ক্রান্তিকালে নিজেকে শান্ত করতে কি করা যেতে পারে-

প্রতিদিন সময় করেও করতে পারলে সবচেয়ে ভালো। তা না হলে যখন বেশি বিষন্ন হয়ে উঠে মন তখন করা যেতে পারে। এই ধরুন আপনি টিভিতে-ইন্টারনেটে-লোকমুখে নানাবিধ সংবাদ শুনে উত্তেজিত হয়ে পরলেন। চিত্ত অস্থির হয়ে উঠলো। তখনি মৃত্যুভয়ে আড়ষ্ট না হয়ে একটু একা হবার চেষ্টা করুন।

ঢিলেঢালা পোশাক পড়ুন। তারপর একটা এমন জায়গায় নিজের মতো করে বসুন যেখানে আলো-বাতাস তুলনামূলকভাবে বেশি যাতায়াত করে। সম্ভব হলে একটু অন্ধকার করে নিন পরিবেশটা। চাইলে একটু মিউজিক চালু করতে পারেন।

ইউটিউবে তিব্বতি মেডিটেশনের অনেক খুব সুন্দর সুন্দর মিউজিক পেয়ে যাবেন। ঢিমে তালে তা ছাড়তে পারেন। আমার বেশ লাগে। আপনারও ভালো লাগতে পারে; শুনে দেখবেন। এরপর একটা সমতল জায়গায় বসুন।

সরাসরি মাটিতে না বসে সম্ভব হলে মাদুর/ম্যাটের উপর আরামদায়ক ভঙ্গিতে বসুন। চাইলে বিছানায় বা সোফার উপরও বসতে পারেন। তবে জায়গাটা যেন সমতল হয় সেদিকে নজর রাখবেন। পিঠটা যতটা সম্ভব সোজা রাখার চেষ্টা করে বসুন। দুই হাত হাঁটুর উপর রাখুন আলত করে।

কাঁধটা সোজা রাখার চেষ্টা করুন। মুখটা সামান্য একটু উঁচু বা সোজা রাখতে পারেন। চোখ বন্ধ করে ফেলুন। কোনো কিছুই খুব জোর দিয়ে করবেন না। খুব স্বাভাবিকভাবে করবেন। এরপর গভীর নি:শ্বাস নিন। যতটা সম্ভব নি:শ্বাস গভীর-দীর্ঘ-ধীরে ধীরে নিন। এবং তারচেয়ে দীর্ঘসময় নিয়ে ধীরে ধীরে প্রশ্বাস ছাড়ুন। জোর করবেন না। আপনার পক্ষে যতটা সম্ভব ততটাই করবেন।

এভাবে করতে থাকুন। মন বারবারই বিভিন্ন বিষয়ে ডুবে যেতে চাইবে। আপনি কান দিয়ে মিউজিক শোনার চেষ্টা করুন। শরীরে যে বাতাসের ছোঁয়া লাগছে তা অনুভব করার চেষ্টা করুন। সেই একই সাথে হাত-কাঁধ-শিড়দাড়া-মুখ নি:শ্বাস ঠিক আছে কিনা সেটাও মনে মনে চেক করতে থাকুন। এতে মনোযোগ কিছুটা হলেও দেহের মাঝে সীমাবদ্ধ থাকবে।

আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নি:শ্বাস-প্রশ্বাসের দিকে মনোযোগ দেয়ার চেষ্টা করুন; যখনই মন অন্য দিকে যেতে চাইবে। মন বারবারই দিকবিদিক ছুটতে চাইবে তাকে কোষে লাগাম ধরার চেষ্টা করবেন না। অন্য চিন্তাগুলো জাস্ট ইগনোর করবেন।

এতো কিছুর পরও কি মন কেন্দ্রীভূত হয়! মনকে ধরা কি এতোই সহজ। নাহ্ সহজ নাহ্। তবে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। যেমনটি বসে আছেন ঠিক তেমনটি বসে থাকুন। যা যা করছিলেন তাই তাই করতে থাকুন। গভীর-দীর্ঘ-ধীরে ধীরে বুক ভরে নি:শ্বাস নিন এবং আরো ধীরে ধীরে সময় নিয়ে নাক দিয়েই তা ছাড়ুন।

এইভাবে কিছু সময় যদি বসে থাকতে পারেন ধীরে ধীরে দেখবেন মন কিছুটা শান্ত হয়ে আসছে। যদিও বারবারই বিভিন্ন চিন্তা ঢুকে পরবে। তারপরও আপনি আপনার দেহের মাঝে ফিরে আসবার চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। যখন দেখবেন মন কিছুটা স্থির তখন নিজের সাথে নিজের কিছুটা বোঝাপড়া করার দিকে মনোযোগ দিন-

প্রথমেই ক্ষমা করে দিন যাদের প্রতি আপনার বিন্দু পরিমাণ অভিযোগ আছে-অনুযোগ আছে। মনে মনে বলুন আমি ক্ষমা করে দিচ্ছি সকলকে। যারা আমার সাথে সকল ধরনের অপরাধ করেছে-অপবাদ দিয়েছে-অপমান করেছে। সকলের প্রতি সকল অভিযোগ তুলে নিচ্ছি।

আমি এখন থেকে পৃথিবীর সকল মানুষকে কেবল ভালোবাসবো। সকলকে কেবল ভালোবাসা দিবো। যেখানে ভালোবাসা আছে সেখানেই আমি বিরাজ করবো।

