ভবঘুরেকথা

তীর্থ-মঙ্গল

-লুৎফর রহমান

প্রত্যেক জাতিই চলেছে বিজয়-শখ বাজাতে বাজাতে সম্মুখে-আমরা সবাই একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলাম। শুধু স্বর্গের স্বপ্ন দেখছি। প্রত্যেক মঙ্গল অনুষ্ঠানই ঈশ্বরের পূজা। এ নতুন পূজায় আজ যে যোগ না দেবে সে পশ্চাতেই পড়ে রইবে। মানব-জাতির প্রভু আজ নতুন সাজ পরেছেন, তাঁর পূজাও আজ করতে হবে নতুন রকমে। জীবিতদের কাছে কথা বলে লাভ হয়। মৃতের কাছে জীবন-মন্ত্র পাঠ করলে কী লাভ?

মুসলমানকে তপস্যা করতে হবে। জীবনের সংকীর্ণ চিন্তা কর, মানুষ হও, যথার্থ মুসলিম জীবনের পরিচয় দাও। নিজেকে অমন করে অবমানিত করে ফেলো না।

যৌবনের ঐ দানকে, রক্তচক্ষু বিস্তার করে, মানুষকে চূর্ণ করে, সুপ্তির সুখময় আবেশে, অবসাদে, আলস্যে, হাসি-তামাসায় দায়িত্বহীন গানে, বাদ্যে, আত্মকলহে, ক্ষুদ্র পরিবারে, সংকীর্ণচিত্ততায়, গ্রামবাসীর সঙ্গে বিবাদ করে, জমিদারির স্বপ্নে, গর্বে, মিথ্যায়, মানুষকে ফাঁকি দিয়ে ব্যর্থ করে দিও না। দোহাই তোমাদের।

পণ্ডিতেরা বলে থাকেন, চেষ্টার দ্বারা জগতের সমস্ত কাজই সম্ভব, শুধু কবি হওয়া সম্ভব নয়। ডিমসথেনিস নামক এক জগৎ-বিখ্যাত বাগ্মী গ্রিস দেশে এথেন্স নগরে জন্মগ্রহণ করেন। তার কণ্ঠস্বর সুপরিষ্কৃত এবং উচ্চ ছিল না- অতীতে এবং ভবিষ্যতে জগতে এরূপ দ্বিতীয় মহাবাগীর আবির্ভাব আর হয়তো হবে না।

জীবনের এবং যৌবনের মহাসার্থকতা আছে। যৌবনের সুউচ্চ এবং সুউন্নত ব্যবহার কর- প্রভুর কাজে, প্রভুর পথে যৌবনের সমস্ত শক্তি উৎসর্গ কর। এই তো মুসলিম যুবকের কাজ।

কোন্ মা, কোন্ প্রভাতে জন্ম দিয়েছিলেন এক শিশুকে। সেদিন সমস্ত প্রকৃতি সেই শিশুর আগমন গানে পুলকিত হয়ে উঠেছিল। বাতাস সেই শিশুর জয়গানে আকাশ-পাতাল মুখরিত করেছিল। সেই দেবতার আশাবাদ একদিন বড় হয়ে জাতির মহামঙ্গল করবে। তার মহাজীবনের আশীর্বাদে জাতির মুক্তি এবং কল্যাণ হবে।

তার মহাতপস্যা মহাব্রত উদ্যাপন না করে কখনও ভাঙ্গবে না। দিনের পর দিন, বছরের পর বছর সেই শিশু অনাগত মহাভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হবে, তার পর একদিন সে তার সাধনা নিয়ে মঙ্গলযাত্রা করবে। জীবনে তার কঠিন তপস্যা আরম্ভ হবে।

শৈশবের সুমিষ্ট সরল হাসি খেলাধুলা ভুলে মহাচিন্তায় সে গভীর ও তন্ময় হয়ে উঠবে? সে তার জীবনের রক্ত দিয়ে জাতির জীবন সৌধ গড়ে তুলবে। তার হৃদয় হবে বিশাল, বাহু হবে গগন-বিস্তারী, বক্ষ হবে সাগরশোষী। ধন্য সেই শিশু আর ধন্য তার মা।

তপস্যা কঠিন বিষয়। কোনো জিনিসকে পাবার জন্য জীবনের নিরবচ্ছিন্ন সাধনার নাম তপস্যা। তপস্যা ব্যতীত মানব জীবনের কোনো মঙ্গল সাধিত হয়? তপস্বীর তপস্যার ফলে জগতের নরনারী অফুরন্ত কল্যাণ লাভ করে। তপস্যা মানবজীবনের ঈশ্বরের মহাস্থান।

পণ্ডিতেরা বলে থাকেন, চেষ্টার দ্বারা জগতের সমস্ত কাজই সম্ভব, শুধু কবি হওয়া সম্ভব নয়। ডিমসথেনিস নামক এক জগৎ-বিখ্যাত বাগ্মী গ্রিস দেশে এথেন্স নগরে জন্মগ্রহণ করেন। তার কণ্ঠস্বর সুপরিষ্কৃত এবং উচ্চ ছিল না- অতীতে এবং ভবিষ্যতে জগতে এরূপ দ্বিতীয় মহাবাগীর আবির্ভাব আর হয়তো হবে না।

তিনি কঠোর তপস্যার দ্বারা, বহু বৎসর প্রান্তরে, নিবিড় অরণ্যে, সমুদ্র সৈকতে বক্তৃতা অভ্যাস করেন। তাঁর বাকশক্তি জগৎ সম্মুখে এক মহাবিস্ময়কর ব্যাপার।

তপস্যা অর্থ সাধারণ মানুষ মনে করে- নির্জন বাস এবং ঈশ্বর আরাধনা। মানব জীবনের যে কোনো গভীর, গূঢ় সত্য উদ্ধারের চেষ্টার নামই তপস্যা।

<<তপস্যা ।। আত্মার স্বাধীনতার মূল্যবোধ>>

……………………
মহা জীবন -লুৎফর রহমান।

……………………………….
ভাববাদ-আধ্যাত্মবাদ-সাধুগুরু নিয়ে লিখুন ভবঘুরেকথা.কম-এ
লেখা পাঠিয়ে দিন- voboghurekotha@gmail.com
……………………………….

……………………
আরও পড়ুন-
মহামানুষ … মহামানুষ কোথায়
মহিমান্বিত জীবন
মহামানুষ
যুদ্ধ
স্বাধীন গ্রাম্যজীবন
আত্মীয়-বান্ধব
সত্য প্রচার
নিষ্পাপ জীবন
উপাসনা
নমস্কার
তপস্যা
তীর্থ-মঙ্গল
আত্মার স্বাধীনতার মূল্যবোধ
মনুষ্য পূজা
মন্দতাকে ঘৃণা

Related Articles

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

error: Content is protected !!