রবীন্দ্রনাথা ঠাকুর

আমি জেনে শুনে তবু ভুলে আছি, দিবস কাটে বৃথায় হে।
আমি যেতে চাই তব পথপানে, ওহে কত বাধা পায় পায় হে।
( তোমার অমৃতপথে, যে পথে তোমার আলো জ্বলে সেই অভয়পথে। )
চারি দিকে হেরো ঘিরেছে কারা, শত বাঁধনে জড়ায় হে।
আমি ছাড়াতে চাহি, ছাড়ে না কেন গো– ডুবায়ে রাখে মায়ায় হে।
( তারা বাঁধিয়া রাখে, তোমার বাহুর বাঁধন হতে তারা বাঁধিয়া রাখে। )
দাও ভেঙে দাও এ ভবের সুখ, কাজ নেই এ খেলায় হে।
আমি ভুলে থাকি যত অবোধের মতো বেলা বহে তত যায় হে।
( ভুলে যে থাকি, দিন যে মিলায়, খেলা যে ফুরায়, ভুলে যে থাকি। )
হানো তব বাজ হৃদয়গহনে, দুখানল জ্বালো তায় হে।
তুমি নয়নের জলে ভাসায়ে আমারে সে জল দাও মুছায়ে হে।
( নয়নজলে– তোমার-হাতের-বেদনা-দেওয়া নয়নজলে–
প্রাণের-সকল-কলঙ্ক-ধোওয়া নয়নজলে। )
শূন্য ক’রে দাও হৃদয় আমার, আসন পাতো সেথায় হে।
ওহে তুমি এসো এসো, নাথ হয়ে বোসো, ভুলো না আমায় হে।
( আমার শূন্য প্রাণে– চির-আনন্দে ভরে থাকো আমার শূন্য প্রাণে। )

……………………..
রাগ: কীর্তন
তাল: দাদরা
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): 1291
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1884
স্বরলিপিকার: কাঙ্গালীচরণ সেন

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!