সমস্ত না পাওয়া-কষ্ট-দু:খ-কামনা-বাসনা-জ্বালা-যন্ত্রণা-অপমান-অপবাদ সেগুলোকে আর গুরুত্ব দেব না। কেবল ভালোবাসবো। ভালোবাসার কথাই ভাববো। ভালাবাসাই দিবো উজার করে।

অতীত বা ভবিষ্যত নয়; আমি এখন থেকে প্রতিটি মুর্হূতের জন্য বাঁচবো। অতীতে কি হয়েছে বা ভবিষতে কি হবে সেই ভাবনায় ব্যাকুল হবো না। এমনকি কাউকে ব্যাকুল করবোও না। নৈরাশ্যবাদীতাকে প্রশ্রয় দেব না-নৈরাশ্যবাদীদের সংস্পর্শেও আসবো না। আমি বেঁচে থাকবো আশাবাদের সাথে-আশাবাদীদের সাথে।…

এইবার কিছুটা সময় নি:শ্বাস-প্রশ্বাসের দিকে আবার মনোযোগ দিন। এভাবে কিছুটা সময় কাটিয়ে মনে মনে ভাবতে থাকুন আপনি ভালোবাসেন পৃথিবীর প্রতিটা মানুষকে। এই ভালোবাসার বার্তা আপনি সকলের অগোচরে সকলকে বিলি করতে চান।

ছড়িয়ে দিতে চান সেই ভালোবাসার বার্তা। কিন্তু আপনি ঘরে বন্দি; কিন্তু মনে কি বন্দি? নাহ্। আপনি মনে মুক্ত-উন্মুক্ত। তাই আর দেরি না করে আপনার সকলের প্রতি সকল ভালোবাসা ছড়িয়ে দিতে থাকুন সকলের তরে-সকলের কাছে। পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের জন্য ভালোবাসা ছড়িয়ে দিতে থাকুন। প্রতিটি মানুষকে সেই ভালোবাসার কথা; কথা না বলে তাদের জানিয়ে দিন-ছড়িয়ে দিন মনে মনে।…

পৃথিবীর মানুষ আজ বড় অসহায়। আমাদের প্রত্যেকের আজ বড় ভালোবাসার প্রয়োজন। আর আমাদের এই ভালোবাসার কমতিটা মেটাতে পারেন কেবল আপনি। জ্বি… আপনি। কারণ আপনি কিন্তু একা নয়। আমরা সকলে মিলেই আপনি বা আমি বা আমরা।

আর আমরা যদি প্রত্যেকেই সময় করে এই ভালোবাসা ছড়িয়ে দিতে পারি তাহলে সত্যি সত্যিই পৃথিবীর মানুষ সুস্থ হয়ে উঠবে। এই বিশ্বাস থেকে আপনি আপনার কাজটি শুরু করুন। আপনার পাশে হয়তো আপনার মতো অনেক অনেক আপনি বা আমি যুক্ত হবো।

আমরা সবাই মিলে এতো এতো ভালোবাসা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দেবো যে, এই পৃথিবীতে কেউ আর অসুখী থাকবে না। থাকবে না মনমরা। সকলেই উৎফুল্ল হয়ে বাঁচবে। আর মনে রাখতে হবে পৃথিবীর মানুষের মুখে হাসি ফুটাতে আপনাকে প্রতিদিন সময় করে সকলের অগোচরে ছড়িয়ে দিতে হবে এই অফুরান ভালোবাসা।

সবশেষে চোখ খুলবার আগে দৃঢ় সংকল্প করুন, পৃথিবীর মানুষ যদি এই দু:স্বপ্ন থেকে জেগে উঠে তাহলে আমি মানুষ হয়ে মানুষের পাশেই থাকবো। থাকবো চির আনন্দে-বাঁচবো চির ভালোবাসায়।

আর এই আনন্দের সন্ধান করতে মহর্ষি মনোমোহন দত্তের গান দিয়ে এবারের লেখা শেষ করছি। সময় সুযোগ হলে আবারো লিখবো। সকলে ভালো থাকবেন। নির্দিষ্ট শারীরিক দূরত্ব মেনে চলবেন। ঘরে থাকবেন। আনন্দে থাকবেন-আনন্দে রাখবেন। জয়গুরু।। মহর্ষি মনোমোহন দত্ত বলছেন-

থাকি যেন আনন্দ ভিখাড়ি।
আর কিছু ধন যেন কখন, কামনা না করি।।

আনন্দে আনন্দ লয়ে, থাকি যেন আনন্দ হয়ে,
কেবল আনন্দময়ে, আনন্দে হৃদয়ে ধরি।।

জগতে যা কিছু দ্বন্দ্ব, পাইতে শুধু আনন্দ,
ঐশ্বর্য্যেতে ভাল মন্দ, মাধুর্য্যে পূর্ণ মাধুরী।।

দয়াময় দয়াময়, দীনে যদি দয়া হয়,
আনন্দ কর উদয়, নিরানন্দ অপসারি।।

যে আনন্দে লাগে দ্বন্দ্ব, চাহি না সেই আনন্দ,
নিত্যানন্দ প্রেমানন্দ, পূর্ণানন্দ প্রাণে ভরি।।

পুলকে আপনা হারা, হতে চাই পাগল পারা,
বহায়ে আনন্দধারা, হৃদিসিংহাসনোপরি।।

আনন্দে বসিয়া থাক, আনন্দে আনন্দ মাখ,
রূপে প্রাণে ভরে রাখ, সেবক দাস তোমারি।।

(চলবে…)

……………………
আরো পড়ুন:
এই ক্রান্তিকালে নিজেকে জানি: এক
এই ক্রান্তিকালে নিজেকে জানি: দুই
এই ক্রান্তিকালে নিজেকে জানি: তিন

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!