কোজাগরী লক্ষ্মী পূজা

কোজাগরী

আজকের কথা বলছেন দেবর্ষী নারায়ণ বৈকুণ্ঠনগরে গিয়ে নারায়ণীকে!

প্রণাম করি দেবর্ষি বলেন বচন
মর্ত্যে দুর্ভিক্ষ মাগো কী ভীষণ…
অন্নাভাবে লোকে কত কষ্ট ভোগে।
মরিতেছে অনাহারে কৃশকায় রোগে।।
ধর্মা ধর্ম লোকে সবে ত্যাগ করি দেয়।
স্ত্রী কন্যা বিক্রী করে ক্ষুধার জ্বালায়।।

আরে এই তো আমার দেশের কথা! আজকের কথা। সন্তানকে বিক্রি করছে অনাহারে থাকা বাবা-মা। এই তো কিছুদিন আগে দরিদ্র বাবা-মা অকপট বলছে, ‘খেতে দিতে পারি নাই বেঁচি দিছি, ওই বেঁচে থাইকবে’। অনাহারে অপুষ্টিতে বিনা চিকিৎসায় রোজ রোজ মারা যাচ্ছে এই দেশের আনাচে কানাচে। ‘কৃশকায় রোগে’ কাঠির মতো হাত-পা, কালো কালো ওই মানুষগুলোর কথাই নিশ্চয় বলছেন দেবর্ষী… বৈকুণ্ঠনগরে গিয়ে, নারায়ণীকে।

লক্ষ্মী শুনলেন সব। তারপর উত্তর দিলেন, কেন তিনি বসেন না, কেন তিনি চঞ্চলা, চপলা, হারিয়ে যান মাঝে মাঝেই। কেন? বলছেন তিনি তাঁর পাঁচালীতে-

অনাচারে মজে গেছে সমাজ সংসার।
এইরূপ স্থানে থাকা দুষ্কর আমার ।।
আপন আপন ধর্ম দিয়া বিসর্জন।
পরধর্ম লয়ে মত্ত হয়েছে এখন।।
দিবানিদ্রা অনাচার ক্রোধ অহঙ্কার।
আলস্য কলহ মিথ্যা ঘিরিছে সংসার।।

কোথায় যেন মিলেমিশে যাচ্ছে। ধর্ম রক্ষার নামে মানুষ মনুষ্যধর্ম বিসর্জন দিয়ে হিংসায় মত্ত। নির্লজ্জ হত্যালীলা আজ আর বিস্ময় সৃষ্টি করে না। জ্যান্ত পুড়িয়ে মারছে মানুষ মানুষকে। অস্ত্রের আস্ফালন যখন তখন পথেঘাটে। ত্রস্ত গৃহস্থ তবুও গান গেয়ে, সুর করে পাঁচালী পড়ে চলেছে ঘরে ঘরে। লক্ষ্মী যাতে বসত করে। সমৃদ্ধি চায় ধনে ও মনে।

বাহন হিসেবে লক্ষ্মীর প্রথম পছন্দ ছিল সিংহ। প্রথম চন্দ্রগুপ্ত ও দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত, এমনকী কুমারগুপ্তের সময়েও কোনও কোনও স্বর্ণমুদ্রায় লক্ষ্মীদেবী সিংহবাহনা। কুমারগুপ্তের সময়েও অনেক মুদ্রায় লক্ষ্মীর বাহনরূপে ময়ূরের দেখাও মেলে।

লক্ষ্মীছাড়া হয়েছিলেন ইন্দ্র… দুর্বাশা মুনির শাপে। একবার অভিশাপখ্যাত দুর্বাশার মন ভালো থাকাকালীন পারিজাত ফুলের মালা ছুঁড়ে দেন প্রীতিসহ ইন্দ্রের উদ্দেশে। ইন্দ্র তখন রম্ভাকে নিয়ে ব্যস্ত। ঝপাং করে মালা এসে পড়ায় বিরক্ত হয়ে ছুঁড়ে ফেলে দিলেন মালা। এক ঝটকায়। অদূরে ঐরাবত শুঁড় দোলাচ্ছিল। তার শুঁড়ে লটকালো মালা। খুব একটা পছন্দ হয়নি। সে পা দিয়ে দিল থেঁতলে। দুর্বাশা সব দেখতে পেলেন চোখ বুজে। প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হলেন। জ্বলে উঠলেন তিনি।

