মতুয়া সংগীত

শ্রীনিবাস রামচন্দ্র

অবতার অনুক্রম, যশোমন্ত ঠাকুর ও পৌরাণিক অন্যান্য ভক্ত চরিত্র
পয়ার
শ্রীনিবাস রামচন্দ্র নরোত্তম দাস।
সাধিল নিগূঢ় লীলা নিজ অভিলাষ।।
গৌরাঙ্গ লীলায় যেন লয়ে ভক্তগণ।
ঘরে ঘরে যারে তারে দেয় প্রেমধন।।
শ্রীনিবাস রামচন্দ্র করিলেন লীলা।
নিজ ভক্তগণ ল’য়ে পেম আস্বাদিলা।।
পূর্বে প্রভু অদ্বৈতেরে কহে যে বচন।
করিব নিগূঢ় লীলারস আস্বাদন।।
এই প্রেম দিয়া যদি জগৎ মাতায়।
নিগূঢ় প্রকট হয় পূর্ব কথা যায়।।
ধর্ম সংস্থাপন জীব উদ্ধার হইল।
পরে প্রেম প্রকাশিবে বাসনা থাকিল।।
সফলানগরী ধন্য ওড়াকান্দি ধন্য।
যে যে গ্রামে হরিচাঁদ হৈল অবতীর্ণ।।
সফলানগরী শ্রীযশোমন্ত ঠাকুর।
তাহার মহিমা কথা কহিতে প্রচুর।।
কৃষ্ণ ধ্যান কৃষ্ণ জ্ঞান কৃষ্ণ প্রাণ তার।
কৃষ্ণের নৈবিদ্য বিনে না হত আহার।।
সদা করে কৃষ্ণ কথা কথোপকথন।
কৃষ্ণ বলে অশ্রুজলে ভাসিত নয়ন।।
প্রতিপক্ষে করাইত বৈষ্ণব ভোজন।
হরিব্রত একাদশী নাম সংকীর্তন।।
নীচ নীচ কুলে প্রভু দিয়া প্রেমধন।
নমঃশূদ্র কুলে এল ব্রহ্ম সনাতন।।
হয়গ্রীব কপিল হইল অবতার।
অংশ-অবতার সেও ব্রাহ্মণ কুমার।।
ব্রাহ্মণ সম্মান হেতু ভৃগুপদ ধরে।
শ্রীবামন অবতার কশ্যপের ঘরে।।
ভৃগুরাম অবতার জমদগ্নি সুত।
ক্রমে নীচ কুলে যায় হ’য়ে পদচ্যুত।।
শেষে দ্বিজ হ’তে এক পদ নীচে এলে।
ক্ষত্রীয় কুলেতে জন্ম করে রামলীলে।।
প্রথম পুরুষ অবতার রাম হ’ন।
তারপরে গোপ বৈশ্য শ্রীনন্দ নন্দন।।
ধরা দ্রোণ দুই জন ব্রাহ্মণ ব্রাহ্মণী।
অতিথি বিধানে পূজে শ্যাম চিন্তামণি।।
ছদ্মবেশে পদ্মনেত্র গিয়া সেই স্থানে।
ধরাকে দিলেন ধরা আতিথ্য বিধানে।।
স্তন কেটে সেবা করে সেই ত ব্রাহ্মণী।
ভক্তিতে আবদ্ধ হ’ল শ্যাম চিন্তামণি।।
ধরাকে দিলেন হরি এ সত্য কড়ার।
দ্বাপরে শোধিব মাগো তব ঋণধার।।
যেই স্তন কেটে মাগো আমাকে সেবিলে।
পুত্ররূপে সেই স্তন খাইব মা বলে।।
পতিত পাবন পুত্র পাইবেন বলে।
নীচ কুলে নন্দ এসে গোপ বৈশ্য হ’লে।।
দ্বাপরে করিল লীলা সেই ভগবান।
ব্রজলীলা ত্যাজি মথুরাতে হরি যান।।
সুদাম মালীর কন্যা কুবুজা সুন্দরী।
বসুদেব নন্দনের হৈল পাটেশ্বরী।।
যদুকুলে রাজা নাই উগ্রসেন রাজা।
রাজা হয়ে করে কুব্জা মোহনের পূজা।।
দ্বারকায় গিয়ে হরি লীলা প্রকাশিল।
প্রেমদায় অর্জুনের সারথি হইল।।
পঞ্চভাই শ্রীকৃষ্ণের পঞ্চআত্মা প্রায়।
