মতুয়া সংগীত

আগ্নেয় পর্ব্বত

এ- যেন জ্বলন্ত অগ্নি – আগ্নেয় পর্ব্বত।
রূপে গুণে কুলে শীলে মহামান্য সৎ।।
ইহাকে বেড়িতে মনে যা ‘ করি যুকতি।
বেড়াজাল ছোট হয় লজ্জা পাই অতি।।
কি জানি দয়াল যীশু কি দিয়া কি করে।
বাঁধিতে আসিয়া বাঁধা পড়িনু প্রকারে।।
তব ইচ্ছা পূর্ণ হোক ও হে পরমেশ।
এই কর্ম্মলীলা বুঝি জীবনের শেষ।।
এতেক ভাবিয়া মীড প্রভু পানে চায়।
দেখে মৃদু মৃদু হাসে প্রভু রসময়।।
মীড চাহি প্রভু তবে হাসি কথা কয়।
“নীরবে কি চিন্তা কর মীড মহাশয়?
যাঁর কাজ সেই করে মোরা উপলক্ষ্য।
যা’ হোক তা’ হোক ফল তাতে নাই দুঃখ।।
কারে দিয়ে কোন কার্য প্রভুজী করা’বে।
সেই চিন্তা করে বল কিবা ফল হবে।।
আর বলি শুন মীড মনোগত কথা।
বাঁধা পড়ে ‘ –যদি থাকে পরাণে মমতা।।
কেবা কারে বাঁধে নিজে না বান্ধিলে।
মন-বান্ধা পড়ে যদি, ঠিক বান্ধা হলে।।
বিস্ময়ের পরে মীডে জাগিল বিস্ময়।
মনে ভাবে এই ব্যক্তি সামান্য ত নয়।।
আমার মনের মধ্যে যে চিন্তা জাগিল।
এ মানুষ কোন সুত্রে তাহা টের পেল।।
অপরের চিন্তা-পাঠ-বিদ্যা বটে আছে।
এই ব্যক্তি কভু কিবা সে বিদ্যা শিখেছে।।
কি জানি কেমন হ’ল আজিকে ঘটনা।
আর স্তব্ধ থাকা মোর উচিত হবে না।।
এত ভাবি মীড তবে উঠিয়া দাঁড়া’ল।
প্রভু পানে চাহি তবে বলিতে লাগিল।।
“ বড় কর্ত্তা! মোর বার্ত্তা বলি তব ঠাই।
এই কার্যে আমি দশ বিঘা জমি চাই।।
দশ বিঘা জমি যদি মোরে কর দান।
তোমার জাতির কার্যে আমি দিব প্রাণ।
কি জানি আজিকে মোর কেমন হইল।
মোরে দিয়া এই সব কে যেন বলা’ল।।
নিশ্চয় বুঝিনু ইহা যীশুজীর কাজ।
তোমার কাজের ভার স্কন্ধে নিনু আজ।।”
এ মত ডক্টর যদি বলিল বচন।
প্রভুজী ডাকিয়া সবে বলিল তখন।।
“সভাজনে শুন সবে আমি যাহা কই।
দশ বিঘা জমি দিতে প্রতিশ্রুত হই।।
গ্রাম্য- মধ্যখানে দেখ পশ্চিম পাড়ায়।
আমার কতক জমি আছে নিরালায়।
সেই জমি মীডে আমি করিলাম দান।
আর যদি লাগে দিতে না করিব আন্।।
এই বাণী প্রভু যবে সভাতে বলিল।
“ধন্য ধন্য “ রব তবে চারিভিতে হ’ল।।
উল্লাসে ডক্টর মীড দাঁড়ায়ে তখন।
নিজ কর দিয়া করে শ্রী কর মর্দ্দন।।
সভাজনে প্রতি তবে মীড ডাকি কয়।
“ কিছু কথা শুন যত ভদ্র মহোদয়।।
যে-মহৎ কার্য আজ বড় কর্ত্তা করে।
কোন ভাষা দিয়া ব্যাখ্যা করিব তাঁহারে।।
যত কাল এই দেশে করি ঘোরাঘুরি।
ইহ সম শ্রেষ্ঠ – আত্মা কারে নাহি হেরি।।
ইচ্ছা যদি করে ইনি আপন উন্নতি।
কেহ রোধিবারে নাহি পারে তাঁর গতি।।
অধিক কহিব কিবা এই মহাজন।
যদি খ্রীষ্ট-ধর্ম্ম ইনি করেন গ্রহণ।।
নিশ্চয় করিয়া আমি বলি সবাকারে।
ভারতের সর্ব্বশ্রেষ্ঠ নর হ’তে পারে।।
কিন্তু এই কার্য আজি এ মহাত্মা করে।
তদোধিক শ্রেষ্ঠ বলি মানিনু ইহারে।।

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!