দোতারা বাউল ফকির সাধু গুরু

সহজ মানুষ লীলা করে

সহজ মানুষ লীলা করে রেবা নদীর তটে।
সে যে মাধব-নিশিযোগে, প্রথম সম্ভোগ
বেতসী তরু তলার ঘাটে।

রথে জগন্নাথ দেখে,
সেই শ্লোক প্রভুর মুখে
ইহার অর্থ না বুঝে লোকে।

ইহার অর্থ কেবল বুঝিলেন স্বরূপ,
আভাসেতে পেলেন শ্রীরূপ,
হবে কুরুক্ষেত্রে মিলন
শ্রীরাধার বর্ণন,
ব্রজে কৃষ্ণ পেলে আশা মিটে।।

ভরত-মুখে শুনি বার্তা,
লোভী হ’লেন গোলোক-কর্তা;
ভজিতে তাদৃশ সৎ সত্তা
এলেন বৃন্দাবনে নর-রূপে,
প্রকাশ তদনুরূপে,
নরলীলা চমৎকার,
কে বুঝিবে তত্ত্ব তার?
ভেবে দেখ সে কি মানুষ বটে।।

প্রভুর শিক্ষা সনাতনে
নিত্যলীলা রয় এক স্থানে,
হয় প্রকট ব্রহ্মার একদিনে,
শুদ্ধ মাধুর্য, নাই ঐশ্বর্য,
পরকীয়া ভাব-তাৎপর্য;
হেরে পদ্মলোচন ব্যাকুল
ভ্রমর না পায় ফুল,
আপনার ওষ্ঠ আপনি চাটে।।

……………………
অধ্যাপক উপেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের ‘বাংলার বাউল ও বাউল গান’ গ্রন্থ থেকে এই পদটি সংগৃহিত। ১৩৬৪ বঙ্গাব্দে প্রথম প্রকাশিত এই গ্রন্থের বানান অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। লেখকের এই অস্বাধারণ সংগ্রহের জন্য তার প্রতি ভবঘুরেকথা.কম-এর অশেষ কৃতজ্ঞতা।

এই পদটি সংগ্রহ সম্পর্কে অধ্যাপক উপেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য মহাশয় লিখেছেন- কর্তাভজা সম্প্রদায়ের প্রচারক দুলালচাঁদ ওরফে লালশশী রচিত ‘ভাবের গীত’ নামক পুস্তক হইতে নমুনার জন্য উপরের গানটি এখানে উদ্ধুত করা গেল। এগুলি ঠিক গান নহে, দীর্ঘ কবিতা; অনেকক্ষেত্রে অবান্তর উল্লেখবহুল এবং আসল কথাটি ঢাকিতে গিয়া নানা দুর্বোধ্যতার সৃষ্টি করা হইয়াছে।

লাল শশী কে এরূপ ভণিতাই বা কেন হইল? এরূপ বোধ হয় দু-একটি পাঠক মহাশয়ের মনে উদিত হইতে পারে। কর্তা-ভজন-ধর্ম-প্রচারক স্বর্গীয় রামদুলাল যিনি দুলালচাঁদ বা শ্রীযুত বলিয়া খ্যাত, তাঁহারই রচিত। লালশশী তাঁহার নামের অপভ্রংশমাত্র। (দু) লাল+চাঁদ=শশী।

…………………….
আপনার গুরুবাড়ির সাধুসঙ্গ, আখড়া, আশ্রম, দরবার শরীফ, অসাম্প্রদায়িক ওরশের তথ্য প্রদান করে এই দিনপঞ্জিকে আরো সমৃদ্ধ করুন-
voboghurekotha@gmail.com

……………………………….
ভাববাদ-আধ্যাত্মবাদ-সাধুগুরু নিয়ে লিখুন ভবঘুরেকথা.কম-এ
লেখা পাঠিয়ে দিন- voboghurekotha@gmail.com
……………………………….

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

error: Content is protected !!