সে ‘দিব্য বিলাপ সিন্ধু’ গ্রন্থে লেখা যায়।।
সেই পঞ্চভাই সতী দ্রৌপদী সহিতে।
নিযুক্ত হইল রাম দাসের সেবাতে।।
রাজসূয় যজ্ঞকালে মুনিগণ ভজে।
মুচিরাম সেবাকালে স্বর্গে ঘণ্টা বাজে।।
ক্রমেই বাড়ান হরি নীচ জন মান।
তৃণাদপি শ্লোকে তার আছয় প্রমাণ।।
রাখালের এঁঠো খায় কিবা সখ্য ভাব।
বিদুরের খুদ খায় শুদ্ধ প্রেম ভাব।।
শচীগর্ভ সিন্ধু মাঝে ইন্দু পরকাশ।
হবিউল্লা কাজী পুত্র ব্রহ্ম হরিদাস।।
নরোত্তম করিয়াছে বৈষ্ণব বন্দনা।
কালীদাসে দেখায়েছে তাহার নিশানা।।
কায়স্থ কুলেতে জন্ম রায় রামানন্দ।
তার ঠাঁই কৃষ্ণপ্রেম পাইয়া আনন্দ।।
যুগল মধুর প্রেম করিল প্রকাশ।
রঘুনাথের খুল্লতাত নাম কালিদাস।।
বন্দি সেই কালীদাস রঘুনাথের খুড়া।
বৈষ্ণবের উচ্ছিষ্ট খাইয়া সেই বুড়া।।
বৈষ্ণবের শিরোমণি ঝড়ু ভুঁইমালী।
যে পথে হাঁটিতো কালীদাস মাখে ধুলি।।
উচ্ছিষ্ট খাইতে সাধু পলাইয়া রয়।
ঝড়ুর রমণী যবে উচ্ছিষ্ট ফেলায়।।
কলার ডোঙ্গায় সাধু পেয়ে আম্র আটি।
বৈষ্ণব প্রসাদ বলে করে চাটাচাটি।।
প্রভুর নিকটে গিয়া বলে হরিবোল।
অন্তর্যামী মহাপ্রভু ধরে দিল কোল।।
অদ্য হ’ল বৈষ্ণবের প্রসাদ ভাজন।
তুমি কালীদাস মোর জীবনের জীবন।।
ব্রহ্মবংশে জন্মিয়া গৌরাঙ্গ ভগবান।
যবন ব্রাহ্মণ সব করিলা সমান।।
রায় রামানন্দে বলে প্রতিজ্ঞা করিয়া।
কর্মী জ্ঞানী মাতাইব নীচ শূদ্র দিয়া।।
বাদশাহের উজির ছিল দু’টি ভাই।
রামকেলী গ্রামে গেল গৌরাঙ্গের ঠাঁই।।
বাহু প্রসারিয়া প্রভু দিল আলিঙ্গণ।
তারা বলে মোরা হই অস্পৃশ্য যবন।।
নীচকুলে জন্ম মোরা করি নীচ কাজ।
মোদের স্পর্শিলা হরি লোকে দিবে লাজ।।
চৈতন্য চরিতামৃতে আছয় প্রকাশ।
সাকর মল্লিক আর নাম দবির খাস।।
ভাগবতে নাম রূপ সাকর মল্লিক।
দবির খাস সনাতন পরম নৈষ্ঠিক।।
প্রভু বলে যুগে যুগে ভক্ত দুইজন।
আজ হ’তে নাম হ’ল রূপ সনাতন।।
অবতার যখন হলেন শ্রীনিবাস।
নিত্যানন্দ হইলেন নরোত্তম দাস।।
কায়স্থ শ্রীকৃষ্ণানন্দ দত্ত খেতরিতে।
তার পুত্র নরোত্তম ব্যক্ত এ জগতে।।
সেই নরোত্তম শিষ্য দুই মহামতি।
একশাখা গঙ্গানারায়ণ চক্রবর্তী।।
আর শাখা চক্রবর্তী রামনারায়ণ।
শূদ্রের হইল শিষ্য দু’জন ব্রাহ্মণ।।
কিবা শূদ্র কিবা ন্যাসি যোগী কেন নয়।
যেই জানে কৃষ্ণ তত্ত্ব সেই শ্রেষ্ঠ হয়।।

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!