অভিশাপ দিলেন, তোমার ত্রিলোক লক্ষ্মীছাড়া হবে। দোষ করলেন ইন্দ্র, শাস্তি পেলেন লক্ষ্মী। দুঃখে পাতালে প্রবেশ করলেন। আশ্রয় নিলেন সমুদ্রের নীচে। লক্ষ্মীছাড়া মানেই ছন্নছাড়া, শ্রীহীন। দেবতারা ত্রাহি ত্রাহি রব শুরু করলেন।

বিষ্ণুর দরবারে ধর্না। নারায়ণের পরামর্শে শুরু হলো সমুদ্র-মন্থন। মন্থনে রত্নাকর থেকে যিনি উত্থিতা হলেন, তিনি শ্রী। শ্রী আর লক্ষ্মী আলাদা দেবী ছিলেন। ধীরে ধীরে শাস্ত্রজ্ঞ পণ্ডিতরাই এক করে দিয়েছেন। লক্ষ্মীর বাবা হলেন ভৃগু, আর মায়ের নাম খ্যাতি। একহাতে পদ্ম, অন্য হাতে অমৃত-কলস।

অসুররা ঝাঁপিয়ে পড়ল। বেঁধে গেল লড়াই। বিষ্ণু বিয়ে করে নিলেন লক্ষ্মীকে। শ্রী তখন লক্ষ্মীর সঙ্গে মিশে গিয়ে বিষ্ণুর ঘরণী। পদ্মাসনা। বাহন তাঁর শ্বেত পেঁচা। হেমন্তের পূর্ণিমায় তিনি আসেন মানুষের কাছে। ওই দেবর্ষির অনুরোধে। এই বাহন নিয়েও কিন্তু গোলযোগ কম হয়নি!

বাহন হিসেবে লক্ষ্মীর প্রথম পছন্দ ছিল সিংহ। প্রথম চন্দ্রগুপ্ত ও দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত, এমনকী কুমারগুপ্তের সময়েও কোনও কোনও স্বর্ণমুদ্রায় লক্ষ্মীদেবী সিংহবাহনা। কুমারগুপ্তের সময়েও অনেক মুদ্রায় লক্ষ্মীর বাহনরূপে ময়ূরের দেখাও মেলে।

তার পরবর্তীকালে গৌড়বঙ্গাধিপতি নরেন্দ্রাদিত্য বা শশাঙ্কের সময়কার মুদ্রায় পাওয়া গেল লক্ষ্মীদেবীর বাহন হাঁসকে। সিংহ, ময়ূর, হাঁস-কোনওটাই টিকল না তাঁর বাহন হিসেবে। মা নিয়ে নিলেন সিংহ। সরস্বতী বোন নিলেন হাঁস। কার্তিক ময়ূর। একসময় নাকি লক্ষ্মীর আদি বাহন ছিল হরিণ। লক্ষ্মী চঞ্চলা, হরিণও তাই।

যাই হোক, এসব মানুষের কদাচারের কথা, যদিও বর্তমান। তারাই ঠিক করবে শ্মশানে থাকবে, না সুগৃহে। আটপৌরে লক্ষ্মীকে ডাকা হবেই সুগৃহের জন্য, শস্যশ্যামলা দেশের জন্য। তিনি আসবেনই শত রাগ অভিমান নিয়েও। কারণ তিনি যে আপাদমস্তক আমাদের ঘরোয়া দেবী। কদাপি কুপিতা নন। তাঁর চাহিদাও ষোড়শপোচার নয়। সামান্য চাহিদা। সেটুকুই অনেকখানি। তা হল শুদ্ধতা, শুদ্ধচিত্ত, শুদ্ধচরিত্র, স্বচ্ছ ও সৎ মন, করহে লক্ষ্মী আরাধন।

