সোহরাওয়ার্দি

সোহরাওয়ার্দির উইপোকার আলাপচারিতা

-মূর্শেদূল মেরাজ

সোহরাওয়ার্দির ‘উইপোকার আলাপচারিতা’

ফারসি ভাষায় রচিত রেসালেইয়ে লোগাতে মুরিয়ান বা ‘উইপোকার আলাপচারিতা’ বইটিও রূপক সাহিত্য ও স্রষ্টাপ্রেমের আধ্যাত্মিক পরিভ্রমণ সম্পর্কিত। এর মূল বক্তব্য- স্রষ্টাপ্রেমী হয়ে বস্তুগত স্বার্থ-চিন্তার বন্ধন থেকে মুক্ত হতে পারলেই মানুষ স্রষ্টার সান্নিধ্যে ধন্য হবে।

বইতে উইপোকা বলতে আসলে সোহরাওয়ার্দি নিজেকেই বুঝিয়েছেন। তিনি বলেন, মরু-প্রান্তরে ঘুরতে ঘুরতে ধৈর্যশীল, অধ্যবসায়ী ও কষ্টসহিষ্ণু উইপোকারা কখনো কখনো এমন উচ্চতর পর্যায়ে পৌঁছে। যে তাদের মধ্যে বেহেশতি আলোকময়তা প্রকাশ পায়। এতে তারা সুলাইমানের মত নবীরও পথপ্রদর্শক ও ত্রাণকর্তায় পরিণত হয়।

রাতের শিশির-বিন্দু নিয়ে কয়েকটি উইপোকার কথপোকথন দিয়ে শুরু হয়েছে এই গল্প। তাদের প্রশ্ন ছিল শিশির ভূমির নাকি বাতাসের? শেষে শিশিরবিন্দুকে বাস্প হয়ে বাতাসে মিশে যেতে দেখে তারা উপসংহারে পৌঁছায় শিশির বাতাস থেকেই আসে।

সোহরাওয়ার্দি এই রূপক গল্পের মধ্য দিয়ে সকল কিছুই যে তার মূলতত্ত্বের দিকে অর্থাৎ আলোর অধিপতি স্রষ্টার দিকেই ফিরে যায় তাই ব্যক্ত করার প্রয়াস করেছেন। অপর কাছিমের গল্পে কয়েকটি কাছিম সাগরে একটি পাখিকে দেখে জ্ঞানীর কাছে প্রশ্ন করে- এই পাখি পানি না বাতাস থেকে এসেছে?

কায়খসরুর বাটির রূপক কাহিনীও স্থান পেয়েছে বইটিতে। কথিত আছে, কায়খসরুর বাটির মধ্যে দেখা যেত গোটা বিশ্ব। এটি আসলে একজন আধ্যাত্মিক জ্ঞান-সাধকের পরিচ্ছন্ন মনেরই রূপক প্রকাশ।

জ্ঞানী বলেন, পাখি পানির মুখাপেক্ষী না হলে কোনো পানিই নেই। সেক্ষেত্রে পানিহীনতা থাকাটাও সম্ভব! পর্দা উঠিয়ে না নেয়া পর্যন্ত এই প্রত্যক্ষকরণ হবে না। যে রত্ন প্রত্যক্ষকরণের আওতায় আসে তা সৃষ্টির অংশ ও তারই একটি ঘটনা মাত্র।

কাছিমরা আবার প্রশ্ন করে- যে রত্ন বসাতে স্থান দরকার হয় তা কিভাবে দিক ও স্থানের অমুখাপেক্ষী হবে? জ্ঞানী কোনো জবাব না দিলে কাছিমরা তাকে ত্যাগ করে চলে যায়। এখানে কাছিমরা স্রষ্টাপ্রেমের পথ পেতে ব্যর্থ মানুষের রূপক। তারা জ্ঞানী অর্থাৎ সাধন পথের গুরুর বক্তব্য বুঝতে পারেনি।

কায়খসরুর বাটির রূপক কাহিনীও স্থান পেয়েছে বইটিতে। কথিত আছে, কায়খসরুর বাটির মধ্যে দেখা যেত গোটা বিশ্ব। এটি আসলে একজন আধ্যাত্মিক জ্ঞান-সাধকের পরিচ্ছন্ন মনেরই রূপক প্রকাশ।

বইটির অন্যান্য গল্পে- মানুষের মাঝে স্রষ্টার অস্তিত্ব, ধর্মন্ধদের অক্ষমতা, নিজের ভেতর সষ্ট্রতত্ত্বকে ভুলে যাওয়ার প্রবনতা, সাধনায় উর্দ্ধলোকে যাওয়ার জন্য স্রষ্টাপ্রেম ইত্যাদি বিবৃত হয়েছে।

(চলবে…)

<<সোহরাওয়ার্দি: জিব্রাইলের পালকের শব্দ।। সোহরাওয়ার্দি: প্রেমের বাস্তবতা>>

……………………………….
ভাববাদ-আধ্যাত্মবাদ-সাধুগুরু নিয়ে লিখুন ভবঘুরেকথা.কম-এ
লেখা পাঠিয়ে দিন- voboghurekotha@gmail.com
……………………………….

………………………..
আরো পড়ুন:
সোহরাওয়ার্দি: জীবন ও কর্ম
সোহরাওয়ার্দি: ইশরাকি দর্শন
সোহরাওয়ার্দি: সাহিত্য
সোহরাওয়ার্দি: জিব্রাইলের পালকের শব্দ
সোহরাওয়ার্দি: উইপোকার আলাপচারিতা
সোহরাওয়ার্দি: প্রেমের বাস্তবতা
সোহরাওয়ার্দি: লাল বুদ্ধিবৃত্তি
সোহরাওয়ার্দি: সী-মোরগের দূত

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

error: Content is protected !!