স্মরণে রব ফকির

স্মরণে রব ফকির

স্মরণে রব ফকির

-রাকিবুল রানা

আজ ৭ আগস্ট অন্তরের অন্তরস্থল থেকে স্মরণ করছি প্রাণপ্রিয় আব্দুর রব ফকিরকে। ২০১৬ সালের আজকের এই দিনে তিনি দেহত্যাগ করেছেন। তিনি শায়িত আছেন তার নিজ ভিটাতে। ভবঘুরে কথামালার পক্ষ থেকে রব ফকিরের স্মৃতির উদ্দেশ্যে এই নিবেদন-

আনুকাকার স্মৃতি রব ফকির:

৭ আগস্ট, এই দিনটি আসলেই অনেক স্মৃতি ঘোরাফেরা করে অন্তরে। মনে পড়ে যায় ভাই-এর মৃদু কণ্ঠের স্বর আর তার অতি মায়াবী ঐ চোখ দুটি। মাঝে মাঝে কি মিহি করেই না হাসি দিতেন মানুষটি। এখনো আমার নয়নে ভাসে তার সেই সরল চাহনি আর মন জুড়ানো হাসি মুখ।

প্রেমিক মানুষ ছিলেন রব ভাই; তবে সবার সাথে রসিকতা করতেন না। শোনা কথা-অতি কথা কোনোটাই তিনি বিশেষ পছন্দ করতেন না। নিজেও স্বল্পভাষী ছিলেন। ছোট ছোট করে কথা বলতেন।

কোনো বিষয় নিয়ে চঞ্চলতা বা উগ্রতা কখনো দেখিনি। আসলে এই বিশ্লেষণগুলো রব ভাইয়ের সাথে যায়ই না। ভক্তি, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মানুষ ছিলেন রব ভাই। শ্রদ্ধা করতাম; তিনিও কখনো বিপরীত করেন নি কখনো। ব্যক্তি হিসেবে অতুলনীয় ছিলেন।

বর্তমানে তো অনেক দোতারা বাজনদার পাওয়া যায়। কিন্তু ভাইয়ের মতো এত মিষ্টি করে বাজানোর মানুষ আমি এখনো কম পাই। আমাদের বিশু, খোকন আরো কতজন সবার নাম জানি না। রব ভাইয়ের কাছে দোতারা শিখতো। বিশু ভাইয়ের শিক্ষার মান রেখেছে।

হঠাৎ করেই যেন গরমটা একটু বেশি পড়তে শুরু করলো। রৌদ্দুর লাগছে দেহে। আনু কাকাও কথা থামিয়ে দিলেন। আমরা ওঠে গিয়ে একটু দূরে গাছের ছায়ায় বসলাম। স্মৃতিচারণের এমন আবেগীক্ষণে হুট করে রোদ ঢুকে সব এলোমেলো করে দিলো।

কেনো যেন মনে হতে লাগলো অনেক কিছু মিস হয়ে গেলো। অনু কাকা একটি ভালো স্মৃতিচারণের মধ্যদিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু সেটা শুরু হয়েও শেষ হলো না। আসলে আবেগ বিষয়টা এমনই। তাকে ঘটা করে নির্মাণ করা যায় না। যদি সে নিজে নির্মিত না হয়।

তারপরও আমি আবার আনু ফকিরকে জিজ্ঞাসা করলাম। জানতে চাইলাম। রব ফকিরের দোতারা আর সংগীত সম্পর্কে। আনু কাকা আবার বলতে শুরু করলেন তার চিনচেনা ভঙ্গিতে- রব ভাই আশির দশক থেকেই দোতারার ওস্তাদ।

রব ভাই সেই সময় থেকেই দোতারা বাজাতেন। সেই সময় খুব কম দোতারা বাজনদার ছিল। যে কয়জন ছিল তার মধ্যে রব ভাই অন্যতম। তার দোতারার টোকাগুলো খুব মিহি আর পরিস্কার ছিল।

মামুন নদীয়ার প্রথম এ্যালবামে ভাই দোতারা বাজিয়েছিল। এ্যালবামের গানগুলো ভালো জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। সঙ্গে রব ভাইয়ের দোতারার শ্রোতা-ভক্ত তৈরি হয়েছিল। তার পূর্বেও যে তার দোতারার ভক্ত-শ্রোতা কম ছিল তা বলছি না। যাই হোক, প্রথম এ্যালবামের পর যদিও ভাই আর মামুন নদীয়ার সাথে কাজ করেন নাই।