সুতরাং স্বভাব একই হওয়ায় বাতিল করা হল। নেপালের পটচিত্রে পাওয়া যায়, বিষ্ণুর পদতলে গরুড় আর লক্ষ্মীর পদতলে কচ্ছপ বা কূর্ম। কূর্ম বাহন হল না, অবতার হিসেবে থাকাই পছন্দ তার। এমনিতেই সে আবার একটু স্লো।

বৈষ্ণবদের মতে লক্ষ্মীর বাহন একসময় গরুড় ছিল। সরস্বতীর হাঁসটিকে নিজের বাহন করার চেষ্টা দেখা গেল লক্ষ্মীর মধ্যে… ষষ্ঠ শতাব্দীতে, মানে শশাঙ্কের সময়কালে। কিন্তু রাখতে পারেননি চঞ্চলা লক্ষ্মীদেবী। সরস্বতীদেবীর বাহন হিসেবে হাঁস শান্তিতেই কাল অতিবাহিত করে চলেছে।

আধুনিককালে লক্ষ্মী শ্বেত পেঁচাকে বাহন হিসেবে গ্রহণ করলেন। “প্রাচীন ও মধ্যযুগের কোন ভাস্কর্যে বা মুদ্রায় অথবা কোন পৌরাণিক বিবরণে লক্ষ্মীকে পেচকবাহনা হিসাবে দেখা যায় না” বলছেন হংসনারায়ণ ভট্টাচার্য। তাঁর তথ্যসমৃদ্ধ ‘হিন্দুদের দেবদেবী: উদ্ভব ও ক্রমবিকাশ’ বইতে। তবে পেঁচাকে লক্ষ্মীর বাহন করার পরিকল্পনা এসেছে শস্য উৎপাদন ও সংরক্ষণের উদ্ভাবন যখন থেকে বিকশিত হয়েছে, তখন থেকেই।

গোলাভরা ধানের উপর ইঁদুর বাহিনীকে রাতভর দমিয়ে রাখতে পারে একমাত্র নিশাচর পেঁচা। ঠাকুর-দেবতার ব্যাপার, শ্বেত পেঁচা সম্পদ রক্ষা করবে। রক্ষিত বা সঞ্চিত হলেই বৃদ্ধি ঘটে, সম্পদশালী হয় পরিবার, সমাজ, দেশ। সম্পদ যখন চুরি হয়ে যায় দেশ থেকে! তখনই কি পেঁচা উড়ে যায় রাতের আঁধারে লক্ষ্মীসহ বৈকুণ্ঠনগরে? লক্ষ্মীছাড়া হয় পরিবার, সমাজ, রাজ্য, দেশ। সব কিছুতেই বোধহয় শ্মশানের নীরবতা নেমে আসে। শ্রীহীন। কদর্য।

যাই হোক, এসব মানুষের কদাচারের কথা, যদিও বর্তমান। তারাই ঠিক করবে শ্মশানে থাকবে, না সুগৃহে। আটপৌরে লক্ষ্মীকে ডাকা হবেই সুগৃহের জন্য, শস্যশ্যামলা দেশের জন্য। তিনি আসবেনই শত রাগ অভিমান নিয়েও। কারণ তিনি যে আপাদমস্তক আমাদের ঘরোয়া দেবী। কদাপি কুপিতা নন। তাঁর চাহিদাও ষোড়শপোচার নয়। সামান্য চাহিদা। সেটুকুই অনেকখানি। তা হল শুদ্ধতা, শুদ্ধচিত্ত, শুদ্ধচরিত্র, স্বচ্ছ ও সৎ মন, করহে লক্ষ্মী আরাধন।

‘আঁকিলাম আলপনা, দুরে ফেলি আবর্জনা
শুভ শুদ্ধ মন নিয়ে, করি তব আরাধনা”

ময়মনসিংহগীতিকায় এমন অসংখ্য পদ পাওয়া যায় লোকজ লক্ষ্মীমায়ের পুজোয়। ‘চান করে এসে নতুন পোশাক পরে আল্পনা দিবি’, মায়ের সতর্কতার মধ্যেই ছিল সেই শুদ্ধ হয়ে, শুদ্ধ বস্ত্রে আল্পনা দেওয়ার প্রথা। মধ্যমা দিয়ে নেমে আসছে চালগুঁড়ির বা পিটালির সাদা রং। সাদা কাপড়ের টুকরো আঙুলে জড়ানো।

