রবীন্দ্রনাথা ঠাকুর

কে জানিত তুমি ডাকিবে আমারে, ছিলাম নিদ্রামগন।
সংসার মোরে মহামোহঘোরে ছিল সদা ঘিরে সঘন।
( ঘিরে ছিল, ঘিরেছিল হে আমায়–
মোহঘোরে– মহামোহে। )
আপনার হাতে দিবে যে বেদনা, ভাসাবে নয়নজলে,
কে জানিত হবে আমার এমন শুভদিন শুভলগন।
( জানি নে, জানি নে হে, আমি স্বপনে–
আমার এমন ভাগ্য হবে আমি জানি নে, জানি নে হে। )
জানি না কখন্‌ করুণা-অরুণ উঠিল উদয়াচলে,
দেখিতে দেখিতে কিরণে পূরিল আমার হৃদয়গগন।
( আমার হৃদয়গগন পূরিল তোমার চরণকিরণে–
তোমার করুণা-অরুণে। )
তোমার অমৃতসাগর হইতে বন্যা আসিল কবে–
হৃদয়ে বাহিরে যত বাঁধ ছিল কখন হইল ভগন।
( যত বাঁধ ছিল যেখানে, ভেঙে গেল, ভেসে গেল হে। )
সুবাতাস তুমি আপনি দিয়েছ, পরানে দিয়েছ আশা–
আমার জীবনতরণী হইবে তোমার চরণে মগন।
( তোমার চরণে গিয়ে লাগিবে আমার জীবনতরণী–
অভয়চরণে গিয়ে লাগিবে। )

………………………………
রাগ: দেশ-কীর্তন
তাল: দাদরা
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): 1306
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1899

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

error: Content is protected !!