বর্তমানে তো অনেক দোতারা বাজনদার পাওয়া যায়। কিন্তু ভাইয়ের মতো এত মিষ্টি করে বাজানোর মানুষ আমি এখনো কম পাই। আমাদের বিশু, খোকন আরো কতজন সবার নাম জানি না। রব ভাইয়ের কাছে দোতারা শিখতো। বিশু ভাইয়ের শিক্ষার মান রেখেছে।

একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন আনু কাকা। বুঝতে পারছিলাম আনু কাকা তার স্মৃতির মর্মস্পর্শী অংশে পৌঁছে যাচ্ছেন। পরিবেশ হালকা করতে বললাম- অনেক কথা তো হলো চলেন চা খাই।

আনু কাকাও আমার দিকে তাকিয়ে খানিকটা হেসে বললেন- হ বাপ চলো যাই। চা খেতে খেতে কথা বলা যাবে।

আনু কাকার সাথে চায়ের আড্ডায় আর রব ফকিরের কথা তুলিনি। চা খেয়ে আড্ডা দিয়ে ফিরে এসেছিলাম। আসলে মানুষকে সেই স্মৃতির মধ্যে ফেলে দেয়া বেশ মুশকিলের কাজ। যে স্মৃতিতে দীর্ঘদিনের সহচরকে হারানোর বেদনা লুকানো থাকে।

সঙ্গীনি আনজেরা ফকিরানির স্মৃতিতে রব ফকির-

কিছুদিন বাদে রব ফকিরের বাড়িতে গেলাম। চাচীর সাথে কথা বলার জন্য। এর মধ্যে রব ফকিরের সংগীত ও দোতারার গুরু সম্পর্কে অনেকের সাথে কথা বলেছি। প্রায় সকলের কাছেই ভিন্ন ভিন্ন উত্তর পাওয়াতে আমি নিজেও খানিকটা বিভ্রান্ত। তাই আজ শুরুতেই চাচীর কাছে সেই কথাই জানতে চাইলাম।

তিনিও আনু কাকার কথা বললেন। বললেন ঐ মানুষটি আমার থেকে আরো ভালো বলতে পারবেন। ফিরোজ কাকা, কুদ্দুস কাকা নজরুল কাকাদের নামও বললেন। তারা একই সাথে অনেক সময় কাটিয়েছেন। অনেক সঙ্গ করেছেন।

নজরুল ফকিরের স্মৃতিতে রব ফকির-

রব ফকির ছোট থেকেই গান পাগলা ছিলেন। তার মধ্যে স্রষ্টা সংগীতের গুণ দিয়ে পাঠিয়েছিলেন। তাই তাকে সংগীতের জন্য বিশেষ কোনো তালিম নিতে হয়নি। তবে আব্দুর রহিম ও মজিদ মিয়া এই দুইজন ওস্তাদের সাথে তার সক্ষতা ছিল।

ভাব গান গাওয়া এবং শোনা তার রীতিমতো নেশায় পরিণত হয়েছিল। সুর আর গান রপ্ত করতে তাকে খুব বেশি কষ্ট করতে হতো না। আর সেই কারণেই তিনি লালন সাঁইজির এত বাণী আনায়াসে গাইতে পারতেন। তার স্মৃতিতে সাঁইজির যে কত বাণী ছিল; তার নজির বিরল।

করিম শাহ্ একতারা আর ডুগি হাতে নিলে ভাবের বাজার বসতো। মোকছেদ আলী শাহ্ খুব গুণী মানুষ ছিলেন। সাঁইজির অসংখ্য গানে তিনি সুর আরোপ করেছেন। পরবর্তীতে রব অনেকগুলো গান নিজের মত করে পরিবেশন করেছে।

ঐ সময় কুষ্টিয়াতে মোকছেদ আলী শাহ্, করিম শাহ্, ঝড়ুশাহ্, নিজাম শাহ্, মন্টু শাহ্, আবুল শাহ্ তারপরে- শাহ্ আলম, শহিদুল, মামুন নদীয়া, ফিরোজ, কুদ্দুস, ঝিন্টু, নজরুল- এই মানুষগুলো একসাথে অনেক সঙ্গ করেছে। যখনো সাঁইজির ধামের রূপ খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি; গাছপালায় ভর্তি ছিল।

বাচ্চাদের একটি স্কুল ছিল দক্ষিণপাশে। উত্তরে বড় বড় কয়েকটা তালগাছ। আমগাছ আর নানা গাছে পুরো ধাম সবুজ হয়ে থাকতো। সেই প্রেমময় ধামে তারা জীবনের অনেক সময় কাটিয়েছেন। তাদের প্রেমের জোয়ার ছিল সেই সময়টা।