কিড় কিড় করছে আঙুল। লতানে ধানের শিষ, এঁকেবেঁকে চলেছে সদর থেকে ঠাকুরের আসন পর্যন্ত। আর ঘরে ঘরে তাঁর একাত্ম হয়ে থাকা। নিরবচ্ছিন্ন শস্য তথা সম্পদের আবাহন এই লতিয়ে লতিয়ে নিরবিচ্ছিন্ন ধানের শিষের গতির মধ্য দিয়ে প্রকাশ পায়। তাই আল্পনার ধানের শিষ বিচ্ছিন্ন করা হয় না। একটানে চলে। বাস্তবে তো ধানের ছরা লতানে নয়! আল্পনায় ধানের ছরা এঁকেবেঁকে লতিয়ে চলে। প্রবাহ, নিরবচ্ছিন্ন সম্পদ প্রবাহকে সিম্বলাইজ করে এই লতানে ধানের ছরা। তার পাশে পাশে লক্ষ্মীর পদচিহ্ন।

“পিটালি করিয়া কন্যা পরথমে আঁকিল;
বাপ আর মায়ের চরণ মনে গাঁথা ছিল”

কত আপনজন এই লক্ষ্মী আমাদের। আল্পনা আসলে ব্রতকথারই ম্যাজিক রিয়ালিটি। ব্রতকথায় থাকে এক ধরনের কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট, সার্বিক উন্নতির কথা। তাই সবাই গোল হয়ে বসে পাড়াগাঁয়ে ব্রতপাঠ হয়। আর সেই ব্রতকথার চিত্রিত রূপ পাই আমরা আল্পনায়। লক্ষ্মীপূজায় যা ঘরে ঘরে দৃশ্যমান।

আর আছে পদ্ম। পাতাল, জল, আকাশ, সূর্যকে চিহ্নিত করে পদ্ম। তমঃ, রজঃ, সত্বঃ এই তিন গুণ মিলিত হয় পদ্মে। শ্রেষ্ঠ ফুল। শতদল। সহস্রদল। পদ্মের পাপড়ি আঁকার মজা আছে- দু’টি পাপড়ির মাঝে আর একটি, এইভাবে আঁকতে আঁকতে বাড়তেই থাকে। ক্রমবর্ধমান, তার নিরবিচ্ছিন্নতা দলবৃদ্ধি, যার লয় নেই, নেই বিনাশ, অনন্ত তার ব্যাপ্তি। বাংলার ঘরে ঘরে একমাত্র লক্ষ্মীপুজোতেই বাংলার মেয়েরা ভীষণ আপন করে এই আল্পনা দেন। সারাদিন… একাগ্র হয়ে। সন্ধ্যারাতেই তো দেবীর আবাহন!

পাঁচালী পড়া শেষ হল। শাঁখ বেজে উঠল তিনবার। তিনবার দেবীর আসনে গড় করে প্রণাম করলেন মেয়েরা। হলুদ হয়ে যাওয়া পাতার পাঁচালীর বইটা মা তিনবার নমস্কার করে রাখলেন দেবীর আসনের পাশে। গ্রামে গঞ্জে দেবী মানে ঘড়া ভরা ধান লাল চেলি কাপড়ে ঢেকে তার পাশে দু’দিকে লম্বা সিঁদুরের কৌটো রেখে লক্ষ্মীদেবীর

রূপকল্পনা করে পুজো হয়।
কোথাও বা সরা পুজো।

সরার উপর দেবী লক্ষ্মীর ছবির সঙ্গে বিষ্ণুও থাকেন। কলার পেটো সাজানো হয় বাণিজ্যতরী হিসেবে। কোথাও কোথাও শুধু ঘটে পুজো হয়, গঙ্গাজলপূর্ণ ঘট, ঘটের গায়ে সিঁদুর দিয়ে স্বস্তিক আঁকা। তার উপর আমের পল্লব, পল্লবে সিঁদুরের ফোঁটা। পল্লবের মাঝে হরিতকি, হলুদ। সামনে ধান।

