ভবঘুরে কথা
শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী


একদিন কয়েকজন লোক নানারকমের পূজার সামগ্রী নিয়ে আশ্রমে লোকনাথ বাবাকে পূজো দিতে এল। তারা বলল- তারা বাবার কাছে মানত করেছিল, তাই মানসিক শোধ করতে এসেছে। তা না হলে রোগী রোগমুক্ত হবে না।

তখন জানকীনাথ নামে আশ্রমের এক ভক্ত জিজ্ঞাসা করল- কার মানসিক শোধ করতে এসেছ?

তাদের মধ্যে একজন তখন ব্যাপারটা খুলে বলল। সে বলল- বছরখানেক আগে আমাদেরই এক আত্মীয়কে সাপে কামড়ায়, তার সর্বাঙ্গে বিষ ছড়িয়ে পরে। ওঝা ও বৈদ্যেরা সে বিষ নামাতে পারেনি। তখন রোগীর মা বলেন- হে ব্রহ্মচারী বাবা! তুমি দয়া করে আমার ছেলেন বিষ নামিয়ে দাও, তাকে রোগমুক্ত কর। আমি তোমার নামে মানত করেছি, তোমার পুজো দেব।

এই মানত করার সঙ্গে সঙ্গে বিষ নেমে যায়। সাপে কামড়ানো লোকটি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে। কিন্তু তখন বাড়ির কেউ কেউ বলল- বৈদ্যদের চিকিৎসার গুণেই বিষ নেমেছে, ব্রহ্মচারী বাবার কৃপায় নয়।

এইভাবে পাঁচজনের কথায় লোকটির মা বাবার নামে মানত করেও পূজা দেননি। সত্যরক্ষা না করে প্রবঞ্চনা করেছেন বাবার সঙ্গে, ফলে এক বছর পর আবার বিষক্রিয়া দেখা দেয় লোকটির মধ্যে। যে জায়গায়টিতে সাপে কামড়ায়, সেই ক্ষতস্থানে তীব্র বিষের যন্ত্রণা অনুভব করতে থাকে। তার সর্বাঙ্গে আবার বিষ ছড়িয়ে পরে, তাই আমরা বাবাকে পূজো দিতে এসেছি; আমরা ভুল বুঝতে পেরেছি।

এই বলে তারা সকলে লোকনাথবাবার চরণে ধরে ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে, নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত হয় তারা। অবশেষে তাদের দোষ ক্ষমা করে বাবা তাদের পূজা গ্রহণ করলেন।

তারা পূজো দিয়ে বাবার আশীর্বাদ নিয়ে বাড়ি ফিলে গিয়েই দেখল, লোকটির মধ্যে আর কোন বিষক্রিয়া নেই। সে আবার সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠেছে।

……………………………….
সূত্র:
শ্রীসুধাংশুরঞ্জন ঘোষের শ্রীশ্রীলোকনাথ ব্রহ্মচারী থেকে

নির্মাতা
ভবঘুরে কথা'র নির্মাতা

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!