করিম শাহ্ একতারা আর ডুগি হাতে নিলে ভাবের বাজার বসতো। মোকছেদ আলী শাহ্ খুব গুণী মানুষ ছিলেন। সাঁইজির অসংখ্য গানে তিনি সুর আরোপ করেছেন। পরবর্তীতে রব অনেকগুলো গান নিজের মত করে পরিবেশন করেছে।

তার করা সুরগুলো বেশ মনোমুগ্ধকার ছিল। সবকটা তো আমার মনে নাই। তবে তার সুর করা সাঁইজির এই পদগুলো উনি খুব গাইতেন-

১. আমি দেখলাম এ সংসার।
২. জগৎ মুক্তিতে ভোলালেন সাঁই।
৩. আছে কোন মানুষের বসত কোন দলে।
৪. মানুষ তত্ত্ব সত্ত্ব হয় যার মনে।
৫. শব্দের ঘরে নি:শব্দ করে।
৬. কাছের মানুষ ডাকছো কেন শোর করে।
৭. আশেক জেরে গগনের চাঁদ।

আরও অনেক গান, এতো মনে থাকে নাকি? এমনটাই বলেছিল নজরুল কাকা। গানগুলোকে নতুন করে প্রাণ দিয়েছিল শ্রোতামুখি করেছিলেন রব ভাই। আবার মানুষের হৃদয় স্পর্শ করতে পারতেন নিজেও কাঁদতের, অন্যকেও কাঁদাতেন।

সবশেষে-

আনু কাকার মুখ থেকে আর রব ফকিরের পারিবারিক সূত্র মিলিয়ে যা জানা যায়- ইয়ার আলী আর রহিম ওস্তাদের কাছে রব ফকির দোতারা শিখতেন। ওস্তাদ রহিমের কাছে তার দোতারার হাতেখড়ি। রহিম ওস্তাদ কুমিল্লার মানুষ ছিলেন। কুষ্টিয়া জগতী সুগারমিলে চাকরি করতেন।

রব ফকিরও জীবিকার তাগিদে সুগারমিলে চাকরি নেন। সংগীত ছিল তার আত্মার খোরাক। ভাব গানে তার একটি শক্ত অবস্থান তৈরি হয়েছিল। কর্মস্থল বাসার কাছে হওয়ায় তার সংগীত জীবনে তেমন কোন বিরূপ প্রভাব পরেনি। অধিকিন্তু গানের জন্য তিনি অনেক সুযোগ সুবিধা পেয়েছেন।

সাঁইজির বাণী পরিবেশনের জন্য তিনি দেশের মাটি পেরিয়ে বিদেশেও গেছেন বহুবার। সৌভাগ্য হয়েছে নানা ভাষী মানুষের মাঝে সাঁইজির বাণী ছড়িয়ে দেয়ার।

রব ফকিরের সরলতা এবং সাদামাটা জীবন প্রসঙ্গে বলেছিলেন- রব ভাই দেশে বা বিদেশে যেখানেই বাণী পরিবেশন করতেন স্ত্রী করা কোনো পোশাক তিনি পরিধান করতেন না। তার অলঙ্কার ছিল সাঁইজির বাণী।

সর্বশেষ যে মানুষটির কথা আবারও না বললেই নয় তিনি হলেন ‘আনজেরা ফকিরানি’। রব ফকিরের সঙ্গিনী। হাজারো উত্থান-পতন দু:খ-দুর্দশার পরেও যে মানুষটি ফকিরের সাথ ছাড়েননি। পথ ছাড়েননি।

জুগিয়া, পালপাড়া, কুষ্টিয়াতে চাচীর জন্ম এবং বেড়ে ওঠা। আর ফকিরপাড়া, কুষ্টিয়াতে রব ফকিরের নিবাস। উদিবাড়ি আর পালপাড়া পাশাপাশি দুই গ্রাম। ঠিক কত সালে দুই জনের প্রণয় হয়েছিল তা বলা বেশ শক্ত কাজ। যাই হোক চাচীর কাছ থেকে আরো জানা গেলো-

২০ জানুয়ারি ১৯৫৫ সালে বাড়াদী ফকিরপাড়া কুষ্টিয়াতে জন্মগ্রহণ করেন রব ফকির। বাবা সিরাজ জোয়াদ্দার এবং মাতা রিজিয়া খাতুন। ছোটবেলা থেকে গান করলেও ১৯৭২ সাল থেকে পরিপূর্ণভাবে সংগীতে মনোনিবেশ করেন। ধীরে ধীরে তিনি লালন সাঁইজির বাণীতে আকৃষ্ট হন এবং লালন বাণীতে খ্যাতি অর্জন করেন।

তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও করোনার অতিমারী ছড়িয়ে পরায় এইবার আর ঘটা করে সাধুসঙ্গে আয়োজন হচ্ছে না। নিয়ম মেনে ছোট পরিসরে করা হবে রব ফকিরের স্মরণ। তার ভক্তকুলও নিজ নিজ ভাবনায় স্মরণ করবেন রব ফকিরকে। তার দোতারাকে। তার সেই মিষ্টভাষাকে। সর্বোপরি রব ফকিরকে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলাসহ, আমেরিকা, জাপান, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানী, লন্ডন এবং ভারতে সাঁইজির বাণী পরিবেশন করেছেন।

সাধন জীবনে তিনি ১৯৯৬ সালে খলিসাকুন্ডির রব ফকির ওরফে লবান শাহ্-এর কাছে দীক্ষা গ্রহণ করেন। গুরু-শিষ্যের নামের মিল থাকায় গুরু তার নাম পাল্টে রাখলেন ‘গোপাল’। পরবর্তীতে তাকে অনেকে গোপাল নামে ডাকলেও তিনি রব ফকির নামেই সকলের কাছে পরিচিত।

দীর্ঘ ২০ বছর ফকিরি জীবনে তিনি কোনো ভাবশিষ্য বা শিষ্যা তৈরি করেন নি। তবে সংগীতে তার অগণিত ভক্ত-শিষ্য গুণগ্রাহী ছড়িয়ে আছে দেশ-বিদেশে।

দেহত্যাগের কিছুদিন আগে থেকেই শ্বাসকষ্ট তাকে ভোগাচ্ছিল বেশ। যদিও এটা তার দীর্ঘদিনের রোগ ছিল। এছাড়া অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলেও নিদানে এসে তিনি আর চিকিৎসা করাতে মোটেও রাজি হননি। এটা একান্তই তার অনুরাগ বা মনের ব্যাপার।

২০১৬ সালের ৭ আগস্ট রোজ রবিবার আমাদের মাঝ থেকে পর্দা নেন রব ফকির। নিজ বসতভিটাতেই তার শেষ কৃতকার্য সম্পন্ন হয়। সেখানেই তাকে সমাহিত করা হয়। প্রতিবছর তারা এবং ভক্ত আশেকানদের উদ্যোগে সাধুসঙ্গের আয়োজন করা হয় সেই দিনটিকে ঘিরে।

তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও করোনার অতিমারী ছড়িয়ে পরায় এইবার আর ঘটা করে সাধুসঙ্গে আয়োজন হচ্ছে না। নিয়ম মেনে ছোট পরিসরে করা হবে রব ফকিরের স্মরণ। তার ভক্তকুলও নিজ নিজ ভাবনায় স্মরণ করবেন রব ফকিরকে। তার দোতারাকে। তার সেই মিষ্টভাষাকে। সর্বোপরি রব ফকিরকে।

আজকের এই দিনে গভীরভাবে স্মরণ করছি এই গুণী মানুষটাকে। পরলোকে শান্তিতে থাকুন। আপনার কর্মদ্বারা আপনি চিরকাল বেচে থাকবেন। মানুষের মাঝে-মানুষের অন্তরে।। জয়গুরু।।

 

<<ফকির জাফর মস্তান ।। মনোরঞ্জন গোঁসাই ও তাঁর জীবন দর্শন>>

……………………………….
ভাববাদ-আধ্যাত্মবাদ-সাধুগুরু নিয়ে লিখুন ভবঘুরেকথা.কম-এ
লেখা পাঠিয়ে দিন- [email protected]
……………………………….

…………………………………….
আরো পড়ুন:
ফকির মনোরঞ্জন গোঁসাই
আমার দেখা কবিরাজ গোঁসাই

মরমী সাধক মহেন্দ্রনাথ গোস্বামী
একজন লালন সাধকের কথা
আমার পিতা ভক্ত মনোরঞ্জন গোঁসাই ও তাঁর দর্শন

মনোরঞ্জন গোঁসাই : বাউল সাধনার শুদ্ধপুরুষ -এক
মনোরঞ্জন গোঁসাই : বাউল সাধনার শুদ্ধপুরুষ -দুই
মনোরঞ্জন গোঁসাই : বাউল সাধনার শুদ্ধপুরুষ -তিন

মনোরঞ্জন গোঁসাই: স্বরূপ সন্ধানী দার্শনিক
মনোরঞ্জন গোঁসাই ও তাঁর জীবন দর্শন
দরবেশ লালমিয়া সাঁই
সহজ মানুষের পূর্ণ ঠিকানা ‘খোদাবক্স ফকির’
ফকির গণি শাহ্
ফকির জাফর মস্তান
স্মরণে রব ফকির

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!