লাল চেলিতে ঢাকা। আবার লাল শাড়ি পরিয়ে কলাগাছকে লক্ষ্মীদেবী হিসেবে পূজিত হতেও দেখা যায়। লোকজ এই লক্ষ্মীদেবীর পুজোয় কল্পনা ও বাস্তব মিলেমিশে একাকার।

মাকে তুমি যেমনভাবে খুশি সাজাতে পারো… তোমার সামর্থ্য অনুযায়ী। ঘরের লক্ষ্মী যে! নীহাররঞ্জন রায় তাঁর ‘বাঙালীর ইতিহাস’ বইতে বলছেন, “আমাদের লক্ষ্মীর পৃথক মূর্তিপূজা খুব সুপ্রচলিত নয়।… আমাদের লোকধর্মে লক্ষ্মীর আর একটি পরিচয় আমরা জানি এবং তাহার পূজা বাঙালী সমাজে নারীদের মধ্যে বহুল প্রচলিত। এই লক্ষ্মী কৃষি সমাজের মানস-কল্পনার সৃষ্টি; শস্য প্রাচুর্য্যের এবং সমৃদ্ধির তিনি দেবী।

এই লক্ষ্মীর পূজা ঘটলক্ষ্মী বা ধান্যশীর্ষপূর্ণ চিত্রাঙ্কিত ঘটের পূজা।… বস্তুত দ্বাদশ শতক পর্যন্ত শারদীয়া কোজাগর উৎসবের সাথে লক্ষ্মীদেবীর পূজার কোন সম্পর্কই ছিল না।’’

যে রূপেই হোক, কোজাগরী পূর্ণিমার দিন বাঙালির ঘরে ঘরে একান্তভাবে আপনার লক্ষ্মীর আরাধনায় ব্রতী হন সবাই। কোজাগরী পূর্ণিমা রাতে তাঁর আগমন।

নিশীথে বরদা লক্ষ্মীঃ কো জগর্তীতি ভাষিনী
তস্মৈ বিত্তং প্রযচ্ছামি অক্ষৈঃ ক্রীড়াং করোতি যঃ।।

নিশীথে লক্ষ্মী এসে দেখেন ‘কে জেগে আছ?’ জেগে থাকা মানেই তো জীবনে জীবন্ত থাকা। প্রাণময় থাকা। অশুদ্ধতার বিরুদ্ধে জাগ্রত থাকা। তিনি মাতৃরূপা। দেখতে আসেন, ‘কো জগর্তীতি’। জেগে আছে কারা। তারাই তো মহাবিদ্যার অধিকারী। ন্যায়-অন্যায় বিচারক তো তারাই, যারা জেগে থাকে।

চোখ সদা যে খুলে রাখে, সেই সম্পদশালী হয়। এ জীবন তো পাশা খেলার দান। অক্ষৈঃ ক্রীড়াং। প্রতিক্ষণ খেলে যেতে হয়, দান ফেলতে হয়, কখনও হার আর কখনও জিত।

এই হারজিতের পাশা খেলায় জেগে থাকাটাই জীবনবোধ। জেগে ওঠো। দেবী লক্ষ্মী এসেছেন পরীক্ষা নিতে। ঘুমিয়ে থাকলে সম্পদ চলে যাচ্ছে পরিবার থেকে, চলে যাচ্ছে মহাবিদ্যা, লক্ষ্মী চলে যাচ্ছে সমাজ থেকে, লক্ষ্মীছাড়া হচ্ছে দেশ। কো জাগরী! এসো জেগে উঠি। শুদ্ধ করি। কো জাগরী।

………………………
তথ্যসূত্র: অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নীহাররঞ্জন রায়, হংসনারায়ণ ভট্টাচার্য, সুমনা দত্ত ও লক্ষ্মীপূজার বিধি ও পাঁচালী- বর্তমান পত্রিকা থেকে সংগৃহীত।

পুণঃপ্রচারে বিনীত: প্রণয় সেন

……………………………….
ভাববাদ-আধ্যাত্মবাদ-সাধুগুরু নিয়ে লিখুন ভবঘুরেকথা.কম-এ
লেখা পাঠিয়ে দিন- [email protected]
……………………………….

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!